মাহফুজ আনামরা ক্লান্ত হন না…

ইংরেজী পত্রিকা ডেইলী স্টারের প্রকাশক ও সম্পাদক মাহফুজ আনাম সাহেব তাঁর নিজের পত্রিকায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিশাল এক ‘সুশীলাকৃতি”র কলাম লিখেছেন। প্রতিটা লাইন খুব মনযোগ দিয়ে পড়েছি। কিন্তু ওনার লেখা একটা লাইনও আমাকে বিশেষভাবে আন্দোলিত করেনি বা করতে পারেনি। বরং সুবিচার ও মানবতার কথা বলে মার্কিনী প্ররোচনায় এবং স্টাইলে এনারাই এক সময় এই

ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে কলম ধরেছিলেন, ক্ষেত্রবিশেষে যা বর্তমানেও চলমান।

ইংরেজী পত্রিকা ডেইলী স্টারের প্রকাশক ও সম্পাদক মাহফুজ আনাম সাহেব তাঁর নিজের পত্রিকায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিশাল এক ‘সুশীলাকৃতি”র কলাম লিখেছেন। প্রতিটা লাইন খুব মনযোগ দিয়ে পড়েছি। কিন্তু ওনার লেখা একটা লাইনও আমাকে বিশেষভাবে আন্দোলিত করেনি বা করতে পারেনি। বরং সুবিচার ও মানবতার কথা বলে মার্কিনী প্ররোচনায় এবং স্টাইলে এনারাই এক সময় এই

ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে কলম ধরেছিলেন, ক্ষেত্রবিশেষে যা বর্তমানেও চলমান।
ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ডেইলী স্টারে এবং বিভিন্ন ব্লগে লিখে ট্রাইব্যুনাল কতৃক যেই ব্যক্তি একাধিকবার তীরস্কৃত হয়েছেন এবং আদালত অবমাননার একটা মামলা যার বিরুদ্ধে বর্তমানেও ট্রাইব্যুনালে চলমান, সেই মিঃ ডেভিড বার্গম্যানকেও জনাব মাহফুজ আনাম নির্দ্বিধায় প্রমোট করতে কার্পন্য করেননি।

যা বলছিলাম, তাঁর লেখা কলামে একটা লাইনেও তিনি নতুনত্বের ছাপ রাখতে পারেননি। একাত্তরে স্বজনহারানো পরিবারগুলো এবং এই বিচারের সাথে অনেক বছর ধরে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও বুদ্ধিজীবিগন এই একই কথা হাজার-লক্ষ বার বলেছেন এবং এখনো বলছেন। সুতরাং একই কথা নতুন করে জনাব আনামের কাছ থেকে না শুনলেও জাতি বা প্রধানমন্ত্রী খুব যে একটা অপকৃত হতেন, তা মোটেও নয়। তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে কেন এই লেখা লিখলেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিলেন? শেষমেষ জায়গাটা খুজে পেলাম। তিনি নীচের এই লাইনগুলো লিখেছেন এবং আমার কাছে ওনার লেখার মূল মাজেজাটা এখানেই নিহিত বলে অনূমেয় হয়েছে।

“এটা সত্য যে, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জামায়াতকে মিত্র হিসেবে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের এ ভূমিকার জন্য তাদের ইতিমধ্যে সমালোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ নিয়ে সমালোচনা হবে।” >>> মাহফুজ আনাম

ওনার এই তিন লাইনে আমি স্পস্ট হুমকী এবং আওয়ামী লীগ, যারা নাকি এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বদ্ধ পরিকর এবং এই কাজের জন্য তিনি যাকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন, তাঁদেরই জামাতি ট্যাগ দিচ্ছেন! একই সাথে এই প্রক্রিয়া যে আগামীতেও চলবে, তাঁর একটা সহজ গতিশীল আভাস এখানে তিনি দিয়েছেন।

সুতরাং দাড়ালো কি তাহলে? জামায়াত প্রতিনিয়তি, এবং গোলাম আযমপুত্র আযমী সেদিনও যেভাবে মিডিয়ার মাধ্যমে বলেছেন যে, “নব্বুয়ের দশকে এই জামায়াতকে সাথে নিয়েই আওয়ামী লীগ একাট্টা হয়ে আন্দোলন করেছে, তখনতো কাউকে যুদ্ধাপরাধী বলেনি তাঁরা। তাহলে এখন কেন বলা হচ্ছে?”

এবার মিলিয়ে দেখুন, মাহফুজ আনাম সাহেবের সাথে জামায়াতের কথার মিল বা সূত্র খুজে পান কি-না। ঠিক যেই সময়ে, যুক্তিতে এবং আর্গুমেন্টে জামায়াত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়াকে একটা “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা”-মূলক প্রহসনের বিচার বলছে, ঠিক সেই একই সময়ে একই যুক্তি ও আর্গুমেন্টকে স্ট্যাবলিশ করতে আনাম সাহেবও একই কথা বললেন।

ইংরেজী পত্রিকা বিধায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কূটনৈতিক জোনের মাধ্যমে এই কথাগুলো দেশের বাইরে পাঠাতে তিনি যে সক্ষম হয়েছেন তাতে কোন সন্দেহ নাই। এই ধরনের ফরমায়েশী লেখা আনাম সাহেবের এটাই প্রথম নয়। সেই সাথে জামায়াতিরা ওনার এই লেখাকে তাঁদের দাবির স্বপক্ষে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, সে সম্ভবনাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

জনাব মাহফুজ আনামের লেখার লিঙ্কঃ

†kL nvwmbv, Avcbv‡K ab¨ev` : gvndyR Avbvg

২ thoughts on “মাহফুজ আনামরা ক্লান্ত হন না…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *