বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যেভাবে বেকারত্বের তথ্য নিয়ে মিথ্যাচার করে

বাংলাদেশ থেকে দারিদ্রতা এবং বেকারত্ব দূরীকরনের একমাত্র ক্ষমতা আছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হাতে। তারা যে কোন মুহুর্তে দেশকে বেকারত্বহীন আর দরিদ্রহীন ঘোষণা দিয়ে দিতে পারে পরিসংখ্যান দিয়ে। বাংলাদেশে এই মুহুর্তে বেকারত্বের সাইজটা কত? সরকারের যে রান্না করা ডাটা শাকের ডাটা, যে ডাটা প্রদান করে থাকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিসি), তাদের মতে, ২০০৯ সালে বেকারত্বের সংখ্যা ছিল-২৭ লাখ আর বৃদ্ধির হার ৫%। ২০১০ সালে বাংলাদশে শ্রম শক্তির( মূলত যারা কর্মক্ষম জনশক্তি) পরিমান-৫ কোটি ৬৭ লাখ। তার মাঝে চাকরি আছে-৫ কোটি ৪১ লাখের। মানে মাত্র ২৬ লাখ বেকার। তারা তাদের জরিপে যে সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেছে সেখানে বলেছে-পরিবারের মধ্যে কাজ করে কিন্তু কোনো মজুরি পান না, এমন মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১১ লাখ।



বাংলাদেশ থেকে দারিদ্রতা এবং বেকারত্ব দূরীকরনের একমাত্র ক্ষমতা আছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হাতে। তারা যে কোন মুহুর্তে দেশকে বেকারত্বহীন আর দরিদ্রহীন ঘোষণা দিয়ে দিতে পারে পরিসংখ্যান দিয়ে। বাংলাদেশে এই মুহুর্তে বেকারত্বের সাইজটা কত? সরকারের যে রান্না করা ডাটা শাকের ডাটা, যে ডাটা প্রদান করে থাকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিসি), তাদের মতে, ২০০৯ সালে বেকারত্বের সংখ্যা ছিল-২৭ লাখ আর বৃদ্ধির হার ৫%। ২০১০ সালে বাংলাদশে শ্রম শক্তির( মূলত যারা কর্মক্ষম জনশক্তি) পরিমান-৫ কোটি ৬৭ লাখ। তার মাঝে চাকরি আছে-৫ কোটি ৪১ লাখের। মানে মাত্র ২৬ লাখ বেকার। তারা তাদের জরিপে যে সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেছে সেখানে বলেছে-পরিবারের মধ্যে কাজ করে কিন্তু কোনো মজুরি পান না, এমন মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১১ লাখ। এ ছাড়া আছে ৬ লাখ দিনমজুর, যাঁদের কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এদেরকে বেকারের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। যদি আমরা এদেরকে বেকার ধরি তাহলে মোট-স্থায়ী/অস্থায়ী বেকার দাঁড়ায়-১ কোটি ৪৩ লাখ। এই বেকারত্ব বৃদ্ধির হার উত্তোরোত্তর বেড়েই চলছে। যদি আমরা এই বৃদ্ধির হার-৫% ও ধরে নেই। তাহলে কি দাঁড়ায়- ২০১৪ সালে এটা প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৩৯ জন প্রায়।

তাহলে সরকারী ডটা শাকের হিসাব অনুযায়ী হিসাবে বলা যায় দেশে এখন বেকার আছে-প্রায় ২ কোটির মত। যদি ও তারা দেখাবে কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি পেয়েছে, বেসরকারী বিনিয়োগ বেড়েছে, উদ্যোক্তা বেড়েছে, শিল্পজোন বেড়েছে, ফলে এই সংখ্যা আবার ঘুরে ফিরে ১ থেকে দেড় কোটির মাঝেই আছে। কিন্তু গত ২ মার্চ, ১৪ , প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী-বিশ্বব্যাংক মনে করে সরকার কম করে দেখালে ও বাংলাদেশ প্রকৃত পক্ষে বেকারত্বের হার ১৪.২% , তাহলে এই ধারাবাহিক এনরোলমেন্টের সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) এর মতে- দেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা ৩ কোটি, ২০১৫ সালে এটা দাঁড়াবে গিয়ে-৬ কোটিতে। ইউএনডিপি প্রতিবেদন অনুযায়ী-২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সালে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে-১ কোটি ৩২ লাখে, ২০১৪ সালে নিশ্চিত এটা আরো বাড়বে। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২০১২ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর ২২ লাখ লোক চাকরির বাজারে প্রবেশ করে তার মধ্যে ৭ লাখ চাকরি করে। বাকিরা তাহলে কি করে ? ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে (২০১৪) বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার। এই হার যদি উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে এবং যে সংখ্যায় শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়ে স্নাতকে প্রবেশ করছে তাহলে এই বেকারত্বের বিস্ফোরণ থামাবে কে?

আমাদের সরকার ও বিবিসির সবার আগে যে কাজটা করা দরকার ছিল সেটা হল- দেশের মোট বেকারের সংখ্যার বস্তুনিষ্ট ডাটা উপস্থাপন রাখা। স্থায়ী/ অস্থায়ী বেকার চিহ্নিত করা, সক্ষম ও প্রতিবন্ধী বেকার চিহ্নিত করা, নারী বেকার ও পুরুষ বেকারের সঠিক সংখ্যা রাখা। কিন্তু তারা সেটা না করে যা করে তাহল-দেশের জনগনকে একটা শুভংকরের ফাঁকি আর উন্নয়নের ফাঁকা বুলির ভাওতাবাজিতে ধরে রেখে ক্ষমতায় যাবার জন্য মেনিপুলেট করা ডাটা সবার সামনে বছর বছর হাজির করে। প্রকৃত তথ্য তারা কখনো প্রকাশ করতে চায় না। এই তথ্য প্রকাশ করতে না পারা কিংবা বাস্তব সম্মত তথ্য গবেষণা করে খুঁজে না আনতে পারা, ঠিক কোনটায় তারা আটকে আছে ভাবার বিষয় বটে। দেশের শ্রম বাজারকে বিষেশায়িত যুগোপযুগী করতে হলে সবার আগে সরকারী রান্না করা ডাটা শাকের ম্যানিপুলেশন হতে আমাদের বের হতে হবে।
এই ফাঁপর দেয়া থেকে বের না হতে পারলে কখনো আমাদের দেশের শ্রম বাজার আধুনিক হতে পারবে না। তার আইটি সেক্টর, ইন্ড্রাস্টি সেক্টর, টেকনিকাল সেক্টর, সার্ভিস সেক্টর, কৃষি সেক্টর, ম্যানুয়াল নন-মেনুয়াল লেবার ফোর্স সেক্টর প্রতিটি সেক্টরের বাজার আপগ্রেডেশনের তথ্য যেমন এক দিকে রাখা দরকার তার সাথে রাখা দরকার পুংখানুপুংখ বেকারত্বের হিসাব।
উন্নত বিশ্ব যেমন-আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা স্ক্যন্ডিনেভিয়ান দেশগুলো যেখানে যথোপযুক্ত তথ্য তথ্যভান্ডার হাজির রেখে ও বেকারত্ব মোকাবেলা করতে হিমশিম খায় সেখানে আমাদের এই তথ্য লুকোচুরির খেলা স্রেফ পাঁ

৪ thoughts on “বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যেভাবে বেকারত্বের তথ্য নিয়ে মিথ্যাচার করে

  1. দেশের জনগনকে একটা শুভংকরের

    দেশের জনগনকে একটা শুভংকরের ফাঁকি আর উন্নয়নের ফাঁকা বুলির ভাওতাবাজিতে ধরে রেখে ক্ষমতায় যাবার জন্য মেনিপুলেট করা ডাটা সবার সামনে বছর বছর হাজির করে। প্রকৃত তথ্য তারা কখনো প্রকাশ করতে চায় না।

    এইটা তো কইতাছেন ডাটার কথা। ওদিকে যে পরীক্ষার রেজাল্ট পর্যন্ত বানায়া দেন, দেখছেন। এই সরকার ক্ষমতার জন্য দেশকে ইন্ডিয়া বানায়া ফেলতেও সিদ্ধহস্ত। আর তাদের উল্টো গ্রুপ আসলে বানাবে পাকিস্তান। এদের অর্থাৎ এদের দ্বারা চালিত সরকারের কথা বার্তার কোনো দাম নাই।

  2. সরকার কইতেছে উন্নয়নের জোয়ারে
    সরকার কইতেছে উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসতেছে। ইউরোপের সমপর্যায়ে যেতে আর বেশি সময় লাগবেনা। আপনি আইছেন ডাটা নিয়া। ঐসব ডাটাপাটা কিছু না। শেখ হাসিনা যা কয় সেটাই আসল ডাটা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *