“অন্ধদের পথচলার চশমা” কুয়েটের ৩ তরুনের অভিনব আবিষ্কার প্রমান করলো যে প্রযুক্তি বিশ্বে আমরাও পিছিয়ে নেই ।

চোখে দেখে না অথচ এক ব্যাক্তি আপনার সামনে দিয়ে সাধারণ মানুষের মতই হেঁটে যাচ্ছেন। আপনি যেভাবে বাধাহীনভাবে হাঁটছেন তিনিও হাঁটছেন। দেখে বুঝার উপায় নেই তিনি অন্ধ। কথাগুলো অন্ধদের জন্য স্বপ্নের মতো মনে হলেও এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তিন তরুণ বিজ্ঞানী। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য অত্যাধুনিক চশমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তারা।


চোখে দেখে না অথচ এক ব্যাক্তি আপনার সামনে দিয়ে সাধারণ মানুষের মতই হেঁটে যাচ্ছেন। আপনি যেভাবে বাধাহীনভাবে হাঁটছেন তিনিও হাঁটছেন। দেখে বুঝার উপায় নেই তিনি অন্ধ। কথাগুলো অন্ধদের জন্য স্বপ্নের মতো মনে হলেও এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তিন তরুণ বিজ্ঞানী। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য অত্যাধুনিক চশমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তারা।

মূলত এক বছর আগে ওই ৩ তরুণ বিজ্ঞানীর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য তাদেরই আবিষ্কৃত বিশেষ চশমাটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। গবেষণাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে এবার এমন এক চশমা আবিস্কার করেছেন যা চোখে দিয়ে একজন স্বাভাবিক মানুষের মতই হাঁটতে পারবেন অন্ধ ব্যাক্তি। অন্ধদের চলাফেরার বাধাবিঘ্ন দূর করতে চশমায় ব্যবহার করা হয়েছে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক সব প্রযুক্তি। স্মার্টফোন অ্যাপ, সময় ও অবস্থান নির্ণয়, আবহাওয়া সংবাদসহ আরও উন্নত সব প্রযুক্তির সম্মিলনে তৈরি করেছেন অসাধারণ এ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস।

অন্ধদের সহযোগিতায় এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তি বিশ্বে এটিই প্রথম বলে দাবি করেছেন আবিষ্কারকরা। স্বপ্নবাজ ওই তিন তরুণের নাম তারা হলেন- মো. মোস্তফা কামাল, আবু ইবনে বায়েজিদ (ইমন) এবং নাজমুল হাসান। মো. মোস্তফা কামাল, আবু ইবনে বায়েজিদ ইমন পড়াশোনা করছেন কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এবং নাজমুল হাসান পড়াশোনা করছেন তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগে। তারা সবাই কুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

উদ্ভাবক দলের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শেখ সাদি।
চশমাটির বিশেষত্ব হলো এটি চারপাশের সব বস্তু এবং পথের সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে সঙ্গে সঙ্গে অবহিত করবে। ব্যবহারের সুবিধার্থে এবং বাইরের কোলাহল থেকে মুক্ত রাখতে চশমায় শব্দের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে ভাইব্রেশন। যা আগে আবিষ্কৃত চশমার তুলনায় আরও বেশি কার্যকর।

চশমাটি দিয়ে প্রায় তিন মিটার দূর পর্যন্ত বস্তুর অবস্থান নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়। চশমাটি দিন-রাত ও সব আবহাওয়ায় ব্যবহার উপযোগী।

চারপাশের বস্তু শনাক্ত করতে চশমাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আলট্রাসনিক সাউন্ড সেন্সর। পথের প্রতিবন্ধকতা নির্ণয় করতে ব্যবহার করা হয়েছে ক্যামেরা। ডাটা প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ‘পিআইসি’ সিরিজের মাইক্রোকন্ট্রোলার।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থে চশমাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ভয়েস ইন্সট্রাকশন। চশমার শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ মোবাইল ব্যাটারি, যা একবার চার্জ দিলে ব্যবহার করা যাবে দশ-বারো ঘণ্টা। এমনকি চার্জ শেষ হয়ে গেলেও বিশেষ ক্যাবল ইন্টারফেসের মাধ্যমে এটি মোবাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করে সচল রাখা যাবে বাড়তি কয়েক ঘণ্টা। চশমাটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের আরও সবল ও স্বাবলম্বী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন উদ্ভাবকরা।

চশমাটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য তৈরি হলেও ব্যবহার করা যাবে আরও অনেক ক্ষেত্রে। নিরাপত্তা কাজেও এটি রাখতে পারবে সক্রিয় ভূমিকা। আকৃতি ছোট হওয়ায়, বিভিন্ন ধরনের রোবোটিক প্লাটফর্মেও এটিকে সংযুক্ত করা যাবে নির্বিঘ্নে।

যেকোনো তলের মসৃণতা নির্ণয়ে চশমাটির সাফল্য শতভাগ বলে জানান উদ্ভাবকরা।

তারা জানান, চশমাটির ক্রয়মূল্য হবে সবার হাতের নাগালে। কারণ এর জন্য ব্যয় হয়েছে মাত্র চার হাজার টাকা। তবে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হলে এর খরচ আরো কমে আসবে বরে জানান তারা।

তথ্যসুত্রঃ-সময়ের কণ্ঠস্বর nd campuslive.com

৩ thoughts on ““অন্ধদের পথচলার চশমা” কুয়েটের ৩ তরুনের অভিনব আবিষ্কার প্রমান করলো যে প্রযুক্তি বিশ্বে আমরাও পিছিয়ে নেই ।

  1. আমাদের প্রতিভার অভাব নেই,
    আমাদের প্রতিভার অভাব নেই, কেবল সেই প্রতিভার মূল্যায়ন হয় না এই যা। দ্রুত এই চশমার পেটেন্ট করানোর জন্য সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *