প্রগতি

আমার জন্ম গত শতাব্দীতে,
সে হিসেবে আমি বিংশ শতাব্দীর
মানুষ। আর বেড়ে ওঠা একবিংশ তে।
তাই এই যুগ
সন্ধিক্ষণে দেখা কয়েকটা ব্যাপার
কিছুদিন মাথায় ঘুরঘুর করছে।
গ্রামেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা তাই
আমি পুরোদমেই গায়ের ছেলে।



আমার জন্ম গত শতাব্দীতে,
সে হিসেবে আমি বিংশ শতাব্দীর
মানুষ। আর বেড়ে ওঠা একবিংশ তে।
তাই এই যুগ
সন্ধিক্ষণে দেখা কয়েকটা ব্যাপার
কিছুদিন মাথায় ঘুরঘুর করছে।
গ্রামেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা তাই
আমি পুরোদমেই গায়ের ছেলে।
গায়ের সমাজেরই দু চারটে প্রসঙ্গ আজ
মনে পড়ল। আমাদের বাড়িটা অর্থাৎ
গ্রামটা জেলা শহর
থেকে বেশি দুরে না, যদিও তখন
পাকা রাস্তার অভাবে গন্ডগ্রামই
হয়ে ছিল। আজকাল
পাকা রাস্তা হয়েছে, বিদ্যুৎ -কেবল
কানেকশন সবই
গেছে তাতে সে গন্ডগ্রাম কতটা ষন্ড
হয়েছে একটু চোখ বোলাই।
শুরুটা আনন্দ উৎসব দিয়েই করা যাক।
কারও বাড়ি বিয়ে,
বা কনে দেখা কিংবা নিদেন
আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে যাওয়া।
তো সাজগোজের একটা ব্যাপার
আছে না?
সাজগোজ ছাড়া নারীর কি চলে? শুধু
নারী কেন পুরুষই কিসে কম? তো কারও
কনে দেখা, ব্যস! পাড়ার মেয়ে বউ
মিলে লেগে গেল দিনভর সাজাতে,
বেচারির প্রান তাতে ওষ্ঠাগত তবুও
সখি, ভাবি, বৌদিদের প্রানই
ভরে না সাজিয়ে। এ এক উৎসব বটে।
আজকাল
শুনছি নাকি সাজানো ব্যাপারটা
উঠেই গেছে। শুনে তো চক্ষু চড়কগাছ!
বলে কি বাঙালী মেয়ের
সাজে অরুচি! এ তো ঘোর কলিরও অধম।
আরে নাহ, এখন পার্লারে যায়
সাজতে, বেশ গর্বের
সাথে খবরটি শোনাল আমার
গ্রামবাসী বন্ধুরত্নটি।
ও তাইতো বলি, আগে প্রায়শ দেখতাম
গায়ের
মেয়ে বউরা দলবেঁধে এবাড়ি ওবাড়ি
এমনকি এপাড়া ওপাড়া বেড়াতে
বেরতেন, বাড়ির বয়ঃস্থা মেয়ের
চুলে তেল দিতে চিরুনির আচড়
কাটতে দেখা যেত মা কাকিদের,
আজকাল আর যে চোখেই পড়ে না।
বন্ধুটি বেশ সহজ সরল, একগাল
হেসে উত্তর দেয়, এত সময় কোথায় হে?
কতকগুলো সিরিয়াল চলছে জানকি?
মা, গোপি, আরও কতকি? সিরিয়াল
ছেড়ে বাচ্চাকে দুধ পর্যন্ত দেয় না,
আর তুমি কে হে, পড়ে আছ চুলবাঁধা আর
পাড়া বেড়ানো নিয়ে।
সে যাকগে, আগে কোন বিপদ
আপদে গ্রামের একজন বিচক্ষণ লোকের
কাছে যেত, পরামর্শ করতে। সম্মান
দিয়ে তাকে বুদ্ধি মোড়ল, গায়ের
ভাষায় বুধোয় মোড়ল বলত, এখন
আছে নাকি তেমন কিছু।
বন্ধুটি এবার বলল, বল কি নেই মানে?
কোন পার্টি তাই আগে বল।
মানে না বোঝায় ফ্যালফ্যাল
করে চেয়ে রইলাম ।
বন্ধুটি বলল, আরে কোন দলের
রাজনীতি করে?
বললাম, কেন?
আরে এটাই তো মজা,
যদি শক্তিশালী দল হয়
তবে গরুতে ক্ষেত খাওয়ার দরুন জেলও
খাটতে হতে পারে আর দুর্বল
হলে মিটমাট।
আর যদি রাজনীতি না করে?
তবেও উপায় আছে টাকা ছাড়।
পরিমান গুনে বিচার।
তবে তখন যে তরুন যুবক ছেলেদের ক্লাব
ছিল, সংঘ ছিল, খেলার
কিংবা গানের দল ছিল।
কদিন পরপরই হয় খেলার টুর্নামেন্ট নয়ত
দেশীয় গানের আসর জমাত? এখন হয়কি?
আলবৎ হয়, হিন্দি গানের কনসার্ট হয় আর
নির্বাচনের মুখে নেতার
ডোনেশনে ক্রিকেট বা ফুটবল
টুর্নামেন্ট।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম ও, এই
তবে অবস্থা!
বন্ধুটি বিজয় গৌরভে হেসে বলল, হ্যা,
এখন কি আর আমরা সেই গন্ডগ্রাম
আছি? মডার্ণ হয়েছি না? প্রগতির
ছোঁয়া গ্রামেও লেগেছে না?
ততোধিক জোরে পুনঃ দীর্ঘশ্বাস
ছেড়ে বললাম, হ্যা তা বটে। অসম
দুঃখিত অসীম প্রগতি।

১ thought on “প্রগতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *