মান-অভিমান

মামা,দুইটা গাজর দেন।
কত?
-১০ ট্যাকা।
এই নাও গাজর খাও।
–তোমার মাথা খাব।
বাবা বলেছে,মাথা ভর্তি গোবর আমার।ওসব
খেলে তোমার অসুখ করবে।নাও,গাজর খাও।
গাজরে পুষ্টি আছে।
–লাগবেনা আমার পুষ্টি।তুমি সর তো আমার পাশ
থেকে।তোমার পাশে থাকতে আমার
ঘেন্না লাগছে।
নিহাল আর নিমৃত নব্য প্রেমিক-প্রেমিকা।দূর



মামা,দুইটা গাজর দেন।
কত?
-১০ ট্যাকা।
এই নাও গাজর খাও।
–তোমার মাথা খাব।
বাবা বলেছে,মাথা ভর্তি গোবর আমার।ওসব
খেলে তোমার অসুখ করবে।নাও,গাজর খাও।
গাজরে পুষ্টি আছে।
–লাগবেনা আমার পুষ্টি।তুমি সর তো আমার পাশ
থেকে।তোমার পাশে থাকতে আমার
ঘেন্না লাগছে।
নিহাল আর নিমৃত নব্য প্রেমিক-প্রেমিকা।দূর
থেকে দেখলে মনে হয় দুটো শালিক ঝগড়া করছে।নতুন
প্রেমে মান-অভিমান থাকে।মান-অভিমান
ছাড়া প্রেম জমে না।
–কতক্ষণ ধরে হাঁটছি,তোমার গাড়ি কই?
গাড়িতে বসে এসির বাতাস খাব।
গাড়ি আজ আসবেনা,ড্রাইভার বাড়ি গেছে।চল
রিক্সায় চড়ি।রিক্সায় বসে তুমি আর
আমি হাওয়া খাব।হাওয়া খেতে অনেক মজা।
নিহালের বাবার কড়া নিষেধ,গাড়িতে বন্ধু-বান্ধব
লিফট দেওয়া যাবেনা।নিমৃত নিহালের বন্ধু নয়,বন্ধুর
চেয়ে সম্পর্কটা একটু গভীরে।গভীরের
মানুষকে আগলে রাখতে হয়।নিহাল এতদিন ধরে তাই
করে আসছে।
–এই চল,আমাকে কুলফি খাওয়াবে।আজ দুজন
মিলে কুলফি খাব।
নিহালের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।ভাঁজ
পড়া কপালে বুদ্ধি আটকে যায়,চিন্তাগুলো ঘাম
হয়ে ঝরে পড়ে।
নিহালের বাবার অর্থ-সম্পদের কমতি নেই।তবু
নিহালের পকেট প্রায় ফাঁকা।ফাঁকা পকেট
দিয়ে ঢাকা চলা যায়না।যে টাকা বাবার কাছ
থেকে পায় তাতে নিজে চলতে খবর
হয়ে যায়,তারওপর নিমৃতের যতসব আকাশচুম্বী আবদার।
পকেট হাতিয়ে চারটি ছেড়া দুই টাকার নোট
ছাড়া কিছুই খোজে পায়না নিহাল।
ইয়ে..…পকেটে আট টাকা ছাড়া আর টাকা নেই।
কুলফি আরেকদিন খাই?
–তুমি থাক তোমার আরেকদিন নিয়ে।আমাকে আর
ডিসটার্ব করবানা।আমি চললাম।
নিহাল শিমুল গাছের ছায়ায় একা দাড়িয়ে আছে।
নিমৃত হনহন করে হেটে চলে যাচ্ছে।
চলে যাওয়া মানুষদের পেছন থেকে ডাকতে নেই।
নিহাল না ডেকে নিমৃতের চলে যাওয়া পথের
দিকে তাকিয়ে আছে।
হাতের মুঠোয় দু টাকার চারটি নোটগুলো কচকচ করছে।
আট টাকায়
অন্য কিছু পাওয়া না যাক,বেনসন পাওয়া যাবে।
নিহাল এবার বেনসন খাবে।আঁধার পথে নিকোটিন
ধোঁয়া হয়ে পথ দেখাবে।সেই পথ
ধরে একা চলে যাবে নিহাল..…

৭ thoughts on “মান-অভিমান

  1. প্রেম রোগে আপনি ভালভাবেই
    প্রেম রোগে আপনি ভালভাবেই আবদ্ধ। প্রেমের শুরুতে মানুষ প্রেম নিয়ে অনেক ভাল কিছু লিখে। আর যখন ব্রেকআপ হয়ে যায় তখন শোকগাঁথা লিখা শুরু করে।তবে কেউ কেউ বাস্তবতা মেনে নিয়ে নতুন ভাবে জীবন শুরু করে।

  2. হা হা হা এই লেখাটা আজ থেকে
    হা হা হা 🙂 এই লেখাটা আজ থেকে দু’বছর আগে লেখা।দু বছর আগে মন আরো জোয়ান ছিল।জোয়ান মনে প্রেম পাখি একটু বেশীই গুনগুন করে। 🙂

  3. এই না হলে গল্প!
    তা, এখন কী

    এই না হলে গল্প!

    তা, এখন কী অবস্থা? পকেটের অবস্থা চেঞ্জ হয়েছে? নাকি প্রেমিকাই চেঞ্জ হয়ে গেছে? 😛

    (বিঃদ্রঃ গল্পটা যে মিনিমাম ২ বছর আগের সেটা আমি পড়েই বুঝেছি। নইলে এখন ৮টাকায় ব্যানসন… দাবড়ানি দিবো! 😀 )

    1. নিমৃতের সাথে দেখা হয় না
      নিমৃতের সাথে দেখা হয় না আজকাল।দেখা হলেই জিজ্ঞেস করে নিবো। 😉
      হা হা হা আপনি বেশ বুদ্ধিমান!! 😀

  4. অনেকদিন প্রেম করা হয় না।
    অনেকদিন প্রেম করা হয় না। সর্বশেষ যার সাথে ছিলো তার সাথে মান-অভিমানের সর্ম্পক তেমন ছিলো না। কারণ তার দৃষ্টিতে আমি ছিলাম রসকষহীন গোয়াঁড় প্রেমিক। আমি আমার ইচ্ছামত চলতাম।আর সে ছিলো ধার্মিক মানুষ।যে ৪-৫ মাস সর্ম্পক ছিলো, ধর্মের বাণী শোনাইতে শোনাইতে আমার জীবনটা ছাড়খার করে ফেলছিলো।বহুকষ্টে ব্রেকআপ করছিলাম।ব্রেকআপ হবার চট্টগ্রাম থেকে পরিবার সহ ঢাকায় পলায়ন করে।# আশা করি এত বছরে তার নিজেরেও পরিবার হয়ছে। হয়তো বা কোন দিন আমার সাথে দেখা হবে।হয়তো হবে না। তবে সে কখনোই আমাকে ভুলতে পারবে না।ভাল থাকুক তার অভিমান নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *