পরজনমে হইও যুবক/যুবতী

সবাই আমরা অনেক অনেক দিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চাই। অমরত্ব পেলে তো কথাই নেই। আহ…কি সুখ এই বেঁচে থাকা, কি সুন্দর এই পৃথিবী, কি মনোরম এই জীবন। বেঁচে থাকতে পারাটাই অনেক কিছু হয়তো বা সব কিছু বহু ক্ষেত্রে। তবে বেঁচে যে আছি আমরা দীর্ঘদিন এই পৃথিবীতে তাঁর তো একটা হিসেব হয়। দিন, মাস বছর হয়, হয় দশক, অর্ধশতক,শতক।আমাদের জীবন সুতোর মাপ। যে যেভাবে পারি এই সুতো আরও বড় করতে চাই।কোন আপত্তি নেই তাতে।অমরত্ব পাবার আশা মানুষের চিরন্তন। অনন্ত কাল বেঁচে থাকা বা অনন্তের মাঝে নিজেকে বাচিয়ে রাখা। সেটাও বেশ ভালো আইডিয়া। সমস্যা হল এই সুতোর মাপ আমরা আবার সদাই লুকিয়ে রাখার প্রয়াস করি। অর্থাৎ আমাদের মাঝে বয়স লুকানোর একটা আজগুবি প্রবনতা আছে। আমরা যদি বেশীদিন বেঁচে থাকি, বেশী বছর তো পার হবে, আর যতই বছর পার হবে আমাদের বয়স বাড়বে। এতে গোপনীয়তার কি কোন ব্যপার থাকতে পারে! বহুকাল শুনে এসেছি মেয়েদের তাদের বয়সের কথা জিজ্ঞেস করতে হয় না, কারণ তারা নিজেদের সঠিক বয়স বলতে সাচ্ছন্দ বোধ করে না। এই কথাগুলো আবার বলে পুরুষ জাতি।তো মেয়েরা না হয় বয়স কিছু গোপন করল তাদের মারকেট ডিমান্ড অনুযায়ী। ছেলেরা কেন বয়স গোপন করে? মারকেটে কি কম বয়সী ছেলেদের ডিমান্ড বেশী? আমি আমার পুরুষ সহকর্মীদের মাঝে দেখি বয়স গোপন করার আশ্চর্য প্রবনতা। কেউ কারো থেকে বয়সে বড় হতে চায় না, সবাই সবার থেকে ছোট হতে চায়। বয়স কমাতে যেয়ে তারা এমন কি মা বাবার বিয়ের সালকে বেশ অবলীলায় কয়েক বছর সামনে নিয়ে আসে। তাঁর বিয়েও চলে আসে কয়েক বছর সামনে। ভুল করে বলে ফেলা প্রথম সন্তানের জন্ম সাল তাদের প্রথম বিবাহ বারসিকির বেশ কিছু বছর আগে হয়ে যায়। দুজন সহকর্মীর এই প্রতিযোগিতায় আতংকিত হয়ে পরি এটা দেখে যে একজন তাঁর ছেলের সমবয়সি হয়ে যাচ্ছে।
এই মানসিকতার কারণ খুঁজতে যেয়ে ভাবি হয়তো মানুষ সর্বদা নিজেকে তরুণ বা নবীন দেখাতে চায়। তরুন সুন্দর, প্রাণবন্ত; সে কারনেই বুঝি নিজেকে তরুন প্রমান করা! আর সেজন্য গোচরে বা অগোচরে কোন শিকারকে মান্দন্ড হিসেবে ধরে তাঁর থেকে ছোট হতে চাওয়া বয়সের দিক থেকে। আবার হতে পারে কিছু দিন যদি আমি নিজেকে ছোট প্রমান করতে পারি তাহলে আরও কিছুদিন আমার এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার জন্মাবে।আরও হয়তো অনেক মনস্তাত্তিক কারণ আছে যার সরূপ মনোবিজ্ঞানীরা ভালো বলতে পারেন।আমার যা পর্যবেক্ষণ তাহলো বয়স গোপন করার প্রবনতা মেয়েদের মধ্যে যতটা আছে ছেলেদের মধ্যেও ঠিক ততটাই বর্তমান। কোন বিতর্কের অভিপ্রায়ে আমার এই বক্তব্য নয়। কিছুদিন বেশী যদি নিজেকে প্রাণবন্ত তরুন জাহির করতে পারি, আরও কিছুদিন বেশী যদি পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার লাভ করি তাহলে কে না চাইবে তাঁর জন্ম সাল আরও কিছুদিন টেনেটুনে সামনে নিয়ে আসতে।আর যদি এসব কিছু নাই হয় তাহলেও বলতে পারার সুখ তো আছে।ছেলেবেলাতে নিজেকে বড় প্রমান করার আপ্রান ইচ্ছে, আমি বাবা বা মার সমান বড় নিদেনপক্ষে বড় আপা বড়/ভাইয়ের সমান বড় কবে হতে পারবো সেই দূর্বার লোভ ছেলেবেলা থেকে আর বড়বেলাতে আসতে পারে না।বড়বেলাতে কাজ করে নিজেকে তরুণ দেখানোর একশ একটা প্রসাধনী, ইয়োগা, লেজার ট্রিটমেন্ট আরও হাজার রকমের বিউটি টিপস।আরও শুনেছি স্বর্গে যেসব লোভনীয় ব্যপার স্যাপার আছে তাঁর মাঝে একটি হল স্বর্গবাসী কখনই বৃদ্ধ হবে না। তাঁর বয়স থমকে রবে সেই আকাঙ্ক্ষিত যুবতে।তারমানে মৃত্যুর পরও মানুষের মাঝে রয়ে যাবে এই তারুন্যের প্রতি আকর্ষণ।এখন থেক আমি শুধু এই দোয়াই করবো আমার সকল অনুজদের জন্য পরজনমে হইও যুবক/যুবতী।

৫ thoughts on “পরজনমে হইও যুবক/যুবতী

  1. এই মানসিকতার কারণ খুঁজতে যেয়ে

    এই মানসিকতার কারণ খুঁজতে যেয়ে ভাবি হয়তো মানুষ সর্বদা নিজেকে তরুণ বা নবীন দেখাতে চায়

    হয়ত না। এটাই চায় মানুষ। ভাল লাগল আপনার লেখা।

  2. ভালই হইছে , তবে প্রবণতা টা
    ভালই হইছে , তবে প্রবণতা টা এখন কমে আসতেছে
    তবে মেয়েরা বয়স বেশি জিজ্ঞাস করে , আমি এর শিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *