টস (দু’ পর্বের শেষ পর্ব)

টস (২য় পর্ব)
প্রিয়া আর রুবেল বেঞ্চিটাতে বসে। রুবেল অন্য দিকে মুখ ঘুড়িয়ে রাখে। প্রিয়া গলা ছেড়ে গান গাইতে থাকে আর মাঝে মাঝে ঝরনাস্নাত খিলখিল হাসিতে ফেটে পড়ে। মন খারাপ ভাবটা একদম বাতাসে উবে যায়। পরিবর্তে এক পাল হাওয়ায় যেন মন ভেসে যায় তার। হাসলে প্রিয়াকে সত্যিই অপ্সরী মনে হয়। কিন্তু রুবেল ভাবতে থাকে অন্যকিছু। প্রিয়ার সাথে সানগ্লাসের এতো অল্পে কি করে ভাব হয়ে গেলো! যে ফোস্কা পড়া টাইপ নাক উঁচু স্বভাবের মেয়ে! রুবেলের মাথার চুল এ ক’বছরে যা কমেছে তার সিংহভাগ অবদান এই রূপসীর। প্রিয়া হাসতে হাসতে দম নিয়ে নেয়।
– এই যে জনাব কদম আলী ওদিকে ফিরে কি দেখছেন!

টস (২য় পর্ব)
প্রিয়া আর রুবেল বেঞ্চিটাতে বসে। রুবেল অন্য দিকে মুখ ঘুড়িয়ে রাখে। প্রিয়া গলা ছেড়ে গান গাইতে থাকে আর মাঝে মাঝে ঝরনাস্নাত খিলখিল হাসিতে ফেটে পড়ে। মন খারাপ ভাবটা একদম বাতাসে উবে যায়। পরিবর্তে এক পাল হাওয়ায় যেন মন ভেসে যায় তার। হাসলে প্রিয়াকে সত্যিই অপ্সরী মনে হয়। কিন্তু রুবেল ভাবতে থাকে অন্যকিছু। প্রিয়ার সাথে সানগ্লাসের এতো অল্পে কি করে ভাব হয়ে গেলো! যে ফোস্কা পড়া টাইপ নাক উঁচু স্বভাবের মেয়ে! রুবেলের মাথার চুল এ ক’বছরে যা কমেছে তার সিংহভাগ অবদান এই রূপসীর। প্রিয়া হাসতে হাসতে দম নিয়ে নেয়।
– এই যে জনাব কদম আলী ওদিকে ফিরে কি দেখছেন!
রুবেল রাগ করে ফিরে তাকায় প্রিয়ার দিকে। প্রিয়া হাসিতে ফেটে পড়ে।
– ভালো হবে না বলে দিচ্ছি! আমার নাম কি…
– জ্বী জনাব! আপনার নাম ক…দ…স্যরি …স্যরি এভাবে তাকাবে না প্লীজ!
রুবেল ঘাড় ফিরিয়ে নেয়।
– একটা কথা বলি তুমি রাগ করবে না তো!
রুবেল ফিরে তাকায়।
– রাগলে না তোমাকে …
প্রিয়া কথা শেষ না করে চুপ করে থাকে।
– রাগলে কি ?
– রাগলে তোমাকে কদম আলী মনে হয়!
প্রিয়া হাসিতে ফেটে পড়ে।
রুবেল কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে যায়। উঠে চলে যেতে উদ্যত হলে প্রিয়া হাত ধরে ফেলে। রুবেল হাত ছাড়িয়ে নেয় এক ঝটকায়।
প্রিয়া উঠে আবার হাত ধরে ফেলে।
– স্যরি… রিয়েলী স্যরি! বাহ আমি এক্টূ মজা করলেই ইয়ে…টম্যাটো! তখন যে তুমি গা দুলিয়ে দুলিয়ে হাসছিলে!
– দেখো তোমাকে ফাইনাল বলছি তোমার ভালো না লাগে তো আমার নাম বলোনা কিন্তু…
– ওকে… ওকে বাবা! বললাম তো স্যরি। এখন রেডি হয়ে যান!
রুবেল আর প্রিয়া বেঞ্চিতে বসে পড়ে। রুবেল যেন কিছুই বুঝতে পারে না। গোবেচারাটি হয়ে যায়।
– কেন!
– জ্বী আকাশ থেকে পড়লেন মনে হয়! টস এ আমি যে বাজীটা জিতে গেলাম ভুলে গেছেন!
– ওহ! তো আমার রেডি হবার কি আছে।
– বাহ! কিছুই বোঝে না যেন! অই যে ওদিকে! ওই যে দূরে গাছতলায়…মিশন তিলোত্তমা উইথ ক… না উইথ হ্যন্ডসাম রুবেল!
রুবেল ঘাড় ফিরিয়ে দেখে নেয়। স্পষ্ট বোঝা যায় না তবে দূরের তরুণী যে অপরূপা রুপসী তাতে সন্দেহ নেই। নিজেকে কেবলা দা টাইপ মনে হতে থাকে রুবেলের!
– ওই হুর পরী!
– জ্বী ! কিচ্ছু করতে হবে না। জাস্ট কথা বলে ফোন নাম্বার… আমার সামনে ফোনে কথা বললেই হবে!
– হে হে হে…ফোন নাম্বার! আমার গাল এখনি লাল হয়ে গেছে। দাঁত মাত্র ৩১ টা। ৩০ তা হোক চাই না।
– একদম কোন কথা না! নো চিট! নো ফ্রডেন্ট এক্টীভিটি ইজ এলাউড!
রুবেল কিছু বলতে চায়। কিন্তু প্রিয়ার চাহুনিতে এমন কিছু আবিষ্কার করে যে আর কিছু বলার সাহস পায় না। মেয়েদের এহেন বিধ্বংসীরূপ অবজ্ঞা করার ফল যে কি ভায়াবহ তা সে জানে। ইনফ্যাক্ট পুরুষ মাত্রই তা জানবার কথা । দেবী দুর্গা সব নারীতেই ভর করে পুরুষ অসুর বা শ্বশুর যাই হোক! রুবেল বেঞ্চ ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় । ধীর পায়ে হাঁটা শুরু করে গাছতলার রুপসীর দিকে। মাথা, গা চুলকিয়ে নার্ভাস ভাব টা কাটানোর চেষ্টা করতে থাকে। মাঝে মাঝে থেমে গিয়ে ঘাড় ফিরিয়ে প্রিয়ার দিকে তাকায়। প্রিয়া মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসি লুকোবার চেষ্টা করে। মুহূর্তে হাত সরিয়ে দুর্গতি নাশিনী! দুর্গা হয়ে যায়। রুবেল টা বেকুবের মতো হে হে করে দাঁত কেলিয়ে হাসে যেন সম্মুখে এক তরুনী দাঁতের ডাক্তার গভীর পর্যবেক্ষণে দাঁতকপাটি পরীক্ষা করছেন! হেসে মা দুর্গতির কাছে খুব একটা প্রশ্রয় না পেয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকে। মিশন রুপসী’স ফোন নাম্বার! গটগট করে সামনের দিকে এগিয়ে যায় রুবেল যদিও জানে শার্টের কলার আর পিঠ ভিজে একাকার অবস্থা। যতই অস্বস্তি লাগুক সে আর ফিরে তাকায় না। জানে এক জোড়া অদ্ভুত সুন্দর চোখ তার গমন পথে চেয়ে আছে আর মুখ চাপা দিয়ে হাসির দমক থামাবার চেষ্টা করছে। এ ও জানে ঘাড় ফেরানো মাত্র সে জোড়া চোখ থেকে অগ্নি ত্রিশূল ঝড়বে! রুবেল দেখতে পায় সম্মুখে গাছের নিচে স্মার্ট মেয়েটি তার ছোটো ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন বের করে টেপাটেপি করে ব্যাগে পুরে রাখে। মেয়েটার এক পাশ দেখা যায়। কেন যেন চেনা চেনা মনে হয় দূর থেকে! অবশ্য এমন চেনা আপন অনেক কেই মনে হয় মাঝে মাঝে! রুপসী আগন্তুককে এতক্ষন খেয়াল করে না। ওদিকে প্রিয়া বেঞ্চিতে বসে মুখ টিপে টিপে হাসে। প্রিয়া দেখতে পায় রুবেল রুপসীর কাছাকাছি হতেই মেয়েটা রুবেল কে দেখতে পায়। রুবেল শেষ বার দন্তচিকিৎসকের দিকে ফিরে দাঁতকপাটি দেখায়! কি অদ্ভূত! রুবেল ভেবে পায় না বেঞ্চিতে বসে থাকা হিটলার কন্যা হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে কেন! এনিথিং রং! রুবেলের দাঁত কপাটি মিলে ধীরে ধীরে মিলে যায়। পেছন ফিরে হাঁটতে শুরু করলে দেখে কি আশ্চর্য! গাছতলার রুপসী উধাও! রুপসী বড় বড় পা ফেলে অনেকে দূর চলে গেছে ইতোমধ্যে। রুবেল প্রায় দৌড়তে থাকে। হাঁপাতে হাঁপাতে কাছাকাছি যেতে মেয়েটাকে পেছন হতে ডাকে
– এই যে আপু! এক্সকিউজ মি আপু! একটু শুনুন প্লীজ!
রুপসী ঘাড় না ফিরিয়ে আরো জোরে হাঁটা শুরু করে। রুবেল তার পেছন পেছন। মনে মনে ভাবতে থাকে ঝাপ্টাবাজ মনে করে উটকো কোনো ঝামেলা না হলেই হয়! উফ! এই মেয়ে অলিম্পিক হাঁটা প্রতিযোগিতায় নিশ্চিত গোল্ড মেডেল পেতে পারে। ওদিকে প্রিয়ার কথা বলা বাহুল্য। বেঞ্চে বসে নেই সে। বেঞ্চ টা খানিক্ষনের জন্য তার শোবার ঘর কিংবা পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ার টেবিল হয়ে যায়। কিছুতেই নিজেকে সে ধরে রাখতে পারে না। লুটোপুটি খাওয়া এই মেয়ের স্বভাব বিরুদ্ধ আচরণ। কিন্তু কিছু কিছু সময় থাকে মানুষ তার আপনাকে ভুলে যেতে বাধ্য হয়!

কিছুক্ষণ পর রুবেল ফিরে আসে বেঞ্চে সুকুমার রায়ের রাম গড়ুর হয়ে। তার পাশে বসে থাকে আপনাকে ভুলে যাওয়া ক্লিওপেট্রা! রামগরুরটি ঝিম ধরে বসে থাকে অনেকক্ষণ । হাসির দমক থামাতে কষ্ট হয় তরুনীর। খানিক থিতু হলে পরে জিজ্ঞেস করে তরুনী
– কই ফোন নাম্বার কই? ফোন কর তাকে
রামগরুড় সম্মোহিতের মত মোবাইলে নাম্বার চেপে ফোনটী বাড়িয়ে দেয় প্রিয়ার কাছে। প্রিয়া দেখে রিং পড়ে। নাম উঠে “ তমা “ । নো আনসার দেখায়।
– তোমার তমা ফোন ধরছে না! দুই নাম্বারি করছো না তো!
প্রিয়া হাসির দমক থামাবার চেষ্টা করতে থাকে।
যন্ত্র মানব ফিরে তাকায়। থমথমে কণ্ঠে বলে
– ধরবে না ! …
– কেন?
– তোমার গাছতলার রূপসীটি আমার ছোট বোন!
প্রিয়া খানিকক্ষণের জন্য থমকে যায়। তারপর হাসিতে ফেটে পড়ে। যন্ত্র মানব ধাতস্তের মতো চেয়ে থাকে প্রিয়ার মুখের দিকে।
– তোমার বোনটির পছন্দ ভালো! ওদের বিয়ে দিয়ে দিও!
– মানে কি?
– তোমার ওই সানগ্লাস মানে সানি হচ্ছে তমার বয়ফ্রেন্ড!
যন্ত্র মানব মুহূর্তে সার্কাসের জোকার হয়ে যায়।
– এ্যা!
– জ্বী । আমি ওই সানগ্লাস কে আগে থেকেই চিনতাম! বান্ধবীর বিয়েতে তাকে আমি দেখেছি কিন্তু কথা হয়নি। পরে অবশ্য কথা বলার পর সে আমাকে চিনেছে।
– এ্যা! কিন্তু আমার বোনের সাথে এই ব্যাটার সম্পর্কের তো এখানে কিছু দেখছিনা
– আজ তমার বার্থডে না!
– বার্থডে! ও হ্যাঁ হ্যা…তুমি কি করে জানো! আমার মাথা তাল গোল পাকিয়ে যাচ্ছে
প্রিয়া মুচকি হেসে বার্থডে কার্ড বাড়িয়ে দেয়। রুবেল খুলে দেখে তমাকে উইশ করা সানির বার্থডে কার্ড।
– সানির মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যায়। তোমার বোন তার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমি ফিরে আসবার সময় কার্ড টা পড়ে থাকতে দেখি। খুলে দেখি এটা সানির। উল্টো ফিরে যেতে তাকে আর পাইনি।
– কিছু বুঝলেন কদম আলী!
রুবেল এই “কদম আলী” ডাকে মাইন্ড করে না। যেন নিজের যথার্থ নামটি আবিস্কার করার আনন্দে উদ্ভাসিত হয় চেহারা । এই প্রথম সানগ্লাস কে খুব আপন জন! মনে হতে থাকে সাথে প্রিয়াকেও! প্রিয়া , সানি, আপনজন বিষয়গুলো গুলিয়ে যায় রুবেল তথা কদম আলীর। প্রিয়া হাসির দমক থামাতে পারে না। পার্কের জগিং করতে করতে দৌড়তে থাকা আধবুড়ো লোকগুলো ঘাড় ঘুড়িয়ে হাসির দমক আটকাতে ব্যর্থ রুপসীটির দিকে তাকায়। তার পাশে বসে থাকা বেমানান তরুণটির দিকেও আফসোসের চাহনিতে দেখে। বেক্কেলের মত হাসে ছেলেটি! বিরস বদনে লোকগুলো দৌড়তে দৌড়তে যেন ভাবে ‘আজকালের অদ্ভুত দুনিয়া আবুলের পাশে সুন্দরী সোনিয়া’।

৪ thoughts on “টস (দু’ পর্বের শেষ পর্ব)

Leave a Reply to ডাঃ আতিক Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *