চিকিৎসা পেশাকে অন্য পেশার সাথে মিলানোর সুযোগ নাই্।

সব পেশাতে দুটি গুন থাকা আবশ্যক। এক উপার্জন করার ক্ষমতা আর দ্বিতীয়ত দায়িত্ব বোধের কর্তব্য।
সব পেশাই উপার্জন ক্ষম কৌশল গুনটি আছে কিন্তু কিছু পেশার ক্ষেত্রে তার উপর আরো একটি ব্যপার থাকে তা হলো দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধ।

আইন,সাংবাদিকতা,শিক্ষকতা এবং ডাক্তার এই চারটি পেশাকেই যদি তুলনা করি তবে দেখতে পাবো প্রথম তিনটি পেশায় যে যতটা দায়িত্বের প্রশ্ন চতুর্থটির বেলায় তা অনেক গুন বেশি। এই কোন বিবেচনায়! কারন এখানে মানুষের জীবন মৃত্যু জড়িত। মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন ডাক্তারের কাছে যেতে বাধ্য। তাই ডাক্তারি পেশাকে আমি কোন পেশার সাথে তুলনা করতে রাজি নই।


সব পেশাতে দুটি গুন থাকা আবশ্যক। এক উপার্জন করার ক্ষমতা আর দ্বিতীয়ত দায়িত্ব বোধের কর্তব্য।
সব পেশাই উপার্জন ক্ষম কৌশল গুনটি আছে কিন্তু কিছু পেশার ক্ষেত্রে তার উপর আরো একটি ব্যপার থাকে তা হলো দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধ।

আইন,সাংবাদিকতা,শিক্ষকতা এবং ডাক্তার এই চারটি পেশাকেই যদি তুলনা করি তবে দেখতে পাবো প্রথম তিনটি পেশায় যে যতটা দায়িত্বের প্রশ্ন চতুর্থটির বেলায় তা অনেক গুন বেশি। এই কোন বিবেচনায়! কারন এখানে মানুষের জীবন মৃত্যু জড়িত। মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন ডাক্তারের কাছে যেতে বাধ্য। তাই ডাক্তারি পেশাকে আমি কোন পেশার সাথে তুলনা করতে রাজি নই।

আমাদের দেশের মানুষের নৈতকতা নিয়ে যেহেতু আমাদের সবারই প্রশ্ন আছে কাজেই সব পেশায় শতভাগ স্বাধীনতার সুযোগ এখানে না থাকাই ভাল। বিশেষ করে ডাক্তারি পেশায়, আমি যেহেতু ডাক্তারের কাছে যেতে বাধ্য অতএব ডাক্তার আমাকে তার ইচ্ছা মতো চিকিৎসার সাথে ইচ্ছা মতো ফি চাইতে পারে এবং আমি বাঁচতে চাইলে এই ফি দিয়েই চিকিৎসা নিতে বাধ্য । মানুষের যেখানে বাঁচা মরার প্রশ্ন সেখানে এটাকে কেবল একটি পেশা হিসেবে দেখার সুযোগ নাই। ইন্ডিয়াতে নাকি সরকার চাচ্ছে ডাক্তারের সর্বোচ্চ ফি নির্ধারিত করে দিতে কিন্তু ডাক্তাররা তার বিরোধীতা করছে। একজন উকিল যদি তার ইচ্ছা মতো ফি নিতে পারেন তবে ডাক্তার কেন পারবে না!

প্রশ্নটা খুব সরল আসলেই তো, ব্যবসায়ী যদি তার পন্যের ইচ্ছা মতো দর হাঁকতে পারে,সাংবাদিক যদি ইচ্ছা মতো রোজগার করতে পারে, শিক্ষক যদি ইচ্ছা মতো প্রাইভেট পড়ানোর রেট নির্ধারন করতে পারে তবে ডাক্তার কেন পারবে না!
দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতার প্রশ্নটা এখানেই চলে আসে। দেশে এখনো বহু মানুষ আছে যারা জীবনে কোনদিন একজন উকিলের কাছে যায় নাই,প্রয়োজন পড়ে নাই। একজন সাংবাদিকের কাছে যাই নাই,যেতে হয় নাই। এমন কি শিক্ষকের কাছেও যেতে হয় নাই,দেশে এখনো নিরক্ষরের সংখ্যা অনেক। কিন্তু ডাক্তারের কাছে? এমন সৌভাগ্যবান মনে হয় নাই। তার নিজের না হোক পরিবারের কারো না কারো জন্য ডাক্তারের কাছে দৌড়াতে হয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি হলো চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার।

মৌলিক অধিকার তো আরো আছে। খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা । হুম আছে, খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান যেহেতে একজন মানুষ নিজেই যোগার করতে পারে। এমন কি আগে থেকে তার এই চাহিদার কথা অনুমান করতে পারে,প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিতে পারে। শিক্ষার কথা অন্য প্রসঙ্গ,শিক্ষার জন্য কেউ মারা যায়না। কিন্তু চিকিৎসা? একজন মানুষ যেহেতু অসুস্থ হওয়ার বিষয়ে আগে থেকে ধারনা করতে পারে না, আর এটা নিয়ে অবহেলাও করার সুযোগ নাই,তাই চিকিৎসাকে অন্যদের সাথে মিলিয়ে তালগোল পাকানো যাবে না।

চিকিৎসা পেশার কথা বলার কারন হলো, এই সরকার অন্যান্য প্রকল্পের সাথে মিলিয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অথব স্বাস্থ্য বিষয়ে সরকারের উচিত এই পেশাকে কোন ভাবেই অন্যান্য পেশার সাথে প্রতিযোগীতা করতে না দেয়া। ডাক্তার তৈরির কারখানা গুলোকে আরো বিশেষ সুবিধা দিয়ে ডাক্তার তৈরিতে আরো স্বচ্ছতা,দক্ষতা আনায়ন করা। আমি মনে করি অন্তত ডাক্তার তৈরিতে শতভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রনে রাখা এবং পাশকরা প্রতিটা ডাক্তারকে কোন রকম যান্ত্রীক পরীক্ষার ভিতরে না রেখে প্রত্যেককে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ডাক্তার কোটায় বিসিএস পরীক্ষাটা অহেতুক বলেই মনে হয়। এই পরীক্ষায় কেমন লোক নির্বাচিত করতে পারে তা চারদিকে নজর দিলেই বোঝা যায়।

ডাক্তারি পেশাটা কত গুরুত্বপূর্ণ এটা নতুন করে বলার প্রয়োজন নাই। তার কিভাবে অনৈকিক ভাবে উপার্জন করেন,এটাও উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছিনা। অন্তত একটা পেশাকে সরকার শতভাগ ভেজাল মুক্ত করুক এই প্রত্যাশাই করি।

১০ thoughts on “চিকিৎসা পেশাকে অন্য পেশার সাথে মিলানোর সুযোগ নাই্।

  1. ডাক্তারদের বিসিএস এর মাধ্যমে
    ডাক্তারদের বিসিএস এর মাধ্যমে নিয়োগ না দিলে, কী পদ্ধতিতে নিয়োগ দেয়া যায়, সেটা কি বলবেন?
    শতভাগ ভেজালমুক্ত পেশা চান ভালো কথা। কিন্তু কিভাবে ভেজালমুক্ত করা যায় ?

  2. ডাক্তার
    তৈরির কারখানা গুলোকে

    ডাক্তার
    তৈরির কারখানা গুলোকে আরো বিশেষ
    সুবিধা দিয়ে ডাক্তার
    তৈরিতে আরো স্বচ্ছতা,দক্ষতা আনায়ন করা।
    আমি মনে করি অন্তত ডাক্তার তৈরিতে শতভাগ
    সরকারের
    নিয়ন্ত্রনে রাখা এবং পাশকরা প্রতিটা ডাক্তারকে কোন
    রকম যান্ত্রীক পরীক্ষার
    ভিতরে না রেখে প্রত্যেককে কর্মসংস্থানের
    ব্যবস্থা করা। *******

    ভাই বেসরকারি কলেজ গুলিতে কে পড়ে খোজ নিয়েছেন তো।।।

    1. লেখাটা আসলে খুব দুর্বল
      লেখাটা আসলে খুব দুর্বল যুক্তির হয়েছে।
      সেনাবহিনীতে যারা যোগ দেন,তারা যুদ্ধে প্রান দেয়ার জন্যই যোগ দেন। এখন যদি সৈনিকরা বলেন,শিক্ষকরা প্রান দেন না, ডাক্তারা দেন না আমরা কেন দিমু । এটা হাস্যকর হতো। প্রত্যেকটা পেশাই আলাদা ভাবে দেখা উচিত। তুলনা করাটা বেশ ক্ষতিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *