তোমরা যারা লতিফ সিদ্দিকির সমর্থক

কেউ হজ্জ্বের বিরোধিতা করবে, এটা তার ব্যাপার; সে মুসলিম না কাফের – সে আলোচনায় গেলাম না। কিন্তু এর কারণ হিসেবে যা বলা হলো, তা চূড়ান্ত অজ্ঞতা প্রকাশ ছাড়া কিছুই না।
প্রথমত, হজ্জ্ব রাসূল স. -র যুগ থেকে শুরু হয় নি, ইবরাহীম আ. -র যুগ থেকেই নিয়মিত হজ্জ্ব চলছে। জাহেলী যুগেই হজ্জ্বকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের আয় রোজগার চলত। তৎকালীন যুগে হজ্জ্ব কেবল ইবাদত ছিল না, বরং হজ্জ্ব ছিল পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তের অর্থনীতির যোগসূত্র। আগের স্ট্যাটাসে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। [দেখুন: https://www.facebook.com/myousufs/posts/10204906684935153

কেউ হজ্জ্বের বিরোধিতা করবে, এটা তার ব্যাপার; সে মুসলিম না কাফের – সে আলোচনায় গেলাম না। কিন্তু এর কারণ হিসেবে যা বলা হলো, তা চূড়ান্ত অজ্ঞতা প্রকাশ ছাড়া কিছুই না।
প্রথমত, হজ্জ্ব রাসূল স. -র যুগ থেকে শুরু হয় নি, ইবরাহীম আ. -র যুগ থেকেই নিয়মিত হজ্জ্ব চলছে। জাহেলী যুগেই হজ্জ্বকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের আয় রোজগার চলত। তৎকালীন যুগে হজ্জ্ব কেবল ইবাদত ছিল না, বরং হজ্জ্ব ছিল পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তের অর্থনীতির যোগসূত্র। আগের স্ট্যাটাসে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। [দেখুন: https://www.facebook.com/myousufs/posts/10204906684935153
জাহেলী যুগে হজ্জ্বের মৌসুমে উকায, যুল মাজাযসহ নানা বাজার বা মেলা বসত। প্রচুর ক্রয়-বিক্রয় হত সেখানে। বলতে গেলে সতের শতাব্দীর আগে এ যোগসূত্রে ইউরোপ আসতে পারে নি।

হজ্জ্ব ছিল বিশ্ব-মিডিয়া। কোনো বিষয় পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে হজ্জ্ব ছিল অনন্য। এজন্যই মুশরিকরা হজ্জ্বের মৌসুমে রাসূলের স. বিরুদ্ধে নানা কথা ছড়ানোর চেষ্টা করত, অনেকটা বর্তমানে প্রভাবশালীদের মিডিয়া দখলের ন্যায়। অবশ্য মুসলিমরাও হজ্জ্বের মৌসুমকেই ইসলাম প্রচারের বড় মিডিয়া হিসেবে গ্রহণ করে। মদীনার প্রথম দিকের মুসলিমবৃন্দ হজ্জ্বের সময়ই রাসূলের স. সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাদের আগ্রহ-আপ্যায়নেই রাসূল স. মদীনার প্রতি ভালবাসা অনুভব করেন।

দ্বিতীয়ত, আরবরা ডাকাত ছিল না। নানা রকম অশালীন কর্মকাণ্ড ক্ষেত্রবিশেষে ছিল, তবে ডাকাতি ছিল না। আরবরা পরিশ্রমী ছিল, জন্মগতভাবে ব্যবসায়ী ছিল। রিহলাতাশ শিতা’ ওয়াস সাইফ – গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন দুটো বড় ব্যবসায়িক যাত্রা ছিল তাদের। এটা রাসূলে আরাবী স. আসার পর থেকে নয়, শত শত বছর আগে থেকেই।
তৃতীয়ত, হজ্জ্ব কেন্দ্রিক এ অর্থনীতি শুধু আগে ছিল, বর্তমানে নেই, এমনটা নয়। সাউদীর কথা বাদ দিলাম, আমাদের বাংলাদেশ নিয়ে বলি। শুধু বিমান বাংলাদেশই গত ২০১২ তে হজ্জ্ব ফ্লাইট পরিচালনা করে ৮০ কোটি টাকা লাভ করে, যা সারা বছর লোকসানে থাকা বিমানের জন্য অনেক কিছু। [দেখুন: http://www.thefinancialexpress-bd.com/old/index.php?ref=MjBfMTJfMDlfMTJfMV8xXzE1MjYyOA== হজ্জ্বকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়, ব্যবসা হয়।

চতুর্থত, বাংলাদেশের মানুষ সারা বছর বিভিন্ন দেশে গিয়েও অনেক টাকা খরচ করেন। একটি তথ্য মতে শুধু ২০১১ তেই বাংলাদেশের মানুষ অন্য দেশে যাত্রা ও ট্যুরিজমে ব্যয় করেন প্রায় ৬০০০ কোটি টাকা। [দেখুন: http://www.indexmundi.com/facts/bangladesh/international-tourism > International tourism, expenditures] অন্য দেশে ঘুরতে গিয়ে কেউ প্রোডাকশন করে না রিডাকশন করে, সে প্রশ্ন কিন্তু তোলা হয় না। বিভিন্ন দেশের ফেয়ারে যাওয়া হয়, কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হয়। সরকারী টাকায় ঘন ঘন অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফরে প্রোডাকশন কীভাবে হয় – তাও অস্পষ্ট। অবশ্য সেগুলো আলোচ্য নয়, হজ্জ্বই আলোচ্য।

অথচ, অন্য দেশে প্রমোদ ভ্রমণে গিয়ে মানুষ অনেক নৈতিক অবক্ষয়কে সঙ্গে করে নিয়ে আসে, বা কমপক্ষে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নে তা তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। পক্ষান্তরে হজ্জ্বকে কেন্দ্র করে সকল ইবাদত ব্যক্তির নৈতিক উন্নয়ন ও মানুষ হিসেবে তাকে পরিশুদ্ধ করণে ভূমিকা রাখে। ফলে সে সমাজের জন্য ভালো কিছু প্রোডাকশনের পরিশুদ্ধ আইডিয়া ও প্ল্যানিং নিয়ে ফিরে আসে।

পরিশেষে বলব, এসব কথায় কান দেয়ার বা তাদের গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই। সামনে কুরবানী আসছে, ঠিক দুই-তিন দিন আগে কয়েকটি মিডিয়া কুরবানীর অর্থনৈতিক দিক নিয়েও এরকম নিউজ অটো পাবলিশ করবে। সেগুলো পড়েও সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। আগের স্ট্যাটাসে যেমনটা বলেছিলাম, পৃথিবীর এত মানুষকে একই সময়ে, বা এর কাছাকাছি সংখ্যক মানুষও কোনো আন্তর্জাতিক ফেয়ার একত্রিত করতে পারে নি।

আবরাহারও এ কষ্ট ছিল। সে চেয়েছিল কাবা ধ্বংস করে নিজ দেশে এরকম মানুষ একত্রিত করার মতো কিছু বানাবে, যার চারপাশে মানুষ তাওয়াফ করবে। তাই সে অভিনব কায়দায় হাতির বাহিনী নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে গিয়েছিল। সামান্য আবাবীলের তাড়া খেয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এ কষ্ট প্রত্যেক যুগে আবরাহার উত্তরসূরিদের। তাদের জন্য আফসোস ছাড়া কিছু করার নেই।
আল্লাহ তাদের সুবুদ্ধি দিন, হেদায়াত দিন। আমীন।
===
সংযোজন: পোস্টটিতে বক্তার কথার শরয়ী বিধান এবং সে কথার প্রেক্ষিতে তার শরয়ী অবস্থান ও আমাদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয় নি। বিষয়টি পোস্টের শুরুতেই স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে। বক্তা হজ্জ্বের ইকোনোমিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি যা বলতে চেয়েছেন তা হলো, হজ্জ্ব এমন একটি ইবাদত যার কোনো সামাজিক-অর্থনৈতিক মূল্য নেই। এতে কোনো প্রোডাকশন নেই, আছে কেবল রিডাকশন – তার মতে। তাই সেদিক থেকেই পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইসলামের প্রতিটি ইবাদতেরই সামাজিক অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। মূর্তি পূজারীরা মূর্তি পূজা করে পানিতে ফেলে দেয়, অনেক অর্থ এখানে একদম নষ্ট করা হয়। ইসলামে এমন কিছু নেই। জাকাত, হজ্জ্ব, কুরবানী – প্রতিটি ইবাদতই ইবাদতের পাশাপাশি এতে সমাজের ও অর্থনীতির অপার উপকারিতা রয়েছে। এটা ইসলামের অসংখ্য সৌন্দর্যের একটি। এখানে ইবাদত ও আল্লাহর ফাদল (রিযিক) অন্বেষণ পাশাপাশি চলে। বরং হালাল রিযিক অন্বেষণও ইবাদত বলে গণ্য। কারণ এতে আল্লাহর নির্দেশের অনুসরণ হয়।

ইসলামের যে কোনো প্রতিষ্ঠিত বিষয় অস্বীকার করলে ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে যায়। ঠাট্টা/ বিদ্রূপ করাও অস্বীকারের নামান্তর। সেখানে সরাসরি ইসলামের অন্যমত বৃহত্তম রুকন হজ্জ্বের ‘বিরোধী’ বলা হলো। এর পরিণামে ব্যক্তির শরয়ী বিধান কী হয় – তা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই।

ইসলামে মুরতাদের বিধান হলো, তাকে প্রথম বন্দী করা হবে, তাওবা করানো হবে। তাওবা করতে অস্বীকৃতি জানালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।

৯ thoughts on “তোমরা যারা লতিফ সিদ্দিকির সমর্থক

  1. বাংলাদেশ বিমানের আয় দেখাইলেন,
    বাংলাদেশ বিমানের আয় দেখাইলেন, সৌদিদের আয়ের একটা ডাটা দিলেন না যে? সহিহ সৌদি ইসলামি আয় নিয়ে কথা বলা হারাম!

    শুরুতে আপনি হজ্জ্ব কিভাবে শুরু হলো বললেন এবং স্বীকার করে নিলেন এইটা একটা বাণিজ্য। হজ্জ্ব ইসলাম ধর্মের শেষ নবী কর্তৃক প্রবর্তিত কোন ধর্মীয় আচার নয়। সৌদিদের বাণিজ্যের স্বার্থেই অনেক আগে থেকে প্রচলিত আচারটি ইসলামের শেষ নবী চালু রেখেছেন। মন্ত্রী আবদুল লতিফ একই কথা বলেছেন। আমরা অনেকেই একই কথা বলছি। কিন্তু এ জন্য তাকে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে কেন? হজ্জ্ব হচ্ছে আরবদের পর্যটন ব্যবসা। এটাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে নবী মুহাম্মদ মুসলমানদের জন্য মেন্ডোটরি করে দিয়েছেন। এটা মুহাম্মদের দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক দুরদর্শিতা! আমি দেশের বাইরে ট্যুরিস্ট হিসাবে যাওয়ার চিন্তা করলে আরব দেশে নয়, নিউজিল্যান্ডে যাব।

    আরবদের মত সরকার ইচ্ছে করলে তাবলিগ জামায়াতের বিশ্ব এস্তেমাকে এই পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এজন্য পলিসি প্রনয়ন করা উচিত। নাস্তিক মেনন পর্যটন মন্ত্রী হিসাবে আরবদের এই পর্যটন ব্যবসা অবলোকন করে তাবলিগ জামায়াতের বিশ্ব এজতেমাকে আরো প্রসার করার শিক্ষা নিতে হজ্জ্বে গেছেন বলে মনে হচ্ছে। সাথে নষ্টবাম জাতি ভাই হিসাবে ইনু সাহেব গেছেন।

  2. হুম, ফালতু প্যাঁচানো যাদের
    হুম, ফালতু প্যাঁচানো যাদের কাজ তারা তেনা পেচাবেই। এই তেনা পেচানো গরু গুলি এই করেই মনে করে বিরাট কাজ করিনু রে।

    1. কে ফালতু ত্যানা পেচাইছে? ওহে
      কে ফালতু ত্যানা পেচাইছে? ওহে রাম ছাগলের দল, ইসলামের ইতিহাস না জেনে ইসলাম চর্চা করোনা। মুহাম্মদ জানতেন চীনে মাও সেতুং এর মত বিপ্লবীর জন্ম হবে। এজন্য তিনি শিক্ষা নিতে চীনে যেতে বলেছেন। এ শিক্ষা হচ্ছে সমাজতন্ত্রের শিক্ষা। তিনি রাশিয়ায় যেতে বলেন নাই। রাশিয়ার শিক্ষা মুহম্মদের পছন্দ ছিল না। তোমরা এত হাদিস বুঝ, কোরানের এত ঈশারা বুঝ? কিন্তু এই ঈশারাটা কেন বুঝো না? বর্বরযুগের পতনের পর তোমাদের নবি সমাজতান্ত্রিক চীনের শিক্ষার প্রতি বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। আরবের ঐ কোরানিক শিক্ষা এক সময় অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে, এটা মুহাম্মদ স্বয়ং জানতেন। চীনের সমাজতান্ত্রিক শিক্ষাই বর্তমানে সহিহ ইসলাম।

  3. দ্বিতীয়ত, আরবরা ডাকাত ছিল

    দ্বিতীয়ত, আরবরা ডাকাত ছিল না।

    ঠিক। আসলে মুহাম্মদই মদিনায় কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলায় হামলা করে আরবদের প্রথম ডাকাত বানায়।

    পক্ষান্তরে হজ্জ্বকে কেন্দ্র করে সকল ইবাদত ব্যক্তির নৈতিক উন্নয়ন ও মানুষ হিসেবে তাকে পরিশুদ্ধ করণে ভূমিকা রাখে

    আপনার নাম যুক্তিবাদী, অথচ অন্ধবিশ্বাসে কথা বলেন!

    আবরাহারও এ কষ্ট ছিল। সে চেয়েছিল কাবা ধ্বংস করে নিজ দেশে এরকম মানুষ একত্রিত করার মতো কিছু বানাবে, যার চারপাশে মানুষ তাওয়াফ করবে। তাই সে অভিনব কায়দায় হাতির বাহিনী নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে গিয়েছিল। সামান্য আবাবীলের তাড়া খেয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

    ঐতিহাসিক রেফারেন্স দেয়া যাবে? অনুগ্রহ করে কুরআনকে ইতিহাসের বই জ্ঞান করে কোন রেফারেন্স দিবেন না।

    ইসলামে মুরতাদের বিধান হলো, তাকে প্রথম বন্দী করা হবে, তাওবা করানো হবে। তাওবা করতে অস্বীকৃতি জানালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।

    সবশেষে নিজের ল্যাঞ্জা সেচ্ছায় বের করে দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

    1. আপনার নাম যুক্তিবাদী, অথচ

      আপনার নাম যুক্তিবাদী, অথচ অন্ধবিশ্বাসে কথা বলেন!

      হুম! বুঝলেননা, উনি হলেন ‘যুক্তিবাদী মৌলবাদী’! 😀 😀

  4. হজ বাবদ সৌদি সরকারের গড় আয়
    হজ বাবদ সৌদি সরকারের গড় আয় প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার (টাকা নয়, ডলার), ভাইয়া যুক্তিবাদী, ১৭ বিলিয়ন ডলার এ কত টাকা হয় বলবেন? অবশ্য পুরো টাকাটা বাংলাদেশী হাজিদের কাছ থেকে পাওয়া নয়, তা অবশ্য ঠিক। ১৯৩৮ সালে সম্ভবত প্রথম তেল খনির উত্তলন শুরু হয়, তার আগ পর্যন্ত হজ্জ ছিল সৌদি দের একমাত্র রুটি রুজির উৎস। আর ইব্রাহিমের আমল থেকে হজ্জ হতো ঠিক আছে, কিন্তু সামরথবান মুসলমানদের জন্যে হজ্জ ফরজ হোল কবে থেকে বলবেন, ভাইয়া যুক্তিবাদী? আজকাল ব্লগ হয়ে গেছে টেলিভিশনের ইত্যাদি অনুষ্ঠানের বিকল্প ……… দুর্ভাগ্যজনক।

  5. আমি যুক্তিবাদী ! নাকি
    আমি যুক্তিবাদী ! নাকি তালগাছবাদী !! পোষ্ট পড়ে হাসতে হাসতে চিৎ কাইত। নতুন করে বলতে ইচ্ছা করেনা এসব আবালীয় যুক্তির বিপক্ষে। বরং বিনুদন নেয়াটাই শ্রেয়তর মনে হয় এখন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *