আজগুবি বেহেস্তের “খাজুরে” গপ্প!

বেহেস্তে এমন একটা বস্তুর বর্ণনা নেই যা মানুষের কল্পনার বাইরে। বেহেস্তের সমস্ত ভোগ্য সামগ্রী মানুষ ইচ্ছা করলেই দুনিয়াতে পেতে পারে। বহু রাজা-বাদশা, জমিদার ৭২ হুরের ন্যায় একাধিক বারবণিতা নিয়ে লাম্পট্যের চুড়ান্ত করেছেন। বেহেস্তের উদ্যানগুলো মত বা তার চেয়্ওে আকর্ষণীয় ঢের উদ্যানের ছবি এখন আমরা গুগল সার্চ দিলেই দেখতে পাই। অর্থ হলেই সেসব উদ্যানে আমরা বেড়িয়ে্ও আসতে পারি। প্রবাহমান সুমিষ্ট পানির নহর, সবুজ ঘাসে ছাওয়া মখমলের নরম বিছানা, খেজুর, আনার, মদ্য আর মেয়ে মানুষ- একজন মরুভূমির বাসিন্দার জন্য সহজ কল্পনা। ইসলামী বেহেস্ত নিয়ে আমি যতই ভেবেছি ততই দেখতে পেয়েছি একজন ”মরু কল্পনা বিলাসীকে”। আজ থেকে ১ হাজার চার শো বছর আগের একজন মরুভূমির মানুষের সর্বোচ্চ ভোগবাদী কল্পনা বা আরাম আয়েশের চিত্র আজকের যুগের মানুষ, যাদের সময়, যুগ পাল্টে গিয়েছে, তাদের নতুন জীবনবোধ, ভোগ্য চাহিদার পরিবর্তন, ১৪০০ বছর আগের বেহেস্তের বর্ণনা খুব বেশি আকর্ষীয় মনে হবার কথা নয়। তবে এখনো তৃতীয় বিশ্বের অসংখ্য দরিদ্র মানুষ যে নিম্নমানের জীবন কাটায় তাদের কাছে উদ্যান, সুস্বাদু ফলমূল, রূপসী যৌবনবতী নারী আজো হয়ত সান্ত্বনা হতে পারে। এ জন্যই কি এখানো এখানে ধর্মের রমরমা প্রসার? বেহেস্ত আর দোজগের বর্ণনা এখনো লোকে পাত্তা দেয়?

যাই হোক, ইসলামী বেহেস্তর রূপকার একজন ”আরব” তাতে কোন সন্দেহ নাই। আরব বলেই তিনি সুমিষ্ট পানি প্রবাহের কথা বারবার বলেছেন। আমাদের মত নদীমাতৃক দেশে প্রবাহমান পানি কোন বিষয় না। মরুভূমির শুষ্করুক্ষ প্রান্তরের মানুষ কেবল অফুরান্ত পানির স্বপ্নই দেখবে এ আর অবাক কি? বার বার খেজুর ফলের লোভ দেখানোও আমাদের মত বঙ্গ সন্তানের কাছে আকর্ষণীয় নয়। মাছে-ভাতে বাঙালি খিদে পেটে শুকনো খেজুর দেখলে মেজাজই খারাপ করে ফেলবে! আমাদের বাঙালির নিজস্ব কোন প্রফেট থাকলে তার লিখিত কোরআন বলতো, “আর সৎ কর্ম যারা করবে তাদেরকে দেয়া হবে ইলিশ মাছের অপূর্ব তরকারি সাথে অফুরান্ত সুক্ষ সরু চালের ভাত! তথায় গুড়ো চিংড়ির সাথে লাল শাক অথবা ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচু শাক…। নিশ্চয় তিনি প্রতিজ্ঞা পালন করেন।..”

আচ্ছা ভাবুন তো বেহেস্তে আমের মত ফল নেই! কেবল দুধের কথা বলা আছে। বার বার উটের কথা এসেছে। আরব বেদুইন উটের দুধকে সর্বশ্রেষ্ঠ খাদ্যপানীয় মনে করতই পারে। জয়তুন আর খুরমাখেজুরের কসম কাটতে তার ভালই লাগতে পারে, তিনি একবারও মুড়িঘংটের কসম খেয়েছেন? বলতে পারতেন, “ কসম ঐ নতুন ধানের গরম ভাপা পিঠার!”…

বেহেস্তে রসগোল্লার কোন উল্লেখ নাই! ১৪০০ বছর আগের বেহেস্তের বর্ণনায় “বাংলা মদের” নহর বইয়ে দেবার কথাই লেখা থাকতো যদি বাঙালি প্রফেট বেহেস্তের বর্ণনা করতো। আর কসম খেতো, লাঙ্গলের, গরুর। “কসম ঐ লাঙ্গলের যা দিয়ে জমি চষা হয়।… কসম ঐ নৌকার যা বর্ষায় বহমান রাখে পানির উপর..”! নাহ্, পৃথিবীর সমস্ত মানুষের রুচির কথা বিবেচনা করে কথিত বেহেস্তের কথা বলা হয়নি। একজন পাঞ্জাবীর রুচির অভিপ্রকাশ কোথায় বেহেস্তে? একজন গুজরাটি কি মারাঠি। ইংরেজ কি জর্মন। রুশ কি ক্যারিবীও…। স্রেফ আরব! খেজুর, উট, জয়তুন, রেশমের বিছানা…। আর এখন তো সবাই জানেন বেহেস্তে বই নেই! …কম্পিউটার! ধুর, এই বেহেস্ত দিয়ে এখন একজন আরবকেও আকর্ষণ করা যাবে না! আর আমি তো বঙ্গ সন্তান! ভাজা ইলিশের স্বাদ আর গরম ভাতের সুঘ্রাণর চেয়ে খেজুর আর উটুর দুধ বুঝি আমাদের মুখে রোচবে?… এই ইডিয়েটিক বেহেস্তের আমাদের কোন দরকারই নেই!…

১ thought on “আজগুবি বেহেস্তের “খাজুরে” গপ্প!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *