আমার কর্পোরেট জীবন

এই লেখাটা তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ অথবা শিক্ষনীয় লেখা নয়, তাই তেমন একটা গুরুত্ব দেবার কিছুই নেই। এই লেখার উদ্দেশ্য বা কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লিখে দিয়েছি। যারা আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে আছেন তারা ক্লিক করে অল্পতেই পড়ে নিতে পারেন লেখার মূল উদ্দেশ্য কি কি। জানিয়ে রাখা ভালো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কারোই হুদা লেখা পড়ার মানেই হয় না। আর সে স্থানে আমার ন্যায় অকাট, মূর্খ মানুষের লেখা পড়ার তো মানেই নাই। শুধু সময় না কাটলে পড়ে দেখতে পারেন।


এই লেখাটা তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ অথবা শিক্ষনীয় লেখা নয়, তাই তেমন একটা গুরুত্ব দেবার কিছুই নেই। এই লেখার উদ্দেশ্য বা কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লিখে দিয়েছি। যারা আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে আছেন তারা ক্লিক করে অল্পতেই পড়ে নিতে পারেন লেখার মূল উদ্দেশ্য কি কি। জানিয়ে রাখা ভালো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কারোই হুদা লেখা পড়ার মানেই হয় না। আর সে স্থানে আমার ন্যায় অকাট, মূর্খ মানুষের লেখা পড়ার তো মানেই নাই। শুধু সময় না কাটলে পড়ে দেখতে পারেন।

অতিরিক্ত ভুমিকার অবতারণা না করাই ভালো, যা বলতে এসেছি তা ঝটপট বলে ফেলাই ভালো। বলে রাখি যেহেতু সম্পূর্ণরূপে শুধুমাত্র নিজের জীবনের কথা তাই এখানে “আমি”, “আমার” এই সকল শব্দের ব্যবহার হবেই, এখন কেউ যদি এইটিকে নিয়ে মগার কাতারে ফেলে দেন তাহলে বলে রাখি “পভিসেপ তিন বেলা ক্ষতস্থানে“। মোটামুটি ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনের বাইরেও যারা আমাকে চিনেন তারা আশা করি জানেন আমার দৌড় কতদূর পর্যন্ত। আর নিজের ব্যাপারে তো নিজের চাইতে ভালো কেউই বলতে পারবে না মনে হয়। সেই হিসাবে বর্তমানে যে কর্পোরেট জীবন-যাপন করছি এটির পূর্ণ যোগ্যতা আছে কিনা সেই ব্যাপারে আমি সন্দিহান। এইজন্য যে যেই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে আছি সেটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু পণ্য নিয়ে কাজ-কারবার করে না, বরং অনেকগুলো সহ-প্রতিষ্ঠানও আছে। উল্লেখ্য যে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অধিক হলেও এটি পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিশ্বস্ত এবং নিবেদিতপ্রাণদেরই বেছে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ। প্রথমত ঠিক এইস্থানেই দারুণভাবে বিস্মিত হয়ে যাই যে, কি এমন বিশ্বস্ত এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর পরিচয় আমার মাঝে কর্তৃপক্ষ খুঁজে পেলেন যে তারা একটা সম্মানজনক পদে বসিয়েছেন! নিজে নিজে মাঝে মধ্যে ভাবি, নিজেকে মাঝে মধ্যে প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ক্ষমতাধরের স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করি কি এমন খুঁজে পাওয়া গিয়েছে যার বদলে এই পদে আসীন হয়ে আছি! এখানে একটু বলে রাখা ভালো এটিকে প্রতিষ্ঠান না বলে একটা পরিবার বলাই ভালো, কেননা প্রতিষ্ঠানের মালিক থেকে শুরু করে সকলেই একে অপরের পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি না হলেও অনেকটাই জানি এবং অন্যান্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহের তুলনায় অনেক বেশিই জানি। সেই হিসাবে আমার মত নিম্ন মধ্যবিত্ত অভাবী ঘরের ছেলের বেলাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেলাতে প্রতিষ্ঠান কি সেই প্রবাদ বাক্যটি মনে করে দেখেনি, “অভাবে স্বভাব নষ্ট” হতে পারে? স্বভাব বলতে এখানে আর্থিক দিকটা বুঝাচ্ছি না, বুঝাচ্ছি বিশ্বাস। এমনিতেই প্রতিদিনই প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লেনদেন হয় এই অভাবীর হাত দিয়েই হয়, সুতরাং আর্থিক দিকটা এইদিক থেকে বিবেচনা করাটা খুবই অযৌক্তিক। অবাক লাগে যখন দেখি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিটি অনেক বিশ্বাসের সাথে প্রতিষ্ঠানের আগামীর পরিকল্পনাসমূহ শেয়ার করেন। মাঝে মধ্যে ভাবি আচ্ছা সত্যিই কি আমি এতোসবের পূর্ণ যোগ্য? অর্জন করেছি কি সেই যোগ্যতা? প্রতিষ্ঠানের বদৌলতে শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানেই একটি সম্মানজনক অবস্থানে নয় বরং প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও যথেষ্ট সম্মান পাই। সম্মান আগেও পেয়েছি অনেক, এর আগে যেই প্রতিষ্ঠানে চাকরী করতাম সেটি বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যাপক সুনামধারী প্রতিষ্ঠান, পদবীটিও যথেষ্টই সম্মানজনক ছিলো, তবে পার্থক্য হলো বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যতটা স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে পারি এবং প্রতিদিনই নিত্যনতুন করে কর্পোরেটীয় শিক্ষা গ্রহণ করছি সেটি আগের প্রতিষ্ঠানে পারতাম না। বলে রাখা ভালো ঐ প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতো এবং সেখানে সর্বদা চরম প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ব্যাপক অসহযোগিতাও ছিলো, যা কিনা এই প্রতিষ্ঠানে নেই। এই প্রতিষ্ঠানে উল্টো আছে সহযোগিতা, সহমর্মিতা সর্বোপরি এখানে কাজ শেখানোর মাধ্যমে দক্ষ একজন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। একটা উদাহারণ দেয়া যেতে পারে, প্রতিষ্ঠানে যিনি স্টাফ বয় হিসেবে আছেন, তিনি আগে এই ধরণের কাজ করেন নাই, তাকে এখানে সেসবও যতটুকু দরকার দেখিয়ে, শিখিয়ে দেয়া হয়, যে ক্ষেত্রে তিনি অপারগ হন। অথচ আমরা যদি অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনা করি তাহলে বলতে হবে, অদক্ষদের কোন স্থানই নেই কর্পোরেট হাউসগুলোতে। এছাড়াও কম্পিউটার বা ইন্টারনেট নিয়ে যাদের নূন্যতম জ্ঞান নেই, তাদেরকেও মাঝে মধ্যে এইসব নিয়ে জানানো হয়। মাঝে মধ্যে খুব ভালো লাগে যখন দেখি প্রতিটি কর্মচারীই ব্যবহার করছেন ইন্টারনেট। যে কখনো ফেসবুকে আসবে কিনা সেই ব্যাপারে সন্দিহান ছিলো, সেও এখন তুখোড় ফেসবুক ব্যবহারকারী। শুধু কি তাই? প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি তাদের ফেসবুকের অবস্থা দেখা এবং তাকে সঠিকভাবে ফেসবুক ব্যবহারের দিক-নির্দেশনাও দেয়া হয়। এমনকি ঠিক করে, সুন্দরভাবে যে ব্যক্তি নিজের নাম লিখতে পারে না, সেই লোক অনায়াসে একটি অনলাইন পোর্টালে কাজ করার যোগ্যতা রাখেন। একটা ঘটনার উল্লেখ করাটা কিছুটা দরকারী মনে করছি, একবার প্রতিষ্ঠানের কিছু নতুন কর্মী ফ্রী অনলাইন সুবিধা পেয়ে কাজের ফাঁকে ফাঁকে ব্যাপকহারে পর্ণ দেখতো, এই অভিযোগ জানার পরে বন্ধ করে দিয়েছিলাম তাদের এক্সেস, কিন্তু প্রধান নির্বাহী জানা মাত্রই উল্টো আমাকেই ডেকে নিয়ে দিলেন এই বলে যে, এইভাবে শাসন করা যায় না, তোমার উচিত ছিলো তাদের বোঝানো। এরপর তিনি নিজেই কর্মচারীদের কাতারে এসে সরাসরিই এই বিষয়ে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এবং এরপর থেকে তাদের পর্ণো-আসক্তি কমেই গেছে। সেদিন এই শিক্ষা পেয়েছিলাম জোর করে কাউকে কোনকিছু থেকে সরিয়ে আনা যায় না অথবা বন্ধ করে দেয়া যায় না, বরঞ্চ স্বাধীনতা দেয়ার মাধ্যমে উক্ত বিষয়ের অতিরিক্ত হলে কি ক্ষতি হতে পারে সেই জিনিস বুঝিয়ে বললে সেটাই অনেকবেশীই কার্যকরী হয়। অন্যদিকে যদি প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয় দিক থেকে দেখি তাহলে বলতে হবে এখানে ধর্মের কোন বাড়াবাড়িই নেই, বরঞ্চ বাঙালিয়ানাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। এমনও ব্যক্তি আছেন যিনি একসময়ে চরম ধর্মান্ধ ছিলেন, যার মতাদর্শ ছিলো কট্টর ধরণের, সেই লোক এখন হয়ে গেছেন সহনশীল, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে সেই লোক নিজেই কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর একটা বিশাল অংশ সেই মাপের শিক্ষিত না হলেও, হলফ করেই বলতে পারি আমরা যারা কাজ করি তারা গ্রাহকদের সাথে যেভাবে ব্যবহার করি তা বাংলাদেশের অনেক বৃহৎ সুনামধারী প্রতিষ্ঠানের অতি-উচ্চ শিক্ষিত, অধিক বেতনধারীরা করেন। অথবা এভাবেও বলা যায় বৃহৎ প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবহারের সাথে আমাদের ব্যবহার সমকক্ষ হবার যোগ্যতা রাখে।

এইসবগুলোই হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের সকলের সদিচ্ছার জন্যে। প্রতিষ্ঠানে যে মাঝে মধ্যে বিরোধ হয় না সেটা কিন্তু একদমই বলব না। সেসবও অবশ্য মিটিয়ে ফেলা হয় দ্রুততার সাথে। খুব গর্ববোধ করি যখন এই জাতীয় সমস্যাগুলোতে এই অধমরে মান্য করে বসার একটা স্থান দেয়া হয়। এছাড়াও আরেকটা ব্যাপার খুবই গর্বের সাথে বলতে পারি সেটি হলো প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯০ ভাগ কর্মীর মনের খবর, অভাব, আবদার, অভিযোগ, আনন্দ ইত্যাদি অন্য যে কারো চাইতেই বেশ ভালো করেই জানি। অনেক বেশি ভালো লাগে যখন দেখি তারা নিজ থেকেই এসে আমাকে জানায়, ভাইয়া এইটা এমন হইছে, আমার এইটা লাগবে কিনবা এইটা কিভাবে করবো। মজার ব্যাপার হলো, সকলে নাস্তায় কি খাবে সেটিও তারা জানতে চায়। রোজ সকালে অফিস থেকে একটা কল আসবেই এবং জানিয়ে দেবে কিছু অভিযোগ। অফিসে এসে যতই কড়া ভাষায় আমি শাসিয়ে যাই না কেনো, ঠিক তার পরমুহুর্তেই যাকে শাসিয়েছি তাকে যদি চা বানিয়ে দিতে বললে তিনি হাসিমুখেই বানিয়ে দেয়। অফিসে যদিও নিয়ম আছে সেলফ সার্ভিস এরপরেও অনুজরা আমাকে চা বানিয়ে খাওয়াতে কোন দ্বিমত করে না, যদিও এই অবস্থায় আসতে একসময়ে নিজেই সকলকেই চা বানিয়ে খাওয়াতাম। এমনকি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মহোদয়ও মাঝে মাঝে চা বানিয়ে খাওয়ান সকলকেই, এক বাক্যে বললে সকলেই সকলকে চা বানিয়ে খাওয়াতে আনন্দ বোধ করে, কখনো দেখি নাই চা বানিয়ে অন্যদের খাওয়ানোর জন্য কেউ মনখারাপ করেছেন। এখানে বলে রাখা ভালো সাধারণ সময়ের চাইতে শীতকালে একটু বেশীই চা পান করি, সেই জন্যেই এই প্রতিষ্ঠানে কর্ম শুরু সময়টা শীতকাল হওয়াতে নিজের জন্য চা বানানোর পাশাপাশি সকলকেই বানিয়ে খাওয়াতাম। উল্লেখ্য যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী খানিক বাদে বাদেই চা পান করেন, সেই সুবাদে অফিসে চা খাওয়াতে কোনই ধরা বাঁধা নেই।

প্রতিষ্ঠানের আরো উল্লেখ্যযোগ্য এবং আমার জন্য সম্মানজনক বিষয় হলো, প্রতি মাসেই নিয়মানুযায়ী সকল কর্মচারী এবং অধিকর্তাকে সাথে নিয়ে একটি সভা হয়। যেখানে সারা মাসের কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা, সেই সাথে সমস্যা, অভাব, অভিযোগ আলোচিত হয়। এই সভাগুলোতেও এই অধমের একটা সম্মানজনক অবস্থান থাকে, সত্যি বলতে কি এই ব্যাপারটা নিয়েও ভাবি- সত্যিই কি এর যোগ্য হয়ে উঠতে পেরেছি। এই প্রতিষ্ঠানে একক সিদ্ধান্তে কোন কাজ করা হয় না, অধিকর্তা যথেষ্ঠ পরিমাণে অভিজ্ঞ (অধিকর্তার বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করার যথেষ্ঠ বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং নিঃসন্দেহে তার চিন্তা-ভাবনাগুলো সফলকামী এবং সুদূরপ্রসারী) হওয়া স্বত্ত্বেও আমাদের সকলকে কিনবা ক্ষেত্র বিশেষে এডমিন প্যানেলকে সাথে নিয়ে কর্মপন্থা আলোচনা করেন। বলতে দ্বিধা নেই অধিকর্তা আমাদের গড়ে তুলতেই এসব করেন, এমনকি মাস খানেক আগেও প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এই অধম সমেত আরো দু’জনকে সঁপে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা এবং ব্যবস্থাপক বিশেষ কাজে বাইরে অবস্থান করেছিলেন। সেই সময়ে প্রতি মুহুর্তেই ভাবতাম আচ্ছা কি এমন বিশ্বাসের ভরে প্রতিষ্ঠানের সমস্ত কিছুই এভাবে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন তারা? একবারও কি তারা ভেবে দেখেন নাই আমি সমস্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে টানা বিশ দিনে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারতাম!!! তখন কেবল নিজের সৌভাগ্যের কথা ভাবতাম আর প্রতিষ্ঠানে এই বিশ্বাস আরো বৃদ্ধির চেষ্টায় রত থাকতাম। যার ফলে বিশদিন পরে যখন সমস্ত অর্পিত দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম সেখানে কোন ত্রুটি পাওয়া যায়নি। অবশ্য এটা একক কৃতিত্ব নয়, কৃতিত্ব সেই দুইজনের বেশি যাদের পরামর্শ, সহযোগিতা, দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে ছিলাম তাদের সাথে, সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের সকল সহ-কর্মীর নিরলস পরিশ্রমও এতে যুক্ত। কেননা এমনও অনেক হিসাব-কিতাব আছে যা এখনো জানিই না, কিভাবে করতে হয় তাও জানিনা, এরপরেও সহ-কর্মীদের সহযোগিতায় সেইসকল কাজগুলোও যথার্থভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। অবশ্য এটা আমার অযোগ্যতা, কেননা প্রতিষ্ঠানের যেই পদে আসীন হয়ে আছি, সেই পদে থাকার যোগ্যতা তারই, যে প্রতিষ্ঠানের সকল কাজ করতে পারদর্শী। কিন্তু এটি নিয়ে অধিকর্তা কিনবা অন্যকারো কোনই অভিযোগ নেই। কেননা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যই তো অদক্ষকে দক্ষ করে তোলা।

চট্টগ্রামের মতো শহরে খন্ডকালীন চাকুরির সুবিধা শুধুমাত্র বিক্রয় এবং বিপনণ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলেও আমাদের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে বিক্রয় ও বিপননে তারাই কাজ করে যারা পূর্ণদিবস কাজ করতে পারবেন আর যারা খন্ডকালীন চাকরি করে তারা শুধুমাত্র অফিস অভ্যন্তরেই কাজ করেন এবং এর বিশাল অংশই হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানের আরেকটি দিক হলো, এখানে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েই কর্মচারীদের কাজের একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার কারণে কেউ যদি কোন প্রকার ছুটির আবেদন করেন, তাহলে প্রতিষ্ঠান বিনা বাক্যে ছুটি মঞ্জুর করেন এবং ঐ কর্মীর স্থান পূরণের জন্য বাড়তি পারিশ্রমিক দিয়ে প্রতিষ্ঠান অন্য একজনকে ঐ ছুটিকালীন সময়ের জন্য কাজ করান। এই ব্যাপারগুলো কখনোই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়নি, তারপরেও এই অধমের মনে এইসব ভীষণভাবে নাড়া দেয়। সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য যেই ব্যাপারটি তা হলো, কর্মচারীদের যা কাজ করানো হয় তার থেকে লব্ধ অর্থ দিয়ে সকলের বেতন পরিপূর্ণভাবে উঠে আসে না। এরপরেও প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি দিয়ে হলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে কিছু বেকারের জীবনে আলো ফুটিয়ে তোলার ব্যবস্থা করেছেন। মাঝে মধ্যে একটা ব্যাপার প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করি, তাদের বলি ধরুন আপনি যদি অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তাহলে কি এই সুবিধা পেতেন? কিনবা আপনি যদি বেকার থাকতেন তাহলে আপনার অবস্থা কি হতো? এসব প্রশ্নের জবাবে যা পাই তা মিলে নিজের জীবনের সাথে। কেননা এই প্রতিষ্ঠানে যখন যোগদান করি, সেইসময়ে সবে মাত্র হতাশাপূর্ণ, উদ্দেশ্যহীন, পরিকল্পনাহীন সর্বোপরি এক অন্ধকারময় জীবন থেকে উঠে এসেছিলাম। প্রচুর কষ্ট হতো সেসময়ে, এজন্য মাঝে মধ্যে অঘোষিত ছুটি নামক ফাঁকি দিতে হতো। কিন্তু এটা নিয়ে সেরকম কোন অভিযোগ ছিলো না। বরঞ্চ সহযোগিতা পেয়েছিলাম বর্তমান জীবন যাপন করার। সম্পূর্ণ হতাশাগ্রস্থ জীবন থেকে আনন্দপূর্ণ জীবনে এসেছি, উদ্দেশ্যহীন জীবন থেকে এখন পরিকল্পনাময় জীবনে এসেছি, অন্ধকার জীবন থেকে আলোর জীবনে এসেছি এবং এর সবকিছুই হয়েছে প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা এবং অন্য সকল সহ-কর্মীদের কারণে। এখানে এও বলে রাখি শুধু আমি না প্রায় সকলেই বেতন হিসেবে যা পায় তা যদিও একজন চাকুরীজীবির জন্য অপ্রতুল, তবে যেহেতু যোগ্যতাকে প্রাধান্য না দিয়ে একটা ভালো পদ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাকরি করার সুযোগ পেয়েছি তাই এই নিয়ে আমাদের অসন্তোষ নেই। একদম ছিলো না, তা নয়, তবে যারা প্রতিষ্ঠানের সরলতাকে দূর্বলতা ভেবেছিল তাদের এই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেয়া ছাড়া আর কোনই পথ ছিলো না। কেননা প্রতিষ্ঠান অধিকর্তা সকলের সমান অধিকারে বিশ্বাসী।

এই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে অঘোষিত/ঘোষিতভাবে কর্মরত আছি প্রায় অর্ধবছরের বেশি হবে। প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন কাজের সাথে পরিচয়, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এবং প্রশিক্ষণ বাধ্য করেছে সর্বক্ষণ ব্যস্ত হয়ে থাকতে। এই সময়গুলোতে কখনো ক্লান্তি এসে ভর করতে পারে নাই, এমনও দু’একদিন গিয়েছে যে দিনরাত একসাথে কাজ করেছি, আবার ভোর বেলাতে অফিসে এসে কাজে বসেছিলাম, কিন্তু কখনোই ক্লান্তি আসে নাই। সেই সকাল সাড়ে নয়টা থেকে রাত পর্যন্ত নিজের ইচ্ছানুযায়ী সময় পর্যন্ত থাকি, এ নিয়েও কারো কোন কিছু বলার নেই, কোন অভিযোগ নেই আর নেই আমার ক্লান্তি। দুপুরে কিছুটা ঝিমুনি আসলেও লাউড স্পীকারে গান শুনি, এ নিয়েও কারো কোন বিন্দুমাত্র অভিযোগও নেই। এমনকি মাঝে মধ্যে অধিকর্তাও দেখলে, তিনি এ নিয়ে কোন অভিযোগ বা অনুযোগ করেন না। এর ফলে গিয়ে আগে যেভাবে অনলাইন জগতে ‘একটিভ’ ছিলাম, তেমনটা এখন নেই। বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্য করেছে অলাভজনক এই অনলাইনকে নিয়ে মত্ত না থাকতে। কেননা খুব বেশি সময় ধরেই তিলে তিলে অনুভব করেছিলাম অনলাইনের এতো ভক্ত-অনুরাগী, ভাই-বেরাদর এর অধিকাংশই ক্ষণিক। যতক্ষণ আমি অনলাইনে থাকি এরা সকলেই আমার খুব আপন আর যেই অনলাইন ছাড়লাম সেই মুহুর্তেই আমি মৃত। বাস্তব অভিজ্ঞতা এই শিক্ষা দিয়েছে, যারা আমার সাথে সেই সময়ে অতি দহরম মহরম সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলো তারা আসলে অনলাইনকে পুঁজি করেছিলো। এক্ষেত্রেও বিস্মিত হই কেননা কখনোই আমি নিজেকে অনলাইনের দিকপাল বা হনু ভাবি নাই। এমনকি সেইরকম একটা অবস্থা ছিলো না যে অনলাইনের বোদ্ধা হবো, যতটুকু সম্বল ছিলো তা হচ্ছে বাস্তব জীবনের কিছুটা রাজনৈতিক প্রভাব আর বিশাল একটা বন্ধুমহল। কিন্তু এসবের কি প্রয়োজনীয়তা ছিলো অনলাইনে তাও আমার কাছে এখনো একটা বিস্ময় ছাড়া আর কিছুই নয়। একটা সময়ে যখন দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসেছিলাম অনলাইনে তখন বাস্তব জীবনের প্রতিমুহুর্তের অভিজ্ঞতাগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার পথেই চলেছি, যারা পাশে ছিলো তাদের সাথেই থাকার চেষ্টা করেছি। মতের অমিল হলে আগের ন্যায় ঝাপটে ধরিনি যার ফলে পেয়েছি পুরোনো বন্ধুদের চমৎকার সকল ব্যবহার। সেইসব ভুলতেই নিজেকে পূর্ণরূপে ব্যস্ত রেখেছিলাম শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের কাজে। সপ্তাহও কাটিয়ে দিয়েছি একটাও স্ট্যাটাস না দিয়ে, শুধু ফেলে রাখতাম অনলাইনে, অথচ এই আমিই কিনা এক সময়ে প্রতি ঘন্টায় কয়েকটা স্ট্যাটাস দিতাম। শুধু ফাঁকে ফাঁকে দেখতাম বন্ধুরা কে কি করছে। এভাবে করতে করতে একটা সময়ে ছাইপাশ যাই লিখতাম সেসবও থামিয়ে দিয়েছিলাম। প্রতি রাতে একটু অবসর সময়ে বই পড়ি আর সেই সময়ে বইয়ের লেখা পড়ে পড়ে প্রায়ই ভাবি লেখাগুলো শেয়ার করা দরকার। কিন্তু কি করবো বলুন যেহেতু ব্যক্তিগত কম্পিউটার নেই বাসায় তাই লিখতে পারি না। আবার অফিসে এসেও যে লিখবো সেটাও পারি না, কেননা প্রতিমুহুর্তই আমার জন্য প্রশিক্ষণ মুহুর্ত তাই লেখালেখি করে সময় নষ্ট করতে চাইনি। এখন অবশ্য ভাবছি আস্তে আস্তে লেখার অভ্যাসটা চালু করব। একদম সেই প্রথম সময়কার মতো, এরপর আস্তে আস্তে জমে থাকা লেখাগুলো লিখবো।

অনলাইন হচ্ছে আমার জন্য সেই স্থান যেখানে আমি প্রকাশ্যে বলতে না পারা কথাগুলো লিখি। যা প্রকাশ্যে বলে ফেলি তা নিয়ে লিখি না, উপরের লেখাগুলো কখনোই কাউকে বলিনি। শুধু নিজে নিজে ভাবতাম, আর উত্তর খুঁজতাম। ইচ্ছে হতো লিখে ফেলি, কিন্তু ভয় হতো এই ভেবে যে এইসব লেখার ফলে যদি প্রতিষ্ঠান থেকে কোন প্রকার কটুদৃষ্টির সম্মুখীন হই কিনবা প্রতিষ্ঠান যেইসকল সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে তা যদি এই লেখাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে রহিত করে দেয়, সেইসব ভয়েই লিখতাম না। তবে আজ বেশ অকামেই সময় ব্যয় করেছি বলেই সাহস করে লিখতে বসে গেলাম। জানিনা কি লিখতে গিয়ে কি লিখেছি, যা লিখেছি তা চেক করেও দেখছি না, কেননা এই অভ্যাসটা নেই। যা লিখেছি তাই, ভুল হলেও ভুল, পুনরায় চেক করা একটা বিরক্তিকর কাজ, তাই চেক না করেই প্রকাশ করে দিলাম। বাকীটা তাদের হাতেই যারা মূল্যবান সময় ব্যয় করে পড়বেন, না পড়লেও সমস্যা নেই। ভবিষ্যতে হয়তো এই লেখা পড়ে কিছুটা নস্টালজিক হতে পারবো, যেমনটা এখনো হই।

৫ thoughts on “আমার কর্পোরেট জীবন

    1. হৃদয়ে ছুঁয়ে গেলেই হলো, অন্য
      হৃদয়ে ছুঁয়ে গেলেই হলো, অন্য কোথাও যেন ছোঁয়া না লাগে। :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে:

Leave a Reply to শওকত খান Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *