কালশীর ঘটনায় দায়ী যারা

কালশীর ঘটনা তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। এখনও দায়ী কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি পুলিশ। ইলিয়াস মোল্লা ও পুলিশের দিকে অভিযোগের তীর গেলেও এ পর্যন্তই। ঘটনা আপাতত এখানে এসেই থমকে আছে। অভিযুক্ত সব পক্ষই তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে। বিহারীরা, নাগরিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা দুর্বলভাবে এখনো অভিযুক্তদের বিচার ও শাস্তির দাবি করে চলেছেন। আরেকটা ইস্যু এসে হাজির হলেই এই দাবির আওয়াজও স্তিমিত হয়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এভাবে রামু, মালোপাড়ার পাশে কালশী একটি নতুন নাম হিসেবে যোগ হবে। আর এখানেও অপরাধীরা থেকে যাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে! কিন্তু কারা এই অপরাধী? কার কোন স্বার্থ হাসিলের জন্য নিভে গেল ১০টি তাজা প্রাণ, সেটাই অনুসন্ধান করেছি আমরা।

দায়ী যারা
এমপি ইলিয়াস মোল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার তিন দিন আগে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বাদানুবাদের পর তিনি বিহারীদের ৪৮ ঘণ্টার ভেতর দেখে নেয়া হবে মর্মে হুমকি দেন। ঠিকঠাক তিন দিন বাদেই শবে বরাতের রাত শেষে ভোরে, পুলিশের সামনেই ক্যাম্পের ইয়াসিনের ঘরে তালা ঝুলিয়ে এবং চারপাশে গান পাউডার ছিটিয়ে ১০/১৫টি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় যুবলীগের আবু তাহের। সে পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানার লোক।

জুয়েল রানার নেতৃত্বে দেড় শতাধিক লোক বিহারী ক্যাম্পে হামলা চালায় এবং লুটপাট করে। তখন গিয়াস, গেসু, সোহাগ, মুকুল, রুবেল, ফরমা ইব্রাহীম, বাবুল, আলমগীর, বিল্লাল, বিল্লালের ছেলে জুয়েল ছাড়াও হেলাল, ফারুক, টিটু ও সেলিম নামক স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিল। বিভিন্ন স্থানে এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিহারীরা।

বিহারী ক্যাম্পের বিভিন্ন ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানি ও হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর চালায় মুরাদ, রনি, আরজু, ইনু, নীলা, সাব্বির, পুতুল, এনামুল, ফিরোজ, ছুটু, পাপ্পু ও হাসান। এদের প্রত্যেককেই মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে পুরো হামলার অগ্রভাগে ছিলেন পল্লবী থানা যুবলীগের নেতা জুয়েল রানা, শরিফুল ইসলাম, সেন্টু ও নিয়াজ। গোয়েন্দা রিপোর্টে হামলায় এদের জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে। পুলিশ এই চারজনকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে বলে দাবী করেছে। তবে গ্রেপ্তার করছে না কেন তা বলেনি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জুয়েল রানাই এদিকে এমপির ডান হাত। ওদিকে আছে আশিক আর ঝুট বাপ্পীকালা ও তার ভাই তৈয়ব এবং তাদের মিত্র তাজু এমপির হয়ে বাউনিয়ার দিকে সব কাজকর্ম করে। তাদের সহযোগী শাকিল, নাসিম ও রিয়াজ। সন্ত্রাসী নাইজ্যা ও ফালান গ্রুপের নেতারা ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ার পর তাদের বাহিনীও ভিড়েছে এই চক্রে।

এদের সবাইকেই ঘটনার তিন দিন আগে বিদ্যুৎ নিয়ে বাহাসের সময় এমপির পাশে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এছাড়া এমপির বাহিনীর অন্যতম বাদ বাকি ক্যাডাররা হচ্ছে শুটার জুয়েল, কিলার আড্ডু, বিহারী পারভেজ, বিহারী শাকিল, তুলা রনি, গিশ বাবু, জামিল, রমজান, বাদল, তৌহিদ, জিশান, জাবেদ, সুমনসহ আরও প্রায় ২০-৩০ জন।

দায় শুধু এমপি ও তার কর্মীদের নয়, অনেকখানি বর্তায় পুলিশের কাঁধেও। বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দা শাহজাদী বেগম আমাদের জানান, ঘটনার দিন সকালে যুবলীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ একজোট হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পল্লবী থানার এসআই জহির তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন ও মারধর করেন।

ওই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিহারী ক্যাম্পে বহিরাগতরা হামলা চালানোর সময় পুলিশ তাদের সঙ্গেই ছিল। হামলাকারীরা যখন লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পের দিকে আসতে থাকে, তখনও তাদের সঙ্গে পুলিশ ছিল। কালশী নতুন রাস্তার মোড় থেকে ক্যাম্পের সামনে আসার সময় বহিরাগতদের সঙ্গে পুলিশও আসে। এমনকি বহিরাগতরা পুলিশ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে, এমন দৃশ্যও সেখানে দেখা গেছে।

স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপেট্রিয়েশন কমিটির (এসপিজিআরসি) কুর্মিটোলা ক্যাম্পের প্রচার সম্পাদক মো. হাসান বলেন, ”ইলিয়াস মোল্লাহর নির্দেশে পুলিশের সহায়তায় যুবলীগ হামলা চালিয়েছে। হামলার পর আগুন নিভাতে দেয়নি পুলিশ। ওই সময় পুলিশ ক্যাম্পে গুলি চালিয়েছে। পুলিশ জানে বলেই তাদের ধরছে না। কেননা তাদের ধরলে পুলিশ নিজেই ফেঁসে যাবে।” কুর্মিটোলা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে গত সোমবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল দাবি করেন, ”পুলিশের ব্যর্থতার কারণেই মিরপুরের ঘটনা ঘটেছে।”

বিহারীরা পল্লবী থানার ওসি সৈয়দ জিয়াউজ্জামান, এসআই জহির ও সেকেন্ড অফিসার এসআই ইয়াসিনের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে। ওয়েলফেয়ার মিশন অব বিহারীজ-এর সভাপতি মোশতাক আহমেদ বলেন, ”বহিরাগতদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে পল্লবী থানা। এ থানার কিছু কর্মকর্তা বহিরাগতদের সঙ্গে টাকা-পয়সার বিনিময়ে এ ঘটনাকে নীরব সমর্থন জানিয়ে আসছে। যখন এখানে আগুন লাগে তখন তা নেভানোর চেষ্টা না করে বরং যারা আগুন নেভাতে এসেছিল তাদের দিকে রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ।”

ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত যেসব সন্ত্রাসীর নাম এসেছে তাদের কেউ গ্রেপ্তারও হয়নি। পুলিশের সম্পৃক্ততা আছে এমন অভিযোগ উঠলেও বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি কেন এই হামলা তাও এখন পর্যন্ত সরকার পরিষ্কার করতে পারেনি।

কেন হামলা
জানা গেছে, কুর্মিটোলা বিহারী ক্যাম্প, মিল্লাত ক্যাম্প, নতুন কুর্মিটোলা ক্যাম্প একেবারেই কাছাকাছি অবস্থিত। মিরপুরের এই সংসদীয় এলাকায় (ঢাকা-১৬) মোট ৪০টি বিহারী ক্যাম্প রয়েছে, যাতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার বিহারী বসবাস করে। এর মধ্যে কুর্মিটোলা ক্যাম্পে প্রায় ৫ হাজার বিহারীর বাস। সরকারি হিসাবে ৭৭৪ পরিবার। এটি মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ই ও ডি ব্লকে অবস্থিত।

বিহারীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বেড়েছে এবারের নির্বাচন থেকে। গেল সংসদ নির্বাচনে কুর্মিটোলা ক্যাম্পের বিহারীদের মধ্য হতে নৌকা প্রতীকে আশানুরূপ ভোট না পড়ায় বর্তমান সাংসদ এ ক্যাম্পের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে আসছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় এমপি ও তার লোকজনের জমিখেকো মনোভাব। জমি দখল, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণের মতো সব অভিযোগই আছে এমপির ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। যে জুয়েল রানার নেতৃত্বে কালশীতে হামলা হয়েছে, তার নামে ইতোপূর্বে ধর্ষণের মামলা ছিল। ধর্ষিতা সেই মেয়েটি অপমানে আত্মহত্যা করেছিল। জমি নিয়ে এমপির লোকজনের সঙ্গে বিভিন্ন গ্রুপের বিবাদ ও তা নিয়ে ওই এলাকায় দ্বন্দ্বটা সাধারণ ঘটনা।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ ছুতো। থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ক্যাম্পের ৭৭৪ পরিবারের জন্য রয়েছে মাত্র একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার। ক্যাম্পের পূর্ব দিকে বাউনিয়াবাদ বাজার ও লালমাটিয়া এলাকার শুরুতেই রয়েছে রাজুর বস্তি। পশ্চিমে বেগুনটিলা এবং মুক্তিযোদ্ধা বস্তি। এই বাউনিয়াবাদ, লালমাটিয়া, বেগুনটিলা ও কিছুটা দূরবর্তী রূপনগরই হচ্ছে এমপি ইলিয়াস মোল্লাহর ঘাঁটি। এর মধ্যে রাজু বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগের সূত্র ধরে বিহারীদের সঙ্গে ঘটনার তিনদিন আগে বাদানুবাদ হয়। বিহারী নেতারা মনে করেন, এটা একটা ছুতো মাত্র। এখান থেকে বিহারীদের উচ্ছেদ করাই তাদের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশি অবাঙালি পুনর্বাসন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, ”কালশী-বিমানবন্দর নতুন সড়কটি হবার পর এই ক্যাম্পের ও এর আশেপাশের জায়গার দাম বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সন্ত্রাসী ভূমিদস্যুরা কীভাবে বিহারীদের এখান থেকে উচ্ছেদ করে জায়গা দখল করবে তার জন্য নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।” ক্যাম্পের অধিবাসী নিজামুদ্দিন বলেন, ”এই কুর্মিটোলা ক্যাম্পের পাশেই আগে ছিল জাগরণী মাঠ। এখন সেখানে শুধু একটা ক্লাব আছে। সব জায়গা দখল করা হয়েছে। বিহারীদের দু-চারজনকে হাত করে তারা প্রথমে কিছু টাকা দেয়। তারপর কাগজপত্র করে পুলিশ নিয়ে এসে জায়গা দখল করে। বিহারীরা এখন সংখ্যা ও আয়তন, দু-দিক থেকেই কমছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পল্লবী থানার পুলিশ কর্মকর্তারা ইলিয়াস মোল্লাহর মতের বাইরে যেতে পারেন না। ইলিয়াস মোল্লাহর ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করায় এর আগে পল্লবী জোনের একজন এডিসি ও দুই ওসিকে বদলি করা হয়েছিল। এসব নিয়ে মিরপুর জোনের পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেও রয়েছে বদলি আতঙ্ক। সম্প্রতি পল্লবী থানার বর্তমান ওসি সৈয়দ জিয়াউজ্জামানকে বদলি করার চেষ্টা করেন ইলিয়াস মোল্লা। এজন্য এমপি দুবার ডিও লেটার দিয়েছেন। জানা গেছে, এর পরই এমপির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা চালান ওসি। কালশীর ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি এমপির আস্থাভাজন হয়ে ওঠার পরীক্ষায় পাস করেছেন।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের মিরপুর জোনের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইমতিয়াজ আহমেদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ”এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এখনও বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দায়িত্বে অবহেলা ছিল না। ওসির সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, পুলিশ না থাকলে ওইদিন আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটত।”

এমপি ইলিয়াস মোল্লাহর সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ”আমার যা বলার আমি তা অসংখ্যবার বলেছি। বিপক্ষরাই আমার বিরুদ্ধে যা তা বলেছে। আমি চাই, সত্য ঘটনা উদঘাটন হোক। তদন্ত হোক। সত্য উদঘাটন হলেই দেখবেন আমার কোনো দোষ নেই।”
হামলায় যাদের দেখা গেছে, তারা আপনারই লোক, আপনার হয়ে নির্বাচন করেছে, আপনার সঙ্গে কাজ করে। তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিলেন? জিজ্ঞেস করলে উত্তরে বলেন, ”আমার লোক তো অবশ্যই ছিল, তবে হামলায় না। তারা গিয়েছিল ঠেকাতে। বিহারীদের মধ্যে কিছু বহিরাগত আছে। তারা পুলিশ ও আমাদের যারা ঠেকাতে গিয়েছিল তাদের ওপর হামলা করেছে।”
তাহলে হামলাটা করল কারা? এর জবাবে তিনি বলেন, ”তদন্ত করতে দিন। এটা পুলিশ খুঁজে বের করতে পারবে। তারা সেখানে উপস্থিত ছিল। আর এটাই তো তাদের কাজ। দয়া করে আমার বিরুদ্ধে আর যা তা লেখবেন না।”

কালশীতে কী ঘটেছিল, তা এখন আর কারও জানতে বাকি নেই। তবে শুরুতে পুলিশ সব চেপে যাওয়ার ফন্দি করেছিল। পুলিশ প্রথমে জানায় যে, আতশবাজি থেকে আগুন ছড়িয়েছে। এরপর তারা জানায়, আতশবাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে বাঙালি-বিহারী সংঘর্ষ হয়েছে। বিহারীরা অভিযোগ তোলে, স্থানীয় এমপি ইলিয়াস মোল্লাহর ক্যাডাররা ও পুলিশ যৌথভাবে তাদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু প্রথমে তাদের কথা কেউ কানে তোলেনি। বরং একাত্তরের ঘাতক বলে বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকেই বিহারীদেরই অপরাধী সাব্যস্ত করছিলেন।

ঘটনা বিহারীদের পক্ষে বাঁক নেয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মামুন আহমেদের বক্তব্যের সূত্র ধরে। তিনি একটি দৈনিককে জানান, ”আটটি ঘরে তালা লাগানো ছিল। ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে বাধা দেন হামলাকারীরা। পরে ক্যাম্পের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে শিশু-নারীসহ নয়জনের লাশ ও আহত ছয়জনকে উদ্ধার করেন।” এর সঙ্গে যোগ হয় ইন্টারনেটে আপলোড হতে থাকা ভিডিও ফুটেজ।

৮ thoughts on “কালশীর ঘটনায় দায়ী যারা

  1. বিহারীদের নিয়ে কোন ধরনের
    বিহারীদের নিয়ে কোন ধরনের অনুভূতি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিহারীদের কান ধরে উচ্ছেদ করে ক্যাম্পে বহুতল ভবন নির্মান করা হোক। ওরা এইদেশে থাকবে, খাবে, পয়দা করবে আর কথা বলবে উর্দুতে। মামা বাড়ির আবদার নাকি? ওদেরকে ট্রলারে তুলে পাকিস্তান অভিমুখে পাঠায় দেয়া হোক। বিহারী দেখলেই আমার :bum: :bum:

  2. @ ভবঘুরে, আপনাকে কিছু
    @ ভবঘুরে, আপনাকে কিছু প্রশ্ন-
    ১) আপনি কি আগে মানুষ নাকি আগে আপনার জাতি পরিচয়? বিহারীরা কি মানুষ?
    ২) মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকারটা তারা পেতে পারে কি?
    ৩) বিহারী না, ধরুন কেউ যদি জমি দখলের উদ্দেশ্যে কাউকে উচ্ছেদ করে, খুন করে আপনি কি তা সমর্থন করেন?
    ৪) বিহারীদের ক্ষেত্রে আপনি কি তাদের একাত্তরের অন্যায়ের বিরোধিতা করতে গিয়ে নিজেও লাগাতার অন্যায়কেই সমর্থন দিচ্ছেন না?
    ৫) যে বিহারী শিশুটি আগুনে পুড়ে মরে গেছে, তার কি কোনো দায় আছে? শেখ রাসেলের খুনের সঙ্গে বিহারী শিশুদের খুন হওয়ার কোনো তফাত দেখাতে পারবেন?

  3. খুনিদের নামধাম সবই আছে, অথচ
    খুনিদের নামধাম সবই আছে, অথচ পুলিশ এদের খুঁজে পাবেনা। অদ্ভুত একটা দেশ। আর ভবঘুরের সাথে একমত হইতে পারলাম না। তুমি বিহারীদের যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচার করে ফাঁসি দিতে পারো, কিন্তু ঘরে ঢুকায়ে পুড়িয়ে মারতে পারো না। যেই শিশুগুলা মারা গেছে ওদের কি দোষ? একবার ভাবো তো, তোমার জন্ম যদি ঐ বিহারী ক্যাম্পে হতো? মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ইমোশন আমারও কম নাই এটা তুমি জানো ভালো করেই। সেই ইমোশন দেখাতে গিয়ে অমানুষ হতে হবে এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শেখায় না। বরং অমানুষদের বিরুদ্ধে লড়াইটাই ছিল আমাদের যুদ্ধ।

    1. তুমি বিহারীদের যুদ্ধাপরাধের

      তুমি বিহারীদের যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচার করে ফাঁসি দিতে পারো, কিন্তু ঘরে ঢুকায়ে পুড়িয়ে মারতে পারো না।

      সহমত।

  4. উগ্র জাতিয়তাবাদ মানুষকে
    উগ্র জাতিয়তাবাদ মানুষকে মানবতাহীন করে ফেলে। এখানে মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত ধান্ধাবাজি করাটাই ছিল মুখ্য বিষয়। আজকে বিহারী ধুঁয়া তুলে একটি অন্যায়কে রাষ্ট্রিয় পৃষ্টপেষকতায় জায়েজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ ছিল শোষনের বিরুদ্ধে। কালশির ঘটনাটি কি রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে শোষন নয়? যে শিশুটিকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে তার অপরাধ কি?

  5. বিহারী ক্যাম্প গুলোতে অমানুষ
    বিহারী ক্যাম্প গুলোতে অমানুষ গুলো যে সব অবৈধ কাজ করে, তা কি কখনো তুলে ধরেছেন?
    বিহারীদের জন্য কখনো আমার মায়া হবে না।তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাড়িঘর লুটপাট করে জ্বালিয়ে দিছিল।

    1. বিহারীদের জন্য কখনো আমার মায়া

      বিহারীদের জন্য কখনো আমার মায়া হবে না।তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাড়িঘর লুটপাট করে জ্বালিয়ে দিছিল।

      এখন আমরাও যদি এর প্রতিকার স্বরূপ তাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়াকে জায়েজ বলি তাহলে পাকিস্তানী হায়েনা আর তাদের দোসরদের থেকে আমাদেরও খুব বেশি পার্থক্য থাকবে না।

      1. এখন আমরাও যদি এর প্রতিকার

        এখন আমরাও যদি এর প্রতিকার স্বরূপ তাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়াকে জায়েজ বলি তাহলে পাকিস্তানী হায়েনা আর তাদের দোসরদের থেকে আমাদেরও খুব বেশি পার্থক্য থাকবে না।

        :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
        আমারও একই কথা। ৭১-এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বিহারীদের অবস্থান অবশ্যই ঘৃণারযোগ্য। কিন্তু শোষনের বিরুদ্ধে আমাদের যে চেতনা ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে, সেই চেতনার সাথে তাদেরকে পুড়িয়ে মেরে ফেলার মধ্যে নব্য ফ্যাসিস্ট চেতনার পার্থক্য বুঝতে না পারাকে কি বলা যায়? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম ধারন করতে পারে নাই বলেই মনে করছি।

        তাছাড়া কালশীর এই ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধের সাথে গুলিয়ে ফেলা কি ঠিক হচ্ছে? কালশির ঘটনা হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বার্থের বাস্তবায়ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *