আজ নীলিমা’র মন খারাপ।
মেঘলা দিন। পড়ন্ত বিকেলের আকাশটা তখন কাল বর্ণ ধারণ করেছে। অবাক বিস্ময়ে মেঘেরা ছুটোছুটি করছে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। কাল বোশেখীর ঝড়ের মত না হলেও এই বাতাসটাকে ঝড়ই বলা চলে।
ছ’তলার বড় জানলাটা থেকে ওর একজোড়া শান্ত চোখ দেখছে বাতাসের আন্দোলন। মাঠের কোণের ইউক্যালিপটাস গাছটা বেশ দোল খাচ্ছে। শূন্য মাঠে ঝড়ে পরা পাতাদের ছুটোছুটি যেন, হাই প্রোফাইল ফুটবল ম্যাচ।

আজ ওর মনটা একটু বেশিই খারাপ।

আজ নীলিমা’র মন খারাপ।
মেঘলা দিন। পড়ন্ত বিকেলের আকাশটা তখন কাল বর্ণ ধারণ করেছে। অবাক বিস্ময়ে মেঘেরা ছুটোছুটি করছে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। কাল বোশেখীর ঝড়ের মত না হলেও এই বাতাসটাকে ঝড়ই বলা চলে।
ছ’তলার বড় জানলাটা থেকে ওর একজোড়া শান্ত চোখ দেখছে বাতাসের আন্দোলন। মাঠের কোণের ইউক্যালিপটাস গাছটা বেশ দোল খাচ্ছে। শূন্য মাঠে ঝড়ে পরা পাতাদের ছুটোছুটি যেন, হাই প্রোফাইল ফুটবল ম্যাচ।

আজ ওর মনটা একটু বেশিই খারাপ।
কারণটা তেমন কিছু না। সামান্য কিছু অভিমান। এমন দিনগুলো ওর খুব পছন্দের। এমনিতে ও খুব প্রাঞ্জল একটা মেয়ে, আর আজ নিষ্প্রভ। কোন শব্দই যেন কানে আসছে না। শুধু নিঃষ্পলক চোখে দেখছে অশান্ত আকাশটাকে। ঝড় দেখছে, ইউক্যালিপটাস দেখছে, পাতাদের দৌড়াদৌড়ি দেখছে। দেখছেই, দেখছেই…
বিকেল এসে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেল। এখন রাতের আকাশ নেমেছে সামনে। নীলিমা ওভাবেই বসে আছে। একটুও সরেনি ওর জায়গা থেকে। কি ভাবছে ও ই জানে। কখন যে বিদ্যুৎ চলে গিয়েছে বুঝতেই পারেনি। হঠাৎ বিদ্যুত চলে আসায় মোহ ভাঙলো। ও এখন নাচবে। মন খারাপ থাকলে ও নাচে। নীলিমা ভালই নাচে। বেশকিছু পুরষ্কারও আছে দখলে। কম্পিউটার অন করে একটা রবীন্দ্র সংগীত ছেড়ে দিল।
” মন মোর মেঘের সঙ্গী
উড়ে চলে দিগ্‌দিগন্তের পানে
নিঃসীম শূন্যে শ্রাবণবর্ষণসঙ্গীতে
রিমিঝিম রিমিঝিম রিমিঝিম…”
বেশিক্ষণ নাচলো না। আজ নাচতেও ভাল লাগছে না। ও নিজেই বুঝছে না ওর কি হয়েছে।

নীলিমা আবার সেই জানালার পাশে গিয়ে বসলো। এখনো আগের মত, তবে বাতাস এখন নেই আগের মত। কমেছে। বৃষ্টির পূর্বাভাস। যতদূর চোখ যায়, জনমানবশূন্য। রাস্তায় কোন গাড়ি-ঘোড়া নেই। রাস্তায় কারো পদচারণা নেই। চারদিকে যেন শূণ্যতার হাহাকার। কেমন যেন বিষন্ন একটা ভাব। ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে এসে লাগছে। একজোড়া পাখি উড়ে গেল।
হঠাৎ দু’এক ফোঁটা জলের ছোঁয়ায় বাস্তবে ফিরে এল। বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মধুর বৃষ্টি। ভালবাসার বৃষ্টি। নিশ্চুপ চারপাশ যেন আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠল। রাস্তা দিয়ে ছাতা হাতে নিয়ে একটা লোক হেঁটে যাচ্ছে। বেশ লাগছে দৃশ্যটা। নীলিমার মন হঠাৎ ভাল হয়ে গেল। এখন খুব ভাল লাগছে। বৃষ্টির ফোঁটা এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

নীলিমা জানালা থেকে সরে এল। সিঁড়ি দিয়ে ছাদের দিকে পা বাড়াল। ও এখন বৃষ্টিতে ভিজবে। মধুর বৃষ্টি, ভাললাগার বৃষ্টি…

( এ গল্পের কোন নাম নেই। এ গল্পের কোন কোন শেষ নেই)

৫ thoughts on “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *