বৃষ্টি হয়ে ছুই তোমায় , অতন্দ্রিলা

উফফফফফফফফফ !!!!!!!!! সময় কি আজ যাবে নাহ ????????? ফজরের আজানের ধ্বনি কানে আসছে !! খুব tensed অলিন , ভাবছে কখন সকাল হবে । আজ ট্রেন এ করে সিলেট যাবার কথা , কিন্তু আজ সে যাবে নাহ । তার কানে ভাসছে এক কিন্নর কন্ঠীর কান্নার শব্দ , আর মায়া মাখা কথা কিছু কথা

” আমার সাথে একটু দেখা করে যাবে ??? আমি নাহ আর পারছি না । ”

সারাটা রাত দু চোখের পাতা এক করতে পারেনি অলিন । অনেক ভেবে ঠিক করল অতন্দ্রিলার সাথে দেখা করতেই হবে ।

অলিন উঠেসিস বাবা ????

হ্যাঁ । মা গোসলে ঢুকছি ।

তাড়াতাড়ি আয়, নাস্তা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে নাহলে। ট্রেন ও চলে আসছে ।


উফফফফফফফফফ !!!!!!!!! সময় কি আজ যাবে নাহ ????????? ফজরের আজানের ধ্বনি কানে আসছে !! খুব tensed অলিন , ভাবছে কখন সকাল হবে । আজ ট্রেন এ করে সিলেট যাবার কথা , কিন্তু আজ সে যাবে নাহ । তার কানে ভাসছে এক কিন্নর কন্ঠীর কান্নার শব্দ , আর মায়া মাখা কথা কিছু কথা

” আমার সাথে একটু দেখা করে যাবে ??? আমি নাহ আর পারছি না । ”

সারাটা রাত দু চোখের পাতা এক করতে পারেনি অলিন । অনেক ভেবে ঠিক করল অতন্দ্রিলার সাথে দেখা করতেই হবে ।

অলিন উঠেসিস বাবা ????

হ্যাঁ । মা গোসলে ঢুকছি ।

তাড়াতাড়ি আয়, নাস্তা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে নাহলে। ট্রেন ও চলে আসছে ।

ওকে মামুনি । আসছি , একটু ওয়েট কর !!!

বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝে না এত ঠাণ্ডা মাথার ছেলে অলিন । কি করা লাগবে তা খুব ভাল করেই জানে ছেলেটা । প্রতিটা কাজ কিভাবে করতে হবে সব ছকে কাটে রেখেছে , এখন শুধু করতে হবে ।

মামুনি আমি বের হয়ে রিক্সা নিচ্ছি তুমি নামো ।

ট্রেন এর হলুদ বাতিটা লাল হয়ে যাচ্ছে । ছেলে তাকে ছেড়ে চলে যাবে কিছু পর , ভেবেই বুক ফেটে কান্না আসছে জাহানারা বেগমের । অনেক আদরের ছেলে তার, কখন মাকে ছাড়া থাকতে পারত নাহ । আর এখন দিব্বি তাকে ছেড়ে যাচ্ছে সেই বহুদুরে । বুকে পাথর বেধে সহ্য করে । তার সারা জীবনের লালিত স্বপ্ন ছেলে কে মেডিকেল এ পড়াবে, সেই স্বপ্ন পুরনে জন্য অলিনের সিলেট যাএা । সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র অলিন । দু মাস কিংবা তিন মাস পর একবার ঢাকা তে আসে তাও আবার ২ কি ৩ দিনের জন্য । মায়ের মন কি তাতে সায় দে । কিন্তু কি আর করার নিজের স্বপ্ন আর ছেলের ভবিষ্যৎ ভেবে মন বুঝিয়ে রাখে জাহানারা চৌধুরী । চলতে শুরু করেছে ট্রেন । আর নিজেকে ধরে রাখতে পরলনা , ডুকরে কেঁদে উঠলো ।

খুব মন খারাপ করে বাইরে তাকিয়ে আছে অলিন । জানালার ফাঁকে দিয়ে মায়ের ভেজা চোখ টা খালি ভেসে উঠছে । কিন্তু কিছুই করার নেই । চিন্তার ব্যাঘাত ঘটিয়ে মোবাইল টা অসময়ই বেজে উঠল ।ফোন টা ধরতে ইচ্ছা করছে না । ধরবেনা করেও শেষে পকেট থেকে বের করল । অতন্দ্রিলার ফোন । কেন যেন এখন ওর ফোন টা ও ধরতে ইচ্ছা করছে নাহ , কেটে দিল ।

ট্রেন ছেড়েছে ১০ মিনিট হল । অতন্দ্রিলাকে ফোন দেয়া দরকার । পকেট থেকে মোবাইল টা বের করে অতন্দ্রিলাকে ফোন দিল ।

হ্যালো ।

হ্যাঁ । শুনছি , বলো ।

তুমি কি ট্রেনে ???

হুম ।

ওকে , যাও তাহলে , আর শুনো যেয়ে ভাল করে fresh হয়ে ঘুমাবা । এরপর ঘুম থেকে উঠে লক্ষ্মী ছেলের মত পড়তে বসবা ।সামনে তোমার প্রফ । আর আমি এখন রিকশাতে , আজ এনাটমি এক্সাম আছে , জানি ফেল করব তাও যাচ্ছি । এক্সাম শেষ করে তোমাকে ফোন দিব ।

ওকে । আর এত টেনশন করো না, তুমি ভাল করবে আমি জানি ।

অলিন , মিস ইউ …। বাই

ওকে , এই শুনো আজ তোমাদের মেডিকেল এ আমার এক আপু যাবে তুমি আপুকে একটু ডাক্তার দেখাতে পারবা ????

হ্যাঁ । পারব , তুমি আমকে বলে দিও ।

ওকে , বাই ।

মনে মনে খুব হাসছে অলিন । মনটা অনেক টাই ভালো হয়ে গেছে । এয়ারপোর্ট স্টেশনে ট্রেন চলে এসেছে , এখানেই নামতে হবে ওকে ।

মামা , শ্যামলীর বাস কোনটা ?????

মামা এই যে হলুদ ছাতা দেখছেন না , ঐখানে শ্যামলীর বাসের টিকেট পাবেন গাড়ি এখন ই আসবে । আপনি গিয়ে দাড়ান ।

এত গরম কেন আজ ????? বনানীতে জ্যামে বসে সিদ্ধ হচ্ছি । আর আজ এত রোঁদ ও কেন । বাসের ভিতরের চেঁচামেচি তে মাথাটা ধরে উঠছে । পাক্কা ৩৫ মিনিট বসে থাকার পর , জ্যাম ছাড়ল অবশেষে । বাস এখন খুব স্পীড যাচ্ছে । জানালার পাশে বসে খুব ভাল লাগছে এখন , রোদের উত্তাপ অনেক কম মনে হচ্ছে ।ফোন বাজল বলে মনে হচ্ছে । আসলেই ফোন এসেছে , টের পায়নি অলিন । অতন্দ্রিলার ফোন ।

হ্যাঁ , বল । তোমার এক্সাম শেষ ????

আরে বোকা এখন না এক্সাম , ১০টায় শুরু হবে । তোমাকে খুব মিস করছি ।

ও ………… তাই বুঝি ……………।

হ্যাঁ । আমার কথার কোন দামই তো নেই তোমার কাছে । আচ্ছা বাদ দাও , চলে যাচ্ছও যাও , ভালো কথা , আপু কই ???

আপু আসছে । বাসা থেকে বের হয়েছে । তোমার মেডিকেল এ আসলে আমি ফোন দিব । তুমি এখন পড়, যাও।

পড়ব তো বাবা । তুমি আমাকে আগে বললে নাহ কেন ??? আপু আসবে আমি একটু ফিট হয়ে আসতাম । একটু সাজুগুজু করতাম ।

আমার বউ টা এমনিতেই পরী , আর ফিটের দরকার নাই ।

এই যে আপনার পামটা একটু কমান । নাইলে ট্রেন এর লোকরা পাগল ভাব্বে । আচ্ছা রাখছি এখন আপু আসলে ফোন দিও ।

অবশেষ আমি shmc তে চলে আসলাম । খুব নার্ভাস লাগছে এখন । ওকে সারপ্রাইস দিব বলে আসা নাহ জানি এখন আসতে পারবে কিনা । ঘড়িতে ৯ টা ৮ বাজে পরীক্ষা ১০ টায় ফোন কি দিব ?? ফোনটা করেই দেখি কি হয় ।

তোমার কি এক্সাম শুরু হয়েছে ?????

নাহ , লেট হবে ১০ টা ৩০ থেকে শুরু হবে ।

ওহ…। আচ্ছা আপু এখন তোমাদের মেডিকেল এ আছে । দেখা করতে পারবে ?????????

কি যে বল , তোমার কাজ আর আমি পারব নাহ । আমি এখন ই যাচ্ছি আপু কোথায় ??

তোমাদের ক্যান্টিন এর পাশে দাঁড়িয়ে আছে ।

ওকে , আমি যাচ্ছি । পরে কথা বলছি ।

দূরে পিলারের মাঝে দাড়িয়ে অতন্দ্রিলা কে দেখছে অলিন । কি মায়া ভরা একটা মুখ । তার শান্ত চোখ গুলো এদিক ওদিক করছে । ফোন টা বেজে উঠল । অতন্দ্রিলার ই ফোন ।

হ্যালো , কই আমি কোন আপুকে দেখতে পাচ্ছি নাহ …।

তাই । পিছনে তাকাও !!!!!!!!!!!

হঠাৎ শির দাড়া দিয়ে একটা উষ্ণ রক্ত বয়ে গেলো অতন্দ্রিলার । এটা কি স্বপ্ন নাকি সত্যি ??????? একটা সাদা শার্ট পরে ওর দিকে এগিয়ে আসছে অলিন । ইচ্ছা করছে দৌড়ে গিয়ে ওর বুকে ঝাপ দিতে । কিন্তু নিজের মেডিকেল এর কেন্টিনের পিছে তা কি আর সম্ভব হয় ??? চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেলো ও । চোখ গুলো ঝাপসা হয়ে আসতে চাচ্ছে । তার সেই পাগলটা তার জন্য সব রেখে ছুটে এসেছে । কিন্তু এত মধুর সময়টা কেঁদে নষ্ট হতে দিতে চায় নাহ । মনের অজান্তেই অলিন এর হাত টা ধরে ফেলল ।

শুন , এক্সাম কিন্তু দেয়া লাগবে আমি আছি ।

ওকে তাইলে এক কাজ কর । তুমি আমাদের লাইব্রেরি তে যাও । আমি এক্সাম টা দিয়ে ই আসছি

ওকে ।

লাইব্রেরি তে বসে মনটা টিকছে না । সময় যেন কাটে নাহ । এখন বাজে ১১ তা ৪৫ । সেই ১২ তা ৩০ এ এক্সাম শেষ হবে ওর । বসে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় ও নেই । বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে । ফোন বেজে উঠল । একি অতন্দ্রিলার ফোন ।

হ্যালো । তুমি

এই , আমার এক্সাম শেষ । তুমি এনাটমির সামনে আসো ।

ওকে ।

এমন অসময় বৃষ্টি হচ্ছে । কোন কিছু পাওয়া যাবে না , সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ভাবছে অলিন ।

বাইরে এখন তুমুল বৃষ্টি। কি করবে এখন “অত” ?????

চল বৃষ্টিতে ভিজি আজ ।

মাইর খাবা ফাজিল । ২ দিন পর পর আপনার ঠাণ্ডা লাগে , জ্বর আসে । আর আমি তোমাকে নিয়ে ভিজব । দাঁড়াও রিক্সা টা ডাকি ।

২ জনে রিকশাতে খুব মজা লাগছে । পলিথিন দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা থেকে বাঁচতে চাইলেও মুখে এসে লাগছে কিছু । পুরোও বাচ্চাদের মত করছে অতন্দ্রিলা । মাঝে মাঝে হাতে পানি নিয়ে মুখে দিচ্ছে । ওর কলেজের সামনে থেকে CNG নিলাম । বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ২ পাশের পর্দা টেনে দিলাম । বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে … একে কুকুর বিড়াল বৃষ্টি বললে ভুল হবে বলা লাগবে হাতি ঘোড়া টাইপ বৃষ্টি ।

অতন্দ্রিলার মন টা আজ খুব ভাল । সৃষ্টিকর্তা আজ তাকে দু হাত ভরে দিচ্ছেন । খুব ইচ্ছা ছিল ওর অলিন কে নিয়ে একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে, আজ হয়ে গেলো অনেকটা । সবচেয়ে বড় কথা হল আজ যে ওকে দেখতে পারছে এটাই তো অনেক বেশি । অলিনের চোখ থেকে চশমা খুলতে খুলতে বলল ” এই , আমি এখন আছি নাহ । এখন চশমার কোন দরকার নেই আমার হাতে দাও । ” চশমাটা হাতে নিয়ে অলিনের কাধে মাথা রাখল । আর ভাবতে থাকলো কত টা ভালোবাসে এই পাগলটা ওকে । কখনও মুখে বলার প্রয়োজন হয় নাহ , অলিনের চোখের ভাষা সব উত্তর দিয়ে দেয় ।

অতন্দ্রিলা কে দেখতে দেখতে ভাবছে অলিন , মেয়েটা কতটা নির্ভার হয়ে ওর কাঁধে মাথা রেখে আছে । বাচ্চা একটা মেয়ে । মায়া ভরা চোখ , যে চোখে তার জন্য অসীম ভালোবাসা । নিজের ডান হাত দিয়ে অতন্দ্রিলার ডান হাত টা ধরলো । খুব শক্ত করে চেপে ধরল নিজের বুকে । অতন্দ্রিলার চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল ,

“এটা কোন জায়গা জানো?????”

হ্যাঁ , জানি । 5th intercostal space .

আমার apex beat টের পাও ???

হ্যাঁ পাই …।

এটা শুধু তোমার জন্য । এর প্রতিটা beat এ শুধু তোমার নামের প্রতিধ্বনি হয় ।

আমি জানি অলিন এটা আমায় বলা লাগবে নাহ । খুব ভাল করে জানি আমি এই পাগলটার কি , তবে এখন প্রেম করতে এসে এত সব জ্ঞানের কথা বন্ধ রাখলে ভালো হয় , বলেই হেসে দিল অতন্দ্রিলা !!!!!!!!

কোন কথা বলতে পারে নাহ অলিন । শুধু চেয়ে থাকে অতন্দ্রিলার দিকে । এখানে কি বলা লাগে তা সে জানে নাহ । বাইরে বৃষ্টির দিকে তাকায় আর ভাবে ছোট এক হাত জায়গাটা পর্দা দিয়ে ঘেরা । কিন্তু এটাই তার কাছে এটা এক বিশাল প্রান্তর, যার মাঝে তারা ২জন ছাড়া আর একজনের অস্তিত্ব বিদ্যমান, সে হল ভালোবাসা ।দুষ্টু চোখ জোড়া ভিজে আসতে চায় , কিন্তু এদিনে যে চোখে পানি আনা পাপ । ভাবতে থাকে আর, হাতের মাঝের সেই ছোট হাতটা কে আর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।

৪ thoughts on “বৃষ্টি হয়ে ছুই তোমায় , অতন্দ্রিলা

  1. সারা জীবন চেয়ে থাক অলিন
    সারা জীবন চেয়ে থাক অলিন অতন্দ্রিলার দিকে। কাছা কাছি থাক তারা। তেম্নি ব্লগের সব্বাই প্রিয়জনের সংগে থাক পাশাপাশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *