মেয়েদের বিয়ের বয়স সক্রান্ত চিন্তাভাবনা ও নারীদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে একটি ক্ষুদ্র চিন্তা

বিয়ের বয়স শুধু মেয়েদেরই কমবে , কারন ছেলেদের জন্য নানা দরজা খোলা ! আর মেয়েদের জন্য সেই ‘নানা দরজায়’ শিকল লাগানো !
আইন করে যেহেতু লাভ হচ্ছে না , বিয়েটা বেশিরভাগ মেয়ের আঠেরোর আগেই হচ্ছে , তাই আইনটা পাল্টে বয়সটা কমিয়ে দিলেই হলো ! তাহলে বিয়েগুলোকে আর বাল্যবিয়ে বলে দোষানো যাবে না !
ওদিকে মা হওয়ার ব্যাপারটাও তারা মাথায় রেখেছেন । বয়সটা মা হওয়ার জন্য শারিরিক বা মানুষিকভাবে কতটা উপযুক্ত এটাই গবেষনার একমাত্র বিষয় ।

বিয়ের বয়স শুধু মেয়েদেরই কমবে , কারন ছেলেদের জন্য নানা দরজা খোলা ! আর মেয়েদের জন্য সেই ‘নানা দরজায়’ শিকল লাগানো !
আইন করে যেহেতু লাভ হচ্ছে না , বিয়েটা বেশিরভাগ মেয়ের আঠেরোর আগেই হচ্ছে , তাই আইনটা পাল্টে বয়সটা কমিয়ে দিলেই হলো ! তাহলে বিয়েগুলোকে আর বাল্যবিয়ে বলে দোষানো যাবে না !
ওদিকে মা হওয়ার ব্যাপারটাও তারা মাথায় রেখেছেন । বয়সটা মা হওয়ার জন্য শারিরিক বা মানুষিকভাবে কতটা উপযুক্ত এটাই গবেষনার একমাত্র বিষয় ।
খুবই ভালো সিন্ধান্ত । কিন্তু একই সাথে শিক্ষার দিকটা একটু দেখলে খুবই ভালো হতো । বঙ্গীয়দেশের সত্তর থেকে আশিভাগ নারীমেধার অকাল প্রয়াণঘটে উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোতে না পেরোতেই । এটুকু যারা পেরিয়ে আসতে পারে কষ্ট করে , তাদেরকে আর ভাবতে হয় না । না বিয়ে নিয়ে ! না যৌতুক নিয়ে ! না পতির খেয়ালীপনা নিয়ে । কিন্তু সমস্যাটা হলো প্রাইমারিতে যেখানে পার্সেন্টিসটা পঞ্চাশের আসে পাসে ভার্সিটিগুলোতে এসে তা দশ বা পাঁচ কিংবা তারও নিচে গিয়ে ঠেকে । বাকিরা ততদিনে মুখে কলুপ এটে স্বামি ও অন্যান্য মুরুব্বিদের গলগৃহ হয়ে তাদের খেয়ালিপনা সহ্য করে যাচ্ছে । স্বামী কিছু বললে , জোর করলে , অন্যায় করলে কিছু করার নেই । কারণ সে তখন ‘শতভাগ নির্ভরশীল’ পরজবী । বাবারাও তখন কেমন যেনো হয়ে যায় ।
নারির অধিকার নিয়ে বা নারির যৌন স্বাধীনতা নিয়ে আধুনিক (সুস্বশিক্ষিত) নারিদের যত হৈচৈ করতে দেখি , নারিদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে ততটা করতে দেখিনা । এটা যেনো একটা স্বীকার্য যে , নারীদের উচ্চশিক্ষার দরকার নেই , অথবা নারীদের দিয়ে উচ্চশিক্ষা হয় না । বড়জোর মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক ! এরচে বেশি দিলে (সহজ কথায় স্বাবলম্বী করলে) বিগরে যেতে পারে । তখন তার উপর শতভাগ ‘পুরুষত্ব’ খাটানো যায় না । অনেক শিক্ষিত আধুনিকমনা পুরুষদের বলতে শুনেছি তারা চাকরিজীবী (স্বাবলম্বী) মেয়ে বিয়ে করবে না । কারণ চাকরিজীবীরা কথা শুনতে চায় না । তারা স্বাধীনচেতা , তারা কোনো অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করবে না । কারন তারা স্বণির্ভর । তারা অন্যায় মানতে বাধ্য নন । তাদেরকে তালাক দেয়ার ভয় দেখানো যায় না , কারন এতে তাদের কিছু আসে যায় না । তাদেরকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা যায় না , কারন তারা বিচার চাইতে জানে ।
মেয়েরা শিক্ষিত হলে যেমন সমাজ থেকে বোঝা কমবে তেমন সমাজের গতিশীলতাও বাড়বে । নারীদের যে বিশাল সংখ্যাটা উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পেড়োতে পারে না , কে গ্যারান্টি দিতে পারবে যে এর মধ্যে কেউ মাদাম কুরি হতো না ? কেউ বড় শিক্ষাবিদ হতো না ? কেউ বড় ব্যাংকার হতো না ?
অন্তত পরিবারের আয়ে কিছু অর্থযোগ করে ‘কর্তার’ বোঝাটা তো হালকা করে পারতো ! না হোক , একজন শিক্ষিত , রুচিশীল মা তো হতে পারতো !
না , দরকার নেই । আঠেরো থেকে চৌদ্দতে এনেই এদের বিয়ে দাও । জনসংখ্যায় অবদান রাখুক । সংসারের হাল ধরুক ! আর স্বামীরা পড়ালেখার সুযোগ দেয়ার শর্তে বিয়ে করে সর্বপ্রকার স্বামীত্ব খাটাক ।
ছেলেরা কষ্ট করো । বড়ো হও ! একুশ কেনো ! আরো বড়ো । কাউকে নিয়ে স্বপ্ন টপ্ন দেখো না । দেখলেও স্বপ্নের শেষে দোষ এক্সটেনশান যোগ করে ওখানেই রেখে দাও । কারন তোমার বিয়ের বয়স হতে হতে তোমার বান্ধবীটি তোমার চাচাতো বা মামাতো ভাই বোনের জননী হয়ে যাবে !
প্রসঙ্গ খবরঃ মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর চিন্তা ভাবনা চলছে http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2014/09/16/129266

৬ thoughts on “মেয়েদের বিয়ের বয়স সক্রান্ত চিন্তাভাবনা ও নারীদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে একটি ক্ষুদ্র চিন্তা

  1. কাউকে নিয়ে স্বপ্ন টপ্ন দেখো

    কাউকে নিয়ে স্বপ্ন টপ্ন দেখো না । দেখলেও স্বপ্নের শেষে দোষ এক্সটেনশান যোগ করে ওখানেই রেখে দাও । কারন তোমার বিয়ের বয়স হতে হতে তোমার বান্ধবীটি তোমার চাচাতো বা মামাতো ভাই বোনের জননী হয়ে যাবে !

    আপনার টার্গেট ভালো। শ্যুটার হিসেবে নাম কামাতে পারতেন।

  2. ভাই, শিক্ষা সবার জন্য। No
    ভাই, শিক্ষা সবার জন্য। No দ্বিমত। তবে দেশের শিক্ষাও কিন্তু সুপ্রাচীন backdated পদ্ধতির। পাল্টাও পাল্টাও।

    আর, বিয়ে থা? জটিল জটিল। জটিল মানে যে বিষয় ব্যাপারে সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত বলে কিছু নেই। যে ভাবেই রান্ধ, ঝাল টক মিষ্টি। … মানে, বিয়ে আগে করলেও ভালো এবং মন্দ, পরে করলেও ভালো এবং মন্দ, সময়ে করলেও ভলো-মন্দ।

    1. শিক্ষাব্যাবস্থার পরিবর্তনের
      শিক্ষাব্যাবস্থার পরিবর্তনের আমিও জোর দাবিদার । তবে পরিবর্তন হচ্ছে ।
      বিয়ের ব্যাপারে ভালো খারাপের কথা বলিনি , মেয়ে শিক্ষিত স্বাবলম্বী হলে তার সাথে অন্যায় করে পার পাওয়া যায় না । আর সেটা না হলে মেয়েরা সব মুখ বুজে সহ্য করে ।
      ট্রাডিশনাল বিয়ের ক্ষেত্রে ভালোর সংখ্যাটা কম , হয়তো দুজনই ভালো , কিন্তু ম্যাচ হয় না । যদি ম্যাচ হয় তবে দুজই অশিক্ষিত হলেও সমস্যা নেই । কিন্তু পারস্পারিক সম্মানবোধ ও বোঝাপড়া বিষয়টা উভয়ের মাথায় রাখার জন্যই উচ্চশিক্ষা প্রয়োজন ।
      শিক্ষা একটি আলো । শুধু বিয়ে কেনো , জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষিতরা এর বিনিময় পান ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *