কিছু না বলা কথা..

মধ্যবিত্ত মধ্যম বয়সের ছাত্র আমি আমার আর সরকারে দুইয়ের ব্যর্থতায় মিলে এখন এক মধ্যম মানের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমি, বাবা মায়ের অনেক স্বপ্ন পালা সন্তান আমি তাদের কষ্টের টাকায় পড়ছি, প্রতিবার ৮-১০ হাজার টাকা দিতে গিয়ে নিজেকে একবার করে মারি অতি লজ্জায় একবার করে ভাবি এই অর্থ কোনদিন উঠাতে পারবো কিনা। অনেক স্বপ্ন নিয়ে পড়তে এসেছি এই রাত জাগা লাল বাতির সহরে, সহুরে মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি, গ্রামের শিক্ষকদের কাছে শেখা ভঙ্গা ইংরেজি দিয়ে বড় সহরের সাহেবদের ছেলে মেয়েদের সাথে বৃথা কথা বলার চেষ্টা, মাঝে মাঝে অবাক হয়ে ভাবি ওরা এমন সুন্দর ইংরেজি বলে কিভাবে, তবে আমিও শিখছি একটু একটু করে ভেনসন থেকে ব্ল্যাক চিনেছি, চিনেছি কেএফসি, পিজা হাট ব্রান্ডের শার্টও পড়তে শিখেছি কিন্তু ব্রান্ডের প্যান্টটা আর কেনা হয় না, সে যে অনেক দাম!! তবু ফাস্টট্রাকের ঘড়ি কিনবো বলে টাকা জমাচ্ছি কয়েক মাস ধরে, ঐদিকে শার্টের কলার কালো হয়ে গিয়েছে, প্যান্টও কিনা দরকার কিন্তু কি করি প্যান্ট কিনি তো সার্ট হয়না, সার্ট কিনিত স্যান্ডেল ছিঁড়ে যায় তবে জোড়া তালি দিয়ে চলেই যায় তবু কেন যেন হীনমন্যতায় ভুগি আমি যে মধ্যবিত্ত।

জুনিয়ার মেয়েটা এসে বলে ভাইয়া এই সাবজেক্টে কি পড়বো? পাসে বসে পড়া দাগায়, কখনো ফোন নম্বর নিয়ে যাব বা অপ্রয়োজনেই চ্যাটে নক করে, আমার ভালো লাগে কিছু সুখের কথা মরে থাকা মনের চাহিদার কথা ভাবতে যাই কিন্তু হায় আমি যে মধ্যবিত্ত, আমার এসব মানায় না, একদমই না। যার নিজের জীবনের ঠিক নেই সে অন্যকে কথা দেয় কি করে। সে ভাবে যদি জীবনটা আর একটু অন্যরকম হত, আর একটু হ্যাপিনেস আর কিউট দুষ্টুমিতে ভরা হয়তো শেষ জীবনে হেসেই বিদায় দিতে পারতাম পৃথিবীকে, না পাওয়ার কিছু স্মৃতি জমা থাকতনা এই গর্ধব ব্রেন সেলে।

একদিকে বাবা বলে বাবা ভালো করে পড় তোকে বিসিএস দিতে হবে আরেক দিকে আমার বয়স টানে ঐ মায়া ভারা হাসিতে, কিন্তু কি আর করা তাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার সাধ্য আমার নেই আমি মধ্যবিত্ত।

আমি স্বপ্ন দেখি বাবার ঠিক করা এক পাত্রিকে নিয়ে কাড়ন আমি আমার মতই আরও দুটি দু:খি মানুষকে কষ্ট দিতে চাইনা নিজের সুখের জন্য।

আমাকে এডজাষ্ট করে চলতে হয়, হোক জমা কাপড় বা বাসা ভাড়া, খাওয়া দাওয়া বা মজাতেও, আমি অন্য বন্ধুদের মত সেন্টমাটিন বা কক্সবাজার ঘুরতে গিয়ে DSLR দিয়ে তোলা ছবি আপ্লোডাতে পরি না ফেসবুকে। আমার পরিবারে এই ঘোড়া-ঘুড়ি প্রচণ্ড অপব্যয় তাই আমার কাছেও তাই, সেই টাকা দিয়ে আমি বরং একটা ঘড়ি কিনতে পারবো ব্রান্ডের ঘড়ি!!

আমি চোর না আমি স্রোতের সাথে তাল মিলাতেও পারিনা, আমি হতাশ আমাকে দিয়ে কি হবে? আমাকে দিয়ে কি হবে? হয়তো আমিও আমার বাবার মত আমার ছেলের কষ্ট বুঝেও ঝাড়ি মারবো “পড়াশোনা কর” বলে।

পূর্বে প্রকাশিত।

২ thoughts on “কিছু না বলা কথা..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *