রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার এবং ফতোয়া-ই-খালেদা।

১৫ মার্চ মুন্সীগঞ্জের জনসভায়(পড়ুন,জাতীয়তাবাদী ওয়াজ মাহফিল) খালেদা জিয়া শাহবাগের আন্দোলনকারীদের নাস্তিক লোক বলে ফতোয়া জারি করেছেন।তিনি আন্দোলনকারী নাস্তিকদের সম্পর্কে বলেন,’আল্লাহ্-রাসুল,ইসলাম বা অন্য কোন ধর্ম সম্পর্কে তাদের কোনো আস্থা নেই।শাহবাগে তারা নাচ-গান ও অপকর্ম করছে।’জনসভা শেষে তিনি জামাতি তান্ডবে বিধ্বস্ত মন্দির পরিদর্শন করেন এবং মন্দিরের মেরামতে আর্থিক সহায়তা দেন।একই সাথে আবার ক্ষমতায় গেলে মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।খালেদা জিয়াদের সৌভাগ্য,রাজনৈতিক স্বার্থে তারা মন্দির ভাঙ্গতেও পারেন আবার প্রয়োজনে তা গড়তেও পারেন।এদের চেয়ে বড় ধর্মানুভব আর কে হতে পারেন?নাস্তিকদের দুর্ভাগ্য!!তারা উপাসনালয় ভাঙ্গতেও জানে না,গড়তেও জানে না।তবে তারা মানব মনের যে উপাসনালয় রয়েছে সেটিকে অন্যায়ের আরাধনা মুক্ত করতে চান।তাদের সে চাওয়ায় ভোটের হিসাব নেই।ভোটের হিসাব না থাকলেও যারা ভোটের হিসাব করেন তারা এই চাওয়ার মাঝে যথেষ্ট বিপদের সম্ভাবনা খুঁজে পান।কারণ,ন্যায় অন্যায়কে যখন মানুষ চিহ্নিত করতে পারে তখন এইসব ধর্মানুভবদের রাজনৈতিক ভেল্কী খেলা জনগণের চোথে ধরা পড়ে যায়,ক্ষমতার মসনদ জাগ্রত জনতা তাদের জন্য হারাম ঘোষণা করে।যুগের ইতিহাস এই স্বাক্ষ্যই দেয়।

ক্ষমতায় গেলে মন্দির নির্মাণের ঘোষণা দিলেও যারা মন্দির ভেঙ্গেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে কিনা সে বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন।এটাকেই বলে রাজনৈতিক দ্বি-চারিতা।তিনি আন্দোলনকারীদের অভিযুক্ত করে বলেন, ‘এরা কেমন তরুণ যে শুধু তারা ফাঁসি চাই,ফাঁসি চাই দাবি করছে।অন্যদিকে দেশের এত এত সংকটের বিষয় নিয়ে কোনো কথাই বলছে না।তরুণেরা এমন হতে পারে না।’আসলেই তো, তরুণরা সে বিষয়গুলো নিয়ে কেন কথা বলছে না?তরুণদের এই ব্যর্থতার দায়ভার কার? আপনি ও আপনার দল কি সে দায়ভার এড়াতে পারেন?দেশের প্রধান বিরোধীদল হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃত তরুণ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারা কী ভূমিকা পালন করেছেন?দেশের সংকট নিরসনে,গণমানুষের সমস্যা নিরসনে কয়টা আন্দোলন করেছেন?শুধুমাত্র ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি,আপনার মামলা,দুর্নীতিবাজ সুপুত্রদের মামলা আর ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি তত্ত্বাবধায়ক নিয়েই রাজপথ গরম করার চেষ্টা করেছেন;দেশ নিয়ে ভাবেন নি,জনগণ নিয়ে ভাবেন নি। আপনাদের কাছে তো তারুণ্যের মডেল দুর্নীতির যুগল বরপুত্র তারেক-কোকো। তাই শাহবাগের তরুণদের আপনার তরুণ মনে হয় নি।
ভোটের প্রয়োজনে রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার নতুন নয়। কখনো জনগণের একটা অংশকে সংখ্যালঘু আখ্যায়িত করে তাদের রক্ষার নামে রাজনীতি হয়েছে আবার অপর অংশের ধর্মীয় বিশ্বাসের মর্যাদা-মর্তবার অবনমনের অভিযোগ এনে ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার নামেও রাজনীতি হয়েছে। নির্বাচন আসলেই নিজেদের অপকর্মকে ঢাকতে নেতা-নেত্রীদের প্রয়োজন হয় ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার। তাই ভোটের আগে তাদের প্রয়োজন হয় হজ্ব করার,হাতে তসবিহ-মালা নেয়ার, প্রয়োজন হয় ধর্মীয় স্লোগানের- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/নৌকার মালিক তুই আল্লাহ’; ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/ধানের শীষে বিসমিল্লাহ’; ‘ভোট দিলে পাল্লায়/বেহেস্ত দিবেন আল্লায়’। এভাবেই অতীতে বহুবার রাজনীতির জটিল ক্যালকুলাসের সূত্রে জনগণের বিভক্তিকরণ ঘটানো হয়। বর্তমানের আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক এবং খালেদা জিয়ার ফতোয়া তারই ধারাবাহিক অপপ্রয়াসমাত্র।

১৪ thoughts on “রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার এবং ফতোয়া-ই-খালেদা।

  1. যারা রাজাকারদের উত্থান ঘটিয়ে
    যারা রাজাকারদের উত্থান ঘটিয়ে এদেশে রাজনীতি করা অধিকার দিয়েছে, শীর্ষ রাজাকারের নাগরিকত্ত বহাল করেছে সর্বোপরি চলছে যুগপথ তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কি আশা করা যেতে পারে?

    1. যারা রাজাকারদের উত্থান ঘটিয়ে

      যারা রাজাকারদের উত্থান ঘটিয়ে এদেশে রাজনীতি করা অধিকার দিয়েছে, শীর্ষ রাজাকারের নাগরিকত্ত বহাল করেছে সর্বোপরি চলছে যুগপথ তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কি আশা করা যেতে পারে?

      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. ক্ষমতার লোভে এই মহিলা পাগলা
    ক্ষমতার লোভে এই মহিলা পাগলা কুত্তার মতন আচরণ করছে। জরুরী ভিত্তিতে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো উচিৎ। দুঃখ হয় এই মহিলা নাকি বাংলাদেশের দুইবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী!!!! এরত প্রধানমন্ত্রীর পিএ হওয়ারও যোগ্যতা নাই।

  3. ওরে দোষ দিয়া লাভ নাই। নিজের
    ওরে দোষ দিয়া লাভ নাই। নিজের বুদ্ধিতে যদি করতো তাইলে খালেদারে গালি দেয়া যায়তো। আমার তো মনে হয় নিজের ঠোতে লিপিস্টিক লাগানো বাদে কোনো জ্ঞানই তার নাই। দেশ চালানো তো দুরের কথা

        1. তবে যাই বলেন না কেন ফালু ভাই
          তবে যাই বলেন না কেন ফালু ভাই একটা বেকুব লোক।তার যে সুন্দর হাসি তাতে ট্রয়ের যুদ্ধ তাকে নিয়েই শুরু হতে পারত এই গ্যারান্টি আমি দিতে পারি।আর সে কি না…….আসল কথা রুচির প্রশ্ন :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  4. যে নেতা নির্বাচনী নমিনেশন
    যে নেতা নির্বাচনী নমিনেশন ফরমে শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে লেখেন স্বশিক্ষিত ! যে নেতা ৫ মিনিট অলিখিত বক্তব্য দেয়ার যোগ্যতা রাখে না! যে নেতা সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে শুধু তার লোকদের লিখে দেয়া বক্তব্য পাঠ করেই উঠে যান ! যার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়ার ক্ষমতা নাই! সে নেতা কি বললো তাতে আমাদের কি আসে যায়। শুধু বলা যায়, পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়…. সে তো ক্ষমতার পাগল ! আর তার পোলা দুইডা টাকার পাগল ।

    1. প্রবাদ আছে সুশিক্ষিত লোক
      প্রবাদ আছে সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।তিনার (সহজ গোলাপী অভিধান) সে যোগ্যতাও নেই।ভাড়া খাটা বুদ্ধিজীবি আর পা চাঁটা উপদেষ্টা দিয়েই তিনা চলেন।আর পুত্র যুগল শুধুই কি টাকার পাগল?এত টাকা ভাঙ্গে কই?কি বুঝলেন মিয়া ভাই?

  5. ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার আইন
    ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার আইন করে বন্ধ করা হোক। শিরোনামটায় ‘ফতোয়া-ই-গোলাপী’ যোগ করলে ভাল হইত।

  6. নৌকা-পাল্লা-লাঙ্গল-শীষ সব
    নৌকা-পাল্লা-লাঙ্গল-শীষ সব সাপেরই দাঁতে বিষ,
    তফাত্‍ শুধু উনিশ-বিশ। :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

  7. ফতোয়া জারি কইরা প্রতিবার সফল
    ফতোয়া জারি কইরা প্রতিবার সফল হওয়া যায় না ম্যাডামের মনে হয় সেটা মনে নাই।থুক্কু ম্যাডাম যার কথায় নাচে সে মুনে হয় এইডা ভুইলা পানির লগে খাইয়া ফেলছে !!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *