তুর্কি খিলাফত আর জঙ্গি খিলাফত নিয়ে দুটি কথা .

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হয় অক্ষশক্তি। অটোমান সাম্রাজ্যও তার মধ্যে ছিল। অটোমান সাম্রাজ্যে খলিফার শাসন ছিল। যুদ্ধে ভয়াবহ পরাজয়ের পর অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার শঙ্কা দেখা দেয়। ইরাক, লেবানন, প্যালেস্টাইন, মিশরসহ কয়েকটি টেরিটরি সাম্রাজ্য থেকে বেরিয়ে যায়। টিকে থাকে কেবল তুরস্ক আর নখদন্তহীন খিলাফত। যুদ্ধের পর তুরস্ক ও তুরস্কের খিলাফতকে রক্ষা করতে ব্রিটিশরাজের প্রতি দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশীয় আবাল কিছু মুস্লিম ( আরে বাবা তুর্কির খিলাফত নিয়া তোদের মাথাব্যাথা কেন, মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশী)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হয় অক্ষশক্তি। অটোমান সাম্রাজ্যও তার মধ্যে ছিল। অটোমান সাম্রাজ্যে খলিফার শাসন ছিল। যুদ্ধে ভয়াবহ পরাজয়ের পর অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার শঙ্কা দেখা দেয়। ইরাক, লেবানন, প্যালেস্টাইন, মিশরসহ কয়েকটি টেরিটরি সাম্রাজ্য থেকে বেরিয়ে যায়। টিকে থাকে কেবল তুরস্ক আর নখদন্তহীন খিলাফত। যুদ্ধের পর তুরস্ক ও তুরস্কের খিলাফতকে রক্ষা করতে ব্রিটিশরাজের প্রতি দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশীয় আবাল কিছু মুস্লিম ( আরে বাবা তুর্কির খিলাফত নিয়া তোদের মাথাব্যাথা কেন, মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশী)
অযুহাত ছিল, এই খিলাফত নাকি মুস্লিম জাহানের ঐক্যের প্রতীক ! তাই এটা ভাঙতে দেয়া উচিত না !
যেহেতু আবালের সংখ্যাই বেশী এবং আন্দোলনটাও ব্রিটিশবিরোধী, তাই মহাত্মা গান্ধী এতে সমর্থন দেন এবং অসহযোগ আর খিলাফত আন্দোলন একত্রে চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতের স্বাধীনতায় আন্দোলনটা হয়ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আদতে আন্দোলনটার মূলে ছিল ধর্মীয় গোড়ামি। নইলে বিশ্বযুদ্ধের জন্য অন্যতম দায়ী একটা দেশের খলিফাকে রক্ষায় ভারতীয় মুস্লিমের এত দরদ কেন?
যাহোক তুরস্কে তখন ঘটছে ভিন্ন ঘটনা। সেখানে খলিফাদের দীর্ঘদিনের অনাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে তরুণ সমাজ। তাদের অন্যতম নেতা কামাল আতাতুর্ক। আন্দোলনটা ছিল ধর্মনিরপেক্ষ। শীঘ্রই তুরস্কে তুমুল জনপ্রিয় হল আন্দোলনটা। এখানে লক্ষণীয়, যেখানে স্বয়ং তুর্কিরাই খিলাফতের পক্ষে ছিলেন না, সেখানে মাসীর মত দরদ দেখিয়ে ভারতীয় মুস্লিমরা খিলাফত রক্ষার জন্য লড়ে যাচ্ছিল।
তাদের আন্দোলনের উপর চপেটাঘাত আসে যখন আধুনিক তুরস্কের জনক মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ১৯২৪ সালে তুরস্কের শাসনভার তুলে নেন এবং তুরস্ককে একটি ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক দেশ হিসেবে গড়ার পদক্ষেপ নেন। তখন ভারতীয় মুস্লিমরা বোধহয় পুরাই বেকুব বনে যায় !
যাহোক, এত আগের ইতিহাস ঘাটছি কেন প্রশ্ন জাগতে পারে। বলছি।
খিলাফত গলাধাক্কা খাওয়ার ৯০ বছর পর আবার নাকি দুনিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ! আর তা করেছে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ হত্যা করা জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস ! তারা সিরিয়া আর ইরাকের দখল করা ভূখন্ড নিয়ে এই খিলাফত রাষ্ট্র কায়েম করার ঘোষণা দিয়েছে। আইএসআইএসের নেতা আবু বকর আল বাগদাদিকে খলিফা বা মুসলিম জাহানের নেতা ঘোষণা করা হবে বলে জানায় এই সংগঠন। তিনি খলিফা ইব্রাহিম নামে পরিচিত হবেন।
একটা বাঙলা প্রবাদের কথা মনে পড়ে গেল। গায়ে মানেনা আপনি মোড়ল। নিজেদের মুসলিম জাহানের খলিফা দাবি করছে একটা জঙ্গি সংগঠন !
খিলাফত যখন প্রতিষ্ঠা হয়েই গেছে(!) আমার ধারণা এই জঙ্গি খিলাফতকেও হয়ত কেউ মুস্লিম জাহানের ঐক্যের প্রতীক ভেবে বসবে। একশ্রেণীর মানুষ তাদের প্রতি সহানুভূতি নিয়ে আগায় যাবে! যদি গোড়াতেই এদের বিষদন্ত ভেঙে দেয়া না হয় তাহলে হয়ত দেখা যাবে আমাদের আল্লামা শফিরাও জঙ্গি খিলাফত রক্ষার আন্দোলনে নেমে পড়েছে ! ধর্মান্ধদের দ্বারা সবই সম্ভব।
এই জঙ্গিদের দমনে আমেরিকা ও রাশিয়া এক হয়ে ইরাকিদের সাথে কাজ করছে।
আশা করি এই তথাকথিত খিলাফতিদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে ।

৪ thoughts on “তুর্কি খিলাফত আর জঙ্গি খিলাফত নিয়ে দুটি কথা .

  1. ইরাক সিরিয়া ভিত্তিক ISIL
    ইরাক সিরিয়া ভিত্তিক ISIL খিলাফত ঘোষণা করে দিসে শুনলাম। এখন খলিফা হওয়ার জন্য আবেদনপত্র ছাড়লে জমা দিমু ভাবতেসি। :চশমুদ্দিন:

  2. তারা যদি টিকে যায় তাদের নামও
    তারা যদি টিকে যায় তাদের নামও তাদের উত্তর পুরুষেরা সোনার অক্ষরে লিখে রাখবে।। আর যদি হেরে যায় তবে জঙ্গিই থাকতে হবে।

  3. জঙ্গী খেলাফত বাংলাদেশে
    জঙ্গী খেলাফত বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা আর সম্ভব নয়। যদি প্রতিষ্ঠা হয়, সেটা করবে আওয়ামীলীগের পৃষ্ঠপোষকতায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *