কৃতজ্ঞতা জানাই প্রজন্ম চত্বরে জড়ো হওয়া লাক্ষো তাজা প্রাণকে….বাঙালীর শ্লোগানটাকে বাঙালীর কছে ফিরিয়ে আনার জন্য…

ছোট বেলায় যখন মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা দেখতাম বেশ আফসোস লাগত…!!!

ভুল বুঝবেন না| অবস্থা এখন এমনটাই দাড়িয়েছে যে, কোন নেগেটিভ শব্দ দেখলেই অপ-ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে দেয়া হয়| আগে পুরোটা শুনুন, তারপর মন ভরে গালাগাল দেন| আপত্তি করব না|

যা বলছিলাম…আফসোস লাগত বিশেষ করে যখন কোন সিনেমায় দেখতাম কিশোর কোন গেরিলা যোদ্ধা কার্লভার্ট এ বোমা ফিট করতে গিয়ে কিংবা হানাদারদের হাতে ধরা পরার পর নিজের হাতে গ্রেনেড ফাটিয়ে কতগুলো পশু সাথে নিয়ে আত্মাহুতি দিল…কিংবা সম্মুখ যুদ্ধে বীরের মত লড়তে লড়তে শহীদ হল…


ছোট বেলায় যখন মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা দেখতাম বেশ আফসোস লাগত…!!!

ভুল বুঝবেন না| অবস্থা এখন এমনটাই দাড়িয়েছে যে, কোন নেগেটিভ শব্দ দেখলেই অপ-ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে দেয়া হয়| আগে পুরোটা শুনুন, তারপর মন ভরে গালাগাল দেন| আপত্তি করব না|

যা বলছিলাম…আফসোস লাগত বিশেষ করে যখন কোন সিনেমায় দেখতাম কিশোর কোন গেরিলা যোদ্ধা কার্লভার্ট এ বোমা ফিট করতে গিয়ে কিংবা হানাদারদের হাতে ধরা পরার পর নিজের হাতে গ্রেনেড ফাটিয়ে কতগুলো পশু সাথে নিয়ে আত্মাহুতি দিল…কিংবা সম্মুখ যুদ্ধে বীরের মত লড়তে লড়তে শহীদ হল…

ফ্যান্টাসিতে চলে যেতাম| নিজেকে দাড় করিয়ে দিতাম ওর জায়গাটায়| দেখতাম সহ-যোদ্ধাদের চোখের জল| প্রতিটা মৃত্যুতে যে জলে অগ্নি-শিখা মিশত| দেখতাম অশ্ত্রুহীন জ্বলজ্বলে চোখে প্রতীক্ষায় বসে থাকা মায়ের মুখ…
গায়ে কাটা দিয়ে উঠত..!!!

আফসোস করতাম কেন তখন জন্ম হল না আমার…আমিও যুদ্ধে যেতাম,শহীদ হতে..
নিশ্পাপ শৈশবেই ওরকম কল্পনাগুলো করা যায়| এখন সত্তাটা বড্ড বেশি কুলশিত হয়ে গেছে| অথর্ব হয়ে গেছি অনেকটা…

আর একটা ব্যাপার ছিল যেটা সব থেকে বেশি শিহরিত করত… জয় বাংলা শ্লোগানটা…
যে শব্দটায় সকল বাঙালী এক হয়ে গিয়েছিল…দল-মত নির্বিশেষে সব ধর্মের সব বয়সের মানুষ দেশটাকে দোষর মুক্ত করতে ঝাপিয়ে পরেছিল…

যখন একটু বড় হয়েছি, জয় বাংলা আর বাংলাদেশ জিন্দাবাদের মধ্যে পার্থক্যটা বুঝতে শিখেছি, খুব হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম ঐ দিনটায়| এত প্রিয় শ্লোগানটা দিতে পারব না…???!!! দিলেই আওয়ামীলীগ হয়ে যাব…কিংবা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বললেই বিএনপি হয়ে যাব…!!! মানতে পারতাম না তখন| তারপর একটা সময় আর দশটা অসংগতির মত ওটাকেও মেনে নিয়েছি…

প্রজন্ম-চত্বর রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে কতটা সফল হল না কী হল না সে তর্ক বুদ্ধিজীবীদের জন্য তুলে রাখলাম| তবে এই প্রজন্ম-চত্বর আজ এই অথর্ব-অপদার্থ হয়ে যাওয়া মানুষটাকে তার প্রিয় শ্লোগানটা ফিরিয়ে দিয়েছে| আজ এই অপদার্থটাও জনতার কাতারে দাড়িয়ে জয় বাংলা..জয় বাংলা.. বলে চিৎকার করে জমে যাওয়া রক্তটাকে গরম করে তুলতে পারে, করো দালালী না করেই…

কৃতজ্ঞতা জানাই প্রজন্ম চত্বরে জড়ো হওয়া লাক্ষো তাজা প্রাণকে….বাঙালীর শ্লোগানটাকে বাঙালীর কছে ফিরিয়ে আনার জন্য…জয় প্রজন্ম চত্বর….জয় বাংলা…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *