স্বপ্ন

বাসে চুপচাপ বসে আছি। বাড়ি যাচ্ছি পরিবার পরিজনদের কাছে। আমার পাশের সিটটা এখনও ফাকা। মনে হচ্ছে এই সিট এ কেউ বসবেনা।বাস ছাড়ছেনা কেনো? অপেক্ষা খুব খারাপ একটা জিনিস। আর ভালো লাগছেনা।


বাসে চুপচাপ বসে আছি। বাড়ি যাচ্ছি পরিবার পরিজনদের কাছে। আমার পাশের সিটটা এখনও ফাকা। মনে হচ্ছে এই সিট এ কেউ বসবেনা।বাস ছাড়ছেনা কেনো? অপেক্ষা খুব খারাপ একটা জিনিস। আর ভালো লাগছেনা।

বাস ছেড়ে দিবে ছেড়ে দিবে ভাব এইসময় একটা মেয়ে বাসে উঠে আসলো। গা ভর্তি গয়না আর নীল শাড়ী । হাতে টিকিট নিয়ে নিজের সিট খুজতে লাগলো। তারপর ধপাস করে আমার পাশের সিটে এসে বসে পড়লো। সিটের কম্পন আর পারফিউমের কড়া গন্ধ একইসাথে আমাকে নাড়া দিলো । মনে হলো পারফিউমের দোকান এসে আমার পাশে বসেছে। প্রবল বিরক্তি নিয়ে তার মুখপানে তাকালাম। আমার বিরক্তি দেখে সে বলল সরি আসলে অনেক দিন পর বাড়িতে যাচ্ছি তো তাই সবকিছু তাড়াতাড়ি করে ফেলতে ইচ্ছা করছে। মেয়েটার কন্ঠ খুব সুন্দর কোকিলের মতো। কোকিল কন্ঠির অপরাধটা আমি ক্ষমা করে দিলাম। আমি বললাম ও আচ্ছা।
এপর্যন্তই তারপর চুপ মেরে গেলাম। বাস শেষ পর্যন্ত চলা শুরু করলো। কিনে আনা ম্যাগাজিনটা চোখের সামনে মেলে ধরে পড়তে শুরু করলাম। পাশে তার ছটফাটানিতে বিরক্তও হচ্ছিলাম মজাও পাচ্ছিলাম। সে কথা বলতে চাচ্ছে কিন্তু আমি পাত্তা দিচ্ছিনা। খুব মনোযোগ দিয়ে ম্যাগাজিনটা পড়ছি। মনে হচ্ছে এই মূহুর্তে এটাই আমার কাছে সবকিছু। নিরবতা কোকিলকন্ঠীর মনে হয় অসহ্য লাগছিল তাই সে বলে উঠলো আজকে খুব গরম তাইনা ? আমি বললাম আমাকে কিছু বলছেন? সে আবার বলল আজকে খুব গরম। আমি বললাম হুম। তারপর আবার চুপ মেরে গেলাম। একটু পর সে আবার বলে উঠলো আপনি খুব খারাপ লোক। আমি বললাম ও আচ্ছা। ও রেগে গিয়ে আমাকে একটা ধাক্কা দিলো। আমি সামনের দিকে ঝুকে গেলাম। কিছু বলার জন্য ওর দিকে তাকালাম কিন্তু কোথায় কে? আমার পাশের সিটটা তো খালি। স্বপ্ন দেখছিলাম।অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। বাস ব্রেক করায় ঘুম ভেংগে গেছে। বাস স্টপেজে দাড়িয়েছে। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। কেউ দরজায় এসে দাড়িয়েছে। কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে আমার পাশের সিটে এসে বসলো। সিটের কম্পাংকে বিরক্ত হওয়ার সাথে সাথে চমকে উঠলাম পারফিউমের গন্ধটা পরিচিত মনে হচ্ছে। পাশে তাকালাম একটা মেয়ে। অন্ধকারে চেহারাটা বোঝা যাচ্ছিলো না। হঠাৎ রাস্তার লাইটের আলো বাসের ভিতরটা খানিক সময়ের জন্য আলোকিত করে দিলো। আমি ভুত দেখার মতো চমকে উঠলাম। এ যে নীল শাড়ী পড়া কোকিল কন্ঠী। এটা কিভাবে সম্ভব? নাহ এটা হতে পারেনা। নিশ্চয় আমার হেলুসিনেশন হচ্ছে। মাথার ভিতর ক্যামিকেল ঠিক মতো কাজ করছেনা। এখন আমার মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছে। কথা বলতে চাচ্ছি কিন্তু ভাষা খুজে পাচ্ছিনা। শেষমেষ বলেই ফেললাম আপনি কি কিছুক্ষন আগে বাসে ছিলেন? মেয়েটা বলল নাহ। শুনে আমি পাথরের মতো জমে গেলাম। এইতো সেই কন্ঠ। আমি চিন্তায় ডুবে গেলাম। কিছু বলতে যাবো বলতে পারলাম না। প্রচন্ড ধাক্কায় মেঝেতে ছিটকে পড়লাম।বাস এক্সিডেন্ট করে নদীতে পড়েছে। বাসের মধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। আমি সাতার পারিনা। কিন্তু আমি সে নিয়ে চিন্তা করার সময় পেলাম না। দ্রুত পানি ঢুকছে বাসে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমি মারা যাচ্ছি।। বুক ফেটে যাচ্ছে নিশ্বাস না নিতে পারায়। জ্ঞান হারানোর আগে চোখের সামনে শুধু নীল পানি চোখে পড়লো।

ঘরের চারদিকে শুধু সাদা। ঘরে একটা বিছানায় একটা কমবয়সী ছেলে শুয়ে আছে। তার বুক অনবরত উঠানামা করছে। ঘরের বাইরে আরেকটা ঘর সেখানে একদল বিজ্ঞানী খুব উত্তেজিত। কারন তারা আজ মানুষের স্বপ্ন নিয়ন্ত্রন করতে সফল হয়েছে। কে একজন বলে উঠলো ছেলেটাকে উঠাউ।

চোখ মেলে দেখলাম চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। বোধহয় আমি মারা গেছি। এই
যাহ কোকিলকন্ঠির নাম জানা হলোনা। ঘরের ভিতর কেউ নেই। ব্যাপারটা কি? আমি এখানে কিভাবে আসলাম। ঘরের কোথাও কোনো দরজা নেই। আশ্চর্য তা কিভাবে সম্ভব? ঘরে একটা দরজা থাকা চাই। হঠাৎ খুট করে একটা শব্দ হলো দরজা দুফাক হয়ে গেলো। ভিতরে ২ জন এপ্রন পড়া মানুষ ঢুকলো। এসে তারা আমাকে বসতে বলল । বলল তোমাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হবে তুমি তার উত্তর দিবে আমি বললাম ঠিক আছে।
প্রথম প্রশ্নঃতোমাকে দুইটি স্বপ্ন দেখানো হয়েছে তুমি কি তা বোঝতে পেরেছো।
আমি চমকে উঠলাম। এরা আমার স্বপ্ন নিয়ন্ত্রন করেছে। এবার আমি প্রশ্ন করলাম আমি এখানে কেনো?
তারা পরস্পর দৃষ্টি বিনিময় করলো। আমি হঠাৎ করে বুঝে গেলাম এরা মানুষ না রোবট। সবকিছু মনে পড়ছে আস্তে আস্তে। আধুনিকতার যুগে রোবোটিক্স বিদ্যার এতো উন্নতি হয়েছিলো একসময় এরা মানুষের নিয়ন্ত্রন থেকে বেড়িয়ে মানুষকেই বন্দী করে নিয়েছে। তাদের অনেককে শীতল ঘরে নিয়ে রাখা হয়েছে। আমাকে শীতল ঘরে পাঠানো হয়েছিলো। সেই যে ঘুমিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমি বাসে। তারপর এখানে। আরেকটা জিনিস মাথায় আসতে আমার হাত পা জমে গেলো। এরা আমার উপর পরীক্ষা চালাচ্ছে। এরা মানুষের হাতে তৈরী হয়ে এখন মানুষ বানাতে চলেছে।
নাকি এটাউ কোনো স্বপ্নের অংশ। স্বপ্ন ভাংগানোর শর্ত হলো অনেক কষ্ট পাওয়া। আমি কিছু না বলে বাম হাতটা মুখের কাছে এনে কামড়ে হাতের রগ ছিড়ে ফেললাম। আমাকে এই কাজ করতে দেখে রোবট ২ টা কিছু বলল না কারন তাদের এক্সিপেরিমেন্টের জন্য অনেক মানুষ আছে । শুধু একজন বলল বোকা হোমো সেপেয়েন্স। আমি জিজ্ঞেস করলাম নীল শাড়ি পড়া মেয়েটার নাম কি?
এবারো তারা দৃষ্টি বিনিময় করলো। উত্তর আশা করিনি কিন্তু একজন উত্তর দিলো ওর নাম নীলাবতী ।

মারা যাওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে বুঝতে পারলাম এটা স্বপ্ন ছিলোনা।

৭ thoughts on “স্বপ্ন

          1. অনেক দিন ছিলাম না। ফেসবুকে
            অনেক দিন ছিলাম না। ফেসবুকে নিজেকে হারিয়ে ইস্টিশন ত্যাগ করেছিলাম। এখন ফেসবুকের আকর্ষন এড়িয়ে ইস্টিশনে ফিরলাম। আশা করি ফেসবুক আর ব্লগ লেখা নিয়ে গোলমাল বাধবে না।

Leave a Reply to শওকত খান Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *