গল্পঃ রাসু——-

লোভনীয় প্রস্তাব ছাড়তে ইচ্ছা হচ্ছে না রাসুর !! কিন্তু স্ত্রী মাজেদার ঘোর আপত্তি তে ভেস্তে যেতে বসেছে,সংসারে যা অবস্থা তাতে এমন প্রস্তাব কে না বলা বোকামি ছাড়া আর কিছু না !!
রাসু পেশায় বংশী বাদক, আশেপাশের দশ-বিশ গ্রামে তার যেমন সুনাম,তেমনি সম্মান !! কিন্তু মাস খানেক ধরে অসুস্থ সে,তাই পেশাটা চালিয়ে নেওয়া কষ্ট হচ্ছে !!! বেজায় কাশি হচ্ছে তার, রাসু এসব কে তেমন একটা ধারে না,কিন্তু ভয়ের কারন হচ্ছে কাশির সাথে ইদানীং রক্তও পরে,কয়েকদিন আগে কবিরাজ এসে ঔষধ আর মালিশ তেল দিয়ে গেছে,সাথে কিছু নিয়ম কানুন !! স্বামীর বুকে মালিশ তেল মেখে দিতে দিতে আপত্তি করে বসল !!
কিছুটা হতাশ হয়ে ফিরে গেল আগ্নতক !!

লোভনীয় প্রস্তাব ছাড়তে ইচ্ছা হচ্ছে না রাসুর !! কিন্তু স্ত্রী মাজেদার ঘোর আপত্তি তে ভেস্তে যেতে বসেছে,সংসারে যা অবস্থা তাতে এমন প্রস্তাব কে না বলা বোকামি ছাড়া আর কিছু না !!
রাসু পেশায় বংশী বাদক, আশেপাশের দশ-বিশ গ্রামে তার যেমন সুনাম,তেমনি সম্মান !! কিন্তু মাস খানেক ধরে অসুস্থ সে,তাই পেশাটা চালিয়ে নেওয়া কষ্ট হচ্ছে !!! বেজায় কাশি হচ্ছে তার, রাসু এসব কে তেমন একটা ধারে না,কিন্তু ভয়ের কারন হচ্ছে কাশির সাথে ইদানীং রক্তও পরে,কয়েকদিন আগে কবিরাজ এসে ঔষধ আর মালিশ তেল দিয়ে গেছে,সাথে কিছু নিয়ম কানুন !! স্বামীর বুকে মালিশ তেল মেখে দিতে দিতে আপত্তি করে বসল !!
কিছুটা হতাশ হয়ে ফিরে গেল আগ্নতক !!
ময়না আর টিপু রাসুর আদরের সন্তান !! উঠানের পাশে যে পাশটায় লাউ গাছের মাচা দেওয়া হয়েছে,সে জায়গায় ভাই-বোন মিলে দাড়িয়ে আছে !! রাসু সুতা হাতে আর ময়নার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি শুকনো কঞ্চির উপর বসে থাকা লাল ফড়িং এর উপর !! ফড়িং ধরায় ময়নার হাত পাকা,খুব ভালো করে এই দক্ষতাকে রপ্ত করেছে সে !! লাল ফড়িং কে এরা রাজা ফড়িং বলে, এই ফড়িং গুলো অনেক তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন হয় !! তাই খুব সন্তপনে এগিয়ে যায় ময়না,হাতের তিন আংগুল দিয়ে খপ করে ধরে ফেলে ফড়িং এর পিছন অংশ, আনন্দে লাফিয়ে উঠে টিপু !! নিজেকে ছাড়াবার জন্য নিস্ফল চেষ্টা করে ফড়িং টি,কিন্তু ময়নার শক্ত বাধা থেকে মুক্তি পাওয়া যে একেবারে অসঅসম্ভব, তাই শান্ত হয় ফড়িং !! সুতা দিয়ে বেধে ফেলে ফড়িং য়ের পিছন অংশ টা, তারপর শুরু হয় ওদের খেলা !!!
ছেলে-মেয়ের আনন্দ দেখে মুচকি হাসে মা মাজেদা,কিন্তু হাসি মিলিয়ে যেতে এক সেকেন্ড সময় নেয় না,হঠাৎ রক্তবমি শুরু হয় রাসুর !! ঘটনার আকস্মিকততা কাটতেই ওরে আল্লাহ গো বলে চিৎকার করে উঠে মাজেদা, চিৎকার শুনে দৌড়ে আসে প্রতিবেশিরা, ধরাধরি করে তাড়াতাড়ি একটা ভ্যানে করে রাসুকে মেডিকেল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে !!
বাড়ির দরজায় দাড়িয়ে ভ্যানের চলে যাওয়া দেখছে ময়না,সাথে মায়ের আহাজারি !! দৃষ্টির অগোচর হতে থাকে ভ্যান,সাথে ক্ষীন হতে থাকে মায়ের কান্না !!
হঠাৎ ময়না ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পরে, হাতের মুঠোর মধ্যে থাকা ফড়িং টা আর নড়ছে না ,হাতের শক্ত মুঠো আলগা করে, সত্যি নড়তেছে না, নিথর হয়ে গেছে…..
ময়নার স্থির দৃষ্টি যায় চলমান ভ্যানের দিকে, তবে সে দৃষ্টি তীক্ষ্ণ নয়,ভয়ার্ত !!
চলন্ত ভ্যান হঠাৎ থেমে গেছে………………

২ thoughts on “গল্পঃ রাসু——-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *