বিদ্যুৎ খাতে ভোগান্তি অনিবার্য

  • ৪০ কেন্দ্র ত্রুটিপূর্ণ
  • তেল-গ্যাস সরবরাহে সঙ্কট বাড়ছে
  • সেচ ও গ্রীষ্মে তীব্র লোডশেডিং এর আশঙ্কা
  • আবারো বাড়তে পারে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম
  • রেন্টালে লাগছে বাড়তি তেল, ভর্তুকি বেড়েই চলেছে

 

গরম পড়তে শুরু করেছে। সবেমাত্র শুরু হলো সেচ মৌসুম। তাই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। সেই সঙ্গে এখনই বাড়তে শুরু করেছে লোডশেডিং। সামনের দিকে পুরো গ্রীষ্মের উত্তাপ পড়তে শুরু করলে এবং সেচের জন্য সব জমিতে বিদ্যুৎভিত্তিক সেচযন্ত্রগুলো চালু হলে বিদ্যুৎ বিতরণের অবস্থা হবে ভয়াবহ।
বিদ্যুৎ বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে এবার বিদ্যুৎনির্ভর সেচযন্ত্রের সংখ্যা ১০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে সেচযন্ত্র চলবে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫০৭টি। এবার সেচে মোট বিদ্যুৎ লাগবে এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে ভরা সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা হবে সাড়ে সাত হাজার মেগাওয়াট। সরকারের এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া যাবে না।

পুরো সেচ মৌসুম ও গরমজুড়ে থাকবে তীব্র লোডশেডিং। পিডিবি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর মূল কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে, অসংখ্য কেন্দ্র ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় এগুলো থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় অনেক কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তেল কিনতে গিয়ে ভর্তুকি অতিরিক্ত পরিমাণ দিতে হওয়ায় চাইলেও জ্বালানি সঙ্কট এখনই মিটিয়ে ফেলা যাবে না। তাই এই মৌসুমে বিদ্যুতে তেমন কোনো সুখবর নেই।

এই পরিস্থিতিকে সরকার ও ভোক্তা সবার জন্যই হতাশাজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কারও কারও দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যেহেতু আছে, জ্বালানির ব্যবস্থা হলেই সঙ্কট মোকাবেলা করা যাবে। শেষ পর্যন্ত জ্বালানির ব্যবস্থা করতে পারবে সরকার।

কিন্তু এতটা আশার আলো আসলেই দেখা যাচ্ছে না। কারণ রেন্টালের কারণে সরকারকে এ খাতে ক্রমাগত ভর্তুকি বাড়াতে হয়েছে এখন যদি আরও বেশি তেলনির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালাতে হয় তাহলে ব্যয় আরও বাড়বে। প্রাক্কলিত ব্যয়ের হিসাব ছাড়িয়ে এভাবে শুধু বিদ্যুৎ খাতে এত টাকা ঢালা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না। ফলে লোডশেডিং বাড়তে থাকবে। পাশাপাশি আইএমএফের দেয়া ঋণের শর্ত অনুযায়ী আবারও বাড়াতে হতে পারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম। এসব বিষয় বিদ্যুৎ খাতকে নিয়ে যাচ্ছে গভীর হতাশার দিকে।

উৎপাদনের বাধা
দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হচ্ছে ৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। কিন্তু বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের মতো। সরকারি হিসেবে সেচ মৌসুমে ন্যূনতম ৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন জরুরি হলেও তা পাওয়া যাবে না সঙ্গত কারণেই।

উৎপাদনের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারি কেন্দ্রগুলো যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সঙ্কটের কারণে পর্যাপ্ত উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে জ্বালানি সুবিধা পুরোপুরি দেয়া হলেও রেন্টাল কেন্দ্রগুলো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পিছিয়ে পড়ছে।

পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৭৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ভরা সেচ মৌসুমে ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলেও গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি হবে। যদিও প্রতিদিন ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়াই কঠিন হবে। এ পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করতে গেলে একাধিক সার কারখানা বন্ধ করতে হবে। গ্যাস সরবরাহ যদি এর কম হয় তাহলে ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়াবে।

উৎপাদন বরং কমবে!
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী এবার তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ ৫৩ শতাংশ (২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৩ ঘণ্টা) প্লান্ট ফ্যাক্টরে চালানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ হারে ওই কেন্দ্রগুলো চালানো হলে তাতে কোনোভাবেই সেচে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। কারণ সেচের কারণে যে বাড়তি এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে, এ হারে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালালে তা পূরণ তো দূরের কথা, ধারে কাছে থাকাই কঠিন হবে।

আবার রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক) এবং কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলো বেশিরভাগ পুরনো হওয়ায় সেগুলো ৫৩ শতাংশ প্লান্ট ফ্যাক্টরে চালু রাখা সম্ভব হবে না। এই গতিতে চলতে থাকলে অনেকই ত্রুটির কবলে পড়বে। অনেক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে অথবা উৎপাদন কম হবে। সে হিসেবে উৎপাদন বাড়ার চেয়ে বরং কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

জ্বালানি সঙ্কট কি মিটবে!
পিডিবির কর্তাব্যক্তিদের আশাবাদের সূত্র ধরেই প্রশ্ন উঠছে, আসলে কি জ্বালানি সঙ্কট মিটবে? নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না দিতে পারলেও লোডশেডিং কি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে সরকার। মনে হয় না, সরকার এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এ পর্যন্ত চালু ৩১টি রেন্টাল-কুইক রেন্টালের মধ্যে ১৪টি কেন্দ্রই কোনো না কোনো সমস্যায় আক্রান্ত। রেন্টাল-কুইক রেন্টাল থেকে বিদ্যুৎ এসেছে ১৬১১ মেগাওয়াট। এই ১৬১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে সরকার পুরো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এবং সারা দেশের অর্থনীতিকে বিরাট বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ভর্তুকির যে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে তার ৮০ শতাংশই দিতে হচ্ছে কুইক রেন্টাল থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনায়। রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট থেকে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৭ টাকা দিয়ে। যেখানে সরকারি কেন্দ্রগুলো থেকে ৬ টাকায় বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

নতুন কেনা এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ত্রুটির কারণ একটাই, সব পুরনো মেশিন। সঙ্গত কারণেই এরা তেল খায় বেশি কিন্তু উৎপাদন করে কম। সরকার যদি তেল আমদানি বাড়িয়ে এসব কেন্দ্র চালাতে চায় তাহলেও তো বেশি সুফল আসবে না। একদিকে এরা তেল নিবে এবং সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বাড়াবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে না যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য। সরকার আরও সঙ্কটে পড়বে।

কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি এ নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা নেই। তারা বরং রেন্টালের মেয়াদ বাড়াচ্ছে এবং তাদের জন্য তেল আমদানি করছে। এতে বোঝা যায়, দেশের মানুষের বিদ্যুৎ সঙ্কট নিয়ে সরকারের যতখানি ভাবনা তার চেয়ে বেশি ভাবনা এই খাতে লুটপাট চালানোতে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এই গরমে লোডশেডিং এর অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সমস্যার সমাধান একটাই, অধিক হারে তেল আমদানি এবং গ্যাস সরবরাহ। কিন্তু এই তেল আমদানি এবং রেন্টাল কেন্দ্রগুলো থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করতে গিয়ে গত কয়েক বছরে পিডিবি হতদরিদ্র একটি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, চলতি অর্থবছর বিদ্যুৎ বিক্রি ও পরিচালন মিলিয়ে পিডিবির আয় হবে ১৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যয় হবে ২৫ হাজার ১১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু উৎপাদনে ব্যয় ২১ হাজার ৮১২ কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছর পিডিবির ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৬ হাজার ৮১১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরের বাজেটে এজন্য ভর্তুকি রাখা হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গত বছর এই খাতে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৭ হাজার ২১৫ কোটি টাকা।

পিডিবির দেয়া তথ্য থেকে দেখা যায়, এক মাস আগে বিদ্যুৎ খাতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকার তেল সরবরাহ করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সেখানে দেয়া হয়েছে ২৬ কোটি ৪১ লাখ টাকার তেল। আগামী এপ্রিলে প্রতিদিন ৩২ কোটি টাকার পর্যন্ত তেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা হবে। অর্থাৎ এখন যে পরিমাণ তেল দেয়া হচ্ছে তার প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু এপ্রিলে যে হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে তা কি এই পরিমাণ তেলে পূরণ করা যাবে?

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ বছর বিদ্যুৎ খাতে এই সিস্টেমের মধ্যে না থেকে সরকারের তেমন কোনো উপায় নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে গেলে ৯ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হতে পারে সরকারকে। এ পরিমাণ ভর্তুকির টাকা না দিতে পারলে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে না। আবার এ পরিমাণ টাকা শুধু বিদ্যুতের ভর্তুকিতে দিতে গেলে অর্থনীতির অন্যান্য শাখায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঋণ নিয়েও এই সঙ্কট কাটানো সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না। তাছাড়া বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতিগুলো যেহেতু রাতারাতি উধাও হয়ে যাবে না তাই হঠাৎ উন্নতির কোনো সম্ভাবনাও নেই।

গলার কাঁটা আইএমএফ
জ্বালানি সঙ্কট মিটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে আইএমএফ এখন হয়ে উঠেছে সরকারের গলার কাঁটা। সরকার যদি ঋণ নিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চায়, তা সম্ভব হবে না আইএমএফ-এর কারণে। ইসিএফ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে আইএমএফ। গত এপ্রিলে অনুমোদন হওয়া এ ঋণ তিন বছরে সাত কিস্তিতে দেবে সংস্থাটি। সুদমুক্ত এ ঋণ ১০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। অবশ্য এর জন্য চার খাত সংস্কারে ন্যূনতম ১৭টি কঠিন শর্ত বেঁধে দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে একটি শর্ত হচ্ছে, কোনো বিদেশি সংস্থা বা দেশের কাছ থেকে কঠিন শর্তে ১০০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ নেয়া যাবে না।

এই অর্থবছরে রাশিয়ার সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তির আওতায় সরকার এর বেশি ঋণ নিলে আইএমএফ ঋণের টাকার কিস্তি আটকে দেয়। পরে বিশেষ অনুরোধে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড় করা হলেও এই অর্থবছরে ঋণগ্রহণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তাই সরকার ঋণ নিয়ে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে এই ঋণচুক্তিরই আরেকটি শর্ত হচ্ছে, আগামী জুনের মধ্যে জ্বালানি তেল বিক্রিতে লোকসান শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা। আইএমএফ থেকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে, চারটি বিষয় তারা গভীর পর্যবেক্ষণে রাখছে। এগুলো হচ্ছে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, ভর্তুকি হ্রাস ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি। ধারণা করা হচ্ছে, এই বছরের জুনের আগেই তাই জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে পারে। এর ফলে একদিকে লোডশেডিং কমানোর রাস্তা বন্ধ হচ্ছে অন্যদিকে দাম বাড়ায় বাড়বে জনগণের ক্ষোভ। যা সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান সমস্যা

* বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ত্রুটিজনিত কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট
* সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ত্রুটিজনিত কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে ৭৫৫ মেগাওয়াট
* পর্যাপ্ত জ্বালানির যোগান না থাকায় উৎপাদন কম হচ্ছে ১ হাজার ১৬৭ মেগাওয়াট
* সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত জ্বালানি না দেয়ায় উৎপাদন কম হচ্ছে ১ হাজার ৯ মেগাওয়াট

সেচ মৌসুমের চাহিদা

* ভরা সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা হবে সাড়ে সাত হাজার মেগাওয়াট
* সরকারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট
* উৎপাদন হতে পারে ছয় হাজার মেগাওয়াট বা তারও কম
* বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৭৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বিদ্যুতে
* ১০০ কোটি ঘনফুট চাহিদার তুলনায় পাওয়া যেতে পারে বড় জোর ৯০ কোটি ঘনফুট

উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্কট

* সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি যাচ্ছে কম
* নষ্ট সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এর মধ্যে ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই
* পর্যাপ্ত তেল না থাকায় রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়বে না
* টানা উৎপাদনে থাকলে রেন্টালের উৎপাদন আরও কমতে পারে
* রেন্টালে দেয়া হচ্ছে ২৬ কোটি ৪১ লাখ টাকার তেল
* সর্বোচ্চ ৩২ কোটি টাকার তেল দেয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের, যা অপর্যাপ্ত
* বরাদ্দের তুলনায় বেশি তেল নিচ্ছে অনেক রেন্টাল, এতে উৎপাদন কমবে
* ঋণ নিয়ে তেল কেনা যাবে না, আইএমএফ-এর দেয়া শর্তের কারণে

ফলাফল

* তীব্র লোডশেডিং এ বিপর্যস্ত হবে জনজীবন
* উৎপাদনের সব শাখায় পড়বে নেতিবাচক প্রভাব
* আইএমএফ-এর শর্তের কারণে বাড়তে পারে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম
* এসবের কারণে সঙ্কট ঘনীভূত হবে

(তথ্য সূত্র : পিডিবি’র ওয়েবসাইট। ২৮ ফেব্রুয়ারির হিসাব)

৯ thoughts on “বিদ্যুৎ খাতে ভোগান্তি অনিবার্য

  1. এছাড়া আর উপায় কি?
    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
    এছাড়া আর উপায় কি? :মাথানষ্ট:

  2. শীত না যেতেই চট্টগ্রামের
    শীত না যেতেই চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সারাদিনে বিদ্যুতের লোডশেডিং হয় ৫/৬ বার। অন্য এলাকাগুলোতে বিদ্যুত আছে বলেই মনে হয় না। গ্রীষ্মের বাকি দিনগুলো এবং সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের কতটুকু আতংকজনক হবে এখনই উপলব্দি করা যাচ্ছে। বিদ্যুতেখাতে কিছু করতে না পারা সরকারের অনেক বড় ধরণের ব্যর্থতা। গণজাগরণের আন্দের উচ্ছ্বাসে না ভেসে সরকারের উচিত তার প্রতিশ্রুত ওয়াদাগুলো বাস্তবায়নের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো।

  3. বিদ্যুৎ খাত সরকারকে ডোবাবে।
    বিদ্যুৎ খাত সরকারকে ডোবাবে। এই খাতে যেভাবে তারা লুটপাট চালিয়েছে এর মূল্য দিতেই হবে।

  4. এই সমস্যাটা আজীবনই দেখে আসতে
    এই সমস্যাটা আজীবনই দেখে আসতে হচ্ছে। কোন সময় কোন সরকারের পক্ষেই এর সমাধান করা সম্ভব হয় না, সম্ভব হয় শুধু মাত্র দূর্নীতির পাল্লা ভারি করা।

  5. কারণ সরকারগুলো মোটেও
    কারণ সরকারগুলো মোটেও দেশপ্রেমিক না। নিজস্ব ধান্দা পানি করাটাই থাকে তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। এইটার ছাপ তাদের সব কাজেই আছে।

  6. আমি আর সাত তলায় থাকতি চাই না।
    আমি আর সাত তলায় থাকতি চাই না। আজকেও বিদ্যুত না থাকায় সিড়ি ভাঙ্গতি হইছে।
    নামা তাও যেমন তেমন উঠতি গেলি খবর ছেল

  7. ভাষন দেয়ার সময় তো আর কম দিতে
    ভাষন দেয়ার সময় তো আর কম দিতে পারেন না আমাদের মন্ত্রী-এমপি মহোদয়গণ । বিদ্যুতের উন্নয়নের বিশাল ফিরিস্তি দিতে দিতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *