অতুলের গল্প

ইস্টিশনের সকল যাত্রীকে সহযাত্রীর পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে যাত্রা শুরু করলাম।

দিনটা শুরু হয়েছিলো অন্য আর দিন গুলোর মতই। তবে কেন জানি আজ বাতাসে একটু গুমোট ভাব। ভেজা ভেজা, আদ্রতায় ভর্তি। শ্বাস নিতে একটু কষ্ট হয়। আকাশটা মেঘ পূর্ণ, চার দিকে বৃষ্টির আভাস। যে কোন সময় মুষল ধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে। তবে তা অবশ্য মানুষের দৈনন্দিন কাজের কোন ব্যাঘাত তৈরী করতে পারলো না। ব্যস্ত রাস্তা, সার-সার গাড়ী ছুটে চলেছে, ফুটপাত গুলোও ব্যস্ত মানুষের পায়ের চাপে আরেকটু যেন মাটির ভেতরে সেধিঁয়ে গিয়েছে।সবাই খুব ব্যস্ত।হকারগুলোও আজ কাষ্টমার ধরার প্রতিযোগিতায় একটু বেশি তৎপর।



ইস্টিশনের সকল যাত্রীকে সহযাত্রীর পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে যাত্রা শুরু করলাম।

দিনটা শুরু হয়েছিলো অন্য আর দিন গুলোর মতই। তবে কেন জানি আজ বাতাসে একটু গুমোট ভাব। ভেজা ভেজা, আদ্রতায় ভর্তি। শ্বাস নিতে একটু কষ্ট হয়। আকাশটা মেঘ পূর্ণ, চার দিকে বৃষ্টির আভাস। যে কোন সময় মুষল ধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে। তবে তা অবশ্য মানুষের দৈনন্দিন কাজের কোন ব্যাঘাত তৈরী করতে পারলো না। ব্যস্ত রাস্তা, সার-সার গাড়ী ছুটে চলেছে, ফুটপাত গুলোও ব্যস্ত মানুষের পায়ের চাপে আরেকটু যেন মাটির ভেতরে সেধিঁয়ে গিয়েছে।সবাই খুব ব্যস্ত।হকারগুলোও আজ কাষ্টমার ধরার প্রতিযোগিতায় একটু বেশি তৎপর। তার জন্য নিজেদের মধ্যে গালা-গালী থেকে শুরু করে হাতা-হাতি পর্যন্ত যেতে পিছপা হচ্ছে না, আবার মিল হতেও সময়ের ব্যপার মাত্র। কারণ আর যাই হোক তারাতো সবাই একই পেশায়, তারা সবাই হকার। বোকা কাষ্টমার গুলোকে আরো বেশি করে বোকা বানানোর জন্য তাদের এক জনের অপর জনের সাহায্য লাগবেই। এইতো তাদেরই একজন তার সাগরেদকে নিয়ে দেখানো মারপিটের অভিনয় করে একজন কাষ্টমারের কাছে দুনম্বর জিনিষ একনম্বর বলে বেশি দামে বেচে দিয়ে অপেক্ষা করছে কাষ্টমারের চলে যাওয়ার। তারপর তারা একসাথে আয়েশ করে চা আর সিগারেট খাবে। অন্য দিনের চেয়ে আজ সকাল সকালই বেশ বড় একটা দাও মারা হয়ে গিয়েছে তার। রাস্তার অন্য পাশে একটি ছেলে প্রতিদিনকার মত আজও একটি গোলাপ হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছে একটি মেয়ের জন্য। যদিও মেয়েটি আজ পর্যন্ত এক দিনের জন্যও তাকে পাত্তা দেয়নি। প্রতিদিনই গোলাপটি হাতে নিয়ে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে নিজের রাস্তা মেপেছে। তবুও ছেলেটি তার আসা ছারতে পারেনা মেয়েটিকে খুব ভালো লাগে বলে। তার দৃড় বিশ্বাস একদিন অবশ্যই মেয়েটির মন নরম হবে আর হয়তো তাকে এড়িয়ে যাবে না। তাইতো আজও একতোড়া গোলাপ হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছে কখন মেয়েটি এ পথ ধরে আসবে আর বরাবরের মত আজকেও নিজের একতরফা প্রেম নিবেদন করবে । রাস্তায় হঠাৎ শোনাগেলো সেই অন্ধ ভিকারিটির ব্যাথা মিশ্রীত আহব্বান “ অন্ধের দিনের বাবারা, একটা দশপাই দিবাইন?! অন্ধটার খাইবার লাইগ্যা?!”। তবে দশপাইয়ের দিন যে আর নেই তা যেমন ভিকারিটি জানে তেমনি জনসাধারনও জানে। দশপাইতো দুরের কথা একশো পয়শাতেও আজকাল কোন খাবার পাওয়া যায়না। দশপাইয়ের কথাটা বলা হয় আসলে মানুষের সিমপ্যাতী আদায়ের জন্য আর তাতে সে সফলও হয় মাঝে মাঝেই মানুষ একটাকা দুইটাকা থেকে শুরু করে দশটাকা এমনকি ভাগ্য সহায় থাকলে বিশ টাকাও দান করে আর এতে তার দৈনিক ইনকাম গিয়ে হাজার টাকার উপরে গিয়ে দাড়ায়। বরাবরের মত আজকেও রাস্তার এক পাশে রিক্সা ভির করে আছে বটে তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকের এই বৃষ্টি ভেজা সকালে যাত্রী পাওয়া টা কষ্টকর। অটোরিক্সা আর সিএনজির জন্য এমনিতেই মানুষ আর আগের মত রিক্সায় উঠতে চায়না। তার উপর আবার বৃষ্টি। তারপরও তাদের ক্লান্ত চোখ বারবার যাত্রী খোঁজায় ব্যস্ত থাকে। পাশের একটা গলি দিয়ে “নিনু ম্যাডাম”কে সাজগোজ করে বেড়িয়ে আসতে দেখা গেলো। সবসময় সাজগোজ করে থাকেন বলেই মহিলাকে তার আসল বয়সের চেয়ে অনেক কম মনে হয়। দুই বাচ্চার মা তিনি, বাচ্চারা স্কুলে পড়ে। হাসব্যান্ড বড় চাকুরি করেন। তবে কোন কারনে মহিলার সাথে তার হাসব্যান্ডের বনিবনা হত না। তাই এক পর্যায়ে ডিভোর্স হয় ওনাদের। নিনু ম্যাডাম এখন তার বাচ্চাদের নিয়ে একাই থাকেন। এলাকার লোকজনের ধারনা মহিলার অন্য কারও সাথে সম্পর্ক আছে। তাই স্বামীর সাথে ছাড়া-ছাড়ী। আজও সাজগোজ করে কোথায় যাচ্ছেন কে জানে!
ছোট একটা দির্ঘ্য শ্বাস বেরিয়ে এল অতুলের গলা দিয়ে। এগুলো তার নিত্তি দিনের দেখা একই ঘটনা যার বলতে গেলে কোন রকম পরিবর্তনই হয়না। অতুলের বয়েস এখন আঠারো। এ সময়টা তার ওর সমবয়েসি অন্যান্যদের মত ব্যস্ততার মাঝে কাটানোর কথা, বন্ধুদের সাথে মন খুলে আড্ডাদেয়ার কথা। কিন্তু তার সাথে তা হয়ে উঠেনি। অল্পবয়েসেই পাড়ার এডিক্ট ছেলেদের সাথে মিশে সে নিজেও পরিনত হয়ে ছিলো এডিক্টএ।ওর বাবা মিঃ হাসেম শেষ চেষ্টা হিসাবে রিহ্যাবেও দিয়েছিলেন কিন্তু তাতে লাভ হয়নি কিছুই। রিহ্যাব থেকে বেড় হওয়ার অল্প কিছুদিন পর আবার সে নেশার জগতে নিজেকে হাড়িয়ে ফেলে।নেশার পরিমানও বেড়ে যায় আগের চেয়ে অনেক বেশি। তাই মিঃ হাসেম তাকে এখন ছাদের চিলে কোঠায় বন্দি করে রাখেন শুধু খাবার সময় হলে নিচে নামতে দেন। তাই অতুলের সমস্ত দুনিয়াটা এখন ছাদের মধ্যেই সীমা বদ্ধ।নেশার এই ভয়াল জগৎ থেকে অতুল নিজেও ফিরে আসতে চেয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারেনি। আর এখন তার এই বন্দি জীবনের এক মাত্র সঙ্গিই হচ্ছে নেশা। আবার একটা দির্ঘ শ্বাস ফেলল অতুল।


মিঃ হাসেম একটি প্রাইভেট কম্পাণীতে চাকুরি করেন। বড় পদ তাই সেলারীটাও পান বেশ মোটা অংকের। ছোটবেলায় তিনি দারিদ্রতার কড়াল রুপ দেখতে পেয়েছিলেন বেশ ভালোভাবেই, তাই সবসময়ই তিনি চাইতেন তাকে অনেক বড় হতে হবে, পৌঁছাতে হবে উচ্চ থেকে উচ্চতার শেখড়ে।এখনো তিনি দুঃস্বপ্নে দেখেন সেই অনাহারে কষ্টে জর্জরীত হওয়া দিন গুলিকে। না খেতে পেয়ে হাড় গুলো পর্যন্ত বের হয়ে এসেছিলো চামড়ার উপর। তাঁর বাবা ছিলেন একজন জুয়ারী আর পাঁড় মাতাল। ছোট্র মুদির দোকান থেকে যা আয় হতো তার বেশির ভাগটাই নষ্ট করতেন জুয়া আর মদের পেছনে, আর রাতে বাড়ী ফিরে এসে মার উপরে চালাতেন অকথ্য নির্যাতন। মিঃ হাসেম কখোনই এর জন্য তার বাবাকে অনুতাপ করতে দেখেননি বরং মা যখন মারখেয়ে ব্যাথায় চিৎকার করতেন তখন তার বাবা কি এক পৈশাচীক আনন্দে আরও বেশি করে তাঁর মাকে মেরে যেতেন যতক্ষননা তাঁর মা বেহুশ হয়ে যেতেন। তাঁর বাবার এরুপ ব্যবহারের কারণে পাড়ার প্রতিবেশিরা পর্যন্ত মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ছিলো তাদের উপর থেকে। একদিন সকালে মাতাল অবস্থায় রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ী চাপায় মারা পড়লেন বাবা তখন মিঃ হাসেমের বয়স মাত্র বার বছর। বাসায় খাবার নেই, এক মুঠো মুড়ী খাবার জন্যেও তাঁকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়।মা, যিনি ছিলেন মিঃ হাসেমের সর্বশেষ কাছের মানুষ তিনিও একদিন আর যাতনা সইতে না পেরে ফাঁস নিলেন সিলিংএর আড়কাঠ থেকে কাপড় ঝুলিয়ে। মিঃ হাসেম তখন বাইরে ছিলেন। যখন ঘরে ফিরলেন পেটে ক্ষুদা আর এক বুক অভিমান নিয়ে তাঁর ছোট দুটি হাত দিয়ে সিলিং থেকে ঝুলতে থাকা তাঁর মায়ের পা দুখানি নিজের ছোট্র বুকে চেপে ধরে কেঁদে ছিলেন অনেকক্ষন।অবশেষে তাঁর কাছের এক আত্বিয় দয়া করে তাঁর ভরন পোষনের ভার নেন।ফ্যামিলিটা ভালোছিলো, তারাই একমাত্র তাঁদের বিপদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন তাই এখানে মিঃ হাসেমের টিকে যেতে বিশেষ অসুবিধা হয়নি।স্কুল পারি দিয়ে একসময় কলেজ ও পরে বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি হোন। তিনি মেধবী ছিলেন তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকানোর পর ভালো একটা চাকুরী যোগাতে তাঁর বিশেষ বেগ পেতে হয়নি।ভালো বেতন তাই ভালো একটি বাসায় স্যাটল হয়ে বিয়ে করলেন তিনি।তাদের দুই জনের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হলো, ছেলের নাম রাখা হলো অতুল। এক ছেলের পর মিঃ হাসেম আর বাচ্চা নিতে চান নি ওনার স্ত্রিরও তাতে মত ছিলো।স্বামীর অতিত তিনি জানতেন তাই তিনি কখনই চাইতেন না স্বামী যেন কোন কারণে কোনরকম কষ্ট পান।দিন যেতে থাকলো তার স্বাভাবিক নিয়মে। অতুলও আস্তে আস্তে বেড়ে উঠছে। এদিকে মিঃ হাসেমও ভাল পজিসনে যাচ্ছেন। কম্পানীর সবাই তাঁকে খুব সম্মান করে।তাঁর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় কম্পানীর অনেক উন্নতি হয়ে ছিলো আর আজকে তিনি নিজেই কম্পানীর এম.ডি। দুঃসময় আবার আঘাত হানলো মিঃ হাসেমের নিরঝনঝাট জীবনে।তিনি তার স্ত্রিকে হারালেন।তখন অতুল সবে মাত্র তেরয় পা দিয়েছে। মিঃহাসেম বুঝলেন চাইলেও তিনি ব্যস্ততার কারনে অতুলকে সময় দিতে পারবেন না।তাছারা একজন বাবা কি করেই বা মায়ের জায়গা নিতে পারে। দিন যেতে থাকলো কিন্তু মায়ের জন্য অতুলের কান্না বন্ধ হলো না।তিনি নিজেও চেষ্টা করে হাপিয়ে উঠেছেন।কিন্তু কোন লাভ হলো না, অতুল তার মাকে চায়। সবশেষে আর উপায়ন্ত না দেখে আবার বিয়ে করলেন তিনি।যাকে বিয়ে করলেন তার নাম সেলিনা খাতুন। ইনি খুব ভালো ঘরের ভালো পড়াশুনা জানা মেয়ে ছিলেন। তিনি প্রথম দিন থেকেই অতুলকে নিজের ছেলের মতন করে গ্রহন করে ছিলেন এবং একটা সময় তিনি অতুলকে এতটাই ভালোবেসে ফেলেন যে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজে তিনি আর কোন বাচ্চা নেবেন না, অতুলই তার সব।এতে মিঃ হাসেম খুবই অভিবুত হয়ে ছিলেন এবং বুঝতে পেরে ছিলেন দ্বীতিয় বিয়ে করে তিনি কোন ভুল করেন নি।তিনি তার প্রথম স্ত্রিকে খুবই ভালো বাসতেন তাই দ্বীতিয় বিয়ে করতে হচ্ছে বলে তিনি অনুতপ্ত ছিলেন।এখন ভাবেন অতুলকে মানুষ করার জন্য এর কোন বিকল্প ছিলোনা। অতুল নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু মিঃ হাসেমের সমস্ত আশা ভড়সাকে নষ্ট করে দিয়ে হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু করলো অতুল। মিঃ হাসেম লক্ষ করলেন কেন যেন অতুল তার সৎমাকে আর সহ্য করতে পারছে না, কেন যেন সে আর তাঁর ছায়াটাও আর দেখতে পারেনা।কেন যেন ওনার সমস্ত আদর, ভালবাসা, স্নেহ, মমতাকে তার কাছে কাটার মত মনে হতে লাগলো। মিঃ হাসেম খুব চিন্তিত হয়ে পরলেন। অনেক ভেবেও এরকম অসংখ্য কেনর জবাব তিনি খুঁজে বেড় করতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত মিসেস সেলিনাও কেঁদে কেটে অতুলের কাছে জবাব চেয়ে ছিলেন, কিন্তু সবই পন্ডশ্রম। অতুল এখন মায়ের সাথে তার বাবাকেও বিষ দৃষ্টিতে দেখে। একদিন মিঃ হাসেম আবিষ্কার করলেন তার ছেলে নিয়মিত নেষা করে বাইরে থেকে ঘরে ফিরছে। ছেলের প্রতি তিনি শেষে কঠোর হলেন, হাত খরচা কমিয়ে দিলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলোনা। যখন অতুলের বয়স উনিশ তখন সে রিতিমত একজন এডিক্ট একদিন নেশা করতে না পারলে চেচিয়ে সারাবাড়ি মাথায় তোলে। মিসেস সেলিনাও তাকে একা সামলে রাখতে পারেন না তাই কাজের সময়ও যখন তখন তাঁর স্বামীকে বিরক্ত করতে হয়।মিঃ হাসেম আর সহ্য করতে না পেরে শেষে অতুলকে রিহ্যাব সেন্টারে দিলেন। আশা করলেন ছেলে তার ভালো হয়ে ঘরে ফিরবে, ছেলেকে তিনি আবার আগের মত করে ফিরে পেতে চান তিনি। শতহোক একটি মাত্র ছেলে, দিন রাত তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন ছেলে যেন ভালো হয়ে ঘরে ফিরে আসে। কিন্তু ছয়মাসও গেলোনা মিঃ হাসেমের সমস্ত আশা ভরসাকে চুলোয় ফেলে রিহ্যাব সেন্টার থেকে পালাল অতুল। তবে পালিয়ে ঘরেই ফিরে আসলো আবার। মিসেস সেলিনা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ছিলেন অনেক, বাবা মিঃ হাসেমও। কিন্তু অতুল একটাও শব্দ করেনি, একটা কথাও বলেনি কারো সাথে। আবার নেশার জগতে পা রাখলো। শেষে আর কোন উপায় না বেরকরতে পেরে ছেলেকে আটকে রাখলেন ছাদের চিলেকোঠায়। মনে মনে সহস্র শাপ শাপান্ত দিলেন তাঁর মৃত বাবাকে যেন তিনিই অশরীরি হয়ে প্রতিশোধ নিচ্ছেন তার উপর, অতুলের উপর।তার শুখ, তার ছেলের শুখ যেন তাঁর আর সহ্য হচ্ছিলোনা কিছুতেই। অতুল বিশে পা দিলো। মিঃ হাসেম আশা করলেন এভাবে বন্ধ থাকলে অতুলের নেশাটা আস্তে আস্তে হয়তো বন্ধ হয়ে যেতেও পারে। তিনি সামনে আর কিছুই চিন্তা করতে পারছিলেন না, সবসময় ভয়ে অস্থির হয়ে থাকছিলেন অতুলের ভবিস্যৎ দিন গুলোর কথা চিন্তা করে।


বছর তিনেক আগের কথা , অতুল সবে মাত্র এস.এস.সি. পরীক্ষা শেষ করেছে। ভালোই কাটছিলো দিন গুলি। তার বাবা আর তার সৎমা দুজনেই অধীর হয়ে অপেক্ষায় আছেন তার রেজাল্টের আশায়। মিঃ হাসেম জানতেন ছেলে তার খুবই ভালো রেজাল্ট করবে।সময়ে সময়ে তিনি উচ্চ গলায়ই বলতেন তাঁর ছেলে নাকি হুবহু তার মতই হয়েছে। মিসেস সেলিনা তার স্বামীর সাথে আলোচনা করতেন কোন কলেজে ছেলেকে ভর্তি করানো যায়। অবশেষে রেজাল্টের সময় উপস্থিত হলো।সবাই দেখলো সত্যি অতুল খুবই ভালো রেজাল্ট করেছে। এতে অতুলের প্রতি বাবা মায়ের ভালোবাসা আরো দ্বিগুণ হলো। তবে এত আদর আর ভালোবাসার মাঝে থেকেও অতুলের তার আসল মায়ের কথা মনে পরতো। তার মায়ের একটি ছবি তার কাছে ছিলো। মাঝে মাঝেই সে ছবিটি বের করে তার মাকে সে দুচোখ ভরে দেখতো আর নিরবে চোখের জল ফেলতো। ইস আবার মাকে ফিরে পেলে কি ভালোই না হোতো, বইয়ে পড়েছে মার কোলে মাথা রেখে চুপটি করে শুয়ে থাকার মজাই নাকি আলাদা। আচ্ছা সে কি কখোনো তার মায়ের কোলে এমনি করে মাথা রেখে শুয়ে থেকেছে? তখন কি তার মা স্নেহ ভরে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন? মনে করতে পারেনা অতুল। সে তখন খুব ছোট যখন তার মা মারা যায়। ঘরের বাইরে অতুলের বিশেষ বন্ধু বান্ধব নেই। কথা কম বলে তাই সমবয়েসি অনেকেই তাকে এড়িয়ে চলে।এতে অতুলের বরং ভালোই লাগে অযথা আড্ডা বাজির চেয়ে চুপচাপ বসে থেকে চিন্তার জগতে হাড়িয়ে যেতেই সে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই পরিচয় হলো একটি ছেলের সাথে। ছেলেটি তাদের এলাকাতেই থাকে আর অনেকটা তার মতই চুপচাপ।একটু অদ্ভুত দেখতে, এলোমেলো চুল আর চোখ দুটোতে কেমন যেন একটা ঘোরলাগা দৃষ্টি। তবে পোশাক আশাক দেখে মনে হয় ভালো ঘরের ই ছেলে। কৌতুহল নিয়ে ছেলেটির সাথে পরিচয় হতে গেলো অতুল। প্রথম প্রথম একটু অসস্তিতে ভুগলেও এক সময় ছেলেটি সহজ হয়ে গেলো অতুলের সাথে, বন্ধুত্বও গাড় হতে সময় লাগলো না। অতুল জানতে পারলো তার মতই ছেলেটির মা মারা গেছেন। পরে বাবা আরেকটা বিয়েও করেন। তার সৎমা প্রথম থেকেই তাকে দেখতে পারতেন না আর এখন দিন দিন আরো রুড় হয়ে যাচ্ছেন। তার বাবা এসব জেনেও বিশেষ কিছুই করতে পারছেন না তার জন্য কারন তিনি তার সৎমায়ের রুপের সামনে অসহায়। এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সে একদিন ড্রগে আসক্ত হলো কারন এটিই একমাত্র জিনিস যা তাকে এসব অত্যাচার থেকে দূরে সরিয়ে রাখে, তবে তা অবশ্য অতুলের জানা ছিলো না। একদিনের কথা অতুল ছেলেটির সাথে গল্প করছে। ছেলেটি একটু উত্তেজিত হয়ে আছে কোন কারনে, চোখে মুখে আনন্দের ছাপ স্পষ্ট। অতুল লক্ষ করেছে ইদানিং মাঝে মাঝেই ছেলেটি এরকম ভাবে বদলে যায় যা তার নিয়ম বিরুদ্ধ। তাই আজ অতুল তাকে চেপে ধরলো, এ অদ্ভূত কারনের মানে কি তা তাকে জানতেই হবে। নিরুপায় হয়ে এক সময় সে অতুলকে বলতে রাজি হলো তবে অতুলকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে এ বিষয়ে সে অন্য কারোর কাছে মুখ খুলবে না।সে নাকি তার মৃত মাকে দেখতে পায়।অবিশ্বাষ্য ব্যপার, মৃত মানুষ কখোনই কারো সাথে দেখা করতে পারে না অতুল তা ভালো করেই জানে।অতুল ভাবলো ছেলেটি হয়তো কল্পনা করে নেয় তার মাকে। কিন্তু একথা সে তাকে বলেনা এতে সে কষ্ট পেতে পারে। তার নিজেরওতো মা নেই তাই মা নাথাকার কষ্ট কি তাসে ভালোই জানে।কয়েকদিন গেলো এভাবে। অতুল দেখলো বেশ ঘন ঘনই ছেলেটি তাকে তার মায়ের কথা বলছে। একটি বিশেষ সময়ে তার মা নাকি তার কাছে আসে তখন সে ঘোরে থাকে। তখন তার মা নাকি তার সাথে কথা বলেন তাকে আদরও করেন। ছেলেটি তাকে বললো একটি বিশেষ ধরনের মাদক সে গ্রহন করে যার কারনে সে তার মাকে দেখতে পায়। অতুল ছেলেটিকে যতটুকু চিনিছে তার মনে হচ্ছে সে মিথ্যা বলছেনা। সে এবার বেশ আগ্রহী হয়ে উঠলো।এটাইতো সে চাইতো সবসময়, এমন একটা কিছু যার মাধ্যমে সে আবার তার মায়ের সাথে দেখা করতে পারে। অতুল ছেলেটিকে চেপে ধরলো কি করে ঐ মাদক হাতে পাওয়া যায় তা তাকে জানতেই হবে। ছেলেটি প্রথমে খুবই আপত্তি করলো কারন সে চাচ্ছিলোনা অতুলের মত ভালো ছেলে মাদক নিক। কিন্তু অতুলের করুন আকুতি মিনতির কাছে একসময় সে হার মানলো। সে তাকে একটি বিশেষ মাদকের কথা বললো যার দাম অনেক। তবে শুধু টাকা থাকলেই তা পাওয়া যায়না এর জন্য অনেক চেনা জানারও প্রয়োজন হয়। টাকা অতুলের কাছে কোন ব্যপার না চাইলেই বাবা দিয়ে দিবেন। পরদিন ছেলেটি তাকে একটি বিশেষ ধরনের ট্যাবলেটের পাতা তাকে ধরিয়ে দিলো। বললো একটি ট্যাবলেট গুড়ো করেএকটি কাচের পাত্রে রেখে তাতে তাপ দিতে হবে।তাতে তার থেকে গন্ধহীন হালকা সাদা কিন্তু খুব ঘন ধোওয়া বেড় হবে আর তা অতুলকে বুক ভরে টেনে নিতে হবে, তার পর শুধু এক দৃষ্টিতে মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। একসময় যখন একটা ঘোরলাগা ভাব অতুলকে ঘিরে ধরবে তখনই নাকি মা অতুলকে দেখা দিবেন। অতুল ট্যাবলেট গুলো পকেটে ভরে বাসার দিকে হাটা দিলো। আজ সে খুবই উত্তেজিত, আবার সে হয়তো তার হারিয়ে যাওয়া মাকে দেখতে পাবে। বাবার কথা ভেবে সে কষ্টপেলো। সে নেশা করতে যাচ্ছে তা জানতে পারলে তিনি খুবই কষ্ট পাবেন। কিন্তু সে জানে মায়ের দেখা পেতে হলে তাকে এই মাদক নিতেই হবে তাছারা তার কোন বিকল্প উপায় নেই। মায়ের সাথে তাকে দেখা করতেই হবে।


সেদিন বিকেল বেলা…………
জীবনে প্রথমবারের মত নেশা করতে যাচ্ছে অতুল। এর আগে সে সিগারেট পর্যন্ত খায়নি। তার বাব বলতেন এধরনের জিনিস শরীরর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেয়, তাই সমবয়েসি অনেকেই এসব করলেও সে কখনো তা হাতে নিয়েও দেখেনি। তাই আজ তাকে মাদকের ধোওয়া টানতে হবে ভেবেই তার যেন কেমন লাগতে লাগলো, উত্তেজনায় বুক দুরু দুরু করছে। আস্তে করে সে তার সৎমায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছাদের চিলেকোঠায় চলে এলো এবং দরজা বন্ধ করে একটি একশো পাওয়ারের বাল্ব হাতে নিয়ে কাজ শুরু করলো। কাচের বাটি আনতে গেলে তাকে তার সৎমায়ের কাছে হাজারটা কৈফিয়ৎ দিতে হতো তাই সে বাল্ব ব্যবহারের কথা চিন্তা করে। সে বাল্বটিকে না ভেঙে তার ভেতরের সব জিনিস বাইরে বের করে আনলো, ব্যাস গোটা বাল্বটিই এখন একটি কাচের পাত্র। সে হাতে একটি ট্যাবলেট নিয়ে তার গন্ধ শুকলো কিন্তু তাতে সে কোন গন্ধ পেলোনা, ট্যাবলেটটা দেখতে এক টাকার কয়েনের মত তবে আকারে আরও বড়। সে ট্যাবলেটটি একটি কাগজে মুড়ে তাতে হালকা ইটের বারি দিয়ে তা মিহি গুরো করলো। এবার সে গুরোটি বাল্বে ঢেলে বাল্বটির মুখ বন্ধ করে বাল্বটি একটি মোমের উপর ধরলো। আগুনের তাপে বেশ দ্রুতই গুরোটি বাষ্পে পরিনত হয়ে হালকা সাদা অথচ গাড় ধোঁওয়ায় পরিনত হচ্ছে।এক সময় পুরো বাল্বটি ধোঁওয়ায় ভরে গেলো, এখন শুধু অতুলকে তা বুক ভরে টেনে নিতে হবে। সাহসে ভর করে অতুল বাল্বটি মুখের কাছে এনে তাতে ছোট একটা টান দিল। জীবনে প্রথমবার, ধোঁওয়া তার গলা আর ফুসফুসে জ্বলন ধরিয়ে দিলো। তাড়াতাড়ি বাল্বের মুখে আঙ্গুল দিয়ে চোখমুখ বিকৃত করে ফেললো। ওফ্ কি জঘন্য শ্বাদ এর। এটুকুতেই যদি এ অবস্থা হয় তবে পুরোটা সে কি করে টানবে?। হঠাৎ চোখ পরলো তার মায়ের ছবির উপর , দেখলো মা ছবি থেকে এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। দৃশ্যটা তার সমস্ত যন্ত্রনা ভুলিয়ে দিলো, যেমন করেই হোক তাকে পুরো বাল্বটি খালি করতে হবে মাকে কাছে পেতে হলে। এবার নিরদিধ্বায় অতুল বাল্বের সমস্ত ধোঁওয়া ফুসফুসে চালান করলো। এবার আর তার কোন কষ্ট অনুভব হলো না এমনকি নাক মুখ দিয়ে একটু ধোঁওয়াও বেড়হয়ে আসলো না। তার ফুসফুস যেন ভোজবাজির মতই সমস্তটা হজম করে নিয়েছে বেমালুম। দুনিয়াটা চোখের সামনে যেন দুলতে শুরু করলো অতুলের, মাথা ঘুরতে লাগলো ভিষন ভাবে। মনে হলো মধ্যাকর্ষণ যেন তার সমস্ত শক্তি দিয়ে অতুলকে হিংস্র ভাবে মাটির সাথে পিষে ফেলবে এক নিমিশে। প্রচন্ড কষ্টে চোখদিয়ে পানি চলে এলো, এরই মাঝে মায়ের কথা মনে পরলো অতুলের। ইস মা যদি একবার তাকে কাছে টেনে আদর করতেন!। সময় জ্ঞানের হিসেব ভুলে গেলো অতুল। মনে হলো কোথায় যেন চলে যাচ্ছে সে। ওফ এত কষ্ট আর কতক্ষন সে সইবে? এখনো কেন মা কাছে আসছেন না? তবেকি ছেলেটি তাকে মিথ্যা বলেছিলো ? তাকেও আসলে তার মত এডিক্ট বানাতে চেয়েছিলো?। আর পারছেনা অতুল, যে কোন মুহুর্তে সব কিছু অন্ধকার হয়ে যাবে চোখের সামনে থেকে। শেষ বারের মতন মাকে পাশে দেখতে চাইলো অতুল কিন্তু কিছুই দেখতে পারলোনা। আস্তে আস্তে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। এভাবে ঠিক কতক্ষন গেলো বলা যায়না। মাথায় একটা কোমল স্পর্শ পেলো অতুল। এতো কোমল সে স্পর্শ যার টান কিছুতেই এড়ানো সম্ভব নয়। কানে গেলো নরম সুরে কেউ তার নাম ধরে ডাকছে।তার চুলে বিলি কেটে দিয়ে মধুর কন্ঠে কথা বলছে তার সাথে। অনেক কষ্ট হলো তার ছোখ খুলতে এবং যা দেখলো তাতে নিজের দুই চোখকে বিশ্বাস করতে পারলোনা। মা বসে আছেন তার মাথা নিজের কোলো তুলে নিয়ে।তার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছেন, পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। তার মা, তার সত্যিকারের মা, যাকে সে হারিয়ে ফেলেছিলো তার জীবন থেকে চিরদিনের জন্যই। অতুল আর থাকতে না পেরে তার মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে ফেললো। এতো দিনের জমানো বুক ভরা অভিমান আর আবেগ যেন এভাবেই সে প্রকাশ করতে চায় তার সত্যি কারের মায়ের বুকে মাথা রেখে। আজ অতুলের সমস্ত প্রতিক্ষা শেষ হয়েছে। বিধাতার কাছ থেকে আজ সে ছিনিয়ে এনেছে তার মাকে। আজ এই পৃথিবীতে চাওয়ার বা পাওয়ার মত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তার। এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলো অতুল তার মার অনিন্দ সুন্দর মুখটার দিকে।


বর্তমান সময়ে……
আজ বিশেষ একটা দিন অতুলের জন্য । বাবা তাকে ঘরে বন্ধ করে রাখলেও তাতে আজ আর তার কোন আপত্তি নেই । মাকে সে ফিরে পেয়েছে নিজের কাছে । বাবাকে একবার বলেও ছিলো ও । কিন্তু বাবা বিশ্বাস করেননি তার কথায়, কেবল দুঃক্ষি চোখ নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন তার দিকে । শেষে ছেলের চরম পরিনতির কথা চিন্তা করে রিহ্যাব সেন্টারেও দিয়েছিলেন কিন্তু লাভ হয়নি । অতুল জানতো তাকে পালাতেই হতো নইলে আবার সে তার মাকে হারাবে চিরদিনের জন্য । তবে এ জন্য আজ আর তার বাবার উপর তার কোন রাগ নেই কারন আজও তাকে মা দেখা দেবেন । আজ যে করেই হোক তাকে নেশা করতেই হবে । গত পরশু মা তাকে বলেছিলেন অনেক আদর হলো এবার তাকে কোথায় যেনো তার সাথে যেতে হবে । যাতে আজীবন সে তার মার সাথে থাকতে পারে তাকে যেন আর এই নরক যন্ত্রনা ভোগ করতে না হয় । গত মাসের শেষের দিকে বাবার আলমারি থেকে টাকা চুরি করে তিন পাতা সেই জাদুর ট্যাবলেট কিনেছিলো অতুল । তারই শেষ একটা আজ সে সেবন করলো ধোঁওয়া বানিয়ে । অন্যান্য দিনের মত আজও চারদিক পাল্টে গেলো । মা এলেন মুখে তার ভুবন জুড়ানো হাসি নিয়ে কিন্তু কাছে এলেন না । দুর থেকে দুই হাত বাড়িয়ে অতুলকে কাছে ডাকলেন । অতুল যেনো উড়ে চলে গেলো তার মার বাড়ানো দুই হাতের দিকে মুখে হাসি আর দুচোখে কান্না নিয়ে । এ কান্না কষ্টের নয় বরং চরম সুখের । আজ আর সে কিছুতেই তার মাকে যেতে দেবে না । বুকের সাথে জাপটে ধরে রাখবে তার মাকে চিরজীবনের জন্য ।

পরিশেষে
তুমুল বর্ষণ শুরু হয়েছে আজ, বৃষ্টি যেন আজ সমস্ত কিছু ধুঁয়ে মুছে সাফ করে দেবে।প্রবল বর্ষণ মাথায় নিয়ে ছাতা হাতে ঐ প্রেম নিবেদনরত ছেলেটি দাড়িয়ে আছে আজো। তার অন্য হাতে ধরা গোলাপের তোড়াটি বার বার এলোমেলো করে দিয়ে যাচ্ছে পাগলা বাতাস। তবু সে অপেক্ষায় আছে মেয়েটির ফেরার আশায়। মেয়েটি আজও তাকে পাশ কাটালো চোখে বিদ্রুপাত্তক দৃষ্টি নিয়ে। বিমর্ষ নয়ন নিয়ে ছেলেটি হয়তো চলেই যেতো কিন্তু একটা জিনিষ তাকে রাস্তায় আঠার মত আটকে দিলো। রাস্তার পাশের আটতলা বাড়ির ছাত থেকে একটি ছেলে দৌড়ে এসে ঝাপিয়ে পড়তে যাচ্ছে। সেই ছেলেটি যে প্রতিদিন ছাত থেকে তার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতো। চিৎকার করে বলতে চাইলো কিছু কিন্তু বলা আর হলো না, ছেলেটি আটতলার ছাত থেকে লাফ দিয়েছে।

৫ thoughts on “অতুলের গল্প

Leave a Reply to শওকত খান Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *