থমাস মুলার কি পারবেন গার্ড মুলারকে ছাড়িয়ে যেতে ?

গার্ড মুলার। কিংবদন্তী জার্মান ফুটবলার। জার্মানিকে জিতিয়েছেন ১৯৭৪ বিশ্বকাপ, তাও টোটাল ফুটবল দিয়ে বিশ্বমাতানো ইহোয়ান ক্রুইফের নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে ! জয়সূচক গোলটি তারই করা। এটা অবাক করার বিষয় যে, জার্মানি যে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে, প্রতিবারই এমন টিমকে হারিয়ে, যারা সেই সময় অন্য গ্রহের ফুটবল খেলছিল। যেমন ১৯৫৪ সালের হাঙ্গেরি। যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের নয় বছরে ৩৫ টি ম্যাচ অপরাজিত ছিল, তাদের ছিল ফেরেঙ্ক পুসকাসের মতো খেলোয়াড় । শেষমেষ ফাইনালে এসে জার্মানি তাদের হারিয়ে দেয় ৩-২ গোলে। এটা ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজেডি।

গার্ড মুলার। কিংবদন্তী জার্মান ফুটবলার। জার্মানিকে জিতিয়েছেন ১৯৭৪ বিশ্বকাপ, তাও টোটাল ফুটবল দিয়ে বিশ্বমাতানো ইহোয়ান ক্রুইফের নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে ! জয়সূচক গোলটি তারই করা। এটা অবাক করার বিষয় যে, জার্মানি যে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে, প্রতিবারই এমন টিমকে হারিয়ে, যারা সেই সময় অন্য গ্রহের ফুটবল খেলছিল। যেমন ১৯৫৪ সালের হাঙ্গেরি। যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের নয় বছরে ৩৫ টি ম্যাচ অপরাজিত ছিল, তাদের ছিল ফেরেঙ্ক পুসকাসের মতো খেলোয়াড় । শেষমেষ ফাইনালে এসে জার্মানি তাদের হারিয়ে দেয় ৩-২ গোলে। এটা ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজেডি।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে রাজত্ব ছিল টোটাল ফুটবল নামের এক অভিনব উদ্ভাবনের। নেদারল্যান্ড ছিল টোটাল ফুটবলের আতুড়ঘর। তাদের রূপকথার নায়ক ছিলেন ইহোয়ান ক্রুইফ। কেউ ভাবতে পারেনি এই টোটাল ফুটবল ফাইনালে পরাজিত হবে জার্মানদের শক্তির কাছে! তাই ঘটেছিল। গার্ড মুলারের গোলে জার্মানি জিতে যায় ২-১ এ। কবর রচিত হয় টোটাল ফুটবলের। জার্মানদের রূপকথার নায়ক বনে যান গার্ড মুলার।
‘৮৬ বিশ্বকাপ জিতেছিল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। একেতো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, তার ওপর রয়েছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফাইনালে জার্মানির কাছে তাদের হারটা বিস্ময়কর বইকি !
যাহোক গার্ড মুলারের কথায় ফিরে আসি। তিনি পরিচিত ‘ দ্য নেশনস বোম্বার ‘ নামে। গোলমেশিন শব্দটা বোধহয় তার ক্ষেত্রেই যায়। জার্মানির হয়ে ৬২ ম্যাচে করেছেন ৬৮ গোল। বুন্দেসলীগায় ৪২৭ ম্যাচে ৩৬৫ গোল। ইতিহাসের অন্যতম টপ গোল স্কোরার তিনি। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ গোল তার। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে (১৯৭২) সর্বোচ্চ ৮৫ গোলের রেকর্ড তার।
রয়েছেন ফিফার সর্বকালের সেরাদের তালিকার প্রথম সারিতে। জার্মান জাতি তাকে নিয়ে গর্ব করতেই পারে।

এবার বলব আরেক মুলারের কথা, থমাস মুলার। আনলাকি ‘১৩’ নম্বর জার্সি গায়ে যিনি জার্মানির হয়ে একের পর এক জাদু দেখিয়ে চলেছেন। মাত্র বিশ বছর বয়সের যে জার্মান তরুণটি ২০১০ বিশ্বকাপে ৫ গোল করে পেয়েছিলেন গোল্ডেন বুট। হয়েছিলেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতা আর গ্ল্যামারাস চেহারার মুলার যেন অধিকাংশ জার্মানেরই প্রতিনিধি। মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে থমাস মুলারের অর্জনের খাতা দেখলে চমকে যেতে হয়। তিনটি বুন্দেসলীগা, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগের রানার আপ, একটি উয়েফা সুপার কাপ সহ আরো কয়েকটি জার্মান ঘরোয়া লীগ । ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির যে আনকোরা দলটি তৃতীয় হয় তার অন্যতম অংশীদার তিনি।
এবারের বিশ্বকাপটিও শুরু করেছেন রাজকীয়ভাবে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে উড়িয়ে দিতে বড় অবদান তার। করেছেন এই বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাট্রিক। সবমিলিয়ে এই বিশ্বকাপে জার্মানির স্বপ্নসারথি তিনি।
মজার বিষয় হল, কিংবদন্তি গার্ড মুলার আর হালের থমাস মুলার উভয়ের জার্সি নম্বর ‘ ১৩ ‘। গার্ড মুলার তো জার্মানিকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন।
থমাস মুলার কি পারবেন?

৬ thoughts on “থমাস মুলার কি পারবেন গার্ড মুলারকে ছাড়িয়ে যেতে ?

  1. এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে যে
    এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে যে ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখিয়ে যাচ্ছেন লেটেস্ট মুলার, তাতে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব সেরাদের কাতারে নেইমার-মেসিদের-ক্রি.রোনাল্দোদেরকে ছাড়িয়ে শো-বিজের অন্যতম সেরা তারকা হয়ে ওঠা সময়ের ব্যাপার। ফুটবলে এমনিতেই তার তারকাদ্যূতি যথেষ্ট উজ্জ্বল।

  2. এই মুলারকে গত বিশ্বকাপে
    এই মুলারকে গত বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোথাকার কোন বলবয় বলে তাচ্ছিল্য করেছিলেন ম্যারাডোনা ওরফে ক্ষ্যাপাডোনা।তারফলও হাতেনাতে পেয়েছিলেন।

  3. ভাই একটু মাফ করবেন আমার মনে
    😀 :bum: ভাই একটু মাফ করবেন আমার মনে হয় ১৯৫৪ বিশ্বকাপে পুসকাস নয় হাঙ্গেরির সান্দর পিটার কুসচিস করেছিল ঐ বিশ্বকাপের সর্বচ্চো গোল ১১ টি আর ইতিহাসে একি বিশ্বকাপের আসরে সর্বচো গোলের রেকর্ডটি ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের দখলে উনি ১৯৫৮’র বিশ্বকাপে ১৩টি গোল করেছিলেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *