সংযত সংযম

সারাদিনের কাজ শেষে ক্লান্ত দেহে শুয়ে আছে সাঝিন। এমনিতে রোজার দিন তার উপর শরীরও খারাপ করছে কয়েকদিন ধরে। তাই অবসাদ মনে ভাবছে শুয়ে শুয়ে। আচ্ছা রোজা কেন? কেন আবার কি! এইটা ইসলামের অন্যতম রুকন এবং সকলের উপর ফরজ। তো উপকারিতা বা শিক্ষা টা কি?
রোজা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি এর জন্য এবং এর প্রতিদান সয়ং আল্লাহই দিবেন রোজ কেয়ামতে। আর হ্যাঁ, রোজার অন্যতম শিক্ষা হল আত্মসংযম।
সাঝিন পিয়াসি মনে ভেবে চলে…

সারাদিনের কাজ শেষে ক্লান্ত দেহে শুয়ে আছে সাঝিন। এমনিতে রোজার দিন তার উপর শরীরও খারাপ করছে কয়েকদিন ধরে। তাই অবসাদ মনে ভাবছে শুয়ে শুয়ে। আচ্ছা রোজা কেন? কেন আবার কি! এইটা ইসলামের অন্যতম রুকন এবং সকলের উপর ফরজ। তো উপকারিতা বা শিক্ষা টা কি?
রোজা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি এর জন্য এবং এর প্রতিদান সয়ং আল্লাহই দিবেন রোজ কেয়ামতে। আর হ্যাঁ, রোজার অন্যতম শিক্ষা হল আত্মসংযম।
সাঝিন পিয়াসি মনে ভেবে চলে…
সংযম! তাইতো, আমি তো সং্যমই করছি। সেই ভোর রাতে আল্লাহর রহমতে সেহরি খেলাম এখন অবদি উপোস আছি। একমাত্র আল্লাহর ভয়ে। সে আত্মতৃপ্তি নিয়ে ভাবে আমি আল্লাহর বিধান মত চলছি। কিন্তু দালানবাড়িরর ঐ ভদ্রলোক গুলায় কি সংযত আছে? সারাদিন উপোস করে ঠিক, ইফতারের নামে গোগ্রাসে যা গেলে তা আমার মতো অসহায় আর ছদ্মবেকারের একমাসের খোরাক! সাঝিন অবাক হয়না। এমন ধর্মবোদ্ধা সে অনেক দেখেছে। সে দেখেছে পাওনাদারের টাকা না দিয়ে হজ্জে যাওয়া হাজী। সে দেখেছে হজ্জ থেকে ফিরে সেই একই ব্যক্তিকে প্রতিবেশীর জমি আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা মামলা টুকতে! সে দেখেছে অফিসের হে’দ ক্লার্ক কে মাথায় রোজা রেখে মাথায় টুপি লাগিয়ে মুখ অন্য দিকে করে বাম হাত বাড়াতে। নিশ্চয় অই টাকায়ই সে তার পরিজন নিয়ে সেহরি ইফতার করে!

– আচ্ছা তারা না হয় সংযম করছেনা। তাতে খোদার কি আসে যায়?
না, খোদার কিছুই আসে যায়না।
রোজায় মানুষ যে উপোস করে, তার মধ্য দিয়ে অনাহারীর কষ্ট। বুঝা যায় এবং সবার জন্য শিক্ষা হচ্ছে অনাহারী কে আহার করাও। যতটুক সামর্থ্য আছে।
-বুঝলাম এতে অনাহারীর কষ্ট এতে অনুভব করা যায়। কিন্তু অনাহারী রোজা পালন করে কার কষ্ট বুঝবে?

সাঝিনের বৃদ্ধ প্রতিবেশীটার কথা মনে পড়ে যায়। এক পা কবরে গেছে তবুও এই লোকের কষ্ট গেল না। এইবয়সে কামলা খাটতে হয় অপরের জমিতে।
এক বন্ধু ফোন এই সময়ে।
-চল দোস্ত আজ বাইরে ইফতার করি।
সাঝিন না করে দেয় মুখের উপর। তাকে এই টাকা বাঁচিয়ে জমা রাখতে হবে। সে জানে ঈদ পর্যন্ত এই সংখ্যা দু শ এর বেশি হবেনা। তাও সে রাখবে। ঈদের জামাতে মসজিদের ঈমাম সাহেব কে যে টাকা দিতে হবে তাও সে দেবে না। অতি গোপনে সে এই সামান্য টাকা( দু কাপ কফির) টাকা ঐ প্রতিবেশির হাতে গুঁজে দিবে।
কে জানে বৃদ্ধের অশ্রুস্নাত চোখের দিকে তাকানোর সাহস সাঝিনের থাকবে কিনা!

১ thought on “সংযত সংযম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *