রূপান্তর

কবি কল্পনা করছে, সাততলা ছাদের উপর দাড়িয়ে বিকেলের ভেসে যাওয়া মেঘের হিংস্র মূর্তি সূর্যের দিকে বাঘের মত ছুটে যাচ্ছে। তখন কবির চোখ চোখে এসে লাগে। কিছুটা আনমনা হয়ে যায় সে। কবি ভাবে, যদি এই স্বপ্ন, কল্পনা না থাকতো। কবি নিজেকে আবিষ্কার করল বিছানায়। ঘুম চোখে বিড়বিড় করে বলল, শিশিরের ব্যথাময় স্বর্ণালি রাত, একটু কাঁদবে সখী, জড়িয়ে ঘুমাতাম!

কবিকে আমারা কবি নামেই জানবো, তার আসল নকল নেই। সে ইদানীং কিছুটা অদ্ভুত জীবন কাটাচ্ছে। দেখলে মনে হতে পারে সাপ তার নিজের লেজেই কামড়ে আছে। ডাইরি ঘেটে কবির লেখা গতকালকের একটি ছোট কবিতা পেয়েছি,

মৃত স্মৃতির আত্মারা সকলেই পায়চারি করে আমার ঘর জুড়ে

কবি কল্পনা করছে, সাততলা ছাদের উপর দাড়িয়ে বিকেলের ভেসে যাওয়া মেঘের হিংস্র মূর্তি সূর্যের দিকে বাঘের মত ছুটে যাচ্ছে। তখন কবির চোখ চোখে এসে লাগে। কিছুটা আনমনা হয়ে যায় সে। কবি ভাবে, যদি এই স্বপ্ন, কল্পনা না থাকতো। কবি নিজেকে আবিষ্কার করল বিছানায়। ঘুম চোখে বিড়বিড় করে বলল, শিশিরের ব্যথাময় স্বর্ণালি রাত, একটু কাঁদবে সখী, জড়িয়ে ঘুমাতাম!

কবিকে আমারা কবি নামেই জানবো, তার আসল নকল নেই। সে ইদানীং কিছুটা অদ্ভুত জীবন কাটাচ্ছে। দেখলে মনে হতে পারে সাপ তার নিজের লেজেই কামড়ে আছে। ডাইরি ঘেটে কবির লেখা গতকালকের একটি ছোট কবিতা পেয়েছি,

মৃত স্মৃতির আত্মারা সকলেই পায়চারি করে আমার ঘর জুড়ে
বহমান যন্ত্রণার পারফিউম মেখে কেবলি অতৃপ্ততার গন্ধ ঢালে –
অন্ধকারের প্রতিটি স্বপ্নের শরীরে
জিজ্ঞেসিলে উত্তর দেয় না, কাছে ডাকলে দুরে সরে, দুরে সরলে ডানা ভাঙে!
আমার মন তখন মনের মত গোপন নিঃসঙ্গতা চায়
চায় কিছু দিনের জন্য মৃত্যুর নীরবতা।

কবির কাছে মনে হয়, হৃদয়টা একটা ঝোপঝাড়। তাই এখানে ফাটা বাঁশের সংখ্যা বেশি। পড়ে মনে হয়, ফাটা বাঁশের সংখ্যা বেশি বলেই হৃদয়টা ঝোপঝাড়।
তার ফলে কিছুটা লাভ হয়েছে বলে মনে হয় না। কবি সাধারণত কারো সাথে কথা বলে না। তবে আমার সাথে কথা বলতে রাজি হয়েছে। এখন বিকেল পাঁচটা। আমরা সরাসরি কবির কাছে চলে যাই।
কবি আপনার কি ঘুম ভাঙলো?

হুম, সখী, তুমি কি জান তোমার দুধের দিকে তাকালে আমি সব ভুলে যাই? মিষ্টি রোদের মত এক ঝাঁক গন্ধ কী তুমুল বিষাদের উষ্ণ বৃষ্টি ঝরাচ্ছে আজ কাল! ঝরা পাতার মত গাছে ঝুলে থাকি সারারাত। সূর্যের আলোতে তা জ্বলন্ত সবুজ মনে হয়। এরকম মনে হওয়ার প্রতি আমার একটা জেদ আছে। এক প্রকার আত্মপীড়ন হিংস্র অসহায়তার মত জেদ। সেই থেকে এই কবিতাটি লিখেছি,
বিপুল ভোটে জয়লাভে আজ রজনীতে
আমার কপালে শপথ নিয়েছে অশান্তি,
আমি তাকে উল্লসিত সমবেদনা জানাই।

আমি কিছুদিনের জন্য মৃত্যুর মত নীরবতা চেয়েছিলাম। যদি পার্টটাইম আত্মহত্যা করা যেত, তবে প্রতি রাতে আমি আত্মহত্যা করতাম। অবসাদের বাতাসে আমার মন আরো চঞ্চল হয়ে যায়। অনেকটা পবন দাসের গানের মত – চঞ্চল মন আমার শুনে না কথা। আরো সঠিক ভাবে বলতে গেলে, চঞ্চল মন আমার শুনে না কথা। ফলে মনের প্রতি আমি ………..। আর কথা বলছি না। আর একটি কথাও বলছি না। আমি মৃত্যুর মত নীরবতা চাচ্ছি।

কবির ডাইরি থেকে (দিন তারিখ দেয়া হল না) :
প্রথম যখন তোমায় দেখেছি আমি মনে মনে বলতে শিখেছি ,it’s ok, it’s ok। তারপর থেকে টানা দু মাস একটি শব্দ জপেছি। পরে বুঝেছি ইট ওয়াজ নট ওকে।

* সে আমার সামনে মেঘের মত চোখ নিয়ে দারালো। তারপর থেকে আমি তার বারান্দার নিচে অবেলায় ক্ষুদার্ত চোখে দারাতে শুরু করি।

* প্রথম যেদিন কবিতাটি লিখি, আমি অনেকক্ষণ চোখ বুজে ছিলাম। এমন কিছু আমার হয়েছিলো, যা আমার হৃদয়ের চোখ বলা যেতে পারে। তারপর থেকে আমার ঘর কালো জর্দার গন্ধে ভরে গেলো। আমি হুতূম পেঁচা আর চিল হয়ে গেলাম। রাতে জেগে থাকি বিকেলে উড়ি। আমার জীবনে সকাল মানে স্বপ্ন। তখন মনে হত আমার জন্মের আগে থেকে তোমাকে ভালবাসি, না হলে এতো ভাল কিভাবে বাসি!

* প্রেম পেয়ে প্রেমাতাল হয়ে গেলাম। তুমি যখন চুপ ছিলে, আমি যখন চুপ ছিলাম, তখন মানুষেরা কী পাশবিক উল্লসিত চিৎকার করত! বিশেষ করে তোমার বাবা। তুমি কি শুনতে পেতে? অদ্ভুত এক গন্ধ পেতাম সারা রাত। বিকেলে উড়তে গিয়ে আনমনে হয়ে যেতাম। কত বৃষ্টিতে ভিজেছি! সে দিন গুলোর জন্য আমি কিছুটা ক্ষমা প্রার্থী।
তুমি তাদের কথা মানতে শিখেছো। আমি তাদের কথা ধর্ষণ করেছি। তুমিতো জানো, আমি বেশ কামুক প্রকৃতির প্রেমিক।

* আমার সাথে আমার না থাকা আমার পরিচয় ঘটলো। ভবিষ্যৎ আমার চশমা। তুমি অল্পতেই রেগে যেতে। তার আগে তোমার নিঃশ্বাসে ভেসে আসতো, সা রে গা মা পা মা গা রে সা। তুমি হস্তীনি জাতের নারী। ফ্রিজের খাবার খেতে ভালোবাস আর ঔ এর মত করে হাস। তুমি যখন বলতে, জীবনটা আকাশের মত যার ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়। তখন আমার বলতে ইচ্ছে করতো, আসো আমরা সাদা রঙ পর্যন্ত থাকি, সব রঙে আমরা থাকবো! ততক্ষণে আমার দীর্ঘ প্রত্যাশিত চিতা জ্বলতে লাগলো। আমি নিজেকে অসহায় করে তোমাকে ভালবাসলাম। আমার হুতূম পেঁচা আর চিল বিষাদ মেখে চলল।তুমি ভালো আছত?

* অরণ্য মানুষের সাথে দিন কাটছে। সবসময় জোড়ালো গলা, মাঝে মাঝে বুক ফুলিয়ে নিঃশ্বাস বাহবা দিচ্ছে। কিন্তু আমি জানতাম দিন গুলো ভালো যাচ্ছে না।
” বৃষ্টিতে ভিজে অনেক পোড়া হল জীবন,
অনুভূতির বনবাসে।
অরণ্যের গহীন তলায় বিষাদের মৃত্যু,
বাকিটা ব্যক্তিগত গরল।
ক্রমবর্ধমান তৃষ্ণার ফাটল……”

এই প্রথম স্রোতের তীর আমার বুকে এসে লাগলো। আমি সেখানে সিগারেটের আগুন ঢেলে দিলাম।
* রক্তিমা আমার আশ্রয় হয়ে গেলো। তোমার কাছে আমার অনেক নিঃশ্বাস জমা আছে। কাছে আসো। আমাকে কিছুটা নিঃশ্বাস নিতে দাও!

নিজেকে ভালবাসতে শিখো। এই উক্তিবাক্য শুনলে আমার বলতে ইচ্ছে করতো, নিজেকে চোদার কল্পনা আমি কিভাবে করি! অনেকের মতই এক ভদ্রলোক আমাকে এই উপদেশ দিয়েছিল। আমার উত্তর শুনার পর লোকটা বলেছিলো, তোমার নিজেকে ইয়ে করতে বলি নি ! তখন আমি বলেছিলাম, তাহলে ভালবাসার কথা আসছে কেন? তারপর কত রক্তের দিন পার করলাম!

প্রথম থেকে প্রতিটি (৬টি)
* এর পাশের শব্দটি নিয়ে যোগ করলে একটি বাক্য রচিত হয়। ডাইরি শেষ হতে আরেকটু বাকি।
একদিন চৈত্রের দুপুরে কই মাছ গুলো পুকুরের পার বেয়ে উঠতে থাকবে। সেদিন আমার সাথে আমার দেখা হবে। যে নিজেকে খোলা মাঠ হিসেবে চিনবে।

অরণ্য রাজীব, এই গল্পের লেখক। আজ চৈত্রের দুপুরে সে একটি গল্পের শেষ লাইন লিখছে, ” যে নিজেকে খোলা মাঠ হিসেবে চিনবে “।
ডাইরিটা রেখে সে খুব মনযোগ দিয়ে এখন কবির সুমনের গান শুনছে আর মনে মনে বলছে, it’s ok, it’s ok, it’s ok……….
“বারবার আসি আমরা দুজন বারবার ফিরে যাই
আবার আসবো আবার বলবো শুধু তোমাকে চাই “

২ thoughts on “রূপান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *