শুভ জন্মদিন কিংবদন্তী!!!

ম্যারাডোনা-মেসির আর্জেন্টিনা করি সেই ছেলেবেলা থেকেই। কিন্তু খুবই দু:খের বিষয় আজ অবধি প্রিয় দলটির কোন জার্সি আমি কিনতে পারিনি। এবারও পারলাম না। বাজার ঘুরেফিরে দেখে চলে এলাম। মনে হয়েছে-এত দাম দিয়ে জার্সি কিনাটা উচিত হবে না। অনন্ত জলিলের কোম্পানী বিদেশে বিশ্ব মানের জার্সি রপ্তানী করে ৬০০-৭৫০ টাকায়। তবে স্বদেশী হয়ে আমি কেন ১২০০ টাকা দিয়ে বিদেশী জার্সি কিনব??? সে যতোই প্রিয় দলের হোক।


ম্যারাডোনা-মেসির আর্জেন্টিনা করি সেই ছেলেবেলা থেকেই। কিন্তু খুবই দু:খের বিষয় আজ অবধি প্রিয় দলটির কোন জার্সি আমি কিনতে পারিনি। এবারও পারলাম না। বাজার ঘুরেফিরে দেখে চলে এলাম। মনে হয়েছে-এত দাম দিয়ে জার্সি কিনাটা উচিত হবে না। অনন্ত জলিলের কোম্পানী বিদেশে বিশ্ব মানের জার্সি রপ্তানী করে ৬০০-৭৫০ টাকায়। তবে স্বদেশী হয়ে আমি কেন ১২০০ টাকা দিয়ে বিদেশী জার্সি কিনব??? সে যতোই প্রিয় দলের হোক।

যাক, কথা সেদিকের নয় আসল কথায় ফিরি। ২০০৬ সাল। জীবনের প্রথম জার্সি উপহার পেয়েছিলাম সে বছর। সেটা ছিলো ফ্রান্সের। জার্সিটা উপহার দিয়েছিলো এক চাচা। উনি আমার শৈশবের প্রাইভেট টিউটরও ছিলেন। নিজে ফ্রান্স করতেন। অন্যকে উৎসাহিত করতেন নানাভাবে। আমাকে জার্সি দেয়া ছিলো সেই কর্মসূচিরই অংশ। আমি ফ্রান্সের জার্সি গায়ে আবেগে আপ্লুত হয়েছিলাম সেই রাতে, যে রাতে একটা মানুষের বিদায় আমাকে কাঁদিয়েছিলো। কেঁদেছিলো সারা বিশ্ব। যার চলে যাওয়ার দৃশ্যটা আমাকে আজও ক্ষত বিক্ষত করে বর্বর-নিষ্ঠুর হায়েনার মতো।

সেটি ছিলো ইতালি-ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ। জানি তিনি ছিলেন আর দশজনের মতোই রক্ত-মাংসে গড়া একজন মানুষ। রক্ত-মাংসের মানুষ ছিলেন বলেই ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে মাতেরাজ্জিকে দিয়েছিলেন অমন এক ঢুস! মাতেরাজ্জির সেই কুখ্যাত ‘খিস্তি’ সহ্য করে তিনি যদি ছোট্ট একটা হাসি দিতেন, তবেই তাঁকে ‘অতিমানব’ হিসেবে অভিহিত করা যেত। কিন্তু তিনি তা করেননি, আর করেননি বলেই লালকার্ডের খড়্গ নেমে এসেছিল তাঁর ওপর। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল তাঁর দেশ।

২০০৬ সালের ৯ জুলাই রাত। তিনি মাঠ ছাড়ছেন…..কাঁদছে ফ্রান্স…..কাঁদছে পৃথিবী……কাঁদছে ফুটবল….কাঁদছে তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ প্রেমাতুর সবুজ মাঠ…..কেঁদেছিলো সেদিন বুঝি ফুটবলের দেবতাও…….

আজ তার জন্মদিন। তিনি জন্মেছিলেন বলেই ফ্রান্স এতো গর্বিত, ফুটবল এতো নান্দনিক, বিশ্বকাপ এতো সৌন্দর্যের। ফুটবল বিশ্বের অসাধারণ এই দিনটাতে তার চমৎকার জীবনযাপনকে জানাই অভিনন্দন। তার আগামীর দিনগুলোর জন্য অন্তরের গভীর থেকে রইল শুভকামনা।

আর ফ্রান্সকে ৯৮-এর বিশ্বকাপ এনে দেয়া ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তী জিনেদিন জিদানকে জানাই শত সহস্র বিশ্বকাপ জয়ের সম্মান।

শুভ জন্মদিন কিংবদন্তী……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *