ছাগু তোরা মানুষ হও

সে বলল, ওখানে যায় ডলাডলি করতে।
সে বলে, ওখানে সবাই যুদ্ধাপরাধীদের ফাসির দাবিতে যায় নি। ১% মাত্র গেছে ওই চেতনা নিয়ে। বাকিরা লাইন মারতে গেছে।
সে বলে, শাহবাগে লাখ মানুষ হয় নি।
সে বলে, গাঞ্জা চলে, ডেটিং চলে।
সে আরো বলে, এই ডলাডলি ক্যামেরাই আসছে না, কারণ লাখ মানুষের ভীড়ে ক্যামেরা এসব ধরতে পারছে না।



সে বলল, ওখানে যায় ডলাডলি করতে।
সে বলে, ওখানে সবাই যুদ্ধাপরাধীদের ফাসির দাবিতে যায় নি। ১% মাত্র গেছে ওই চেতনা নিয়ে। বাকিরা লাইন মারতে গেছে।
সে বলে, শাহবাগে লাখ মানুষ হয় নি।
সে বলে, গাঞ্জা চলে, ডেটিং চলে।
সে আরো বলে, এই ডলাডলি ক্যামেরাই আসছে না, কারণ লাখ মানুষের ভীড়ে ক্যামেরা এসব ধরতে পারছে না।

ছাগু থাম!
আগে ঠিক কর লাখ মানুষ গেছে না তিন হাজার গেছে।
আগে বল, ডেটিং হাজার মানুষের সামনে করা হয় কিনা।
আগে চিন্তা কর, ডলাডলি মাইকের আওয়াজে হয় কিনা।
আগে বল, তুই সেখানে গেছিস কিনা?
আগে বল ১% মানুষের গর্জন এত বড় কেন।

ছাগুর কথাগুলো আজ কলেজে শুনেছি। ভাবলাম স্লোগান দেওয়ার তালে হয়তো আমি ডলাডলি খেয়াল করি নি। আজ তাই পরীক্ষা দিয়ে তাড়াতাড়ি প্রেস ক্লাবের সামনে গেলাম। প্রথমেই সেই অসাধারণ ‘হাগুঘর ‘ দেখলাম 🙂
ঠিক করলাম আজ ছাগু নয়নে সব দেখব।
মূল মঞ্চ খুব জমজমাট। মেতে আছে! আমিও স্লোগানদিতে গেলাম তাদের সাথে, কিন্তু মনে পড়ে গেল আজ ছাগু হতে হবে।
মূল আয়োজনের আশেপাশে অনেক আপুরা বসেছে। হুঁ! পেয়েছি! ডলাডলি দেখা যাক।
নাহ! হতাশ হলাম। আপুরা খালি চিল্লাচ্ছেন। আমার ভায়ারাও দেখি খালিই চিল্লানি দিচ্ছে।
তাদের উন্মত্ত চিৎকারে আমার মুখ থেকেও বেরিয়ে গেল স্লোগান!
না! এখানে থাকলে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে যাব। তাই একটু পিছিয়ে আসলাম। আরিব্বাস!
একটা আপুর হাত ধরে কে যেন বসে আছে!
পিরিতি পিরিতি পিরিতি! ইয়াহু।
কিন্তু কাছাকাছি যাওয়ার প্রায় সাথে সাথে আপাবললেন, আব্বু আরেকটু থাকিইইইই।
ধুর্বাল!
প্রায় সবাই দেখি হাত তুলে জোরে, আরো জোরে স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে। ঠিক বুঝতে পারলাম না,
১% =সবাই?
ভাবলাম বেগানা, বেলাল্লাপনা সন্ধ্যার পর শুরু হবে। তাই একটু সময় কাটাতে ‘হাগুঘরে ‘ গেলাম। ওইখানেও দেখি বেয়াদব ইভ টিজার ছেলের ভীড়। ওইদিকে এত মেয়ে থাকতে তারা হাগুঘরের ছবি কেন তুলছে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু মুহুর্তেই আমার ছাগানুভুতি জানালো, ইহা আওয়ামীলীগ ষড়যন্ত্র। তাছাড়া হাগুঘর আন্তর্জাতিক মানের হয় নি। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ।

সন্ধ্যা নামল। পাইপাই করে বেগানা নারী খুজলাম, বেলাল্লাপনা পেলাম না। বরং আমার অনেক আন্টিদের দেখলাম বোরখা পড়ে এসছেন। হাত উপর করে উনারাও স্লোগান দিচ্ছেন। মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, লাগলে দেব, আরেক সাগর রক্ত!
নিজেকে থাপ্পড় মারলাম। কেন ভুলেছি আজ আমি ছাগু। কই স্লোগান নেহি হুঙ্গে।
আর তাছাড়া নাস্তিকদের এই আয়োজনে বোরকা আন্টিদের উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল সব ভারতীয়ষড়যন্ত্র। কেমনে কি প্রমাণ প্রমাণ করল জানারদরকার নেই।
সন্ধ্যার আধাঁর নেমে আসছে। বিপ্লবী বাড়ছে। নিজের নিজের গ্রুপ নিয়ে গোল হয়ে অন্ধকার দূর করার জন্য মোম জ্বালানো হচ্ছে। অন্ধকার দেখতে ভালো লাগছিল। কিন্তু মোমের অস্বচ্ছ আলোয় দেখলাম সবার কাছে বিভিন্ন আক্রমণাত্মক স্লোগানের বাহারি সব পোষ্টার।

আমার ছাগলটা মারা যাচ্ছে। ধীরে ধীরে। আওয়াজবাড়ছে। স্লোগান বাড়ছে। ঘৃণা বাড়ছে। শুধু ঘাতকদের জন্য নয়। ঘাতকদের বাচাতে আন্দোলনকে মিথ্যা অপবাদ দেয়া ছাগলদের জন্যও। নাহ! করুণা হচ্ছে আসলে।

যে মেয়েরা সেখানে গেছো, তোমাদের ওরা বেশ্যা বলছে। এরপরও তাদের সাথে সম্পর্ক রাখবা?
যেই ছেলেরা সেখানে গেছ, তোমাদের ওরা লম্পট বলছে। তোমরা নাকি মেয়ে দেখার জন্য গেছ। এই অপবাদের পরও বন্ধুত্ব রাখবা?

আমি এখন প্রস্তুত ছাগু ভায়েরা। আসো, খুত বের কর। মুক্তিযুদ্ধ দেখ নাই, ওটা নিয়ে মিথ্যাচার কর। কিন্তু এটা একেবারেই চোখের সামনের বাস্তবতা। একবার দেখে যাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *