হামাসের জন্যও “লাল কার্ড”

যখন মুসলমানদের দ্বারা কয়েকশ বালিকা অপহৃত হয়, যখন প্রতিদিন মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের হাতে অসংখ্য মুসলমান নিহত হয়, যখন নাইজেরিয়ায় সেহরী খেয়ে বোকো হারাম শতাধিক মুসলিমকে হত্যা করে সংযম পালন করে, যখন মুসলিম মেয়েদের উপর মুসলিম পুরুষরা ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালায়, তখন কোন মুমিনের প্রাণ কেঁদে উঠে না। “নরহত্যা বন্ধ কর ” চিৎকার করতে করতে কাউকে রাজপথে নামতে দেখিনা। মুমিনদের তখনই জ্বলুনি উঠে যখন কাহিনীতে সাম্প্রদায়িক টুইস্ট প্রবেশ করে! যেমন ইজরাইল – ফিলিস্তিন, ইরাক-আমেরিকা । কখনই শুনবেন না সিরিয়ায় লক্ষাধিক মুসলমান হত্যার পর এদেশে কোন মুমিনসমাজ মাঠে নেমেছে । কখনই শুনবেন না তালেবান দ্বারা অগনিত মুসলিম হত্যার প্রতিবাদে এদেশে কোন মুমিনসমাজ পথে নেমেছে ! সুতরাং আমরা পুরোটাই সাম্প্রদায়িক । মুসলমান মরলে ঠিক নেই তবে মুসলমান যদি মারে তবে ঠিক আছে । ঠিক একই কারণে টুইন টাওয়ার কিংবা মুম্বাই হামলায় কোন মুমিনসম্প্রদায় টু শব্দ করেনি তবে ঠিকই লাদেনের জন্য নর্তন-কুর্দন করেছে !

আজ গাজায় যখন গনহত্যা চলছে তখন কোন ধর্মীয় দলকে (যারা আবার ইসলাম রক্ষা করে বলে প্রচার করে) রাজপথে নামতে দেখছি না। চৌদি আরবসহ আরবনেতারা মুখে দাসীদের স্তন এঁটে বসে আছেন ! ইসলামের হেফাজতকারী শফি হুজুরও মুখে তেঁতুল এঁটেছেন । সাইদীকে চাঁদে পাঠানো গেলমানদের মুখে এখন সাকার মেশিন প্রবেশ করেছে । এই হলো তাদের “ইছলামী ভ্রাতৃত্ববোধ”! লজ্জা লাগেনা বলতে ? শালার ভ্রাতৃত্ববোধ !

তবে শফি হুজুরের ঘনিষ্ট শিষ্য হাছান মাহমুদ গাজায় হামালার সাথে বিএনপির যোগসূত্র আবিস্কার করে খোলা পোঁদে নেচে চলছেন । সবাই ইসরায়েলকে দায়ী করে নিন্দার বন্যায় দেশ ভাসিয়ে দিচ্ছেন । কিন্তু বামপন্থীরা সবসময়ই এক ডিগ্রী উপরে । তাহারা আবার ইসরায়েলকে “লাল কার্ড” প্রদর্শন করেছেন !

ইসরায়েলের যে তিন কিশোরকে হামাস হত্যা করেছিল তারাও মানুষ ছিল । হামাসের জঙ্গীরা নিজেদের পোঁদ বাঁচাতে যেসব নারী-শিশুদেরকে মানববর্ম হিসাবে ব্যাবহার করছে তারাও মানুষ । তাহলে কেন শুধু আমি ইসরায়েলকে “লাল কার্ড” দেখাব ? গাজায় যে শিশু হত্যা হচ্ছে তার জন্য দুপক্ষই সমান দায়ী । কিছু ক্ষেত্রে হামাস বেশী দায়ী । কারণ তারা যুদ্ধবিরতিতে যেতে নারাজ । এর একমাত্র উদ্দেশ্য হল যত বেশি যুদ্ধ হবে, তত বেশি শিশু মরবে এবং ততই আন্তর্জাতিক ছাগু সম্প্রদায় না বুঝেই ইসরায়েলকে গালি দিবে ! বাহ! নোংরা রাজনীতির কি অপূর্ব খেলা ! একটু খেয়াল করে দেখুন আমাদের দেশের শান্তিপ্রিয় মুছলিম রাজনীতিকরাও একই নোংরা খেলা খেলে থাকে ।

আমি ইজরায়েলের সমর্থক না। আমি মানবতার সমর্থক। আমি গণহত্যার বিরোধী সেটা যারাই করুক, যে কারণেই করুক। গাজায় নরহত্যার জন্য হামাস আর ইজরাইল উভয়েই দায়ী । সারা বিশ্বে ধর্মের নামে গণহত্যার জন্য সবচেয়ে বেশী দায়িত্ব নিতে হবে মুসলিমদের । এই নিকৃষ্টতম “শান্তির ধর্মের” আড়ালে আর কতযুগ যে রক্তগঙ্গা বইবে তার কোন আভাসও পাইনা ।

তাই আমি হামাসকেও “লাল কার্ড” দেখাতে চাই । ইসরায়েলের অমানবিক আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়িয়ে শিশুদের লাশ নিয়ে রাজনীতি করাকে তীব্র ধিক্কার জানাই । বড় বড় কথা বলা ভামদের এমন সাম্প্রদায়িক আচরণের জন্য লজ্জা পাওয়া উচিত্‍ বলে মনে করি । অবশ্য এমন ইস্যু আসলেই তাদের থলের বেড়াল বেড়িয়ে পড়ে । নাইজেরিয়ায় তো আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের গন্ধ নেই তাই মার্কসীয় থিওরী প্রয়োগ করে বড় বড় বক্তৃতা দেয়া যাবেনা । আর আক্রমণকারীদের (মুসলিম) বিরুদ্ধে কিছু কইলে তো ঘাড়ে মাথা থাকবেনা । তোমাদের এই বিপ্লবকে ঘৃণা করি ।

আমি নাস্তিক । ধর্মের কোন গুরুত্ব আমার কাছে নেই । কোন বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্বও নেই । আমি তাই মানবতার পক্ষপাতী । ইসরায়েল ও হামাস উভয়কেই তাই বলতে চাই এই যুদ্ধ বন্ধ কর । তোমাদের বেশী ‘শহীদ’ হবার ইচ্ছা থাকলে সাহারার জনহীন প্রান্তরে গিয়ে যুদ্ধ করে মর । নিরীহ মানুষ হত্যার কোন অধিকার তোমাদের নেই । তোমাদের উভয়ের জন্যই “লাল কার্ড” ।

৭ thoughts on “হামাসের জন্যও “লাল কার্ড”

  1. স্রেফ অসাধারণ বিশ্লেষণ… এ
    স্রেফ অসাধারণ বিশ্লেষণ… এ ব্যাপারে লিখব ভাবছিলাম… মনের ভাব পুরোটাই প্রকাশ করে দিয়েছেন… :ধইন্যাপাতা:

  2. ছাল নাই কুত্তার নাম বাঘা।
    ছাল নাই কুত্তার নাম বাঘা। মুসলিম বিশ্ব নিয়ে চিন্তিত বড় বড় সমঝদাররা হামাসকে মনে করে নবযুগের আলেক্সান্ডার। হামাসই পরোক্ষভাবে ফিলিস্তীনের হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইসরাইলকে হামলার জন্য উস্কানী দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইসরাইলের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র। সেই তুলনায় কয়েক হাজার হামাস সদস্য কিছুই না। তাদের একটা রকেটের জবাব ইসরাইল দেয় একশ রকেটের মাধ্যমে। মারা পড়ছে নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ।
    এভাবে চলতে থাকলে ফিলিস্তীন এমনিতেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।

  3. দারুন বলেছেন। বিশ্বের সকল
    দারুন বলেছেন। বিশ্বের সকল সাম্প্রদায়িক ও ধর্মিয় অস্থিরতার জন্য ৫০ভাগ দায়ি মুসলমানরা।

  4. যতদিন হামাসের হাতে থাকবে
    যতদিন হামাসের হাতে থাকবে ফিলিস্তিন, ততদিন আমেরিকার পোয়াবারো। একদিকে অস্ত্র ব্যবসা, অন্যদিকে ইসরায়েলকেও খুশী রাখা। বেশ ভালই। কিন্তু আবাল মুসলমানের দল হামাসকে মনে করে রবিন হুড।

  5. এজন্যই এরা খালি শান্তি খুঁজে
    এজন্যই এরা খালি শান্তি খুঁজে বেড়ায় । অথচ নিজেরাই বিশ্বব্যাপী অশান্তি সৃষ্টি করে রেখেছে !

  6. নিজের অস্তিত্ত টাকায় রাখতে
    নিজের অস্তিত্ত টাকায় রাখতে সবাই মরিয়া মাঝখানে কার কি হইলো না হইলো, কার ঘাঁড় থেকে কয়টা মাথা গেল এটা কারো দেখার বিষয় না ইসরায়েল ও হামাসের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *