ফরিয়াদ!!

ক’দিন থেকে কিছু লেখতে গেলেই বোতাম পিছলে যায়। দু’চার-দশ লাইনের লেখাগুলো হয়তো কোনদিনই আলোর মুখ দেখবে না! না দেখুক, তাতে আমার কোন দুঃখ নেই। কারন কাল রাতে আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নে কেউ আমাকে বলছে- আল্লাহ পাক-পারোয়ার দিগারের নামে তুমি আবার লেখা শুরু করো। কেউ তোমাকে নাস্তিক-মুরতাদ-ধর্মদ্রোহী বললে আল্লাহই দুনিয়াতে তাঁর শাস্তি অবধারিত করে রেখেছেন।

ক’দিন থেকে কিছু লেখতে গেলেই বোতাম পিছলে যায়। দু’চার-দশ লাইনের লেখাগুলো হয়তো কোনদিনই আলোর মুখ দেখবে না! না দেখুক, তাতে আমার কোন দুঃখ নেই। কারন কাল রাতে আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নে কেউ আমাকে বলছে- আল্লাহ পাক-পারোয়ার দিগারের নামে তুমি আবার লেখা শুরু করো। কেউ তোমাকে নাস্তিক-মুরতাদ-ধর্মদ্রোহী বললে আল্লাহই দুনিয়াতে তাঁর শাস্তি অবধারিত করে রেখেছেন।

আজ আল্লাহর কাছে আমার একটিই চাওয়া- হে আল্লাহ তুমি শান্তি দাও। বাংলাদেশে শান্তি দাও, শান্তি দাও এই বিশ্ব-ভ্রহ্মাণ্ডে! মানুষের খুণে যারাই তোমার মাটিকে অপবিত্র করছে, আল্লাহ তুমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করো। আজ তোমারি নাম নিয়ে কিছু খুনী, দুশ্চরিত্র, দুর্বৃত্ত লুটপাটকারী রাজাকার-আলবদর-আলশামসের প্রেতাত্মা মানুষের ধর থেকে মাথা আলগা করে নিচ্ছে। আল্লাহ তুমি এই মানুষ খেকো ক্যানিবলদের হাত থেকে মনুষ্য প্রজাতিকে রক্ষা করো।

হে আল্লাহ, কয়দিন আগে মাসুম বাচ্চা ত্বকিকে এই দুষ্কৃতকারীরা পাখির বাচ্চার মতো শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে। তুমি তোমার তাওহীদ প্রচারের জন্য এই নর পশুদের প্রেরণ করে থাকলে, আল্লাহ আমাকে তুমি দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নাও। এদের হাতে তুমি আমার ঈমানকে আর জিম্মি করো না! হে আল্লাহ, এই নর পশুরাই তোমার সুরের মাহাত্ম প্রচারকারী আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ভাই নির্লোভ, নিরহঙ্কারী, অকৃতদার যুবক মিরাজকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে।

হে দ্বীন-দুনিয়া-আখেরাত-বরযাখ-কিয়ামতের মালিক, তোমার নামে আজ যারাই হত্যা-রাহাজানি-ঘর-বাড়িতে আগুণ দেয়াসহ মানুষের জীবনকে দূর্বিসহ করে তুলেছে তুমি তাদের সুমতি দাও। তোমার পাক কালামের আয়াত তাদের কর্ণ কূহরে পৌছে দাও। পবিত্র কালামে তুমি বলেছো- যারা সংখ্যালঘুদের (ভীন্ন ধর্মের মানুষের) জান-মাল ও ইজ্জতের বিনাশ করে তুমি তাদের জন্য জাহান্নামের আগুণকে কয়েক হাজার গুণ প্রলম্বিত করবে। আখেরি নবী ওসয়াতুল হাসানা হজরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিয়ে সাল্লাম পবিত্র হাদিসে বর্ণনা করেছেন- যারা সংখ্যালঘুদের জান-মালের হেফাজত করে না, শেষ বিচারের দিনে তিনি তাদের জন্য তোমার দরবারে কোনই সুপারিশ করবেন না!

হে আল্লাহ, আজ এ কোন কিয়ামতের আলামত তুমি প্রদর্শন করছো? তোমার পাক ধর্মের বেশ ধরে যে কিশোরেরা তরুণ প্রকৌশলী রাজিবকে হত্যা করে বেহেশতে যাওয়ার টিকিট কিনেছিল, তুমি তাদের মনে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রদীপ প্রজ্জলিত করো। তরুণ প্রজন্মের পিতা-মাতাদের মনেও জ্ঞানের মশাল জ্বালাও। তারা যেন এই বে’দাতি রাস্তা থেকে তাদের সন্তানদের রক্ষা করতে পারে! তোমার সৃষ্টির মাহাত্ম এবং প্রকৃত ইসলামকে চর্চার জন্য পড়াশুনার বিকল্প নাই, এ কথাটি যেন তারা অনুধাবনের তৌফিক অর্জন করে!

হে আল্লাহ, তোমার পবিত্র নামকে বিক্রি করে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেতে কিছু লোক সমাজের নিঃস্ব ও অসহায় মানুষকে বিপথে পরিচালিত করছে! এরা বুঝে, না বুঝে ধর্মের জিকির তুলছে! আল্লাহ, তুমি সর্বজ্ঞানী মহাজন। তুমি এই সব লম্পটের চরিত্র সম্পর্কে সবি জানো। ঘোর অন্ধকারে একটি পিপিলিকাও যখন তার চলার পথ দেখে না, তুমি তাও দেখো। যে লম্পটেরা বাংলাদেশের মানুষের সরলতা ও অজ্ঞানতার সুযোগে দীর্ঘদিন স্বৈরাচারী শাসন বহাল রেখেছিল, বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিল আজ তারাও নিজেদের পায়বন্দ বলে জাহির করছে! তুমি এইসব ভন্ড ও প্রতারককে এমন শাস্তি দাও যেন তারা জন্মের মতো মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে! হে আল্লাহ, তুমি তোমার মাহাত্ম প্রদর্শন করো!

হে আল্লাহ, বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম ভীরু। বাংলাদেশের মানুষ তোমাকে একবাক্যে ভালবাসে। নিজের জীবনের চেয়ে তোমার অস্তিত্বকে বড় করে দেখে। এই সব অনাহার ক্লিষ্ট, ম্লান মুখের একটাই চাওয়া- তারা যেন মৃত্যুর পর জান্নাত-উল-ফেরদৌসে দিন কাটাতে পারে। ইহজগতে তারা কখনো আঙ্গুর-আপেল ছুয়ে দেখে না। ওষুধের ফোটার মতো দুধের স্বাদও যাদের জীবনে কোনোদিন জুটে নি। তারা বিশ্বাস করে- তোমার সাতটি বেহেশতের যেকোন একটিতে যেতে পারলে অন্তত পর জীবনে আঙ্গুর-আপেলের স্বাদ পাবে, দুধের নহর থেকে এক আঁচলা দুধ পান করবে! হে আল্লাহ তুমি তাদের সে আশা পূরণ করো। কিন্তু তুমি তাদের অকালে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করো না। তাদের জন্মের মতো মৃত্যুর গ্যারান্টিও যেন তোমার হাতেই থাকে!

হে আল্লাহ, কিয়ামতের বর্ননা পড়েছি তোমার পাক কালামে। কিন্তু আজ এর বাস্তব রূপ দেখা যাচ্ছে এই বাংলাদেশের মাটিতে। তুমি বলেছো- কিয়ামতের সময় কোন ভাল কথাই তাদের কানে প্রবেশ করবে না। তুমিই তাদের কানে সীসা ঢেলে দেবে! কিয়ামতের সময় যে দজ্জাল তোমার পবিত্র রূপ নিয়ে মানুষের সামনে হাজির হবে, কিছু সংখ্যক মানুষ তাদের পেছনেই ছুটে যাবে উর্ধশ্বাসে! একাত্তুরের কাণে-দজ্জাল রাজাকার গোলাম আজম, নিজামী, সাঈদী, বাচ্চু, কাদের মোল্লা, সাকা’ ইত্যাদিকে বাঁচাতে দেখি কিছু মানুষ আজ উর্ধশ্বাসে দৌড়াচ্ছে। কিছু জলডাঙ্গার তরুণ-যুবকের পীঠে ‘ব্যাকপ্যাক’, ব্যাকপ্যাকে কিরিছ, হাতে লাঠি, মুখে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি। হে আল্লাহ তুমি তোমার নামকে এদের মুখে আর বে-ইজ্জত হতে দিও না। তোমার প্রকৃত মুমিন বান্দাকে বাঁচাতে এইসব কাণে দজ্জালকে তুমি তোমার হাওলায় নিয়ে নাও। অতঃপর তোমার ইচ্ছেয় তুমি তাদেরকে বেহেশত, দোযখ যে কোন স্থানে সোপর্দ করো! এতে অন্তত মুমিন বান্দারা রক্ষা পাবে!

হে আল্লাহ, পাঞ্জেগানা নামাজের জন্য তোমার উপাসনালয় মসজিদে এই মুমিন বান্দারা প্রতিদিন যায়। মসজিদে প্রবেশ করা মাত্র তাদের মন পুতঃপবিত্রতায় ভরে উঠে। হে আল্লাহ, এই মসজিদে যে মাইকে সুমধুর আজানের ধ্বনি প্রচারিত হয়, সে মাইকেই আজ কাণে-দজ্জালের বশংবদেরা মানুষকে হত্যায় উজ্জিবিত করছে! মিথ্যা-বানোয়াট গল্প ফেঁদে তোমার সৃষ্টি এই মানব জাতির বিনাশে সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণ চালাচ্ছে! হে আল্লাহ, তুমি তোমার নূরের তজল্লিতে এদের ভস্ম করে দাও। মসজিদের ইমাম সাহেবদের মনে ‘তবিয়তে নূর’ দান করো, যাতে তারা নিজেরাই এই কাণে দজ্জালের বংশকে হেদায়েত করতে পারেন!

হে আল্লাহ, মানুষ মানুষকে প্রতারিত করতে পারে। সে শক্তি ও ক্ষমতা মানুষের আছে! কিন্তু তোমার এই আশরাফুল মাখলুকাতকে কখনো প্রতারিত করো না। হে আল্লাহ আগেই বলেছি কিয়ামতের আলামত, চারদিকে যেন বিভক্তির সুর! সাংবাদিকরা বিভক্ত, শিক্ষক বিভক্ত, বিভক্ত আইন বিদরাও। আল্লাহ তুমি সমাজের এই মাথাওয়ালাদের মাথা ঠিক করে দাও! তাদের সবার অন্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দান করো। হে আল্লাহ, তুমি তাদেরকে সমস্ত অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তৌফিক এনায়েত করো। আজ জঙ্গী রাজাকারদের দৌরাত্মে সরকারি-বেসরকারি দুর্বৃত্তরাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে! হেথায়-হোথায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশলে মেতে উঠেছে। হে আল্লাহ, তুমি শক্তি দাও যেন মানুষ এই সব রাজনীতিক বেশী মাফিয়াদেরও চিহ্নিত করতে পারে!

হে পরোয়ার দেগার, এই বাংলা মুল্লুকে আজ শত-শত এতিমের আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে আছে। রাজিব, ত্বকি, মেরাজসহ শত শত মানুষের বিলাপ তোমার আরশ কাপিয়েছে কি না আমি জানি না। কিন্তু এমনি এক সাম্প্রদায়িক সংঘাত দেখে এ দেশে এক কবির অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছিল। আজ তাঁর কবিতার পঙক্তিমালা নিবেদন করে এ ফরিয়াদের ইতি টানছি-

…”আমি-যে দেখেছি গোপন হিংসা কপট রাত্রিছায়ে
হেনেছে নিঃসহায়ে,
আমি-যে দেখেছি প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধে
বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে
আমি-যে দেখিনু তরুণ বালক উন্মাদ হয়ে ছুটে
কী যন্ত্রণায় মরেছে পাথরে নিষ্ফল মাথা কুটে।
কণ্ঠ আমার রুদ্ধ আজিকে, বাঁশি সংগীতহারা,
অমাবস্যার কারা
লুপ্ত করেছে আমার ভুবন দুঃস্বপনের তলে,
তাই তো তোমায় শুধাই অশ্রুজলে–
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো”?

নিউ ইয়র্ক, ১৩ই মার্চ ২০১৩

৩ thoughts on “ফরিয়াদ!!

    1. ধন্যবাদ আপনাকে, প্রথম পোস্টের
      ধন্যবাদ আপনাকে, প্রথম পোস্টের প্রথম মন্তব্যদাতা। অন্যায়কে অন্যায় বলিবার সাহস আছে কি না দেখা যাইবে ভবিষ্যতে। আপাতত ফেণী হইতে ঘরে ফিরিয়া আসিলাম। ইহাই দেশের বাস্তবতা! বাস্তবতাকে স্বীকার করার মইধ্যে কাপুরশতা নাই। আছে ভবিষ্যতে অগ্রসর হওয়ার দিক নির্দেশনা!!

  1. আপনার অন্তর নিহিত নির্জাস
    আপনার অন্তর নিহিত নির্জাস থেকে লেখার প্রশংসা না করে পারছিনা । ভবিষ্যতে এরূপ আরও লেখার জন্য আহবান জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ তায়ালা আপনার মঙ্গল করুন এবং আপনার ফরিয়াদ কবুল করুন…. আমিন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *