আমরা প্রত্যেকে খুব স্বার্থপর । ক্যাউ স্বীকার করুক বা না-ই করুক ।

আমরা বেশিরভাগ সময়ে সম্পর্ক নিয়ে লেখি । মানুষ নিয়ে লেখি । আবেগ আর অনুভূতির কথা লিখি । যে দুটো এখন বিলুপ্তির পথে । অথচ মানুষের প্রয়োজনেই এগুলো বাঁচানো দরকার । অনেকের প্রশ্ন, কেনো এই টপিক নিয়েই শুধু লেখি ? কেনো দেশ-জাতি, খুন-হত্যা-প্রতিবাদ নিয়ে বেশি লিখি না ? কেনো ম্যাচিউরড লেখা লেখি না ?

সবকিছুর পরেও আমার কাছে বাস্তবতা হলো, স্বার্থপরতা ! আমরা প্রত্যেকে খুব স্বার্থপর । ক্যাউ স্বীকার করুক বা না-ই করুক ।


আমরা বেশিরভাগ সময়ে সম্পর্ক নিয়ে লেখি । মানুষ নিয়ে লেখি । আবেগ আর অনুভূতির কথা লিখি । যে দুটো এখন বিলুপ্তির পথে । অথচ মানুষের প্রয়োজনেই এগুলো বাঁচানো দরকার । অনেকের প্রশ্ন, কেনো এই টপিক নিয়েই শুধু লেখি ? কেনো দেশ-জাতি, খুন-হত্যা-প্রতিবাদ নিয়ে বেশি লিখি না ? কেনো ম্যাচিউরড লেখা লেখি না ?

সবকিছুর পরেও আমার কাছে বাস্তবতা হলো, স্বার্থপরতা ! আমরা প্রত্যেকে খুব স্বার্থপর । ক্যাউ স্বীকার করুক বা না-ই করুক ।

দিনশেষে ঘরে ফিরে যে ছেলেটা বাবা-মায়ের ঝগড়া দ্যাখে, যে মেয়েটা চোখের সামনে ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবাকে ধীরে ধীরে মরে যেতে দ্যাখে, যে মা তার সন্তানকে অন্ধকার জগতের বাসিন্দা হয়ে যেতে দ্যাখে, যে বাবা তার একমাত্র মেয়েটার বিয়ে হচ্ছে না বলে নির্ঘুম রাত কাটায়, একই ছাদের নিচে শুয়েও যে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের থেকে যোজন যোজন দূরে থাকে, যে বাচ্চা মেয়েটার রাতের বেলায় ঘুম ভাঙে শরীরে তার আপন ভাইয়ের হাতের অনাকাঙ্খিত স্পর্শে, তাদেরকে আর যাই হোক, দেশ-জাতি-পৃথিবী-সমাজ কোনো কিছুই স্পর্শ করে না !

মনের অশান্তির অনেকগুলো ধরন । আমি যদি বলি-
– একটা কুকুর রাস্তায় মারা গ্যাছে, কিংবা,
– অচেনা একজন অ্যাক্সিডেন্টে মারা গ্যাছে, কিংবা,
– পাড়ার রহমত ভাই মারা গ্যাছে, কিংবা,
– হাসপাতালে তোমার মা মারা গ্যাছে !

তাহলে কি সবক্ষেত্রেই আবেগের গভীরতা এক হবে ? আমি জানি, হবে না ! কারণ মানুষ স্বার্থপর ! আমরা সবাই স্বার্থপর ! কেউ স্বীকার করুক আর না-ই করুক !

মানুষ দিনশেষে বেশি কিছু চায় না…খুব সামান্য শান্ত একটা ঘর চায় আর চায় সেই ঘরে এমন ক্যাউ থাকুক, যে প্রশ্ন করবে, ‘আচ্ছা, সারাটা দিন কেমন ছিলে তুমি ?’
যে ঘরে এমন একটা মানুষ থাকবে, যাকে আঁকড়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদা যায় নির্দ্বিধায়, নিঃসঙ্কোচে !

মানুষ যতোটা না স্বার্থপর, তার থেকেও অনেক বেশি একা ! দেশ-জাতি অনেকের কাছেই অনেক বড় একটা শব্দ ! সারাদিন দেশের জন্যে ভেবে ভেবে ঘরে ফেরা মানুষটাকে বুকে আঁকড়ে ধরার মতো ক্যাউ না থাকলে, কিংবা, থেকেও ক্যাউ আঁকড়ে না ধরলে, সেই মানুষটা আর যা-ই হোক, শূন্যতাকে সুখের বেড়াজালে বাঁধতে পারে না !

নাহ, মানুষের সবচেয়ে কষ্টের অনুভতি তার প্রিয়জনদের জীবন থেকে হারিয়ে ফেলা নয় । মানুষের সবচেয়ে বড় কষ্টের অনুভূতি হলো, নিজেকে হারিয়ে ফেলা ! অন্য অন্য অনেককে মূল্য দিতে দিতে নিজেকেই ভুলে যাওয়া ! পুরো পৃথিবীর মাঝখানে একদিন হুট করেই আবিষ্কার করা তার এমন ক্যাউ থেকেও নেই, যে পৃথিবীর সবটুকু মায়া-মমতা-ভালোবাসা দিয়ে একবার অন্তত জিজ্ঞেস করবে-

‘একলা মানুষ, তুমি সত্যিই ভালো আছো তো ?’

৮ thoughts on “আমরা প্রত্যেকে খুব স্বার্থপর । ক্যাউ স্বীকার করুক বা না-ই করুক ।

  1. মানুষ দিনশেষে বেশি কিছু চায়

    মানুষ দিনশেষে বেশি কিছু চায় না…খুব সামান্য শান্ত একটা ঘর চায় আর চায় সেই ঘরে এমন ক্যাউ থাকুক, যে প্রশ্ন করবে, ‘আচ্ছা, সারাটা দিন কেমন ছিলে তুমি ?’
    যে ঘরে এমন একটা মানুষ থাকবে, যাকে আঁকড়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদা যায় নির্দ্বিধায়, নিঃসঙ্কোচে !

    হুম! এজন্যই তো আমি বিয়ে করাকে মানুষের জীবনে অনেক মূল্যবান মনে করি, যদিও আমি নিজেই কোনদিন বিয়ে করবোনা…!

    1. এজন্যই তো আমি বিয়ে করাকে
      এজন্যই তো আমি বিয়ে করাকে মানুষের
      জীবনে অনেক মূল্যবান মনে করি, যদিও আমি নিজেই
      কোনদিন বিয়ে করবোনা…!

      সাধু পুরুষ।। হা হা হা।

      আম রা অপেখ্যায় রইলাম।

  2. শেহজাদ ভাই’র কেস ভিন্ন… এটা
    শেহজাদ ভাই’র কেস ভিন্ন… এটা আন্দাজ করেছিলাম। ব্যাপার না। এখন আমাদের দেশে ‘ওই বিষয়টা’ অনেকটা গা সওয়া ব্যাপার হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *