বিচার বিচার খেলা

খেলা যে চলছে, এ নিয়ে কারো মনেই আর তেমন সন্দেহ নাই। নেহাত দলীয় নেতা কর্মীরা কথাটা প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন না, এই যা। বাকীরা যে যার সাধ্যমত টিপ্পনী কাটছেন। কেউ ‘রহস্য’ দেখছেন কেউ ‘ষড়যন্ত্র’। তবে এভাবে কদিন চালাবেন, সেটাই বোধগম্য হচ্ছে না। ‘গণজাগরণ’ এর একটা মোটামুটি গোছের মৃত্যু হওয়ার পরও এমন নাটক কেন করতে হচ্ছে, রহস্যটা আসলে সেখানেই। এদের কারুরই যে কিছু হবে না, তা এখন অনেকটাই পরিস্কার। আইনের যত ধরনের মার প্যাচ আছে, একে একে খেলা হবে। কোনদিন অসুস্থ, কোনদিন বিচারকের বিব্রত হওয়া। আপীল তো আছেই। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা দেয়ার খেলা হয়তো খেলবে না, তবে বাকী সব পাঁয়তারা একে একে চালনো হবে। সময়টা সরকারের ৪ বছরের মাথায় হলে, তাও বোঝা যেত পরের নির্বাচনের জন্য খেলছে। কিন্তু এখন কেন খেলছে? এই খেলা কি আরও সাড়ে চার বছর টানা যাবে? জামায়াতের সঙ্গে যে আঁতাতের গুজব আসছে, তা দিন দিন শক্ত পোক্ত হচ্ছে। হেফাজত নিজে দুর্বল হয়ে গেছে না কারো আঙ্গুলি হেলনে চুপ করে আছে সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। বিএনপি এর যে এই মেরুদন্ডহীন অবস্থা কিংবা জামায়াত যে কোন আন্দোলন করছে না, সেটাও কি এই খেলার অংশ? রায়ের আগের দিন বেশ কিছু রটনা বাতাসে ভাসছিল। হরতাল দিবে কি না? তবে তেমন কোন সাজ সাজ রব ছিল না। তখনই একটা আন্দাজ পাওয়া গিয়েছিল, কিছুই হবে না রায়ের দিন। এবং তাই হল। সরকার ভয় পাচ্ছে কেন? সেটাও ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না। রায় ‘ফাঁসি’ ছাড়া অন্য কিছু হলে কে আর কি বলবে? গণজাগরণ আর তাঁর ম্যাজিক দেখাতে পারবে না। কিছু জনতা আসবে। কিছু জনতা টিভির সামনে খেলা দেখতে বসবে। আর কিছু নেতা কর্মী বিবৃতি দিবে, ‘আইন তাঁর নিজস্ব গতিতে চলবে’ মার্কা কিছু একটা। গণজাগরণকে কিভাবে মোকাবেলা করবেন, ঠিক করে রাখেন। অন্তর্কলহ? না হালুয়া রুটির লুটপাট? যে কোন কিছুর একটা বাহানা চাপিয়ে বানচাল করা যেতে পারে। পুলিশ দিয়েও আক্রমণ করানো যেতে পারে। মোদ্দা কথা, গণজাগরণ আর কোন সমস্যা না। সৌদি যেমনটা বলছে করে ফেলুন। বেশি ঝামেলা করবেন তো এখানে আবার একটা ‘আইসিস’ বানিয়ে ফেলবে। আর এমনিতেই তো বুঝতে পারছেন মুক্তিযুদ্ধ এর লেজ ধরে আবার নির্বাচন করতে পারা যাবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন, এই বলে আবার ভোট চাইতে যাওয়া, একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। বরং পদ্মা সেতু কিংবা তিস্তা চুক্তি এসব দিয়ে সারতে চেষ্টা করুন। যদিও কিছুতেই কিছু হবে বলে মনে হয় না। শেষ ভরসা, ৫ই জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন। তেমন কিছু আবার ঘটাতে পারলে, আপনাদের আর পায় কে? অবশ্য বর্তমান ফর্মুলায় বিএনপি যাবে না, বলেই রেখেছে। আর উপজেলা নির্বাচনে যে খেলা হল, তারপরও এই ফর্মুলায় নির্বাচনে গেলে বিএনপির সবকুল ই যাবে। এখনও যে খুব বেশি কুল আছে, তা না। ওপরের স্তরে ধান্ধা বাজ নেতাদের বসানো উপকারিতা এখন টের পাচ্ছে। কোন আন্দোলন এর জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। চাটুয়াকারিতার পুরষ্কার স্বরূপ যাদের বিভিন্ন শাখার সভাপতি করা হয়েছিল, তাঁদের বেশির ভাগেরই এখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচি’ অবস্থা। আসলে সবাই সরকারি দলের শাখা সংগঠনের সভাপতি হতে আগ্রহী। বিরোধী দলের না। আবার ১/১১ না হলে মনে হয় না তেমন কোন অঘটন হবে। থাইল্যান্ড কিংবা মিশর হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে অসম্ভব না হলেও বেজায় ক্ষীণ। ফলে সেদিক দিয়েও তো তেমন কোন সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। যাবজ্জীবন ই তো দিতে চান? দিয়ে ফেলুন। শিরোমণির টা যখন মেরুদণ্ডহীন গণজাগরণ মেনে নিয়েছে তখন আর দ্বিতীয় জনের টা মানবে না কেন? আপনি নিশ্চিত থাকুন, ৫ই ফেব্রুয়ারী আর হবে না। অন্ততঃ এই নেতৃত্বের পেছনে আর মানুষ আসবে না। তাই বলছি, অনেক তো হল, বিচার বিচার খেলা। এবার রেহাই দিন। যা রায় দিতে মন চায় দিয়ে ফেলুন। বেকসুর খালাস থেকে যাবজ্জীবন—দিয়ে দিন। এমনকি আগের গুলোকেও যদি কোন বাহানায় ছাড়তে চান, তাও করতে পারেন। নতুন আঁতাত কিংবা মন্ত্রি বানানো, সেটাও মনে হয় মেনে নেয়া হবে। কেউ কিছু বললে শুধু কয়জন পুলিশ আর আপনার কর্মী বাহিনী পাঠিয়ে দিবেন। তাতেই হয়ে যাবে। হেফাজতকেও লাগবে না। শুধু সাহস করে কাজটা করুন। বিচার বিচার খেলা আর ভাল্লাগছে না।

১ thought on “বিচার বিচার খেলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *