বনে-লোকালয়ে বাঘের গর্জন! অতঃপর…

ঈশপ ২০১৪ (গল্প ৩):

একদা এক অপরাহ্ণে এক বাঘ বনের মধ্যে দিয়া একাকি হাঁটিয়া যাইতেছিলো। সে দেখিলো দূরে হরিণ ছানা ঘাস খাইতেসে। পাশেই তার মা দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া কি যেন ভাবিতেছে। একটু দূরেই একটা বনগরু মনের সুখে জাবড় কাটিতেছে। বানরেরা এক গাছ হইতে আরেক গাছে লাফাইয়া লাফাইয়া যাইতেছে। একে অপরকে ভেংচি কাটিতেছে। পাখিরাও কিচির মিচির করিতেছে।


ঈশপ ২০১৪ (গল্প ৩):

একদা এক অপরাহ্ণে এক বাঘ বনের মধ্যে দিয়া একাকি হাঁটিয়া যাইতেছিলো। সে দেখিলো দূরে হরিণ ছানা ঘাস খাইতেসে। পাশেই তার মা দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া কি যেন ভাবিতেছে। একটু দূরেই একটা বনগরু মনের সুখে জাবড় কাটিতেছে। বানরেরা এক গাছ হইতে আরেক গাছে লাফাইয়া লাফাইয়া যাইতেছে। একে অপরকে ভেংচি কাটিতেছে। পাখিরাও কিচির মিচির করিতেছে।

বাঘ মনে মনে ভাবিলো তাহাদের কিঞ্চিৎ ভয় দেখানো প্রয়োজন। অতীতেও সে এরূপ বহুবার করিয়াছে। অন্যদের আনন্দ তাহার সহ্য হয়না। নিজের ক্ষমতা দেখাইতে মন চায় তার।

বিকট শব্দে বাঘ গর্জন করিয়া উঠিল ‘হালুম’! যেই না বাঘ গর্জন করিলো, অমনি পাখির কিচির মিচির থামিয়া গেলো, বনগরু পড়িমরি করিয়া পালাইয়া গেলো, হরিণ ছানাকে লইয়া তার মা কোন গাছের আড়ালে লুকাইয়া গেলো আর বানরেরা ভয়ে নিশ্চুপ হইয়া গেলো। তারা আর বাঁদরামি করিলো না।

বাঘ ধীরে ধীরে অগ্রসর হইলো। বানরগুলার দিকে তাকাইয়া একটা শয়তানি হাসি হাসিলো। তাহার হাসি দেখিয়া বানরেরা আরও ভয় পাইলো। তাহারা কোন নড়চড় করিলোনা। চুপ হইয়া বসিয়া থাকিলো। বাঘ চোখ ফিরাইয়া চারপাশে দেখিলো। সবাই পলাইয়াছে। বাঘ খুশী হইলো। সবাই তাহাকে ভয় পায়। দূর হইতে একটু হালুম করলেই সবাই জানের ভয়ে পালায়। সকলের জান তার হাতের মুঠোয় ভাবিয়া বাঘ অত্যাধিক খুশী হইলো।

বাঘ ফিরিয়া আসিলো। খুব আনন্দে আছে সে। ভাবিলো আজ সব খানে ভয় দেখাইয়া বেড়াইবে সে। কোথায় ভয় দেখানো যায় বাঘ ভাবিতে লাগিলো। ভাবিতে ভাবিতে হঠাৎ সামনে এক লোকালয় নজরে আসিলো তার। সাত পাঁচ না ভাবিয়া বাঘ লোকালয়ে প্রবেশ করিলো। ততোক্ষণে সূর্য আপন পথ ধরিয়াছে। বাঘ দেখিলো মানুষ জন যে যার কাজে ব্যস্ত। কেউ তাহাকে লক্ষ্য করেনাই। ক্রুদ্ধস্বরে সে গর্জন করিয়া উঠিল ‘হালুম’!

বাঘের গর্জন শুনিয়াই মানুষ জন তাহার দিকে তাকাইলো। সবার চোখে মুখে রাজ্যের ভয়। অনেকে দৌড়াইতেছে প্রাণের মায়ায়। কেউ বা ভয়ে স্তব্ধ হইয়া গিয়াছে। রাজ্যের নিরাবতা ভর করিয়াছে লোকালয়ে।

বাঘ ভাবিলো, অনেক হইয়াছে। এবার ফিরিবার দরকার। বাসায় সন্তানেরা তাহার পথ চাহিয়া রইয়াছে। যে-ই না বাঘ ফিরিবার পথে এক পা বাড়াইলো অমনি তাহার মাথায় লাঠির আঘাত পড়িল। বাঘ দেখিলো গোটা দশেক মানুষ তাহাকে লাঠি দিয়া পিটাইতেছে। ওই দূরে আরও অনেক মানুষ। সবার হাতেই লাঠি, বাঁশ, দা, কোদাল। সবাই ছুটিয়া আসিতেছে তাহাকে মারিবার জন্য। বাঘ ভয় পাইলো। সে পলাইবার চেষ্টা করিলো কিন্তু সে নড়িতে পারিলোনা। মানুষেরা তাহাকে ক্রমাগত আঘাত করিতেই লাগিলো। বাঘ তাহার শাবকদের কথা চিন্তা করিয়া চোখের পানি ফেলিলো। কিন্তু তাহার চোখের পানি কাহারও নজরে আসিলোনা।


মূলকথা: সবাই তোমার ভয়ে কোণঠাসা হইবে, এমন ভাবার কারন নেই।

৬ thoughts on “বনে-লোকালয়ে বাঘের গর্জন! অতঃপর…

  1. হুম , কিন্তু মূলকথা: সবাই
    হুম , কিন্তু মূলকথা: সবাই তোমার ভয়ে কোণঠাসা হইবে, এমন ভাবার কারন নেই।এমন তো কোন গল্প পড়িনি

    1. এমন গল্প তো আপনার পড়ার কথাও
      এমন গল্প তো আপনার পড়ার কথাও নয় দাদা। গল্পটা লেখাই তো হয়েছে দিন দুয়েক আগে! ভাল থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *