নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • নরমপন্থী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

অাস্তিক হতে হবে না, অপরাধ বন্ধে সচেষ্ট হউন।


অাস্তিক হতে হবে না, অপরাধ বন্ধে সচেষ্ট হউন।

ন্যায় আর সত্য তথা সঠিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের মধ্যে যে জাগ্রত বা সুপ্ত বিবেক ও অাত্মবিশ্বাস থাকে তা অস্বীকার করা যায়না। এটা মানুষকে পশুত্ব হতে পৃথক করে।

নিজরে ন্যায্য অধিকার অাদায় ও দুর্বলের পক্ষে ন্যায্য অধিকার অাদায়ের জন্য প্রয়োজনে ভয়ংকর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার যে তাগিদ ও অত্মবিশ্বাস মানুষ অনুভব করে তার সাথেই মূলত: অাস্তিক্য বা নাস্তিকতার বিষয়টা জড়িত। তবে বাস্তবিক সমাজ পর্যালোচনায় চিত্রটা ভিন্নরূপ।

কোন মানুষই অধিকার বঞ্চিত হতে চায় না। নিজের অধিকারটুকু ভোগ করার পরেই অাসে অন্যদের উপকার করা বা অন্যদের থেকে সুবিধা গ্রহনের বিষয়। অর্থাৎ স্বভাবসুলভ সব মানুষই চায় নিজের অধিকার নিশ্চিত করতে। কিন্তু সমস্যা হল প্রতিপক্ষ যখন বিবেক বর্জিত আর অধিক শক্তিমান, তখন বিবেকবান মানুষের করনীয় কি? শক্তিশালী শারীরিক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যখন নিজের ন্যায্য অধিকার উপেক্ষিত তখন মানুষ কি অপশক্তির কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিবে, নিজের বিবেক কি বিসর্জন দিবে নাকি অাত্মবিশ্বস নিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়? যারা অাস্তিকদের সমাজে নিজেকে নাস্তিক মনেকরেন তাদের অনেকের মধ্যেই ঐ বিবেক ও অাত্মবিশ্বাস কাজ করে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্বলের পক্ষে কিংবা দুর্বল শারীরিক শক্তি নিয়ে শক্তিশালী ভয়ংকর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মানুষের যুদ্ধকরার অাত্মবিশ্বাস আর বিবেকী তাড়নাকেই অামি জানা কিংবা চূড়ান্তভাবে অজানা কোন শক্তির উপর অাস্থা স্থাপনের অনুরূপ মনেকরি। এই অাস্থা স্থাপন থেকেই মূলত: অাস্তিক্যের জন্ম - যা শুধু নিজের শান্তি নয়, পুরো মানব সমাজে পশুত্বকে পরাস্ত করে ন্যায্য দাবী সমূহ প্রতিষ্ঠায় একেবারে দুর্বলদেরকেও সম্মানিত ও পরিতৃপ্ত করে। একারনেই আমার মনে হয়, অনেক নাস্তিকের মধ্যেই অাস্তিক্য রয়েছে এবং বেশ মজবুত ভাবেই থাকে। আবার অাস্তিকরা যখন ভিন্নমতাবলম্বীদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান প্রদর্শণে ব্যর্থ কিংবা প্রতিপক্ষ দুর্বল বিধায় প্রতিপক্ষের অধিকার অগ্রাহ্য করে আর প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে অন্যায় কাজেও প্রতিবাদ করতে অনীহা করে, তখন তাদের অাস্তিক্য প্রকৃত পক্ষে একটা প্রতারণা।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ন্যায় আর অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপণ নিয়ে। অামি সেই ধর্মকে অবশ্যই দায়ী করি যে ধর্মের ধার্মিকরা নিজেদের শ্রেয় মনে করে, অথচ তাদের চরিত্র, কর্মকান্ড ও বিবেক-বিবেচনা শ্রেয় নয়। এবং ঐরূপ ধার্মিকরা সামগ্রিক ভাবে যখন ধার্মিকদের সমর্থন পুষ্ট। যখন ধার্মিকরা ধর্মের প্রচার, বিস্তার বা দাওয়াতকে ধর্মের অংশ মনেকরে ধর্ম পালন বা সোয়াবের লোভে অন্যদের জীবনে প্রবেশ করে অধিকার লংঘন, অাগ্রাসন কিংবা সন্ত্রাস সৃস্টির কারন হয়, তখন তারা মূলত: সেই প্রতিপক্ষেরই অবস্থানে। ভুল-ভ্রান্তি থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু ঐ রূপ অাগ্রাসন আর অধিকার লংঘনে বিশেষ একটি ধর্ম অসহনীয় রূপে দায়ী।

একই কাজ কারো অবস্থান থেকে ন্যায় অাবার অন্যদের বিবেচনায় অন্যায় মনে হতে পারে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে এটাই যে মানুষ একে অপরের ক্ষতি তথা সমস্যা বা বিরক্তির কারন হবে না। তবে দুর্বলের পক্ষ হয়ে জুলুমকারীদের প্রতিহত করাটা অাস্তিক্যেরই পরিচয়। একজনের ধর্মে যা ন্যায় অন্যদের ধর্মে তা বন্ধ করণ ন্যায় বলে বিবেচিত হতে পারে। একরানেই ধর্ম দায়ী, যদি তার ধার্মিকরা সঠিক না হয় এবং যদি ধর্মিকরা অন্যের অধিকারের পথে বাঁধা হয়ে থাকে। যেমন, যে ধার্মিকরা নারীদের বা কন্যা সন্তানদের চলা-ফেরা ও পোশাকের বিষয়ে নিয়ম নীতির কথা বলে তদুপরি বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত সতীত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে না - তাদের ধর্ম ব্যর্থ সতীত্ব রক্ষায়। কারন মিথ্যা বা গোপন সম্পর্কে সতীত্ব খোয়ানো নয় বরং সুস্পষ্ট সম্পর্কবধি সতীত্ব টিকিয়ে রাখাটাই শ্রেয় - বোরখা দিয়ে সতীত্ব হারানোর কলঙ্ক ঢাকবার চেষ্টা তাদের অাস্তিক্যর অন্তরালে প্রতারণার শামিল। তারা যতই তাদের ধর্মকে শ্রেয় বলুক না কেন, চরিত্রের বিচারে সেই নারীই শ্রেয় যার সতীত্ব অাছে - সে নাস্তিক হলেও। প্রতিটা মানুষই তাদের কর্মফল ভোগ করবেন। নাস্তিক হোক বা অাস্তিক হোক এবং যে ধর্মেরই হোক না কেন তারা তাদের ভাল কাজের জন্য ভালফল এবং খারাপ কাজের জন্য খারাপ পরিণতি ভোগ করবেন - এই নিয়মে যদি মানুষ ভেজাল করে তবে তাদের ধর্মই দায়ী। মনে রাখা উচিত যে ক্ষমা করা মহৎ গুন, ক্ষমা প্রত্যাশা নয়। ক্ষমা চাওয়া ভিক্ষা বৃত্তির মতই মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে। যারা ভাল কাজ বলতে ধর্ম কর্ম আর ধর্ম কর্ম বলতে বিশেষ পোশাকাদি, বিশেষ বিশেষ কিতাব পঠন, নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে বিধাতার সন্তুষ্টির জন্য বিশেষ অাচারকে মনে করেন অথচ মানুষের সাথে অাচরনে সম্মান, সততা, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অসৎ তাদের ধর্মটা মূলত: সতীত্ব হারানো কলঙ্ক ঢাকার বোরখার মত। সহজ কথা হল মানুষকে অাস্তিক বানানো বা নিজ নিজ ধর্মের অন্তর্ভূত করে সংখ্যাবৃদ্ধি করা ধর্মের উদ্দেশ্য নয়, বরং সর্বক্ষেত্রে মানুষ সঠিক হবে এটাই ধর্মের উদ্দেশ্য যার জন্য বিশেষ কোন ধর্ম বা পৈতৃক ধর্ম অাবশ্যক না ও হতে পারে। কারন বিবেকবান ও অাত্মবিশ্বসীরা নাস্তিক হলেও কয়েকটি বৈশিষ্ট্য সবসময় ধারণ করতে পারেন যা দুনিয়াতে প্রতিটা সঠিক মানুষের জন্যই অপরিহার্য (LIA, Lawful Intelligent Aisle)*যেমন, মানুষ অন্যের ক্ষতি করবে না। অাবার, অন্যের ক্ষতি করে থাকলে, শুধু ক্ষমা প্রার্থনা নয় বা জুলুম নয় বরং ক্ষতিপূরণে চেষ্টা করবে। অন্যদের সহযোগিতা করতে বাধ্য নয়। যদি সহযোগিতা করে তবে কোনরূপ প্রতিদানের অাশা না করে সহযোগিতা করবে। অাবার, অন্যের কাছ থেকে কোন সুবিধা পেয়ে থাকলে তা স্বীকার করবে, কৃতজ্ঞ থাকবে এবং প্রতিদানের চেষ্টা করবে। মানুষ অনৈতিক কর্মকান্ড হতে নিজেকে বিরত রাখবে। বিষয়টা এ কারণে যে, কৌশলে কোন ছোট শিশুর কাছ থেকে গহনা বা কোন কিছু চুরি করার মত অনৈতিক কাজে অাস্তিক্য বা নাস্তিকতা জড়িত নয়, জড়িত বিবেক। শক্তিশালী বিবেকবান মানুষের কাছে দুর্বল মানুষরা শিশুর মতই। যত চেঁচামেচি আর অাগ্রাসনই চালাক না কেন তাদের ধর্ম কখনো শ্রেয় হবে না যদি তারা সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে না পারে।

মানুষের সাথে মানুষের অাচরণ সঠিক করাটাই ধর্মের মূখ্য উদ্দেশ্য। যারা নিজেদের নাস্তিক মনে করেন অথচ বিবেক বর্জিত নয় এবং অাত্মবিশ্বাসী - ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অবিচল থাকেন, একটা চূড়ান্ত স্তরে তারা অাস্তিক। এ কারণে যে, মানুষ নিজের শক্তিতে ব্যর্থ হলে অপরের সাহায্য প্রত্যাশা করে এবং সর্বোপরি অজানা শক্তির উপর অাস্থা রেখে জেনে -শুনে শক্তিমান অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস করে। এই অাস্থা পালনের ধৈর্যে অাত্মবিশ্বাসীরা প্রয়োজনে অাস্থা নিয়ে জীবন ত্যাগ করতে পারেন, কারণ সেই অজানা বা জানা পরমশক্তি দুনিয়ার সকল অবিচার অার অপশক্তির উর্ধে। যারা অধিকার লংঘন করে এবং ঠকায় তাদের ধর্মের নাম যত মধুময় হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্তকে সন্তুষ্ট না করা পর্যন্ত তাদের ধর্ম ব্যর্থ এবং তারা সর্বত্র বিচারের সম্মুখীন। নিজের ধর্মকে শ্রেয় ভাবা অন্যায় নয়, কিন্তু অন্যদের তা মানতে বাধ্য করাটা অন্যায় এবং অপরাধ। কাজেই ধর্মীয় অনুভুতিতে অাঘাতের অভিযোগ করার পূর্বে ধার্মিকদের উচিত নিজ নিজ চরিত্রের বিশ্লেষণ করা আর এটা মনে করা যে, তাদের বিশেষ একটা ধর্মকে অকার্যকর মনেকরা মানে ধর্মকে অকার্যকর মনেকরা নয়। যারা শুরুতেই নিজ ধর্মের বিধাতা ভিন্ন অন্য সকল ধর্মের বিধাতাকে অস্বীকার করে, তাদের বুঝা উচিত ধর্মীয় অনুভুতি মানে কি, ধর্মীয় অনুভুতি শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের দাপট নয়।
* Lawful Intelligent Aisle
তারিখ: ২০/২০/২০১৭ (অপ্রকাশিত ছিল)। ইমেইল: [email protected]

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

পুরো পৃথিবীতে যারা ধর্মের নৈতিকতার ছবক দেয়, অর্থ্যাৎ আস্তিকদের মধ্যেই অপরাধ প্রবণতা বেশি।

 
রাসেল হাসান লিয়া এর ছবি
 

আপাত দৃষ্টিতে তেমনটা বলা যায়, কিন্তু পোশাকের অন্তরালে বিরাজমান সত্যটা এমনই যে সঠিক নির্লোভ বিবেক-বিবেচনা, জ্ঞান, সদিচ্ছা আর অাস্থা হচ্ছে সেসব নিয়ামক যা কিনা সমাজে নাস্তিক বলে পরিচিতজনের মধ্যেও থাকতে পারে আবার বিবেক-বিবেচনাহীন লোভী, প্রতারক, ধোঁকাবাজ কিংবা যথেষ্ট জ্ঞানহীন ব্যক্তিরাই অন্যের অধিকারের পথে অন্তরায় - আস্থাহীন অস্তিক্য কোন সমাধানই নয় বরং অাস্তিক্য, বিশেষ ধর্মের ছত্রছায়ায়, ধর্ম-ব্যবসায়ী আর রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্ররোচনায় সমজে মানবাধিকার হরণ ও অপরাধ বিস্তারের কারন হয়ে রয়েছে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাসেল হাসান লিয়া
রাসেল হাসান লিয়া এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 3 weeks ago
Joined: বুধবার, ডিসেম্বর 27, 2017 - 7:40অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর