রাজাকারের বিচার হাল হাকিকাত নিয়ে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের একটি কাল্পনিক সাক্ষাৎকার

বেহেস্তে জাহানারা ইমামের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন সেখানকার কোন এক সাংবাদিক।

সাংবাদিকঃ কেমন আছেন?

জাহানারা ইমামঃ ভাল নাই।

সাংবাদিকঃ ভাল নাই কেন?

জাহানারা ইমামঃ ১৯৯১ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছিলেন গন আদালতে। সে রায় তো কার্যকর হইলো না। আমার ছেলেদের হত্যার বিচার এখনো হইলো না।

সাংবাদিকঃ কি যে বলেন না। আওয়ামি লীগ সরকার তো এখন ক্ষমতায়। ওরা তো বিচার করছে।
জাহানারা ইমামঃ সে ওয়াদা তো ১৯৯১ এ করেছিল আমার কাছে। বলেছিল, বাংলাদেশ আওয়ামি লীগ আপনার সাথে আছে। পাশে ঠাই দিন। দিয়েছিলাম। কিন্ত ওরা তো মর্যাদা রাখছে না।


বেহেস্তে জাহানারা ইমামের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন সেখানকার কোন এক সাংবাদিক।

সাংবাদিকঃ কেমন আছেন?

জাহানারা ইমামঃ ভাল নাই।

সাংবাদিকঃ ভাল নাই কেন?

জাহানারা ইমামঃ ১৯৯১ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছিলেন গন আদালতে। সে রায় তো কার্যকর হইলো না। আমার ছেলেদের হত্যার বিচার এখনো হইলো না।

সাংবাদিকঃ কি যে বলেন না। আওয়ামি লীগ সরকার তো এখন ক্ষমতায়। ওরা তো বিচার করছে।
জাহানারা ইমামঃ সে ওয়াদা তো ১৯৯১ এ করেছিল আমার কাছে। বলেছিল, বাংলাদেশ আওয়ামি লীগ আপনার সাথে আছে। পাশে ঠাই দিন। দিয়েছিলাম। কিন্ত ওরা তো মর্যাদা রাখছে না।

সাংবাদিকঃ কি যে বলেন না। রাজাকার সব জেলে ঢুকায়ে রাখছে। এরপরে মর্যাদা কিভাবে রাখছে না।

জাহানারা ইমামঃ দেখুন, ওরা ১৯৯৬ সালে পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল। ২০০৮ থেকে এখন পর্যন্ত ৬ বছর। মোট ১১ বছর। এই প্রায় এক যুগ সময় ক্ষমতায় থেকে ওরা ফাসী দিয়েছে একজন রাজাকারকে। বাকিদের রায় হয় না। রায় হলে আপিল হয় না। আপিল হলে শুনানী হয় না। সময়ক্ষেপন চলছে।
সাংবাদিকঃ আপনি কি মনে করেন সরকারের সদিচ্ছার অভাব আছে?
জাহানারা ইমামঃ যে রাজনীতিতে যে কোন মুল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকা লক্ষ্য। সেখানে যে কোন কিছু সম্ভব। আদর্শহীন রাজনীতিতে যে কোন কিছু হতে পারে। রাজাকার বিচার এখানে সেকেন্ডারী ইস্যু, প্রথম লক্ষ্য ক্ষমতা ভোগ করা।

সাংবাদিকঃ তাহলে কি আর রাজাকাররা ঝুলবে না?

জাহানারা ইমামঃ নির্ভর করছে আওয়ামি লীগকে ক্ষমতায় থাকা নিয়ে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে কিনা। রাস্তায় নামতে পারে কিনা। এ ধরনের কিছু দানা বাঁধলে কিংবা কোন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে আরেকটা ফাসী হয়তো আমরা দেখতে পারি। যেমন- নির্বাচনের আগে আগে কাদের মোল্লার রায়।

সাংবাদিকঃ জামাত নিষিদ্ধের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান?

জাহানারা ইমামঃ জামাত নিষিদ্ধ হবে কিনা সে ব্যাপারে মন্ত্রীদের কথাবার্থা আজকাল অনেক কিছু ইঙ্গিত দেয়। রাজনীতির ভোলের উপর নির্ভর করবে এটাও। তবে একটা ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত, জামাত যদি নিষিদ্ধ হয়ও তাদের আদর্শ নিষিদ্ধ হবে না। ডাল পালা ছেঁটে বনসাই বানিয়ে রাখবে। খুব একটা বাড়তে দেবে না। আবার একেবারে মেরেও ফেলবে না।

সাংবাদিকঃ কেন?

জাহানারা ইমামঃ জামাত মরে গেলে আওয়ামী লিগের জন্য বিরাট লস। ব্যাবসা করতে যে শুধু পুঁজি লাগে তা না। রাজনীতি করতে গেলেও লাগে। আওয়ামি লীগের পুঁজি ১৯৭১। বিএনপি এখানে কিছুটা ভাগ বসাতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। এখন আওয়ামি লীগ টিকে আছে এই একটা ইস্যুর উপরে ভর করে। মানুষ বিচার চায়। রক্তের দায় শোধ করতে চায়। আওয়ামি লীগের আপাত পুঁজি এটাই।

সাংবাদিকঃ বিএনপি যদি ৭১ এর গৌরবের ভাগ নিতে চায় তবে কেন জামাত তার সাথে?

জাহানারা ইমামঃ আসলে যা হবার কথা ছিল তাই হয়েছে। মানুষের পেট থেকে জন্মালে মানুষ হয়। হনুমানের পেট থেকে হনুমান। হনুমানের পেট থেকে নিশ্চয়ই মানুষ জন্মাবে না। জিয়াউর রহমান জামাতকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলাম। স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছিলেন। এখনো তারা সে পথে হাঁটছে। ফলাফল হয়েছে, মানুষ তাদের উপেক্ষা করেছে, করছে। এটা একদিন হবার কথা ছিল। এখন হচ্ছে। ব্যাপারটা অনুমেয় ছিল।

সাংবাদিকঃ আওয়ামি লীগ তবে কি হাতের পুঁজি শেষ করতে চাইছে না।

জাহানারা ইমামঃ ঠিক তাই। তার ক্ষমতায় থাকা দরকার। যে কোন রাজনীতির লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া। আদর্শের রাজনীতি হলে সঠিক কাজটা করে ক্ষমতায় থাকা। আদর্শহীন রাজনীতি হলে যে কোনভাবে ক্ষমতায় থাকা। মানুষ চুলোয় যাক, তাদের আবেগ চুলোয় যাক। এখন যা হচ্ছে সেটাকে এক শব্দে বলা যায়- ব্ল্যাকমেইলিং। সোজা রাস্তা ছেড়ে বাঁকা রাস্তা ধরেছে। অথচ এ সময়ের মধ্যে শীর্ষ রাজাকারদের বিচার শেষ হয়ে গেলে মানুষ আওয়ামি লীগকে মাথায় তুলে রাখতো। আবার অন্যদিকে, জামাতকে না হয় দেশে আপনি দুর্বল করে দিয়েছেন কিন্তু তাদের বিদেশী মুরুব্বীরা বসে নেই। তারা চেষ্টা চালাবে। যত সময় পাবে তত গুছিয়ে আক্রমন করবে। বিপদ এতে বাড়ছে বৈ কমছে না।

সাংবাদিকঃ তবে কেন?

জাহানারা ইমামঃ আমার মনে হচ্ছে আওয়ামি লীগ ভয় পাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধ কার্ডটা শেষ হয়ে গেলে মানুষ জিজ্ঞেস করবে, তোমাকে যে আমি ক্ষমতায় রাখবো আবার, আমাকে কি দিবে? নিশ্চিতভাবে মানুষের চাওয়ার মধ্যে থাকবে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ। আওয়ামি লীগের বর্তমান স্ট্রাকচারে দল হিসাবে তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব এসব চাহিদা পুরন করা। বিশাল রকমের পরিশুদ্ধির দরকার হবে। যা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান করতে গিয়ে দলের ভেতরের মানুষদের হাতে নিহত হয়েছেন। তখন গুটি কয়েক ছিল। এখন লক্ষ লক্ষ। এর চাইতে বরং এ ইস্যু জিয়ে রাখলে অনেক বেশী লাভ। মানুষ একটা নিয়ে ব্যাস্ত থাকলো, পরের ধাপে কি আছে সে আর দেখতে চাইলো না।

সাংবাদিকঃ আওয়ামি লীগ বিচার করতে এভাবে আর কতদিন সময় নিবে বলে মনে করেন?

জাহানারা ইমামঃ শুধু মাত্র মহান আল্লাহ পাক জানেন। নিশ্চয়ই তিনি আলেমুল গায়েব।

সাংবাদিকঃ একটা প্রানবন্ত সময় উপহার দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

জাহানারা ইমামঃ তোমাকেও ধন্যবাদ।

৭ thoughts on “রাজাকারের বিচার হাল হাকিকাত নিয়ে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের একটি কাল্পনিক সাক্ষাৎকার

  1. কি বলবো ভাই। এইসব কেউ বললেই
    কি বলবো ভাই। এইসব কেউ বললেই সে হয়ে যাবে হয় ছাগু, নয় চিংকু, নয় চুশীল। কিন্তু আসল ইস্যু চাপা পড়ে থাকে। :মাথাঠুকি:

  2. আওয়ামি লীগ বিচার করবে তবে
    আওয়ামি লীগ বিচার করবে তবে দশ-পনেরো বছর সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে অনেক রাজাকার প্রাকৃতিকভাবে স্বাভাবিক মৃত্যু বরন করবে। বাকিগুলোকে হয়তো ঝুলাবে নতুবা যাবজ্জীবন দিয়ে আটকে রাখবে। কাউকে ছাড়বে না।

  3. যুদ্ধাপরাধ কার্ডটা শেষ হয়ে

    যুদ্ধাপরাধ কার্ডটা শেষ হয়ে গেলে মানুষ জিজ্ঞেস করবে, তোমাকে যে আমি ক্ষমতায় রাখবো আবার, আমাকে কি দিবে? নিশ্চিতভাবে মানুষের চাওয়ার মধ্যে থাকবে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ। আওয়ামি লীগের বর্তমান স্ট্রাকচারে দল হিসাবে তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব এসব চাহিদা পুরন করা।

    এটাই হলো বাস্তবতা। :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি:

    কিছু হলেই দালালরা বলবে, অমুকের কাছে গিয়া বিচার চান। অমুক, তমুকে তো বিচার করার আশ্বাস দেয়নি। তাগো কাছে যাব কেন! আমার কথা হলো এতই যখন পারেন রাজাকারের বিচারের মূলা না ঝুলিয়ে আপনারাই রাজনীতি করেন না। এরপর দেখি কার কতদূর ক্ষ্যমতা! এই বিচার ইস্যু বাদ দিলে যে লীগ আর দলে কোন পার্থক্য থাকেনা এটা এরা মানতেই চায়না। ভাবটা লয় এমন যেন আমাগো কিছু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের অন্যায় আবদার হইলো রাজাকারের বিচার চাওয়া। আর আওয়ামীলীগ নিজের অনেক ক্ষয়-ক্ষতি করেও সবাইকে লুকিয়ে রাতের আধারে আমাদের এই অন্যায় আবদার পূরন করে দিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা আবদারের জন্য কান্নাকাটি না করে বরং যেন চুপচাপ ফিডার মুখে নিয়ে বসে থাকি। আমরা লীগের কাছে ঠ্যকা, লীগের আমাগো দিয়া কিচ্ছু আসে যায়না। তাগো ক্ষমতায় থাকতে আমাদের কোন প্রয়োজন নাই।

  4. জাহানারা ইমাম জীবিত থাকতেই
    জাহানারা ইমাম জীবিত থাকতেই বলে গেছেন, বিচার পেতে হলে আন্দোলন করতে হবে। আলেমুল গায়েব দুনিয়ায় মানুষের হাত দিয়াই বিচার করেন।

    সময়োপযোগী পোস্ট। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্নে আওয়ামী মোহ ত্যাগ করার প্রয়োজনীয়তা এখনো অনেকে উপলদ্ধি করতে পারে নাই।

  5. মামা এই মুহুর্তে অনেক প্রশ্ন
    মামা এই মুহুর্তে অনেক প্রশ্ন সামনে আসে, আবার চইল্যাও যায়। তয় সব থেইক্যা বড় কথা হলো, সময়ের অভাব। মামা আপনি আমার থেইক্যাও বেশি জানেন যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে, এই ইস্যু নিয়া কি কম জল ঘোলা হইছে? দেশে-বিদেশে কত লোক মিইল্ল্যা এই যুদ্ধাপরাধের জল ঘোলা করতে মাঠে নামছে, সেইটা কি অস্বীকার করা যায়? যে যত যাই বলুক না কেনো, বিদেশী প্রভুদের অখুশী রাইখ্যা এই উপমহাদেশে ক্ষমতার মসনদে বসা খুবই কঠিন ব্যাপার। আজকে ইসরায়েলের দিকে তাকাইলেই সেইটা পরিষ্কার হয়ে যায়। ইসরাইল-প্যালেস্টাইন ইস্যুতে এক আম্রিকা ছাড়া বাকী সবাই প্যালেস্টাইনের পক্ষে এরপরেও কি ইসরাইলের চুল ছিঁড়তে পারতেছে? যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটারে বানচাল করতে এক মীর কাশেমে ক্যাসেডি এন্ড কোং-রে কত ট্যাকা খাওয়াইছে সেইটা কি অস্বীকার যোগ্য? তাইলে বাকীরা আরো কত টাকা যে খাওয়াইতেছে তার হিসাব কি কেউ রাখছে? সেই হিসাবে আমরা কতটা খরচ করতে পারতেছি বিদেশী লবিং এর লাইগ্যা? এছাড়াও প্রতিবার রায়ের সময় জামাইত্যারা যে হারে ধ্বংসযজ্ঞ চালাইতেছে, মানুষ মারতেছে সেইটার প্রতিরোধ কে করবে? এক শুয়োরের বাচ্চার লাইগ্যা কতগুলো বাঙালি মরে সেইটা কি দেখছেন? এইসব দিক ম্যানেজ কইরাই সরকাররে রাষ্ট্র পরিচালনা করা লাগে, আর এইসব ব্যাপার আমার চাইতে আপনি আরো বেশি ভালো জানেন। আমাদের উচিত সরকারের বিরোধিতা না করে সরকারের পাশে থাকা, সাথে থাকা। সরকাররে সাহস দেয়া, বুঝাইয়া দেয়া যে আমরা এই ইস্যুতে সরকারের পাশেই আছি। কিন্তু আমরা সেটা করি নাই, একদম শুরু থেকেও করি নাই। সেই গণজাগরনের শুরু থেকেই করি নাই। অথচ সেই সময় জোর গলায় গলাবাজি করছিলো বহুতেই, যেই আওয়ামীলীগ সইরা গেছে অমনি গণজাগরণও ঘুমাইয়া গেছে। অন্যের ভুল ধরার আগে নিজেদের ভুল গুলান দেখা দরকার।

Leave a Reply to ডাঃ আতিক Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *