প্রিয়তমেষু……..

বেশ কিছু দিন যাবত ঠিক কিছু দিন না, কয়েক মাস যাবত চিন্তা করছিলাম এখনকার ছেলে-মেয়ে দের প্রেম পত্র লেখা শেখাব। এর কারণ এখনকার ঠুনকো সম্পর্ক যার মাঝে কোন অনুভূতি থাকে না। যার শুরু এবং শেষ পুরোটাই দেহ কিংবা আত্ম-কেন্দ্রিক। যার শুরুই হয় অনলাইনে এবং শেষও এই অনলাইনেই। এই ধরণের কিছু চিন্তা থেকেই এই লেখা টা লিখা। এ ছাড়া আর কোন কিছুই নয়। একে সিরিয়াসলি না নেয়ার জন্যে অনুরোধ করছি।

প্রিয়তমেষু,


বেশ কিছু দিন যাবত ঠিক কিছু দিন না, কয়েক মাস যাবত চিন্তা করছিলাম এখনকার ছেলে-মেয়ে দের প্রেম পত্র লেখা শেখাব। এর কারণ এখনকার ঠুনকো সম্পর্ক যার মাঝে কোন অনুভূতি থাকে না। যার শুরু এবং শেষ পুরোটাই দেহ কিংবা আত্ম-কেন্দ্রিক। যার শুরুই হয় অনলাইনে এবং শেষও এই অনলাইনেই। এই ধরণের কিছু চিন্তা থেকেই এই লেখা টা লিখা। এ ছাড়া আর কোন কিছুই নয়। একে সিরিয়াসলি না নেয়ার জন্যে অনুরোধ করছি।

প্রিয়তমেষু,

বড় নির্লজ্জ মনে হচ্ছে আমাকে? মনে হচ্ছে মাত্র কয়েকদিনের পরিচয়ে কি করে কাউকে প্রিয়তমেষু সম্বোধন করে কেউ? মনে হচ্ছে কি “এইরকম নির্লজ্জ কাউকে আগে চোখে পরে নি তো?”

কিন্তু আমাকে নির্লজ্জ করেছ তুমি সেদিনই, যেদিন প্রথম দেখা দিয়েছিলে। কেড়ে নিয়েছিলে আমার মাঝে থাকা সকল দাম্ভিকতা। কবিদের মতন তোমার চুল কিংবা চোখের প্রসংসা করবো না। সেটা আমার স্বভাবে নেই। কিন্তু এটুকু বলতে পারি হৃদয়ের কোথাও কোন এক কোনে সুপ্ত থাকা কোন এক অনুভুতিকে জাগিয়েদিয়েছ তুমি। সেই অনুভূতির স্রোত স্রোতস্বিনী নদীর মতই বয়ে চলছে আমার ভেতরে। ক্ষরস্রোতা নদী যেমন স্রোতের টানে ভেঙ্গে চুরে গুড়িয়ে দেয় তার আশে পাশে থাকা স্বল্প মজবুত ডাঙ্গার অংশটুকু তেমনি তুমার চাহনিও ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল আমার অন্তরকে। অনুভূতিহীন মানুষের নির্দিষ্ট একটি অনুভূতি ফিরে পাবার যন্ত্রণা তুমি কতটুকু বুঝবে সেটা আমার জানা নেই, কিন্তু সেই অনুভূতিকে বহন করে চলার মতন শক্ত কাজও বোধকরি আর কিছুই নেই পৃথিবীতে।

নির্ভীক মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার হওয়া কতটা কষ্টের তা তুমি বুঝবে কিনা জানিনা। অনুভূতি মানুষকে দূর্বল করে। অনুভূতির বিসর্জন দিতে দিতে ঠিক এমন এক সময়ে আমার মাঝে অনুভূতির সঞ্চার করেছিলে যখন নিজেকে ঠিকই অনুভূতিহীন ভাবতে শুরু করেছিলাম। জগতের কোন কিছুতেই নিজেকে নাড়া না দেয়ার এক পর্যায়ে পৌছে যেতে যেতেও পারিনি শুধুই তোমার জন্যে। একটা কথা জানতে ইচ্ছে করে, এমনটি না করলেই কি হোত না??

এই হাস্যকর লেখাটি যখন তুমি পড়ছ হয়ত হাসতে হাসতে খুন হয়ে যাবে তুমি। অথবা তোমার কাছের কোন বান্ধবীকে দেখিয়ে লেখার থেকে রস নিংড়ে সেই রসে নিজেদের হাস্যরসের খোরাক জোগাবে। কিন্তু সেই খুন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যে আরো একজন মানুষ সত্যি সত্যি খুন হয়ে যাচ্ছে সেই ধারণাও তোমার থাকবে না। কিংবা লেখার রস নিংড়ানোর সাথে সাথে কারো শরীর হতে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত নিংড়ে নেবে সেই খেয়ালও হয়তো তোমার থাকবে না জানি।

কাপুরুষ বারে বারে মরে। তোমার দেয়া সেই অনুভূতির প্রকাশ করতে না পারায় প্রতি সেকেন্ডে যে আমার একবার করে মৃত্যু হচ্ছে সে খবর হয়তো তোমার কাছে পৌছয় না। কিংবা পৌছয় না সেই খবরও যে আমার আবারো জন্ম হচ্ছে প্রতিটি মৃত্যুর পরও তোমাকে অনুভূতির প্রকাশ করতে পারার আকাঙ্ক্ষায়।

মায়া খুব জঘন্য অনুভূতি গুলোর মাঝে একটি। মায়ার জালে নিজেকে না জড়ানোর যেই দম্ভ আমার মনে বাসা বেধেছিল সেই দম্ভকে ভেঙ্গেচুরে কত শত টুকরো করে ছুড়ে ফেলেছ তা হয়ত তোমার জানা নেই। কিন্তু মেরুদন্ডের ৩৩ টি কশেরুকা কিংবা শরীরের ২০৬ টি হাড়ের মতই প্রতিটি টুকরোর হিসাব আমার কাছে ঠিকই আছে। হয়তো কখনোই তোমার কাছে বলতে যাবনা হাড়গুলোর জোড়া দিতে তুমি এস। অথবা “একটা ফেভিকল কিনে দিচ্ছি তুমি কি আমার সাথে হাত লাগাবে? টুকরো গুলোকে জোড়া দেব।” কিন্তু আমারও যে বলতে ইচ্ছে করে। জানি বলা হবেনা কোন দিনও।

তুমি হয়তো হাসছ এখনো। কিছুটা অবাকও হচ্ছ এই ভেবে, এই যান্ত্রিক যুগে যেখানে মুঠোফোন, ইমেইল সহ আরো অনেক যোগাযোগের মাধ্যম এখন মূখ্য, সেই সময়ে এই রকম হাতে লেখা চিঠি মানুষ কি করে লিখে?? কিন্তু কারো হাতে লেখা চিঠি কতটুকু আবেগ ধারণ করে, কতটুকু অনুভূতিকে অন্যের কাছে পৌছে দেয় তার হিসেব বা পরিমাপ কোনটাই তোমার কাছে নেই।

কবি কিংবা লেখকদের কথা অনুযায়ী, নারী জাতি নাকি অনেক কিছুই বুঝতে পারে। কেউ তাকে কিছু না বললেও বুঝতে পারে। তবে কেন তোমাকে মুখ ফুটে বলতে হবে আমার অনুভূতির কথা? কেনই বা তুমিই বলতে পার না তোমার আকাঙ্ক্ষার কথা? কেন মুখ বুজে অপেক্ষা কর অন্যকারো বলার জন্যে? অনুভূতির যোগান যেমন চাইলেই পাওয়া যায় না তেমনি অনুভূতি কেড়েও নেয়া যায় না। শুধু এটুকুই জেনে রেখ, তোমার উসকানি প্রাপ্ত অনুভূতি রয়ে যাবে হৃদয়ের কোন এক স্থানে তোমারই অপেক্ষায়, শুধুই তোমার অপেক্ষায় … …

ইতি
দূর্ভাগা কোন কাপুরুষ

১২ thoughts on “প্রিয়তমেষু……..

    1. আমি কাঠ খোট্টা টাইপ মানুষ 😉
      আমি কাঠ খোট্টা টাইপ মানুষ 😉 কিন্তু ইদানিং পুলাপাইনের ভোগলামী দেইখা বিরক্তে এই জিনিষ লেখা 😛

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *