নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • হাসান নাজমুল
  • শ্রীঅভিজিৎ দাস
  • মুফতি বিশ্বাস মন্ডল
  • নিরব
  • সুব্রত শুভ
  • কুমকুম কুল

নতুন যাত্রী

  • নিনজা
  • মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী

আপনি এখানে

শুধু কি ধর্মীয় মৌলবাদীরাই সভ্যতার জন্যে ভীতিকর? “মুক্তমনা”রা নন? - পর্ব ১


(এই লেখাটি একজন ডাকসাইটে “মুক্তমনা”র বেশ কিছু সাম্প্রতিক লেখালেখির নিবিড় পাঠ প্রসঙ্গে এবং পাঠ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া। এই ধরনের “লেখালেখি” গুলো মুক্তচিন্তা কিনা, এই ধরনের লেখকেরাই কি আসলে “মুক্তমনা” কিনা, সেই প্রশ্নটা তোলাই এই লেখার উদ্দেশ্য। যথা সম্ভব “ব্যক্তি” প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে মূল আলোচনাটি করার চেষ্টা করেছি। কয়েকটি পর্বে লেখাটি শেষ করবো এবং প্রয়োজনীয় রেফারেন্স বিভিন্ন পর্বে যোগ করা হবে )

শিরোনামে আমি শুধু প্রশ্ন করেছি, কোনও জাজমেন্ট বা রায় দেইনি। আমি চেষ্টা করবো, লেখার মূল অংশেও আমার ব্যক্তিগত জাজমেন্ট বা রায় না দেবার। আমি বরং ব্যাখ্যা করবো কেনও এই প্রশ্নটি আমার মাথায় গত দুবছর ধরে ঘুরছে এবং আগ্রহী পাঠকেরাও ভেবে দেখতে পারেন শিরোনামে যে প্রশ্নটি করেছি। পাঠকের কোনও দায় নেই আমার সাথে একমত হবার, বরং দ্বিমত হোন, সেই দ্বিমতের কথা ব্যাখ্যা করুন পাঠকের কাছে, বিচারের রায় না দিয়ে।

বলাই বাহুল্য এই লেখায় শুধু একজন "মুক্তমনা"র লেখার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। কিন্তু খোঁজ করে দেখবেন, এই রকমের "মুক্তমনা"র সংখ্যা আমাদের চারপাশে নেহায়েত কম নয়। তাই শিরোনামে "মুক্তমনা"রা - বহুবচনে ব্যবহার করেছি। কিন্তু সন্দেহাতীত ভাবেই, সকল "মুক্তমনা" লেখক চিন্তকেরা এই দলের নন।

ব্লগে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু লেখার একটা বিরাট সমস্যা হচ্ছে, সেখানে কোনও ব্যক্তির নাম নেয়া যায়না। ব্যক্তির নাম থাকলেই তা “ব্যক্তি আক্রমন” বলে ধরে নেয়া হয়। অথচ আমাদের চারপাশে যে সকল ধারণা, আইডিয়া ঘুরছে ফিরছে, এই সকল ধারণা, ভাবনা বা চিন্তা কোনও না কোনও ব্যক্তির কাছ থেকেই আসা। সুতরাং আইডিয়া বা চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে হলে চিন্তার প্রাসঙ্গিক তথ্য তো দিতে হবে তাইনা? কিন্তু না, তা করা যাবেনা, কেননা তাতে আপনার বিরুদ্ধে প্রথম এবং তাৎক্ষনিক যে অভিযোগটি আসবে তা হলো আপনি ব্যক্তি আক্রমন করছেন। কেউ কেউ আবার আরেক কাঠি সরেস, তারা বলেন – তার বা তাদের বিরুদ্ধে “ঘৃণা” ছড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ আপনি একটি বিশেষ চিন্তার বিরোধিতা করে লিখছেন মানেই হলো সেই চিন্তার ধারক কোনও বিশেষ একজন মানুষ বা তার সাথীদের বিরুদ্ধে “ঘৃণা” পোষণ করছেন। যা দুর্ভাগ্যজনক। কথিত ব্যাক্তি আক্রমনের এই ধারণাটির সুবিধা হচ্ছে, খুব সহজেই সমালোচনার যায়গাটি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, যেকোনো সমালোচনা কে “ব্যক্তি আক্রমন” বলে এড়িয়ে যাওয়া যায়। যেকোনো সমালোচনা কে “ঘৃণাবাদ” বলে এড়িয়ে যাওয়া যায়। তাতে অন্তত সেই সকল সমালোচনার জবাব দেওয়ার দায়টি থেকে ছাড় পাওয়া যায়।

আমি এই লেখায় চিন্তার বা আইডিয়ার সমালোচনা করছি, তাই আপাতত ব্যক্তির নামটি চেপে গেলাম। নাম উল্লেখ না করে তাই একটা দীর্ঘ কোটেশন তুলে ধরছি। বাংলা ব্লগ জগতে “মুক্তমনা” বলে বেশ খানিকটা পরিচিত একজন লেখক লিখছেন এভাবে –

কেওই সাধু নয়। সবাই আধিপত্যবাদি। ওটা আমাদের জিনে। যেসব সংস্কার বা মেম টিকে গেছে-আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা সবাই করবে। সুতরাং তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি চোর বটে টাইপের যুক্তি দিয়ে লাভ নেই। ইসলাম, হিন্দুত্ব, আমেরিকা, কমিনিউজম-সবাই নিজেদের সংস্কার এবং প্রিন্সিপলগুলো প্রসারের চেষ্টা চালাচ্ছে। কারন সেটাই সামাজিক বিবর্তনের ভবিতব্য।

প্রশ্নটা হচ্ছে এই প্রসারনের পন্থাটি কি শান্তিপূর্ন বা অহিংস?

প্রাক্টিক্যালি স্পিকিং কেওই অহিংস না। কিন্ত তাতে কিছু যায় আসে না। প্রশ্নটা হচ্ছে আপনি আমি কোন কালচারে থাকতে ভালোবাসব? অভিয়াসলি যেখানে জীবনের নিরাপত্তা বেশী, খাদ্য, সেক্স, বাসস্থান, চিকিৎসা সুল্ভ।

সুতরাং ইসলাম যখন আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে সহিংস উপায়ে, আমরা ভীত। কারন তা আরব মরুভূমির সংস্কৃতি-যেখানে কারুর কোন নিরাপত্তা থাকতে পারে না। কারন ইসলামের সংস্কৃতিতেই আছে রক্ত আর যুদ্ধ। মেয়েদের দাসী বানানো। এটি একটি মধ্যযুগীয় আরব সংস্কৃতি-যা একবিংশ শতাব্দিতে চলে না।

একই কারনে হিন্দুরা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলেও আমি ভীত হই। কারন হিন্দুদের মধ্যে কুসংস্কার অসম্ভব বেশী-সামন্ততান্ত্রিক কালচার-সেখানে বিজ্ঞান এবং মুক্ত চিন্তার উন্মেষ ঘটানো মুশকিল।

কমিনিউস্টরা খাদ্য বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসার নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্ত দিতে পারে এমন প্রমান নেই। উলটে তারা মানুষের মৌলিক অধিকার হরন করে। আপাতত সব কমিনিউস্ট রাষ্ট্র মানুষকে যন্ত্রনা এবং দাসত্ব ছাড়া কিছু দেয় নি। তবে কমিনিউজম ভবিষ্যতে যদি উন্নত ফর্মে আসে, যেখানে মানুষের অধিকার সুরক্ষিত, উৎপাদন ও ভাল হয়, তাহলে অন্য কথা হবে।

এবার বাকী থাকল আমেরিকান কালচার-যার উদ্ভব আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং গৃহযুদ্ধ থেকে। এর বীজ ছোট সরকার , কম ট্যাক্স, ব্যক্তিস্বাধীনতা, ব্যাক্তিউদ্যোগ, মার্কেট এবং আল ইনক্লুসিভনেস। আমেরিকা কোন ইউটোপিয়া না। এখানেও অনেক গরীব, অনেকেই চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে না। কিন্ত লোকে খেতে পায়। ৯৯% লোকের মাথার ওপরে ছাদ আছে। সব থেকে বড় কথা এই সংস্কৃতিই আমাদের যাবতীয় সব কিছু আবিস্কার দিয়েছে-সে ইলেক্ট্রিসিটি, ল্যাম্প, তেল, ইন্টারনেট, ফেসবুক, স্মার্টফোন-যাই বলুন না কেন।

সভ্যতার আসল অগ্রগতি প্রযুক্তিতে। আর তা আমেরিকারই দান মূলত ৮০%।

সুতরাং আমি যদি বাকি তিনটে সংস্কৃতি দেখি, খুব স্বাভাবিক ভাবেই আমেরিকার সংস্কৃতির সাথেই থাকব। তা যতই ভিয়েতনাম আর পাকিস্তানে বোমা ফেলুক। সেই জন্য কমি, মোল্লা, চাড্ডি যতই নিজেদের কালচার নিয়ে বড় বড় ভাষন দিক, আমেরিকার ভিসার জন্য প্রথমে লাইন দেবে। এই মোল্লাগুলো কিন্ত আরবের থেকে আমেরিকায় থাকতে পছন্দ করে বেশী-কিন্ত আমেরিকাতে কানাডায় বসে আরবের শরিয়ার জয়গান গাইবে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই তারা ভ্রান্ত, দ্বিচারী এবং ডিজইলিউশনাল। এদের মাথা ঠিক নেই বা পিউর বদমাইশ টাইপের পাবলিক।

সুতরাং ইসলামের খুন করা আর আমেরিকার সরকারী নীতির জন্য হত্যালীলাতে পার্থক্য আছে। একটি প্রগতিশীলতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, অন্যটি আমাদেরকে মধ্যযুগে পাঠানোর জন্য।

সব হত্যালীলাই নিন্দার। কিন্ত আমেরিকার ড্রোন হামলার সাথে গুলশান হামলার তুলনা হাস্যকর। একটি প্রগতিশীলতার আধিপত্যবিস্তার-অন্যটি আমদের মধ্যযুগে ঠেলার পাঁইয়তারা-যেখানে খাদ্য, বস্ত্র চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক অধিকারগুলো নেই। সুতরাং আমেরিকার হত্যালীলার বিরুদ্ধে আমরা অতটা সোচ্চার নই, কিন্ত ইসলামি জঙ্গীদের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার। কারন পেছনের দিকে আমরা যেতে চাইছি না।

স্পেডকে স্পেড বলাই ভাল”।

এই দীর্ঘ কোটেশন থেকে একটা বিষয় পরিস্কার তা হলো “মুক্তমনা” বলে পরিচিত এই লেখক একজন আমেরিকা ভক্ত মানুষ। অথবা বলা চলে ‘মোর আমেরিকান দেন অ্যান আমেরিকান’। অর্থাৎ নিজে একজন ইমিগ্র্যান্ট হলেও আমেরিকার প্রতি বিশ্বাস – বিশ্বসতা একজন নেটিভ আমেরিকানকেও ছাড়িয়ে যায়। খ্রিষ্টের চাইতেও বড় খ্রিষ্টান হয়ে ওঠা আরকি। আমেরিকার ভক্ত হওয়াটা খারাপ কিছু নয়। যেকোনো মানুষ আমেরিকার ভক্ত হতে পারেন, বিশেষত আমেরিকার একজন নাগরিক কিম্বা যিনি আমেরিকায় বসবাস করেন, করে কম্মে খান, তিনিতো আমেরিকার ভক্ত হবেনই, তাইনা? কিন্তু দেখুন – এই ব্যক্তি মানুষটির আমেরিকার ভক্ত প্রমান করবার ধরণটি বড় ইন্টারেস্টিং। তিনি সারা দুনিয়াকে চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করছেন – ১)ইসলামী দুনিয়া ২)কমিউনিস্ট দুনিয়া ৩)হিন্দু দুনিয়া (সম্ভবত ভারত, কারণ তিনি একজন ভারতীয়) আর ৪)আমেরিকা। এরপর তিনি প্রমাণ করছেন, কেনও এক, দুই ও তিন নাম্বার অপশন গুলো দারুন খারাপ বিধায় আমেরিকাই হচ্ছে পৃথিবীর জন্যে শ্রেষ্ঠ অপশন এবং তিনি তাই আমেরিকার সাথেই থাকছেন।

অভিনেতা ভানু ব্যানারজি বলেছিলেন দুনিয়াতে গ্রাম আছে দুইটা, “এক সাগর পাড়ের ইংলন্ডো আর এপারের ছিরিখন্ড (শ্রীখন্ড)”।আলোচিত “মুক্তমনা” ভদ্রলোক অভিনেতা ভানু ব্যানারজির চাইতে উদার বটে। তিনি অন্তত দুনিয়াকে চারভাগে বিভক্ত করছেন। তারপরে প্রমান করছেন – কেনও ইসলামী দুনিয়া একটি নিকৃষ্ট দুনিয়া। কেনও কমিউনিস্ট দুনিয়া একটি নিকৃষ্ট দুনিয়া, কেনও হিন্দু দুনিয়াতেও কিছু মিছু গড়বড় আছে। তাহলে বাকী রইলো কি? বাকি রইলো – “গ্রেট আমেরিকা”। আমেরিকায় টুক টাক সমস্যা আছে বটে, তবে আমেরিকাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সমাজ। কেনও আমেরিকা শ্রেষ্ঠ সমাজ? কারণ আমেরিকাই পৃথিবীকে ৮০% প্রযুক্তি দিয়েছে। আমেরিকাই ৯৯% মানুষের মাথার ছাদের নিশ্চয়তা দিয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি।

এবার আসুন এই “মুক্তমনা” লেখকের লেখা অংশটুকুকে আরেকটু বিস্তারিত ভাবে বোঝার চেষ্টা করি। লেখার বাকি অংশটুকু পড়ার সময়, শিরোনামের প্রশ্নটি মাথায় রাখুন - শুধু কি ধর্মীয় মৌলবাদীরাই সভ্যতার জন্যে ভীতিকর? “মুক্তমনা”রা নন?

প্রথমত, যদি একটু মনযোগ দিয়ে এই “মুক্তমনা”র লেখাটুকু পড়ে দেখেন, তাহলে দেখবেন সমগ্র অংশটুকুতে কোনও যুক্তি নেই, কোনও তথ্য নেই, কোনও পরিসংখ্যান নেই, কোনও ব্যাখ্যা নেই, কেবল আছে জাজমেন্ট। তিনি বিচারকের মতো “রায়” দিচ্ছেন, রায় দিয়েই যাচ্ছেন। কোনও যুক্তি নেই, তথ্য নেই, পরিসংখ্যান নেই এমন কি নেই কোনও রেফারেন্সও। অনেকটা নবুওত প্রাপ্ত নবীদের মতোই তিনি কেবলই রায় দিচ্ছেন, নিশ্চয়ই তার উম্মতগনের দায়িত্ব হচ্ছে তার এই ধরনের তথ্য – পরিসংখ্যানবিহীন “রায়” গুলোকে মেনে নেয়া। এই ধরনের বক্তব্যকে বলা হয়ে থাকে “জাজমেন্টাল” বক্তব্য, যা আসলে লেখকের পূর্বনির্ধারিত চিন্তার বা সংস্কারের ফসল, pre-conceived and prejudiced । ধরে নিচ্ছি – জাজমেন্টাল হওয়াটা খুব দোষের কিছু নয়, আমরা সবাই কম বেশী নানান সময়ে জাজমেন্টাল হয়ে উঠি। বরং সেইটুকু ছাড় দিয়ে, আসুন এই “মুক্তচিন্তক” এর লেখাটুকুকে বোঝার চেষ্টা করি।

তিনি লিখছেন – “কেওই সাধু নয়। সবাই আধিপত্যবাদি”। আচ্ছা ঠিক আছে, ধরেই নিলাম সবাই আধিপত্যবাদী। অর্থাৎ ইসলামী দুনিয়া, কমিউনিস্ট দুনিয়া, হিন্দু দুনিয়া আর আমেরিকা, সবাই আধিপত্যবাদী। আমরা সবাই আধিপত্যবাদী। ইউরোপ সারা দুনিয়ায় কলোনী করেছিলো, ইসলাম ভারত সহ ইউরোপের একটা অংশ দখল করে নিয়েছিলো। রাশিয়ার নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপ ও আফগানিস্থানে চলেছিলো আধিপত্যবাদ আর আমেরিকাও টুক – টাক আধিপত্যবাদী আগ্রাসন করেছে। সুতরাং সেই অর্থে আসলেই কেউই সাধু নয়, সবাই আধিপত্যবাদী। কিন্তু তারপরে “মুক্তমনা” সাহেব লিখছেন –

“প্রশ্নটা হচ্ছে এই প্রসারনের পন্থাটি কি শান্তিপূর্ন বা অহিংস?
প্রাক্টিক্যালি স্পিকিং কেওই অহিংস না। কিন্ত তাতে কিছু যায় আসে না। প্রশ্নটা হচ্ছে আপনি আমি কোন কালচারে থাকতে ভালোবাসব? অভিয়াসলি যেখানে জীবনের নিরাপত্তা বেশী, খাদ্য, সেক্স, বাসস্থান, চিকিৎসা সুল্ভ”।

ইন্টারেস্টিং, তিনি নিজেই বলছেন প্রশ্নটা হচ্ছে আধিপত্য বিস্তারের পন্থাটি কি শান্তিপূর্ণ বা অহিংস? আবার তিনিই বলছেন, তাতে কিছু যায় আসেনা। তারপরে রায় দিচ্ছেন – “আপনি আমি কোন কালচারে থাকতে ভালোবাসবো? অভিয়াসলি যেখানে জীবনের নিরাপত্তা বেশী, খাদ্য, সেক্স, বাসস্থান, চিকিৎসা সুলভ”। অর্থাৎ কেউই যেহেতু অহিংস নয়, সুতরাং একটি দেশ যদি তার নাগরিকদের খাদ্য বস্ত্র আর যথেষ্ট সেক্স এর নিশ্চয়তা দেয়, সেই দেশটি যতই সহিংস হোক না কেনও, তাতে কিছুই যায় আসেনা।

ইন্টারেস্টিং নয়?

এটা হচ্ছে আমেরিকার ব্যক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে আমি “নিজ” ছাড়া আর কোনও চিন্তা নেই। মুশকিল হলো, খেয়াল করে দেখুন, এই “মুক্তমনা” শুধু নিজের কথাই বলছেন না, তার মতামতের সাথে আমাদেরকেও ট্যাগ করে নিয়েছেন – তিনি বলছেন, “আপনি আমি কোন কালচারে থাকতে ভালোবাসবো”? এবং তিনি আমার হয়ে উত্তরও দিয়ে দিচ্ছেন। এটা মুক্তচিন্তা? আমি ভীত হচ্ছি।

দ্বিতীয় কিস্তি এখানে

(চলবে)

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

পরবর্তী পর্বগুলো না পড়লে আসলে বুঝা যাবে না আপনার আলোচনার বিষয় বস্তু। অপেক্ষায় রইলাম।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

দুলাল ভাই, প্রশ্নটা দার্শনিক। মানুষ হত্যা করার মাঝে যদি আমরা মহত্ত্ব খুঁজে পাই, তাহলে হয়তো বিষয়টা খুব আতংকের নয়। পরের পর্ব গুলো দিয়ে দেবো।

 
রিয়াজ খাঁন এর ছবি
 

Clapping মাত্র দুই লাইন পড়ছি Yahoo

============♥================
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: আমার প্রকাশিত সকল লেখালেখি নিছক কল্পনা মাত্র।কোনো জীবিত বা মৃত অথবা ভবিষ্যতে জন্মগ্রহণ করবে এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। http://riazkhanbd.wordpress.com

 
পার্থিব এর ছবি
 

প্রশ্নটা হচ্ছে আপনি আমি কোন কালচারে থাকতে ভালোবাসব? অভিয়াসলি যেখানে জীবনের নিরাপত্তা বেশী, খাদ্য, সেক্স, বাসস্থান, চিকিৎসা সুল্ভ।

একবারে নিখাদ সহজ স্বীকারোক্তি
অপারেশন থিয়েটারের ফ্লাড লাইটের আলোয় কাটাছেড়া করলে প্রায় শতভাগ মুক্তমনাদের ভেতর থেকে ডলার, সেক্স , এনজয় এসবি বেরোবে
তাই শাক দিয়ে মাছ ঢেকে রাখার চেষ্টা করে কোন লাভ হবে বলে মনে হয় না
আপনার পরের পোস্টার অপেক্ষায় থাকলাম

 
রিয়াজ খাঁন এর ছবি
 

ClappingClapping

============♥================
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: আমার প্রকাশিত সকল লেখালেখি নিছক কল্পনা মাত্র।কোনো জীবিত বা মৃত অথবা ভবিষ্যতে জন্মগ্রহণ করবে এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। http://riazkhanbd.wordpress.com

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

ভাইয়া This is not your cup of tea. এই লেখাটি বড়দের জন্যে।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

ডলার, সেক্স, এনজয় ... এসবে সমস্যা কোথায়? আজকাল তো ইসলামী হুজুরদেরই এসব দরকার হয় বেশী। দুনিয়ার সকলেরই তো এসব দরকার। আল্লাহর কি দরকার হয়না এসব_

 
বেহুলার ভেলা এর ছবি
 

মুক্তমনা ব্লগে যারা লেখেন তারাই কি মুক্তমনা? পালকে নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে, অনেকে তাঁকে কড়া জবাব দিয়েছেন ওখানে।

সকল ধর্মই কিছু কুসংস্কারের সমষ্টি।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

মুক্তমনা বিষয়টি একটি আত্মদাবীকৃত ধারণা। কে মুক্তমনা আর কে নয় এটা কে ঠিক করবে? তাই মুক্তমনা ব্লগে লিখলেই কেউ মুক্তমনা হয়ে যাবেন তা নয়। এই আলোচিত লেখক তাঁর একাধিক লেখায় দাবী করেছেন তিনি একজন "মুক্তমনা"। আর তাঁর সমালোচনা বা তাঁর সাথে দ্বিমতের বিষয়গুলো আমিও দেখেছি বেশ খানিকটা, আমার ধারণা এই লেখায় আমি তাঁর মধ্যে দিয়ে আমাদের মুক্তচিন্তা চর্চার কিছু প্রবনতা তুলে ধরবো যা শেষ অর্থে মানব প্রগতির জন্যে বিপদজনক। আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

 
বিপ্লব রহমান  এর ছবি
 

এই লেখাটি বোধহয় মুক্তমনাতেই লেখা উচিৎ ছিল। পাল অন্তত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেতেন।

তার বিভ্রান্তি অবশ্যই বিস্তর।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 9 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর