নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • গোলাম রব্বানী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • অনন্য আজাদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আব্দুল্লাহ্ আল আসিফ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন
  • সত্যর সাথে সর্বদা
  • রাজিব আহমেদ

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

তারা কবে শিখবে! একটুখানি গল্প।


তারা কবে শিখবে!
একটুখানি গল্প।

হ্যা, সূর্যাস্ত দৃশ্যমান ছিল যখন সে বলছিল, ‘আমার পূবার্টি অাছে’। কোন তরুন মেয়ে না, তার বয়স মাত্র আট। ঐ সব্দটা তাকে কিভাবে শিখানো হল সেই সমাজে যেখানে মানুষজনের পরস্পর ধরাছোঁয়ার বিষয়ে সতর্ক হবার কথা যেমনটা ধর্মীয় প্রার্থনায় নিয়মিত অংশ নেয়ার ব্যাপারে তারা ততপর। সূর্য অস্ত যায় এবং একই সূর্য উদয় হয়, কিন্তু যে ফুলের পাপড়ি গুলো ঝরে যায় পোকার কীর্তিকলাপের অভিজ্ঞাত নিয়ে শুন্য গোড়াটা রেখে, তা আর প্রস্ফুটিত হবে না। যে সমাজে একজনও থাকে না যে কিনা পাচ ওয়াক্ত প্রার্থনায় অংশ নেবার দাওয়াত পায়না এবং যেখানে লোকজন সেসবের হিসেব রাখে, সেখানে সত্যিকার ধার্মিক হতে তারা কী শিখছেন! গোপন লজ্জাকর সম্পর্ক, যা তাদের প্রচলিত ধর্মে ধর্ম বিরোধী এবং সে উদ্দেশ্যে প্রলোভন কিংবা হাতছানি দেয়া কখনোই সত্যিকার ধর্মের কাজ নয়। অবশ্যই শিশুরা নিজেদের সামল দিতে পারে না, যেভাবে ফুলেরা প্রতিরক্ষাহীন। ফুলগুলো টিকে থাকেনা, কিন্তু শিশুদের টিকে থাকতে হয়। মানুষরা টিকে থাকে এবং পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। অনেকে সেই খারাপ কাজে অভ্যস্ত হয়ে মিথ্যাচার শুরু করেন, তারা ধর্মীয় প্রার্থনায় নিয়মিত ভাবে অংশগ্রহণে বেশ অাগ্রহী হতে পারেন, কিন্তু সত্য গোপন আর অন্যদের সাথে চতুরতায় স্ব-ধর্মবিরোধী জীবনযাপন শুরু করেন। অনেকে প্রায়শ্চিত্তের চেষ্টা করেন, ক্ষমার দাবী রাখেন এবং পরমশান্তির জন্য অনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ছেড়ে সৎ ভাবে জীবনযাপনের চেষ্টা করেন। এটাই ভাল যে তাদের জন্য স্বাধীনতা থাকুক, এবং বিধি-নিষেধ আর শাস্তি! - তা কেবলমাত্র যদি তারা অন্যের অধিকারের পথে অনিষ্ঠ করে; এটাই অধিকতর ভাল তাদেরকে সেই ধর্মীয় কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত করার থেকে যা তাদের তথাকথিত ধর্মের কাজে নিয়মানুবর্তী করতে পারে কিন্তু সত্যিকার ধার্মিক বানাতে পারেনা, যা তাদের বোরখা পরিধান শিখাতে পারে কিন্তু টাবু বা মেলামেশার ব্যাপারে সচেতন রাখতে পারেনা। যেমনটা পরিলক্ষিত তাতে এটা প্রকৃতিগত, পবিত্র এবং প্রত্যাশিত কিন্তু যখন তা লোভী দুশ্চরিত শক্তিশালীদের দ্বারা ছলচাতুরি, প্রলোভন, প্রতারণায় সেসব দুর্বলদের উপর জুলুম করে চাপিয়ে দেয়া হয় যারা ফুলের মত প্রতিবাদ, প্রতিরোধ বা অাত্মরক্ষা করতে পারেনা; তখন তা সত্যিকার অধর্ম আর পাপের কাজে পরিণত হয়। পবিত্র কাজই পাপ কাজে পরিণত হতে পারে যখন তা এমন কারো উপর চাপিয়ে দেয়া হয় যারা অনিচ্ছুক, অপ্রস্তুত, শিশু অথবা অভাবগ্রস্ত। সময় অর্থাৎ শারীরিক পরিপক্বতা এবং দুর্বলের স্বাধীনতা কতটুকু নিশ্চিত করা হয়েছে তার উপরই নির্ভর করে তা পবিত্র নাকি পাপ। পবিত্র কাজ যদি মিথ্যা কথা আর সত্য গোপনের উত্থান ঘটায় তবে তা ঘৃণিত পাপ কাজে পরিণত হয়। ফুলগুলো উজ্জীবিত হতে পারে না, কিন্তু মানুষরা নিজের সংশোধন করতে পারে। এটা আবার কোন ধার্মিককে যেন অনুপ্রাণিত না করে অনৈতিক কর্মে আর মিথ্যা বলতে। প্রতিরক্ষাহীন ফুলগুলো মরে যায় কিন্তু ক্রিড়াণকে পরিণত শিশুরা বেচে থাকে - তারা ধার্মিক হতে পারে এবং ধার্মিকদের মত বেচে থাকতে পারে অথবা তারা একসময় ঘৃণিত অধার্মিক হয়ে যায় যদিও তারা তথাকথিত ধর্মীয় প্রার্থনায় নিয়মিত অংশগ্রহণে এবং ধর্মীয় গ্রন্থ তেলোয়াতে অভ্যস্ত। ধর্মবিরোধী কাজে লিপ্ত থেকে এবং অধর্মের লোকগুলোকে মেনে নিয়ে; তাদের অনুসরণ করে ওরা আর প্রকৃত ধার্মিক হতে পারে না। যদি শিশুরা লোভী, খারাপ বা নীতিহীণ না হয়, তারা নিজেদের শুধ্রে নিতে পারে যেমন ভাবে সূর্য্য পুনরায় উদিত হয়। ধর্মবিরোধী কর্মকান্ড হতে মুক্ত হতে শিশুদের কি শিখানো হচ্ছে? এটা অনাকাঙ্ক্ষিত যদি নিয়মিত প্রার্থনায় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি সমাজে অ-ধর্মকারীদের সংখ্যা কমাতে না পারে।

একটি রাতের স্বপ্নে তাকে দেখাগেল বিপদ মুক্ত হবার চেষ্টা করছে। যদিও তার উচ্ছাসিত চেহারা জীবন অাকঙ্খার টানে নিভু নিভু হয়ে গেল, সে একটা ফুলের দিকে ছুটছে যার নিচে কিছু পোকা মরে পড়ে আছে। বিধাতার নিদর্শণ বুঝি! মানুষ চেষ্টা করলে প্রায়শ্চিত্তের সাথে সাথে প্রতিশোধ নিতে পারে। লোকটা মেয়েটির বাবা-মার সাথে কথা বলে, এবং কোনপ্রকার ইচ্ছে ছাড়াই যে স্বপ্ন দর্শন, তার সাথে কোন অধ্যাত্মিকতা জড়িত কিনা তা জানার সুযোগ খোঁজে, কিন্তু তারা ব্যস্ত এবং সবার মত একই রকম স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তবে লোকটি নিজের বিশ্বাস অটুট রাখেন যে সবকিছুই পুনরায় বিচার করা হবে। হ্যা, মেয়েটিকে আবার স্বপ্নে দেখে, ‘আমাকে ফেলে যাবেন না, (না হলে) মেরে ফেলেন, মেরে নিয়ে যান’। মুসলমান পরিবারে জন্মালেও লোকটি নিজস্ব ধর্ম অনুসরণ করেন, আর মেয়েটি সেই পূর্ববর্তী ধর্মের একটা শিশু মেয়ে।

লোকটির প্রতি ওর গভীর টান। শুরু থেকেই তার যথেষ্ট জ্ঞান বুদ্ধি ছিল আর ইচ্ছেও ছিল ভালো হবার এবং ভাল থাকবার, কিন্তু তার লজ্জাবোধ আর সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ তাকে নিরুৎসাহিত করে, তার সঠিক থাকার চেতনাকে হত্যা করে এবং তাকে লাম্পট্যের ক্রিড়ানকে পরিণত করে। সমাজ আর ধর্মের শিক্ষা তাদের দুজনকে শেষমেশ দূরে ঠেলে দেয় আর খারাপ প্রলোভনকারীদের পুরষ্কৃত করে- যদিও বিধাতার ইচ্ছেতে তারা ছিল একে অন্যের ভালবাসা। বাতিল পুরুষরা, যারা ভালবাসা আর ভালবাসার অামন্ত্রণ পেতে ব্যর্থ কিন্তু দুর্বল নারীদের উপর অনাহুত শারীরিক আর অার্থিক জোর খাটায় কিংবা ছলচাতুরীর জালে বাধে তারা মূলত: দুজন মানুষের পবিত্র ভালবাসার জীবনে শয়তান হয়ে প্রবেশ করে। তারা টিকে থাকে, এমনকি পুরষ্কৃত হয় তাদের ধর্মীয় শিক্ষার পক্ষপাত দুষ্ট প্রয়োগের সৃযোগে। তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় শিক্ষা তাকে অসৎ সম্পর্ক গড়া থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ। পুরুষরা তাদের বিদ্যমান অতিরিক্ত শক্তিটা ব্যবহার করতে পারতো মেয়েদের কামেচ্ছার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে, যদি মেয়েরা প্রথমে এগিয়ে আসত। সঠিক সক্ষম মানুষেরা জানে যে এটা কোন হঠাৎ ঘটনা কিংবা হটকারী পাপাচার নয়, বরং ভালবাসার একটা পবিত্র পথ ধরে তার কাঙ্ক্ষিত নারি বারবার কাছে আসবে নিজেকে তৃপ্ত করতে এবং সে ঘনিষ্ঠ হবে যেমন তার মন চায়; তবে এমনটা নিশ্চিত হতে হবে যে সে অন্যকোন পুরুষের দ্বারা দুশ্চরিত অানন্দের স্বীকার হচ্ছেনা। যদি অনাহুত কেউ তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে স্পর্শ করে, তাহলে সেই বাতিল পুরুষ আসলে নারীর ভালবাসার স্বাধীনতা অস্বীকার করছে, সে মূলত: তাকে অনৈতিক নোংরা অানন্দের ক্রীড়াণকে পরিণত করছে। খারাপ ধর্ম প্রায় সময় উত্যক্তকারীদের সাথে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ের ব্যবস্থা করে। খারাপ নিয়মটা এ ভাবে উত্যক্তকারীদের শাস্তির পরিবর্তে পুরষ্কৃত করে। আর একবার একটা মেয়ে ভুক্তভোগী হলে, সে নিজের উপর আস্থা হারায় এবং সে তার সত্যিকারের ভালবাসার মানুষটির কাছে যাবার মত অহংকার হারায়। স্বর্গীয় পবিত্র বন্ধনের স্থলে সে ভালবাসাহীন অাস্থাহীন জীবন নিয়ে পাপী মানুষদের কাছে এখানে সেখানে নত হয়ে যায়। কিন্তু সব মেয়েরা একই রকম নয়। অনেক বিতর্ক এবং সত্য থাকতে পারে। এটা একটা অতি ইন্দ্রিয় মনের কথা, যে বিধাতা মানব রূপে পৃথিবীতে জন্ম নেন এবং তিনি জন্ম নিতে থাকবেন সাফল্য না আসা পর্যন্ত যখন তিনি অন্য মানুষদের কাছ থেকে তার সঠিক প্রাপ্য পাবেন, যারা নবীর অনুসারী, যে নবীদের তিনি অাগেই প্রেরণ করেছিলেন এবং সাফল্য না আসা পর্যন্ত তিনি নবীদের ণরকে যন্ত্রণার দহন হতে রেহাই দিবেন না। কি ঘটতে পারে যদি তিনি সত্যিই মানব রূপে অাসেন? সে কাকে, কি ভাবে বিয়ে করবেন? সে কি পারবেন? সে কি তাকে পাবেন, যাকে সে নিজের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছিলেন?

তার পিতা এবং তার ধর্মের ডাকা ভাই শফি’ যে কিনা কিছুটা অতিরিক্ত শারীরিক সম্পর্কে সচেষ্ট, স্বপ্নে উপস্থিত হল। আনেক গুলো কাঠাল, একটি তার বাবার হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল। লোকটি একটা গোটা নিজের মুখে তোলে। কিছুদিন অাগের একটা দুঃস্বপ্ন, মেয়েটি বিয়ের জন্য উদ্বিগ্ন, কিন্তু তার বাবা টাকাকড়ি নিয়ে অাসছে না। সে বেড় হয়ে একটা অন্ধকার জঙ্গলের মধ্যে হাটছে। হঠাৎ করে সে লোকটিকে দেখতে পায় এবং লাল রং এর একটা লিচুর মত কিছু একটা সে নিচে রাখল। লোকটা তা নেবার জন্য এগিয়ে যায়, কিন্তু মেয়েটি হুট করে আবার তুলে নেয়। এটা সেই মেয়েটা যে তাকে ভালবাসত এবং তার সাথে জীবনযাপন করতে চেয়েছিল। কিন্তু দুশ্চরিত শিক্ষকটির জন্য, সে লোকটির কাছে যাবার মত অাত্ববিশ্বাস হারিয়ে ফেলে এবং তেমনটায়ই পরিণত হয়- কিছু নারী-পুরুষ শিক্ষকটির চক্রান্তে জড়িয়ে পরে এবং লোকটাকে বিতাড়িত করায়, বন্ধী করায়। তারা অনুশোচনা করে কিন্তু পাপ আর অভিশাপ তাদের এবং তাদের নবীর জন্য বোঝা হয়ে থাকে- যারা লোকটিকে বিরক্ত করে এবং অাহত করে অসুস্থ অবস্থায় বিশ্বাসঘাতকতা করে। সে তার পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় কিতাব অস্বীকার করে এবং নিজের ধর্ম Lawful Intelligent Aisle(LIA) অনুসরণ করে, যেখানে সে প্রকৃত ধার্মিকদের কিছু বাধ্যতামূলক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে এবং নিজে সবসময়ে চেষ্টা করে যেন অন্য ধর্মের ধার্মিকদের থেকে খারাপ না হন। কিন্তু কিছু মুসলমান তাকে লাঞ্চিত করে, উচ্ছেদ করে এবং চিকিৎসার নামে অাটকে রাখে।

মেয়েটা পিছনে তাকায় এবং রাস্তায় চলে অাসে। লোকটা সন্ধার আগে হাটাহাটি করছিল। মেয়েটি একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছে। সে পিছন ফিরে লোকটিকে দেখে অার সামনে অাসে। দুজনেই, চেহারায় মৃদুহাসি নিয়ে মুখমুখি হাটছে। লোকটি মাথা নিচু করে তাকে না দেখার ভান করে। সে থেমে যায় এবং বলে, ‘কোথায় যাচ্ছেন?’ লোকটি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা স্মরণ করে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সে না তাকিয়ে হেটে যাচ্ছে আর স্মরণ করছে কিছুদিন অাগে মেয়েটা কত উচ্ছাস নিয়ে বলেছিল, ‘দাড়ান, দাড়ান, গতকাল আমি নামাজ পড়ে অাল্লাহর কাছে চেয়েছিলাম যেন অাপনাকে আজ অামি পাই। অাল্লাহ আমার কথা ঠিক শুনেছেন’। তখন সে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। তার বাবা- মা তাকে ঘরে একলা রেখে কোথায় যেন গেছে। সে একলা ঘরে লোকটিকে পাবার জন্য নামাজ পড়ে প্রার্থনা করে। সে মেয়েটির ঝলকানো মূহুর্তগুলোর কথা স্মরণ করে। সে মেয়েটাির বাড়ি যাচ্ছিল আর মেয়েটি সহপাঠীদের সাথে স্কুলে অাসছে। তাকে দেখেই মেয়েটির কথা বন্ধ, সে অস্থির ছোড়াছুড়ি শুরু করে আর সামনে এসে চোখে চোখ - মনে হচ্ছে সে শ্বাস নিচ্ছে না। হাতের ছিটা আর গলার মধ্যে গর্গল করে বলে, ‘দাড়ান, দাড়ান,,,,,’ আর হাত দুু’টো যেন লোকটির কাধ স্পর্শ করতে চায়। লোকটি নিজের হাত দু'টো ওর উড়ন্ত অাঙ্গুলগুলোর ঠিক উপরে ভাসিয়ে রাখে, আঙ্গুলগুলো যেন তার গলা ধরতে চাচ্ছে, কিন্তু সে ঘুরে দাড়ায় এমন ভাবে যেন বলছে, অামাকে ধরুন। লোকটি ভাবে এটা ভাল হত যদি মেয়েরা এখানকার সিনেমা না দেখে বিদেশি সিনেমা, উন্নত সিনেমা দেখে শিখতো, যেখানে ভালবাসার মানুষরা একে অন্যের প্রতি সম্মান করে এবং প্রথমবার স্পর্শ করার পূর্বে হাত প্রসারিত করে অনুমতির জন্য। আর এখানে পিছন ফিরে অপেক্ষায় থাকে কখন ধরবে, যেখানে মেয়েদের মর্যাদা আর স্পর্শ করার অধিকার নিজেরাই তাচ্ছিল্য করে।
যাহোক, লোকটি অাবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। এবং হেটে যায়, তার মনেপরে যখন সে হাত বাড়ায় মেয়েটা প্রতিবারই হাত না ধরে এড়িয়ে যায়। সে হেটে চলে এই প্রত্যাশায় যে, ওকে কেহ গায়ে পড়ে স্পর্শ না করুক ওদের ধর্মের স্বার্থে কারন, তার ধারনা ওকে ওদের ধর্মের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ ভাবে পাঠানো হয়েছে। সে পিছনে তাকায়, মেয়েটি এখনো বিয়ে অনুষ্ঠানের গেটে দাড়িয়ে অাছে। লোকটি কান্না শুরু করে এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে হাটতে থাকে। তার প্রত্যাশাগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে, কারণ এটাই সত্য যে তাদের ধর্ম ব্যর্থ। উপরন্ত, দুশ্চরিত শান মাষ্টার এবং তার অনুসারীরা কানপড়া দিতে থাকে আর মেয়েটির প্রতিবেশীদের উৎসাহ দেয় যেন সে সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়ে আর লোকটি তাকে পরিত্যাগ করে গ্রাম ছেড়ে ভাগে। তারা ভালকরে জানতো যে লোকটি বিয়ের ব্যাপারে একটি সতী মেয়ের অপেক্ষায় অাছে। তারা এটাও জানতো যে অনেকে লোকটাকে দেশের অাইন আর প্রশাসনে অবদান রাখার মত একটা অবস্থানে প্রত্যাশা করে। সে বাস্তবিক আর অাধ্যাত্মিক কারনে সমুদ্রতীরে থাকে। সে তাদেরকে খুব ঘৃণা করে যারা ধর্মের নামে অপকর্ম করে, অন্যের অধিকারে বাধা দেয়, প্রতাড়াণা করে..। তারা প্রথমে লোকটার মর্যাদাক্ষুন্ন করে কুৎসা রটায়, অপবাদ দিতে থাকে আর তার বিরুদ্ধে মূর্খদের ক্ষেপীয়ে তোলে যাতে তারা তাকে লাঞ্চিত করে। তারা জানতো যে, লোকটা ঐ মেয়েসহ অনেকের ধর্ম আর বেড়ে উঠা দিনগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। তারা এটাও জানতো যে, সে বিয়ে করেনি, কারণ মেয়েরা দায়িত্ব-জ্ঞানহীন ধর্মের জাতাকলে বিবাহযোগ্য হবার অাগেই সতীত্ব হারায়। তারা জানতো, যদি সচেতনতা বৃদ্ধি পায় তবে তাদের অনৈতিক আর উদ্ভট ধর্মীয় কীর্তিকলাপ মানুষ জেনে যাবে এবং তাদের প্রশ্রয়দানকারী রাজনৈতিক দল উৎপাটিত হবে। তারা এটাও জানতো যে, লোকটা সতীত্ব হারানো কোন মেয়েকে বিয়ে করবে না, তবে ঐ মেয়েটা ব্যতিক্রম। সে শুধু চায় যেসব দুশ্চরিত লোক মেয়েটিকে অনৈতিক অানোন্দে ব্যবহার করেছে তারা মরে যাক, অন্যথা ধর্ম অার পরিচ্ছন্ন অাধ্যাত্মিকতার স্বার্থে ওকে গ্রহণ করা যায়না। শান মাষ্টার এতটাই খারাপ যে সে অনেকের অনুপ্রেরণার কারণ হয় যাতে তারা মেয়েটাকে নষ্ট করে দেয়, সে অার্থিক সুবিধাও দেয়। শান মাষ্টার জানতো যে, সাদা বোর্ডে একটা কালো স্পট থাকলে সহজেই অপরাধীকে চিহ্নিত করা যায়, কিন্তু অনেক অনেক স্পট ফেললে প্রথমজনকে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

লোকটি অাবার পিছনে তাকায়, প্রায় তিনশ গজ রাস্তা হেটে ফেলেছে, সূর্য চলে গেছে, অন্ধকার সব ঢেকে দিচ্ছে। মেয়েটির ছায়া এখনো দেখা যাচ্ছে। লোকটা ঘরের পথে হাটে, কিন্তু মেয়েটির আনন্দের মূহুর্তগুলো ভুলতে পারে না, ‘অাপনাকে অবশ্যই অাসতে হবে, অামার ভয় করে, অামি একা ঘরে থাকতে পারিনা, আমার জন্য একটা মেন্দি নিয়ে অাসবেন। আজকেই’। সে এলোমেলো অবস্থায় দেয়ালে পিঠ হেলান দিয়ে বলে, ‘আসবেন তো’। লোকটি বলে, ঠিক আছে, আসবো, অাচ্ছা ঠিক অাছে, তোমার আজ- এখন স্কুলে যেতে হবেনা, চল, তোমাদের বাড়ি যাই। মেয়েটি চুপ করে থাকে আর পথের মানুষগুলো মুচকি হাসে। লোকটি হাত প্রসারিত করে, কিন্তু তার এক কাজিন তাকে ডাক দিলে সে স্কুলে চলে যায়। লোকটি পিছন দিয়ে ডাকে, কিন্ত ও না ফিরে চলে যায়। সে নিজে চায়ের দোকানে চা খেতে যায়। কয়েকটা ছেলে তাকে ঘিরে ধরে এবং লাঞ্চিত করে। তারা লোকটিকে গ্রাম ছেড়ে যেতে হুমকি দেয়। এটা গত শীতের কথা, তার পঞ্চম শ্রেণীর বার্ষিক পরিক্ষার আগের ঘটনা। লোকটা বাজারে যাবার পথে মেয়েটাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে। তার এক সহপাঠী বলেছিল রসুল নামের একটা ছেলেকে সে ভালবাসে। লোকটা কোন কথা না বলে, একনজর দেখে হেটে যাচ্ছিল। মেয়েটি জানতে চায়, ‘স্যার, আপনি আমাদের বাড়ি আসেননা কেন?’ লোকটি বলে, আবার আমাকে স্যার ডাকছো, আমি তোমার শিক্ষক না, আমাকে স্যার ডেকো না; এখানে দাড়িয়ে অাছো কেন?’ ও বলে, ‘আমরা স্কুলে যাচ্ছি। আচ্ছা আর স্যার ডাকব না। কিন্তু অাপনাকে অবশ্যই আজ রাতে বাড়ি আসতে হবে’। পাশাপাশি হাটার জন্য সে দ্রুত হাটার চেষ্টা করছে। সে হাত বাড়িয়ে বলে ‘আমার হাতের মেন্দি শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমার জন্য অবশ্যই একটা মেন্দি নিয়ে অাসবেন’। লোকটি ওর হাতের দিকে তাকায় আর নিজের হাতের ছোট নখটিও দেখে, বলে: এখনো রং অাছে, আচ্ছা রাতে তোমার বাড়ি যাবো, কিন্তু রাস্তায় হাটার সময় সাবধান থেকো। সে আবারো জিজ্ঞাস করে, ‘অাজ রাতেই অাসবেন তো?’ লোকটি বলে, অবশ্যই অাসবো, কিন্তু মশার কামড় খেতে চাইনা, মশারি রাখতে হবে কিন্ত। ও, নিজের পা দু’টো একটুকও নড়ায় না, এলোমেলোভাবে পিঠ দেয়ালে হেলিয়ে দাড়ায়।

পিছনে এখনো ওর অস্পষ্ট ছায়া দেখা যাচ্ছে। ও দাড়িয়ে অাছে। লোকটি ওকে অনেকবার স্বপ্নে দেখেছিল। তার উজ্জ্বল মূখমন্ডল কেমন যেন বাতাসের ঢেউয়ে মিশে অদৃশ্য হয়ে যায়। সাত বছর হয়ে গেল, মেয়েটিকে প্রথমে স্বপ্নে দেখে। তখন তার বয়স ছিল তিন/চার বছর। স্বপ্নে দেখার কয়েকমাস পরে, যখন সে সমুদ্রপারে আসে, সে ওকে বাস্তবে দেখতে পেয়েছিল ঠিক একই অবস্থানে। সূর্যোদয় দেখে, যে দোকানে সে চা খেতে এসেছিল মেয়েটা তার নাতনী। স্বপ্ন সত্যে পরিণত হয়, এমনটা দেখেই লোকটি নিশ্চিত যে, অলৌকিক কোন শক্তি রয়েছে। না হলে স্বপ্ন কিভাবে সত্য হতে পারে। স্বপ্নের উপর তো নিয়ন্ত্রণ নেই- তা ইচ্ছে করে, ইচ্ছে মত দেখা যায়না। সে এই অপেক্ষায় থাকে, মেয়েটি কেন স্বপ্নে দেখছে না! সে কেন কাছে অাসছে না! লোকটি আবারো পিছন ফেরে এবং কেদে উঠে। ঘরে গিয়ে আবার বের হয়। দোকানের কিছু পাওনা পরিশোধ করে মেয়েটির বাড়ি যাবার উদ্দেশ্যে। কিন্তু কয়েকজন লোক তার উপর হামলা করে। লোকটি কারণ জানতে চায়। তারা বলে, ‘অাপনি ধর্ম বিরোধী’।
না, আমার ধর্ম আছে, অমুসলিম হওয়া মানেই ধর্ম বিরোধী নয়। আপনারা মুসলমান জোড় করে আমার মুসলমানি করিয়েছিলেন। আমি নিজে করিনি, আর বিধাতাও করেননি। ধর্ম বুঝে তা গ্রহণ করার মত বয়স হবার পূর্বেই আপনারা তা আমার উপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। আমি নিজে মুসলমানি করাতাম না।
‘আপনি নবীকে গালি দিছেন’।
না, আমি বলেছিলাম যারা খারাপ তারা তাদের নবীকে খারাপদের নবী বানাচ্ছে। তোমাদের কতজন আইনত বিয়েযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের সতীত্ব টিকিয়ে রাখতে পারো? আমি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, কিন্তু তোমাদের ধর্ম তা মানে না, অথচ! তোমারই তোমাদের ধর্মকে অকার্যকর করছো আর নবীকে সন্ত্রাসীদের নবী বানাচ্ছো।
তারা লোকটির মাথায় এবং পায়ে আঘাত করে; এবং মরে গেছে ভেবে চলে যায়।

(মূল লেখা : When will they learn?, Written in personal note, https://facebook.com/rasal.lia https://liaisle.blogspot.com)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাসেল হাসান লিয়া
রাসেল হাসান লিয়া এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 17 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, ডিসেম্বর 27, 2017 - 7:40অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর