বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা

‘ মেঘের উপর মেঘ করেছে— রঙের উপর রঙ, মন্দিরেতে কাঁসর ঘন্টা। বাজল ঠঙ ঠঙ। ও পারেতে বিষ্টি এল, ঝাপসা গাছপালা। এ পারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিক জ্বালা। বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলেবেলার গান— ‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান। ’ – রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর


‘ মেঘের উপর মেঘ করেছে— রঙের উপর রঙ, মন্দিরেতে কাঁসর ঘন্টা। বাজল ঠঙ ঠঙ। ও পারেতে বিষ্টি এল, ঝাপসা গাছপালা। এ পারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিক জ্বালা। বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলেবেলার গান— ‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান। ’ – রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

রবি ঠাকুরের এই কবিতাটা আমার অনেক ভাল লাগে ।তবে বৃষ্টি এলে নদে বান ডাকুক বা না ডাকুক আজকাল ঢাকা শহরে ঠিক বান বা বন্যা চলে আসে । এবার যে রকম কটকটা অসহনীয় গরম পড়েছিল বা পড়েছে তাতে বৃষ্টি অবশ্যই স্বস্তি নিয়ে আসে । তবে আমরা যারা ঢাকাবাসী তারা এই স্বস্তির সাথে এক বিড়ম্বনার শিকার হই। আজকাল অল্পসল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ঢাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট । ঘরে থাকলে কোন ব্যাপার না ,গরম গরম ভুনা খিচুরির সাথে রিমঝিম বৃষ্টি বিলাস দারুন লাগলেও যারা বাইরে বের হন বা কাজের জন্য বের হতে হয় তাদের জন্য অপেক্ষা করে মহা দুর্ভোগ ।

বৃষ্টি ,শীত বা রোদ সব অজুহাতেই সিএনজি চালিত অটো বা রিকশাওয়ালা ভাইয়েরা ভাড়া বাড়িয়ে দেন ইচ্ছেমত । তবে বৃষ্টির দিন একটু বেশিই বাড়িয়ে দেন । কষ্ট অবশ্যই হয় বৃষ্টির মাঝে রিকশা চালাতে কিন্তু আমরাই বা কোথায় পাব বাড়তি টাকা? তবে সবকিছু ছাপিয়ে এই দিনগুলোতে যে জিনিষটা বা বিষয়টা সবচেয়ে কষ্টকর আর ভয়ংকর তা হল জলাবদ্ধ রাস্তা ।
কাল,ময়লা ড্রেনের আর বৃষ্টির পানিতে যখন রাস্তাঘাট ডুবে থাকে তখন বোঝার কোন উপায় নাই কোথায় আছে ঢাকনা বিহীন ম্যানহোল বা খানাখন্দ। তাই সবসময় আতংকে কাঠ হয়ে থাকতে হয় হয় এই বুঝি পড়লাম কোন গর্তে।

আর তাছাড়া এই সময়টা অর্থাৎ বর্ষার শুরুতে বা শুরু হওয়ার আগ দিয়ে ওয়াসা ,বিদ্যুৎ (ডেসা),টি এন্ড টি সবার কাজ করার হিড়িক পরে যায় । ফলে রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি করে একসা অবস্থা আর আমরা যারা আমজনতা তারা হই আমভর্তা মানে নাজেহাল ।

সরকারী এই প্রতিষ্ঠান গুলোর সমন্বয়হীনতার কারনে দেখা যায়, যে রাস্তা আগের মাসে ওয়াসা খোঁড়াখুঁড়ি করে গেছে তার মাসখানেক কি দিন পনের ও পরেই আবার হয়ত ডেসা বা অন্য কেউ সেই একি রাস্তা খুড়ছে ।এমনিতেই জনসংখ্যা আর যানবাহনের চাপে চাপিত এই ঢাকা তার উপর আবার খোঁড়াখুঁড়ি করে রাস্তাটা করে ফেলা হয় সংকীর্ণ । তাই অবধারিত ভাবেই যানজট এর কবলে পরতে হয় ।
মনে মনে ভাবি ইশ যদি এমন হত, বর্ষা আসার আগেই অর্থাৎ মার্চ মাসের মধ্যে সকল রাস্তার কাজ সেরে ফেলে হবে !!

গতকালও দেখলাম ফিতা হাতে ধানমণ্ডি স্টার কাবাব এর সামনের রাস্তা মাপজোখ করছে ।তারমানে দুই একদিনের ভিতর শুরু হবে কাটাকাটি ।এই রাস্তাটা এমনিতেই অনেক ব্যাস্ত আর প্রায় সারাক্ষণ ই যানজট লেগে থাকে তার পরে যদি এই সময় কাটাকাটি শুরু হয় তবে যানজট যে কি আকার ধারন করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।

যাই হোক বৃষ্টির দিন প্রতিদিন এই আশা নিয়ে বের হই যেন ম্যানহোল বা গর্তে না পরে ঠিকঠাক মত বাড়ি ফিরতে পারি । কারন আমি নিজেই সেদিন একটুর জন্য রিকশাসমেত ড্রেনে পরতে পরতে বেঁচে গেছি ।

১৭ thoughts on “বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা

  1. চট্টগ্রামে এসে ঘুরে গেলে আর
    চট্টগ্রামে এসে ঘুরে গেলে আর এই পোষ্ট দিতেন না। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আর কোমর পানিতে হাঁটতে হাঁটতে রবীন্দ্রনাথের গুষ্টি উদ্ধার করতেন। ২০টাকার রিক্সাভাড়া ১৫০টাকা, ১০০/১২০টাকার সিএনজি ভাড়ার দূরত্বে রিকশা ভাড়া ৯৫০টাকা+নাস্তাপানি (আব্বা আম্মা সিডিএ আবাসিক থেকে দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত গিয়েছিলেন রিকশা নিয়ে)। এই যদি হয় অবস্থা, তবে সেটা নিয়ে কাব্য আসে না। খুব অসহায় মনে হয় নিজেকে !
    গত এক সপ্তাহ অফিস করছি কোমর পানিতে হেঁটে এসে। কাপড় চোপড় পুঁটলি বেঁধে নিয়ে আসি, অফিসে এসে কাপড় পরি!
    এর নাম নাগরিক জীবন!

    1. কথা আংশিক সত্য ।ঢাকার অবস্থাও
      কথা আংশিক সত্য ।ঢাকার অবস্থাও ভাল না আর আজতো বাসার সামনে এসে রিকশার চাকা ড্রেনে । ভাগ্যিস দেয়ালে ঠেস খেয়েছে নাইলে তো …………

  2. শওকত ভাই@ আমাদের দুঃখ ওরা
    শওকত ভাই@ আমাদের দুঃখ ওরা কখনো বুঝবে না।আর আপনার বাসায় পানি ঢুকলে আমার বাসায় চলে আসবেন। যদিও হালিশহরে অনেক পানি তবে আমাদের বাসা নিরাপদ থাকে। # আমাদের মত পানিতে বসবাস করলে ওদের মুখ দিয়ে কোন বর্ষা কাব্য বের হবে না।বের হবে মেয়রের উদ্দেশ্যে কিছু গালি কাব্য।

    1. উল্টো মেয়র নাকি বলতেসে- এসব
      উল্টো মেয়র নাকি বলতেসে- এসব মিডিয়ার সৃষ্টি ! এখন কিন্তু বিম্পিপন্থী বা আম্লীগ বিরোধী কারো মুখে মেয়রের বিপক্ষে কথা উঠেনি।

          1. আপনাদের তো খুশি হওয়ার কথা।
            আপনাদের তো খুশি হওয়ার কথা। নাই মামার চাইতে বাতিল মামা-ই ভালো… :চশমুদ্দিন:

  3. মেয়র এখন আনন্দে মশগুল। কারণ
    মেয়র এখন আনন্দে মশগুল। কারণ আজ সরকার ২১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিছে। সবচেয়ে বড় খুশির সংবাদ হইলো, অনেক রাস্তা ভাইঙ্গা গেছে।সেই রাস্তায় ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ডের মোস্তফা হাকিম সিমেন্ট ব্যবহার হইবো।

  4. ইস, ছেড়ীর শখ কত! মেয়রের নিজের
    ইস, ছেড়ীর শখ কত! মেয়রের নিজের ফ্যাক্টরি থুইয়া আপনার ফ্যাক্টরির সিমেন্ট লইব না। আর মেয়রের ভাতিজা আবার লীগের এমপি। চাচা-ভাতিজা যেখানে টাকা আছে সেখানে।

  5. বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশে
    বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশে জলাবদ্ধতা জাদুঘরে বন্যা রাখার মতো!! নদী যেভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে তাতে করে এই সব জলাবদ্ধতা না দেখলে ভীনদেশীরা বুঝবে কি ভাবে যে বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ!!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *