কাল্পনিক চরিত্র – ০২ : কাতুয়া

আমাদের ক্লাস শুরু হবে দু’টায়। রাস্তার জ্যামজট সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আমরা যথেষ্ট সময় হাতে নিয়েই বাড়ি থেকে রওনা দেই ! সে দিন আমরা ক্লাস শুরু ৪৫ মিনিট আগেই সবাই পৌছে গিয়েছি।
যথা সময়ে জামিল ভাইও এসে উপস্থিত। সেই চির চেনা মুখ। মুখভর্তি দাঁড়ির মাঝে একফালি হাসি। আর চোখে চশমা।
কিন্তু, আজকে তার বেশ’ভূসায় কিছুটা ব্যতিক্রম। তিনি আজ ফতুয়া ধরনের কিছু একটা পরিধান করেছেন। ফতুয়া ধরন বলে মানে, পোশাকটা ফতুয়া থেকে কিছুটা বড় তবে ফতুয়া না, কিন্তু ফতুয়ার মতই দেখতে অনেকটা।

আমাদের ক্লাস শুরু হবে দু’টায়। রাস্তার জ্যামজট সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আমরা যথেষ্ট সময় হাতে নিয়েই বাড়ি থেকে রওনা দেই ! সে দিন আমরা ক্লাস শুরু ৪৫ মিনিট আগেই সবাই পৌছে গিয়েছি।
যথা সময়ে জামিল ভাইও এসে উপস্থিত। সেই চির চেনা মুখ। মুখভর্তি দাঁড়ির মাঝে একফালি হাসি। আর চোখে চশমা।
কিন্তু, আজকে তার বেশ’ভূসায় কিছুটা ব্যতিক্রম। তিনি আজ ফতুয়া ধরনের কিছু একটা পরিধান করেছেন। ফতুয়া ধরন বলে মানে, পোশাকটা ফতুয়া থেকে কিছুটা বড় তবে ফতুয়া না, কিন্তু ফতুয়ার মতই দেখতে অনেকটা।
বিষয়টা আমরা প্রথমে তেমন ভাবে খেয়াল করিনি। খেয়াল করেছেন আমাদের সম্মানিত পানিমন্ত্রী উর্মিলা। [উর্মিলাকে আমরা পানিমন্ত্রী উপাধীতে ভূষিত করেছি। কারণ, ক্যাম্পাসের আর কোথাও পানি পাওয়া যাক আর না যাক, তার ব্যাগে সর্বদা একটা ৭৫০মি.লি. পানিপূর্ণ বোতল থাকবেই। যা আমাদের অনেক উপকারে আসে।]
উর্মিলা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলল, কিরে জামি… এইটা কি কাপড় পড়ে আসলি আজ ?
জামিল : কেন দোস্ত ? বেশি সুন্দর লাগতেছে নাকি আমাকে ?
উর্মিলা : হ.. লাগতেছে !! কিন্তু, তোর এই পোষাকের নাম কি ?
জামিল : … নাম আবার কি ? এটা ফতুয়া !! চিনো না ?
উর্মিলা : এটা ফতুয়া ? এত বড় ফতুয়া হয়, কখনও দেখি নাই !!
আমি : এর একটু বড় হইলে তো মেয়েদের শর্ট-কামিজ হয়েই যেত !!
উর্মিলা : কামিজের মতই তো লাগতেছে !! নিচের দিকে দেখতেছি আবার গোলাপি রঙের লেইস লাগানো !
আমি : হুমম… হাতার মধ্যেও আছে দেখা যাচ্ছে !!
উর্মিলা : জামিল দোস্ত, বল তো ঠিক করে, এটা ফতুয়া নাকি কাজিম ?
জামিল ভাই হো হো করে হেসে উঠলেন ! যেন অনেক গর্ব বোধ করছেন। তার পোষাক নিয়ে তার বন্ধুরা গবেষণা করছে। তিনি তার মুছ পাকাতে পাকাতে বললেন, এটা হচ্ছে কাতুয়া !!
আমি ও উর্মিলা একত্রে বলে উঠলাম : কাতুয়া ? এটা আবার কি জিনিস ?
জামিল : এটা হচ্ছে কামিজ আর ফতুয়ার মিক্স। “কাতুয়া” তোদের ভাবি এটা আমাকে গিফট করছে।
উর্মিলা : ভাবি ? তুই বিয়া করলি কবে ?
জামিল : করি নাই, কইরা ফালামু !! এখন তোমার মোবাইল বের করো, আর আমার কয়েকটা পেক তুলো !!
আমি : ভাই , পেক’ কি জিনিস ?
জামিল : আরে, পেক… মানে ছবি তুলো !
আমি : ভাই, সেটা তো পিকচার , সংক্ষেপে, পিক ! “পেক” না !!
জামিল : আমি যেটা বলমু, সেটাই নতুন ইংলিশ !!
……………………… আমি উর্মিলা মৌসুম বাকিরাও হো হো করে স্বজোড়ে হেসে উঠলো। জামিল ভাই স্বউচ্ছাসে হাসতে লাগলেন।
পাশের কয়েকজন জুনিয়র ছিল, তারা হাসছে। জামিল ভাই তখন বললেন, তোরা আমার থেকা ইংলিশ শিখা যাইস !!
জুনিয়র’রা বলল, জ্বি ভা অবশ্যই !! …………

আমাদের টিচার ক্লাসের জন্য চলে আসায় আমাদের তখনের জন্য চলে যেতে হল !!

৩ thoughts on “কাল্পনিক চরিত্র – ০২ : কাতুয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *