অশ্রু ( প্রথম পর্ব )

নীলা একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকুরী করে । মাত্র ১ বছর হলো সে ভার্সিটি থেকে পাশ করে বের হয়েছে । চাকুরী পাওয়ার পরে এইটাই তার প্রথম ঈদ । বাবা অবসরপ্রাপ্ত । মা গৃহিণী । পরিবারে আরো রয়েছে তার ছোট এক ভাই আর বোন । আগে তাদের পরিবারটি কেবল নীলার বাবার মধ্যম আয়ের উপরে নির্ভর করে চলতো । গতবছর উনি অবসর নেওয়ার পরে কয়েকমাস ওনার জমানো টাকা দিয়ে চলতে হয় । এরপরেই নীলার চাকরিটা তাদের পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠে । মোটামোটি ভালো বেতনের চাকরি । সারাজীবন মধ্যম ভাবে জীবন কাটানো নীলার পরিবারের জন্য তাই খুব একটা সমস্যা হয়ে উঠেনি ।


নীলা একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকুরী করে । মাত্র ১ বছর হলো সে ভার্সিটি থেকে পাশ করে বের হয়েছে । চাকুরী পাওয়ার পরে এইটাই তার প্রথম ঈদ । বাবা অবসরপ্রাপ্ত । মা গৃহিণী । পরিবারে আরো রয়েছে তার ছোট এক ভাই আর বোন । আগে তাদের পরিবারটি কেবল নীলার বাবার মধ্যম আয়ের উপরে নির্ভর করে চলতো । গতবছর উনি অবসর নেওয়ার পরে কয়েকমাস ওনার জমানো টাকা দিয়ে চলতে হয় । এরপরেই নীলার চাকরিটা তাদের পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠে । মোটামোটি ভালো বেতনের চাকরি । সারাজীবন মধ্যম ভাবে জীবন কাটানো নীলার পরিবারের জন্য তাই খুব একটা সমস্যা হয়ে উঠেনি ।

প্রতি মাস শেষে বেতনটা পেয়ে মার হাতে তুলে দেয় নীলা । বাকি কাজটা তার মা-ই করেন । নীলার বাবা-মা তার বিয়ের জন্য চাপাচাপি করেছেন কিন্তু নীলা রাজি হয়নি । তার ছোট ভাইটা বুয়েটে পড়ছে । পড়া শেষ হতে আরো বছর তিনেক লাগবে । নীলা সাফ জানিয়ে দিয়েছে এই তিন বছরের আগে সে বিয়ের পিঁড়িতে বসবে না । অনিচ্ছাসত্ত্বেও তার বাবা-মা কে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়েছে ।

অফিসে নীলার পরিচিতি বেশ । হাসি-খুশি, আন্তরিক, নিয়মানুবর্তী সব মিলিয়ে যাকে আমরা স্মার্ট বলি নীলা সেইরকমই । অফিসে এমন কেউ নেই যে নীলাকে পছন্দ করে না । ঈদের আর মাত্র ৩ দিন বাকি । নীলার অফিসের সবার ঈদ বোনাস দিয়ে দেওয়া হয়েছে । আজকে নীলাও ঈদ বোনাসটা পেয়ে গেছে । ২৫ হাজার টাকা । এই বোনাস দিয়ে কি করবে সেই চিন্তায় তার সময় কাটে না । মনে মনে হিসাব করতে বসে বাবার জন্য ২ টা পাঞ্জাবি কিনবে । সেই কবে থেকে ১টা পুরান পাঞ্জাবি দিয়ে উনি দিন কাটাচ্ছেন !! ভাইয়ের জন্য কয়েকটা ভালো টি-শার্ট আর একটা পাঞ্জাবি । ছেলেটা ভার্সিটিতে যায় প্রতিদিন একটা শার্ট পড়ে !! মায়ের জন্য একটা সুন্দর শাড়ি, ছোট বোনের জন্য একটা জামা আর নিজের জন্য ?? থাক নিজেরটা নিয়ে ভাবতে চায় না নীলা । আজকে একটা জরুরী মিটিং থাকায় সে আটকে গেছে । প্রতিদিন বাসায় গিয়ে ইফতার করতে পারলেও আজকে সে রাতের আগে যেতে পারছে না ।

রাত সাড়ে ৯টা । সাধারণ সময়ের ঢাকা আর এই সময়ের ঢাকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে । ঈদের আগে প্রায় ফাকা হয়ে গেছে । চেনা শহরটাকে এখন অনেক অচেনা মনে হয় । অফিসের গেট থেকে গার্ড রিকশা করে দিলো । কিছুদূর যেতেই পিছু নিলো একটা সিএনজি । নীলার এইসবের কোন ভাবনাই নেই । সে তার বোনাসের টাকা দিয়ে কি করবে সেই চিন্তায় বিভোর হয়ে আছে । বারবার হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখছে টাকাটা আছে তো !! ঈদের কেনাকাটা করে বাড়তি যা থাকবে তা দিয়ে কি করা যায় মনে মনে এখন সে তাই ভাবছে । আর ভাবছে কালকে সকালেই মার্কেটে যেতে হবে । নাইলে পরে যদি পছন্দমত জিনিস পাওয়া না যায় ! প্রায় ১০ মিনিট ধরে পিছু নেওয়া সিএনজি এইবার হটাত করেই সামনে এসে রিকশার গতিরোধ করলো । এতক্ষণে রিকশা মূল-সড়কে থাকলেও এখন একটা গলির ভিতরে চলে এসেছিল । সিএনজির দুই পাশ থেকে দুই ব্যক্তি নেমে একজন এসে নীলার ব্যাগে হাত দিলো । বিস্মিত নীলা প্রাণপণে চেষ্টা করতে লাগলো ব্যাগটা নিজের কাছে রাখতে । হটাত করেই ওই আগন্তুক ছুরি বের করে সোজা নীলার পেটের উপর আঘাত করলো । তীব্র যন্ত্রণায় জ্ঞান হারালো সে ।

চোখ মেললো নীলা । অস্পষ্ট ভাবে মনে পরলো ছিনতাইয়ের কথা । উঠে বসতেই টের পেলো হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে সে । পাশে চোখ পড়লো মায়ের উপর । এরপরেই দেখলো বাব , ভাই-বোন সবাই রয়েছে তার পাশে । মা নীলাকে উঠতে দেখেই আল্লাহের কাছে শুকরিয়া জানিয়ে নীলাকে জড়িয়ে ধরলেন । মায়ের স্পর্শ পেতেই চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠলো নীলার । মা সাত্ত্বনা দিয়ে বলেন, এখন ” আমি এসে গেছি, তোর কোন ভয় নেই । ” কিন্তু নীলার চোখে তো ভয়ের অশ্রু নেই, নেই কয়টা টাকা হারানোর শোকের অশ্রু । তার চোখের অশ্রু তার স্বপ্ন ভঙ্গের যন্ত্রণার, তার প্রিয়জনদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে না পারার আক্ষেপের ।

২ thoughts on “অশ্রু ( প্রথম পর্ব )

  1. গতানুগতিক সাদামাটা একটা গল্প।
    গতানুগতিক সাদামাটা একটা গল্প। আকর্ষণ করেনি।
    * শিরোনামে প্রথম পর্ব দেখলাম। কিন্তু লেখার শেষে কোনো সংকেত পেলাম না, গল্পটা চলবে না থেমে গেলো!

  2. আর এইটা সত্য ঘটনার আলোকে লেখা
    আর এইটা সত্য ঘটনার আলোকে লেখা তাই হয়তো তেমন আকর্ষণীয় হবে না ।

    লেখা চলবে । আরেকটা পর্ব দেওয়া হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *