বন্যা দুর্গতদের সহযোগিতা কার্যক্রম ২০১৪

মূল ভুখন্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন এক লোকালয়। এখানে বাইরের লোক খুব কমই আসে। ব্রহ্মপুত্র আর দুধকুমার নদীর মোহনায় পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর আগে ভাঙ্গাগড়ার খেলায় জেগে ওঠা এই রাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন লোকালয়ের নাম চর ভগবতীপুর বা সংক্ষেপে ভবগতির চর।


মূল ভুখন্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন এক লোকালয়। এখানে বাইরের লোক খুব কমই আসে। ব্রহ্মপুত্র আর দুধকুমার নদীর মোহনায় পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর আগে ভাঙ্গাগড়ার খেলায় জেগে ওঠা এই রাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন লোকালয়ের নাম চর ভগবতীপুর বা সংক্ষেপে ভবগতির চর।

রাষ্ট্র-সরকার এরকম চরাঞ্চলের ব্যাপারে একেবারে উদাসীন হওয়াতে এখানে স্বাক্ষরতার হার একেবারেই কম। বাল্যবিবাহ এখানকার নৈমিত্তিক ঘটনা। চরের জমির মালিক চরের বাসিন্দারা নয়, বাইরের মহাজন। ভাঙ্গন কবলিত এলাকা হওয়াতে অনেক পরিবারই থাকে উদ্বাস্তুর মত। আজকে এখানে নদী ভাঙ্গলে, কাল অন্যখানে গিয়ে বাসা বাঁধতে হয়।

কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর থানার আওতাধীন যাত্রাপুর ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে এই এলাকা। প্রায় হাজার খানেক লোকের বসতি এই চরে। দুই দিকে ভারতীয় সীমান্ত। আর সব চরের মত এই চরেরও কৃষিজমি অনেক উর্বর। কিন্তু, এই কৃষি জমির মালিকানা চাষীর নয় মহাজনের। সুতরাং, ফসল যত ভালই হোক; কৃষক বেঁচে থাকে কোনমতে। তারওপর এবারের বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকের মাথায় হাত। তাদের সামনে অনিশ্চয়তার দিন।

ভয়াবহ রকমের ক্ষতিগ্রস্ত এই এলাকা। ঘরের জানালা থেকেও ফুটখানেক ওপরে বন্যার পানির দাগ। এমনিতেই ভাঙ্গন কবলিত এলাকা। তারওপর পানি নেমে যাবার সময়ে ভেঙ্গে নিয়ে গেছে গ্রামের একমাত্র প্রাইমারি স্কুলখানা। এখন পাশেই কোন মতে একখানা চালা তুলে তাতে পড়াশোনা করছে গ্রামের বাচ্চারা।
ত্রাণ বিতরনের জন্য এলাকা নির্বাচনের সময়ে কেউ দূর্গম এলাকায় যেতে চায়না বলেই এরকম অবস্থা হয়। সবাই ধারে-কাছে সুবিধাজনক স্থানে ত্রাণ বিতরন করে এসে দায়সারা হয়। একারণে, যেখানে ত্রাণ যায়, সেখানে বারবার যায়। আর যেখানে যায়না সেখানে একেবারেই যায়না। দূর্গম হওয়ার কারণে এই এলাকাতেও কেউ কোন ত্রাণ নিয়ে হাজির হয়নি। সরকারি বরাদ্দের নামে যতটুকু গিয়েছিল, তা একেবারেই অপ্রতুল। তার ওপর যতটুকু পৌঁছুনোর কথা ছিল, তা যে কখনোই পৌঁছুবেনা; এটাও বলাবাহুল্য।

এখানে লোকের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমির ফসল। কারণ, চরের জমির মালিকানা থাকে গুটিকয়েক মহাজনের হাতে। যারা এলাকাতেই বাস করেনা। এই জমিতে চাষের জন্য বর্গা নিতে হয় স্থানীয়দের। আর বন্যায় ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়াতে ঋণ করে বর্গা নেয়া জমি এখন কৃষকের গলার ফাঁস।

বন্যাক্রান্তদের জন্য সহায়তা আদায় থেকে শুরু করে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসা পর্যন্ত অনেক অভিজ্ঞতাই হল। যার কিছু চুম্বক অংশ সবার সঙ্গে শেয়ার না করে পারছিনা।

প্রতিবার বন্যা বা কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ হলে জনসচেতনতা তৈরিতে মিডিয়ার ব্যাপক ভূমিকা থাকে। এবার সে তুলনায় তা ছিল একেবারেই কম। যে কারণে, অনেকে জানতেই পারেননি এবারের বন্যা কত ভয়াবহ ছিল।

বেশ কয়েকজন সাংবাদিক সুহৃদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টদের এনিয়ে কাজ করার যে পরিকল্পনা ছিল, তার কোনটাই তারা বাস্তবায়ন করতে পারেননি প্রশাসনের চাপে। কোন এক রহস্যজনক কারণে সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবারের বন্যার খবর চেপে যেতে চেয়েছিল। তারমধ্য দিয়েও মিডিয়া যতটুকু সহযোগিতা করতে পেরেছে করেছে। অন্ততঃ দূর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা সবসময়েই ইতিবাচক।

সবচেয়ে বেশী ভুগিয়েছে লোকবলের অভাব। প্রতিদিনই দেখা গেছে তিন-চার জন সার্বক্ষনিক শ্রম দিচ্ছে। কিন্তু, একমাত্র ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার দিন ছাড়া একসাথে দশজন লোক একত্র করা যায়নি কখনই। অনেকেই এসে নিজে থেকে গনচাঁদার বক্সে সাধ্যমত সহায়তা করে গেছেন। কিন্তু শ্রম দিয়ে পাশে থাকার মত লোকসংখ্যা ছিল অনেক বেশী রকমের অপ্রতুল। একারণে, দেখা গেছে কেন্দ্র খোলা রাখতে গিয়ে প্রায়শঃই বাহিরে গনচাঁদা তোলার টিম পাঠাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে কুড়িগ্রামে। ত্রাণের জন্য অনেকেই পাইকারী হারে ব্যাপক ত্রাণসামগ্রী কেনার ফলে কুড়িগ্রাম সদর এলাকার সমস্ত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে সব ধরণের ত্রাণ সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দেয়। বাজেট স্বল্পতার মধ্য দিয়েও স্থানীয় বাসদকর্মী রুকু ভাই, ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী সাম্য রাইয়ান, ও আরো কয়েকজনের রাতজাগা গোছানো পরিশ্রম, ও উপস্থিত বুদ্ধির ফলে অনেক কিছুই একেবারে সহজ হয়ে যায়।

বন্যার্তদের সহযোগিতা করার জন্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যেতেও কম হ্যাপা পোহাতে হয়নি। কুড়িগ্রাম সদর এলাকায় বাজার থেকে বড় ট্রাক্টরে বোঝাই করে প্রায় দশ-বার কিলোমিটারের মত খানা-খন্দ ভরা রাস্তা পার হতে হয়। এরমধ্যে সহকর্মী বাপ্পা নদী তীরে নামার সময় উচু-নিচু গর্তভরা রাস্তার ঝাঁকুনিতে ট্রাক্টর থেকে পড়ে গিয়ে আরেকটু হলেই মরতে বসেছিলেন। তারপর ট্রলারে করে আরো মিনিট চল্লিশেকের মত সময় নদী পার হয়ে তারপর ভগবতীর চর।

এবার আসি ত্রাণ সহায়তা বিতরন প্রসঙ্গে। ত্রাণ সহযোগীতা দেওয়া হয় ভগবতীর চর এলাকার ২৮০ টি পরিবারকে, এবং চর এলাকার বাইরে কুড়িগ্রাম যাত্রাপুরেরই আরো কয়েকটি দুঃস্থ পরিবারকে।

বন্যা আক্রান্তদের ত্রাণ সহযোগিতা প্রদানের জন্য ঔষধ, স্যালাইন, ও বস্ত্রের হিসাব বাদ দিয়েই; গণচাঁদা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের বিভিন্ন সুহৃদ ও বন্ধুজনদের কাছ থেকে মোট নগদ অর্থ পাওয়া গিয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৫২৫ টাকা। বন্যার্তদের সহযোগিতা প্রদান ও এর জন্য সংশ্লিষ্ট আর সকল ব্যয় এর মধ্য থেকেই নির্বাহ করা হয়।

বন্যার্তদের জন্য দেয়া ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল;- চাল, ডাল, বিস্কুট, সাবান, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পেটে পীড়ার ট্যাবলেট, এবং স্যালাইন। এছাড়া আলাদা ভাবে প্রাপ্ত সীমিত পরিমান চিড়া-গুড়, বাড়তি চাল, এবং বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

পোস্টার, ব্যানার, হ্যান্ডবিল, গণচাঁদা আদায় কার্যক্রম, অন্যান্য আনুষঙ্গিক সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৭৬৮০ টাকা।

চাল, ডাল, বিস্কুট, সাবান, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পেটে পীড়ার ট্যাবলেট, এবং স্যালাইন সহ যাবতীয় ত্রাণসামগ্রী ক্রয়, বিতরণ, ও এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক সব ব্যয় মিলিয়ে খরচ হয়েছে মোট ৮৩১০০ টাকা।
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে টিম পাঠানোর জন্য বাসভাড়া ও অন্যান্য পথ খরচ বাবদ খরচ হয়েছে ৭৫০০ টাকা।
সব মিলিয়ে মোট খরচের পরিমাণ ৯৮ হাজার ২৮০ টাকা।

কেন্দ্রের হাতে উদ্বৃত্ত আছে, পাঁচ হাজার তিনশত পঁচিশ টাকা। এই অর্থ দিয়ে “বন্যার্ত সহযোগিতা কার্যক্রম এবং এনজিওবাজী ও অপরাজনীতির ফাঁদে বন্যাদূর্গত মানুষ” এ বিষয়ে একটি গবেষণামূলক পুস্তিকা দ্রুতই প্রকাশ করা হবে।

বন্যার্ত সহযোগিতা কেন্দ্র’২০১৪ এর অন্তর্ভুক্ত সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো হল;
০১। সর্বস্তরের ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক-কৃষক-পেশাজীবি জনতা
০২। প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ)
০৩। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন
০৪। জাগ্রত
০৫। মৌলিক বাংলা
০৬। ছোটকাগজ ‘দ’
০৭। স্বাধীন বাংলা চলচিত্র আন্দোলন, এবং
০৮। ইস্টিশন ব্লগ

আর যারা নিজেদের শারিরীক ও মানসিক শ্রম, এবং উৎসাহ ছাড়াও বিভিন্নভাবে আমাদের কার্যক্রমে সহায়তা করেছেন তাঁদের সকলের অবদানতো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতেই হবে।

সার্বক্ষণিক সশরীরে না থাকলেও পরামর্শ ও অন্যান্য সম্ভাব্য সব রকমের সহায়তা নিয়ে পাশে ছিলেন অগ্রজপ্রতীম আরিফুজ্জামান তুহিন ভাই, নুর নবী দুলাল ভাই, ডাঃ আতিক ভাই, আনিস রায়হান ভাই, বন্ধু আশিকুজ্জামান লিটন, মোজাম্মেল, ও বাবু আহমেদ।

প্রথম দিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই সার্বক্ষনিকভাবে বন্যার্ত সহযোগিতা কেন্দ্রের হয়ে কাজ করেছে আদিত্য মাহমুদ, ফয়সাল মাহমুদ, এবং আসিফুর রহমান জনি।

সামনে পরীক্ষার জন্য পড়াশোনার চাপ, কলেজের ক্লাস করে এসে, এবং ছুটির দিনগুলোতে সার্বক্ষণিক হিসেবে প্রথম দিন থেকে শেষ পর্যন্ত বন্যার্তদের সহযোগিতার কাজ করেছেন মহিন রাসেল।

অরিন্দম হিজল শিরাজী তৃতীয় দিন থেকে এবং মিতু ভিঞ্চি চতুর্থ দিন থেকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই বন্যার্ত সহযোগিতা কেন্দ্রের হয়ে গণচাঁদা উত্তোলনের কাজ করেছেন।

এছাড়াও অনেক ব্যস্ততার মধ্যে বিভিন্ন দিন সময় দিয়েছেন সুজিত, কাব্য, সাগর, আজিম, সেতু, রাজাকার ফাহিম, জাহিদ, বেলাল, নয়ন, শিমুল, মুন্না এবং বাপ্পা।

আসাদুজ্জামান আল মুন্না মাস্টার্সের থিসিসের ব্যস্ততার মধ্যেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশেপাশের অঞ্চলে সহযোগিতা কার্যক্রমের জন্য ছাত্র ও জনগনের কাছে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলার কারণে সেখান থেকে কার্যক্রম এগুনো সম্ভব হয়নি। তারপরও মুন্নার এই উদ্যম ও কাজের সদিচ্ছা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন নৃ-নাট্য, এবং খুলনা ফুলবাড়ী গেট এলাকার স্থানীয় পাঠাগার মাস্টারদা সূর্যসেন লাইব্রেরীর বন্ধুরা দুই দিন গণচাঁদা তুলেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও খুলনা ডাকবাংলার মোড় থেকে ।

ঢাকা থেকে যারা বন্যার্তদের সহায়তা করার জন্য গিয়েছিলেন তারা হলেন;- বাপ্পা, মহিন, জনি, আদিত্য, অরিন্দম, এবং বাপ্পী।

কুড়িগ্রামে ত্রাণ সামগ্রী ক্রয়, প্যাকিং, ভবগতীর চর অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা, ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটেছেন রুকু ভাই, সাম্য রাইয়ান, মোখলেস ভাই, বুবলি আপু, নীলু, কবির, শাওন, ও সাগর। এবং সবদিকে লক্ষ্য রেখে আয়োজনের ক্ষেত্রে তারা বেশ গোছানো চিন্তা ভাবনা এবং দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের সহযোগিতা না পেলে এত সহজে ত্রাণ বিতরন প্রায় অসম্ভবই ছিল বলা চলে।

এবং বন্যার্ত সহযোগিতা কেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলাম আমি সাইফুল ইসলাম বাপ্পী।

এছাড়াও, পরামর্শ, উপদেশ, উৎসাহ এবং সাহসের যোগান দিয়ে আমাদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ তানজীম উদ্দিন খান, এবং ফলিত পদার্থ বিভাগের অধ্যাপক ডঃ জাহিদ হাসান মাহমুদ।

এছাড়াও যারা নিজ নিজ উপায়ে নিজের মানসিক অথবা অন্যান্য সামর্থ্য নিয়ে আমাদের পাশে হাজির ছিলেন, তাঁদের সকলের প্রতি থাকল অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।

১৯ thoughts on “বন্যা দুর্গতদের সহযোগিতা কার্যক্রম ২০১৪

  1. খুব ইচ্ছা ছিল সহযোগিতা দেয়ার
    খুব ইচ্ছা ছিল সহযোগিতা দেয়ার কর্মসূচীতে যুক্ত থাকার। অনেক ব্যস্ততার কারণে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। যেতে পারলে ভাল লাগতো। তবে শত ব্যস্ততার মাঝেও সহযোগিতা আদায় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছি।

    বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভেবেছিলাম, কী করা যায়! প্রায় প্রতিদিনই লিখেছি। অনেককে অনুরোধ করেছি সহযোগিতা দেয়ার জন্য। অনেকেই হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সবার প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

    বাপ্পী ও তার টিমকে ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করতে চাই না। তোমরা যেভাবে শ্রম দিয়েছো, সেজন্য আমি গর্বিত। এদেশের দরিদ্র্য মানুষদের জন্য তোমাদের যে ভালবাসা, তা আমাকে আশার আলো দেখাচ্ছে। আমরা সবাই আরো সক্রিয় হতে পারলে নিশ্চয়ই নিপীড়িত শ্রমজীবী জনগণের মুক্তির সংগ্রাম তার পথ খুঁজে পাবে। কাজটা কঠিন, তবে আশা ছাড়ছি না!

    1. ধন্যবাদ। তবে আপনার- আমার
      ধন্যবাদ। তবে আপনার- আমার মানুষগুলো আমাদের কাছ থেকে শুভকামনা ও শুভেচ্ছার চেয়ে আরো বেশি কিছু পাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু, ঘোর ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবন আমাদের আটকে রাখে গন্ডীবদ্ধ জীবনের বেড়াজালে

  2. আপনাদের এই কাজের জন্য
    আপনাদের এই কাজের জন্য স্যালুট। এভাবেই নিপীড়িত, রাষ্ট্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে পারলে ওরা মনে করবে রাষ্ট্র যেখানে ব্যর্থ, সমন্বিত গণউদ্যোগ সেখানে সফল হতে বাধ্য। এগিয়ে যান, পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

    1. এভাবেই নিপীড়িত, রাষ্ট্রের

      এভাবেই নিপীড়িত, রাষ্ট্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে পারলে ওরা মনে করবে রাষ্ট্র যেখানে ব্যর্থ, সমন্বিত গণউদ্যোগ সেখানে সফল হতে বাধ্য

      একদিন অবশ্যই মানুষ রুখে দাঁড়াবে। সত্যিকারের কার্যকর সমন্বিত গণউদ্যোগ সেটাই হবে।

  3. ত্রান বিতরনে দুর্গম এলাকা
    ত্রান বিতরনে দুর্গম এলাকা নির্বাচন করার জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে আরো বড় সফলতা অর্জন করবেন বলে মনে করছি।

    1. আমরাতো জনতার ভেতর থেকে এসে
      আমরাতো জনতার ভেতর থেকে এসে জনতার সহায়তা নিয়ে গিয়েছি জনতারই কাছে। সুতরাং সাফল্য- কৃতিত্ব সবটুকু জনতারই। নিজেদের প্রয়োজনে জনতা নিজেই দাঁড়ায় নিজেদের পাশে। ইতিহাসও সৃষ্টি করে জনতাই।

    1. সবচেয়ে বেশী দরকার এখন তোমাদের
      সবচেয়ে বেশী দরকার এখন তোমাদের মত তরুনদের এগিয়ে আসা। সুতরাং স্যালুট ও শুভকামনাটুকু নিজেদের জন্যই তুলে রাখ।

      দেখা হবে পথে- রাজপথে…

  4. অনেক বড় একটা কাজ করেছেন
    অনেক বড় একটা কাজ করেছেন আপনারা। সফলভাবে শেষ করতে পারার জন্য পুরো টিমকে অভিনন্দন। আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে ত্রান দেওয়ার স্পট নির্বাচন। যেখানে কেউই যাবেনা, সেখানে আপনারা গিয়েছেন। অনেক বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত এটি। ভবিষ্যতে এই ধরনের নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে কোন ধরনের ডাকে পাশে থাকার চেষ্টা থাকবে।

    যারা এই ক্ষুদ্র উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

  5. বাপ্পী,,,,,,, দ্বীপটাকে
    বাপ্পী,,,,,,, দ্বীপটাকে রাষ্ট্রথেকে বিচ্ছিন্ন বললে কেন বুঝলাম না । যাইহোক এই কার্যক্রমটা সুসম্পন্ন করার পিছনে তোর অক্লান্ত পরিশ্রম আছে। সে জন্য তোর প্রতি কৃতজ্ঞ। নিজের অপারগতা, ব্যস্ততার মাঝে খুব বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয় নি। এনিয়ে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।

  6. দ্বীপটাকে রাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন
    দ্বীপটাকে রাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন বললাম, কারণ একমাত্র ভোটের সময় ছাড়া রাষ্ট্র- প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কাউকে দ্বীপে দেখা যায়না। এখানে পৌঁছায়না কোন রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা। নিজেদের মত করেই বেঁচে আছে এরা।

  7. আপনাদের স্যালুট। এদেশে সাধারণ
    আপনাদের স্যালুট। এদেশে সাধারণ জনতার ভরসা সাধারণ জনতাই সেটা আরেকবার প্রমান করলেন।

    বেশ কয়েকজন সাংবাদিক সুহৃদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টদের এনিয়ে কাজ করার যে পরিকল্পনা ছিল, তার কোনটাই তারা বাস্তবায়ন করতে পারেননি প্রশাসনের চাপে। কোন এক রহস্যজনক কারণে সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবারের বন্যার খবর চেপে যেতে চেয়েছিল। তারমধ্য দিয়েও মিডিয়া যতটুকু সহযোগিতা করতে পেরেছে করেছে। অন্ততঃ দূর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা সবসময়েই ইতিবাচক।

    সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে কুড়িগ্রামে। ত্রাণের জন্য অনেকেই পাইকারী হারে ব্যাপক ত্রাণসামগ্রী কেনার ফলে কুড়িগ্রাম সদর এলাকার সমস্ত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে সব ধরণের ত্রাণ সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দেয়।

    এই দুটি বিষয় দেখে জাতি হিসেবে নিজেদের নিচু মানসিকতা দেখে ঘৃনা জন্মালো। ছিঃ

    1. এদায়টুকু সবার দিকে টেনে নেয়া
      এদায়টুকু সবার দিকে টেনে নেয়া ভুল হবে আতিক ভাই। কারণটা আপনিই বলে দিয়েছেন,

      এদেশে সাধারণ জনতার ভরসা সাধারণ জনতাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *