একটি পুরনো কবিতা।

আমি মুসলিম,বৌদ্ধ, খ্রিস্টান অথবা হিন্দু
এই ভেবে যতটা গর্ব বোধ করি
তারচেয়ে বেশি গর্বিত
আমি বাঙালী,
বাঙালীর সন্তান।

আমার পিতারা
এই আমি আর আমাদের জন্য
জীবনের শেষ রক্তবিন্দু অকাতরে করেছিল দান।
আমি গর্বিত, আমি ধন্য,
আমার পিতারা যোদ্ধা ছিলেন।
না, তারা কোন হ্মত্রিয় পুরুষ নন।
তারা নমশূদ্র ছিলেন।

তারা সেমিটিক বর্বর কিংবা মিশনারি নন
তারা আমার পিতা ছিলেন।
হাজার বছরের যোদ্ধা পিতা।

আর মায়েরা?
যারা হয়েনার কুৎসিত লালসার বলি?
তাদের পায়ে আমার স্বশ্রদ্ধ প্রণাম।

হে বীরাঙ্গনা জননী,
জানি আমি জানি
শুধু তোমাকে অপমানের পাপে
ওরা অভিশপ্ত, বোমাবাজ।
ওরা আজো খায় নিজেদেরই মাংস।

শুধু তোমার দিকে তাকানোর অভিশাপে
টিকেছে শুধু নয় মাস।

আমি ধন্য, আমি গর্বিত,
পৃথিবীতে আর কোন জাতি নাই,দেশ নাই
যাদের এত ক্ষুদ্র সময়ের যুদ্ধ ইতিহাস।

হে যোদ্ধা পিতা, হে বীরাঙ্গনা মাতা,
তোমরা ক্ষমা করো।
আমরা তোমাদের উচ্ছন্নে যাওয়া কুলাঙ্গার সন্তান।
আমরা ভূলে গেছি তোমাদের রক্ত আর সম্ভ্রমের দাম।

ওরা মা,
বাবা, ঐ ওরা…………
সেই হায়েনার ধূসরেরা আজ আমাদের ভীড়ে মিশে গেছে,
ওরা তোমাকে অপবিত্র করতে চায় আজো!
তোমাদের বেদীতে চলে আসে চুপি চুপি।
মা, ওরা আমার পতাকাকে বানিয়েছে মুখোশ,
ওরা সংসদেও ঢূকে পড়েছিলো একবার,
ওদের গাড়ীতে লেগেছিল
লাল সবুজের পতাকা।
অথচ তোমার সম্ভ্রমে কেনা।

বিজয়ের দিনে একটাই আকুতি,
হে বাঙালী জাগো,
জাগো আরেকবার।
জাগো আরেকটা যুদ্ধের জন্য।
এই দেশ থেকে, এই বাঙলা থেকে,
তাড়াতে হোবে দালাল।
আলাল বেলাল নামধারী দালাল।

হে তরুন প্রজন্ম জাগো,
হে ভাইয়েরা সব জাগো,
আমার পিতা এবং মাতারা
ওই অপারে কাঁদছেন।

——পৃথু স্যান্নাল।

৬ thoughts on “একটি পুরনো কবিতা।

  1. কবিতাটা সেইরকম। যতবার পড়ি
    কবিতাটা সেইরকম। যতবার পড়ি গায়ের রক্ত গরম হয়ে উঠে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. পৃথু দাদা, ইস্টিশনে স্বাগতম ।
    পৃথু দাদা, ইস্টিশনে স্বাগতম । এসেই দারুন এক কবিতা দিয়ে শুরু করলেন । :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. ধন্যবাদ সবাইকে, আমি জীবনে এই
    ধন্যবাদ সবাইকে, আমি জীবনে এই প্রথম ব্লগিং করলাম।
    নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।

    আমাদের এখন পুর্ন শক্তিতে জ্বলে উঠার সময়।

    জয় বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *