একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর চোখে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাঃ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সংস্কার কেমন হওয়া উচিত!

শুনেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাকি দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেবার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে! সিদ্ধান্তটা ভালো। তবে তা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। আর শিক্ষা বিষয়ক কোন সিদ্ধান্ত যদি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে না নেওয়া হয় তবে তার ফলাফল কখনো ভাল হয় না। এ প্রসঙ্গে পরে আসছি। তার আগে এক নজরে দেখে আসার চেষ্টা করি বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে।

শুনেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাকি দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেবার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে! সিদ্ধান্তটা ভালো। তবে তা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। আর শিক্ষা বিষয়ক কোন সিদ্ধান্ত যদি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে না নেওয়া হয় তবে তার ফলাফল কখনো ভাল হয় না। এ প্রসঙ্গে পরে আসছি। তার আগে এক নজরে দেখে আসার চেষ্টা করি বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে।
বিগত ১০ বছর ধরেই বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থাতে সংস্কারের নামে আমাদের তথা সাধারন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক প্রকারের গবেষণাই চলছে। আর এই গবেষণার গিনিপিগ কিংবা বলির পাঠা যেটাই বলেন না কেন তা হচ্ছি আমরা যারা বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থী আছি তারাই। তবে আমাদের জন্য সান্তনা হলো এই যে, যারাই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছেন তাঁরা কেবল মাত্র বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের নিয়েই গবেষণা করছেন। মাদ্রাসা শিক্ষার শিক্ষার্থীদের প্রতি উনাদের মনযোগ নেই। আর ইংরেজী মাধ্যমের এরিষ্ট্রোকেট শিক্ষার্থীদেরকে তো আর গিনিপিগ বানান যায় না, তাই এই মাধ্যমের কথা বাদ।
আসুন দেখি বিগত এক দশক ধরে আমাদেরকে নিয়ে কি কি করা হচ্ছে তার কিছু নমুনা দেখা যাক!
আমাদের বাংলা মাধ্যমে সৃজনশীল পদ্ধতির মত অসাধারণ এক পদ্ধতি চালু হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি এই পদ্ধতির সঠিক সুফল পাওয়ার জন্য যথাযথ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় নি। আমাদের স্কুল কলেজগুলো কোটাধারী অযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকায় ভরপুর ( যাঁরা যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন উনাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রইলো)। ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা প্রথা বাতিল করে যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকদেরকে নিয়োগ দেওয়া উচিত। আবার যে সকল যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকগন আগের নিয়মে বছরের পর বছর ধরে পড়িয়ে আসছেন তাঁদেরকে নতুন সৃজনশীল পদ্ধতিতে পড়ানোর জন্য উপযুক্ত ট্রেনিং প্রদান করা হয়নি। ফলাফল আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে বেশিরভাগই সৃজনশীল নিয়মে প্রশ্নই তৈরি করতে পারে না। আবার স্কুল-কলেজে বর্তমানে “তথ্য ও প্রযুক্তি” নামক একটি বিষয় সবার জন্য বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য “ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং” নামক একটি বিষয় চালু করা হয়েছে। তবে এই বিষয় গুলোর জন্য আগে কোন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সঠিক নির্দেশনা হতে বঞ্ছিত হচ্ছে।
এই সৃজনশীল নিয়ম চালু করতে গিয়ে বিগত বছরগুলোতে ঘনঘন স্কুলের সিলেবাস পরিবর্তন হয়েছে। একবার স্কুলের কোন এক শ্রেণীর এক বিষয়ের সিলেবাস এক রকম হয়েছে তো পরের বছর হয়েছে অন্য রকম। এমনকি গত বছর অষ্টম শ্রেণীর ইংরেজীর সিলেবাস এক বছরেই তিন থেকে চার বার পরিবর্তন হয়েছে। শুধু তাই নয়, অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি পরীক্ষার ১৫ দিন আগেও একবার সিলেবাস পরিবর্তন হয়েছে। সিলেবাস পরিবর্তনের বিষয়টা এতটাই অনিশ্চিত যে বছরের শুরুতে আমাদের শিক্ষকগণের বেশির ভাগই জানেন না সারাবছর তাঁদেরকে কোন সিলেবাসে পড়াতে হবে। প্রশ্নের ধরণ কেমন হবে? কিন্তু এমনটা কেন হবে? শিক্ষার্থীদের জীবনতো খেলার লেগো নয় যে একবার তা দিয়ে বাড়ী বানালাম, সেটা ভালো লাগছে না তাই ভেঙ্গে গাড়ি বানালাম তারপর মানুষ এরপর অন্যকিছু।
কয়েকবছর আগে নবম শ্রেণীর সাধারণ গণিত সৃজনশীল করায় অনেক শিক্ষার্থী আন্দোলনও করেছিলো। তাদের দাবী ছিলো হঠাৎ করে নতুন সিলেবাস দেওয়ায় তাদের বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। শুরুতেই আমি বলেছি যে সংস্কারের নামে আমাদের নিয়ে রীতিমত গবেষণা হচ্ছে। নিচের ক্লাস থেকে নতুন নিয়ম চালু না করেই হঠাৎ করেই উপরের ক্লাসে নতুন কোন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এর সাথে খাপখাওয়াতে পারবে কিনা সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। আর একটার পর একটা প্রজন্মকে এইভাবে গিনিপিগ বানিয়ে তাদেরকে নিয়ে গবেষণা করায় এই সব শিক্ষার্থীদের মানও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। যার প্রমাণ সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় এসব শিক্ষার্থীদের করুণ পারফর্মেন্সেই পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এই সময়ে এ+ এর পরিমান বেড়েছে প্রচুর। তবে এতে শিক্ষার্থীদের সফলতা বেশি নাকি সরকারের ব্যর্থতা বেশি সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ বিগত বছরগুলোতে পঞ্চম শ্রেণীর পিএসসি থেকে শুরু করে অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসির সব প্রশ্নই ফাঁস হয়েছে। হ্যাঁ সরকার হয়তো প্রশ্ন ফাঁস করে নি। কিন্তু প্রশ্ন যাতে ফাঁস না হয় তা নিশ্চিত করা কি সরকারের দ্বায়িত্ব নয়? সেটাতে তারা পুরোপুরিই ব্যর্থই বলা যায়।
যাহাই হউক বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় বলে আগামী বছরেও হয়তো নতুন কোন নিয়ম চালু হবে। তবে সে ক্ষেত্রে তা আসলেই শিক্ষার্থীদের জন্য কতটূকু কার্যকর হবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আর দশ জন সাধারণ নাগরিকের মত আমিও বিশ্বাস করি বর্তমানে এদেশে শিক্ষার মান মানসম্মত নয়। এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে যে পদ্ধতিতে চেষ্টা করা হচ্ছে তা আমাদের শিক্ষার্থিদের জন্য সত্যিকারের কল্যাণ বয়ে আনতে পারছে না।
এদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমিও চাই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নত হউক। তবে এক্ষেত্রে আমার কিছু প্রস্তাব আছে। প্রথমে এদেশের স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বনামধন্য শিক্ষাবীদ শিক্ষকগণের সমন্বয়ে একটি কমিটি প্রণয়ন করে একটি প্রজেক্ট গ্রহণ করা হউক। সেই প্রজেক্টের অধিনে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকগণের তত্বাবধানে ষষ্ট শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত সকল বিষয়ের বই নতুন করে প্রণয়ন করা হউক। তারপর তা সরাসরি স্কুলে না পাঠিয়ে ভালোভাবে চেক করা হউক। এক্ষেত্রে স্বনামধন্য স্কুল শিক্ষকগণের মতামতও নেওয়া হউক। কারণ মাঠ পর্যায়ে উনারাই সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পৃক্ত এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা সম্পর্কে উনারাই ভালো জানেন। এবং নতুন নিয়ম উনারাই মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করবেন। এছাড়াও এদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপরও জড়িপ চালানো উচিত। তবে নতুন পুস্তক প্রণয়ণে মূল ভূমিকা পালন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণই। এরপর দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো (বুয়েট,চুয়েট,ঢাবি,চবি,রাবি,শাবিপ্রবি,ঢামেক, চমেক সহ সকল শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বাছাই করা স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর মেধাবী শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত করে তাদের উপযুক্ত ট্রেনিং দিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগ দেওয়া হউক। এক্ষেত্রে সকল রকম কোটা ও দলীয়করণ মুক্ত ভাবেই এসকল শিক্ষার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তারপর তাদের দিয়ে সারাদেশে স্কুল শিক্ষকদের নতুন প্রণয়নকৃত বইগুলোর উপর উপযুক্ত ট্রেনিং প্রদান করা হউক। ট্রেনিং শেষ হলে প্রথমে নতুন পদ্ধতি শুধু মাত্র ষষ্ট ও সপ্তম শ্রেণিতেই প্রচলন করা হউক। পরের বছর সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যখন অষ্টম শ্রেণীতে উঠবে তাদেরকে দিয়ে অষ্টম শ্রেণীতে নতুন পদ্ধতি চালু করা হউক। এতে সুবিধা হবে এক বছরে আমাদের শিক্ষকগণ এই পদ্ধতি সম্পর্কে মোটামুটি অবগত হবেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছেও এই পদ্ধতি হঠাৎ করে চাপিয়ে দেওয়া নতুন কোন নিয়ম মনে হবে না। পরবর্তীতে এই সকল শিক্ষার্থীরা জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে নবম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হলে তাদেরকে দিয়েই এসএসসিতে নতুন পদ্ধতিটি চালু করা হউক। তারপর এইসকল শিক্ষার্থীরা যখন এসএসসি পাশ করে কলেজে উঠবে তখনই তাদের দিয়ে এইচএসসিতে নতুন সিলেবাসটি প্রবর্তণ করা হউক। এতে মোটামুটি পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন নিয়ম প্রবর্তণ করতে। কিন্তু এর ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে তা হঠাৎ করে চাপিয়ে দেওয়া কোন পদ্ধতি বলে মনে হবে না। আবার ছোটবেলা থেকে ( ষষ্ট শ্রেণী) এই পদ্ধতির সাথে পরিচিত হয়ে এইচএসসি পর্যন্ত একই পদ্ধতিতে পড়ে আসায় তাদের মান উন্নয়ন হবার সম্ভাবণাও বেড়ে যাবে বহু গুণ। আমরা শিক্ষার্থীরা কোরবানির হাঁটের গরু নই যে আমাদের রাতারাতি মোটাতাজা করণ ওষুধ দিয়ে বাজারে বিক্রয় করার চেষ্টা করা হবে। আমরা দেশের ভবিষৎ। তাই আমাদের উন্নতির জন্য ধীরে ধীরেই চেষ্টা করা হউক। অসুখ হলে ডাক্তার যদি ৭ দিনের ওষূধ দেয় তবে সকল ওষুধ একদিনেই খেয়ে ফেললে আমাদের রোগ ভালো হবে না। বরং তা আরো মারাত্বক বিপদ ডেকে আনতে পারে। তেমনি শিক্ষা ব্যবস্থায়ও সংস্কার যদি শিক্ষার্থীদের গ্রহণ ক্ষমতা বিবেচনা না করে রাতারাতি আনা হয় এর ফল ভাল হবে না। আর তাই সাধারাণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হউক ধীরে ধীরে, একটু একটু করেই।
এতক্ষণ তো বললাম বাংলা মাধ্যমের কথা। এবার বলি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার কথা। একথা স্বীকার করতেই হবে যে বাংলাদেশের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দারিদ্র পরিবারের সন্তানেরা পড়ছে মাদ্রাসায়। আর এই সকল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আছে অন্যান্য মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের তুলনায়। যেমন গত বছর আমরা এক মাদ্রাসা ছাত্রকে ব্লগ কি এর উত্তরে বলতে শুনেছি “ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালায়”। এটাই কি প্রমাণ করে না এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কতটূকূ পিছিয়ে আছে? আবার এসকল শিক্ষার্থীরা অনেক রকম সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্ছিত। আবার সমাজের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জঙ্গী মনে করে, এবং তাদের অবজ্ঞা করে। এ প্রসঙ্গে শাহরুখ খানের “মাই নেম ইজ খান” মুভির একটি ডায়লগ মনে পরছে। ডায়লগটা এমন, “মাই নেম ইজ খান, এন্ড আই এম নট এ টেরোরিষ্ট”। মুসলিমদের সম্পর্কে আমেরিকার ভ্রান্ত ধারণার প্রতিবাদেই এমনটা বলা হয়। এখন কি আমরা চাইছি, আমাদের বাংলাদেশের কোন এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী “মাই নেম ইজ অমুক, আই এম এ মাদ্রাসা স্টুডেন্ট, এন্ড আই এম নট এ জঙ্গি” এই কথাটা বলুক?
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা প্রর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার পরেও তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে। সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তারা তাদের মেধার পরিচয় দিয়ে পড়ালেখা করছে এবং সফলতার সাথে কৃতকার্যও হচ্ছে। তারপরেও তারা প্রতি পদে পদে নানা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। যেমন একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী চাইলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতা থাকা স্বত্ত্বেও নিজের পছন্দ মতন বিষয়ে পড়তে পারে না। অথচ এই বছর যেখানে শত শত এ+ পাওয়া অন্যান্য মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বেশির বাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাশই করতে পারে নি সেখানে ঢাবির খ ইউনিটে প্রথম হয়েছে একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীই। শুধু এই বছর না, প্রতি বছরই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে। ঢাবি কতৃপক্ষের ভাষ্যমতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ইংরেজী পড়ে ১০০ নম্বরের আর অন্যান্য মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা পড়ে ২০০ নম্বরের। তাই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা সকল বিষয়ে পড়ার সুযোগ পায় না। এখন প্রশ্ন হলো মাদ্রাসার সিলেবাস কি শিক্ষার্থীরা তৈরী করে? উত্তর অবশ্যই না। তাহলে তাদের দোষটা কোথায়?
সরকারের উচিত মাদ্রাসা শিক্ষার্থিদের প্রতি নজর দেওয়া। আমরা এখন স্বপ্ন দেখছি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। বাংলাদেশ এখন প্রস্তুত হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের তকমা ছেড়ে স্বল্প উন্নত দেশে পরিনত হতে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য নিশ্চয় স্বল্প উন্নত দেশে পরিণত হওয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা চাই উন্নত এক বাংলাদেশ। আর একটা বিপুল সংখ্যক জনগণকে ( মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ও তাদের পরিবার ) পেছনে রেখে বাকি অর্ধেক জনগণ সামনে এগিয়ে গিয়ে হয়ত বাংলাদেশকে স্বল্প উন্নত দেশে পরিণত করতে পারবো, কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক জনশক্তির সাহায্য ছাড়া সেখান থেকে কি এদেশকে উন্নত দেশে রুপান্তর করতে পারবো? তাই এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সিলেবাস প্রণয়ণের সময় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হউক।
শুরুতেই বলেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ বাতিল করার সময় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেনি। এবং এর ফলাফল ভালো হবে না। ঢাবি কতৃপক্ষের উচিত ছিলো এই ব্যপারে আগে থেকে ঘোষণা দেওয়া। হঠাৎ করে এমন একটা সিদ্ধান্ত দেওয়াটা এবারের শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। ঢাবি বলতে পারতো যারা ২০১৬ সালে এসএসসি ও ২০১৮ সালে এইচএসসি পাশ করবে তারা দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেবার সুযোগ পাবে না। তাহলে ঐ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পুর্ব প্রস্তুতি থাকতো। কিন্তু হঠাৎ করে বর্তমান শিক্ষার্থিদের কথা বিবেচনা না করে এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এর পরিণতি কি হতে পারে ঢাবি কতৃপক্ষ তা কি ভেবে দেখেছে? ঢাবি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য রোল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারতো। তবে আমার মতে তারা অবিবেচকের মতই কাজ করেছে। কারণ একটি শিক্ষা ব্যবস্থায় যে সিদ্ধান্তই গৃহীত হউক না কেন, তা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই গৃহীত হওয়া উচিত। তবে আমাদের বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কি আসলেই আমাদের তথা শিক্ষার্থীদের জন্য সত্যিকারের কল্যাণ বয়ে আনছে? আনলেও কতটুকু আনছে? এসব বিষয় ভাবার সময় বোধ হয় এখন এসেছে।

২ thoughts on “একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর চোখে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাঃ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সংস্কার কেমন হওয়া উচিত!

  1. মাদ্রাসা শিক্ষাটাই বন্ধ করে
    মাদ্রাসা শিক্ষাটাই বন্ধ করে দেয়া উচিত। ভিক্ষা করে, মিলাদ পড়ে, গরু জবাই করে… টাকা ইনকাম করা ছাড়া এদের আর কোন কাজ নাই। মাদ্রাসার বাবুর্চির হাতে বলাৎকার এবং খুন হলো ১০ বছরের ছাত্র। এসব ছাড়াও জঙ্গী কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকে এরা। এক মুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন খুবই জরুরী।

    1. একমুখী শিক্ষা চালু করলে ঠিক
      একমুখী শিক্ষা চালু করলে ঠিক আছে। নাহলে মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করা উচিত হবে না। পরিমল কিন্তু মাদ্রাসার বাবুর্চি ছিলো না! পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে সকল ছাত্রসংগঠনের কারণে মারামারি লেগে বন্ধ হয়ে যায় তারা কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষার্থী না! তাহলে কি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল কলেজ ও বন্ধ করে দিতে হবে? মাদ্রাসার বাবুর্চির যদি আইন মোতাবেক শাস্তি হতো তাহলে এমন ঘটনা আর ঘটতো না। পরিমল এক্সেপশন (ঢাকায় হওয়ায় মিডিয়া কভারেজ পাওয়াতেই তার শাস্তি হইছে।) দেশের আনাচে কানাচে এই ধরনের অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। আর শাস্তি হয় না বলেই এসব বারবার ঘটে। এক্ষেত্রে সরকারের অবশ্যই কঠোর ভাবেই আইন প্রয়োগ করা উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *