লোডশেডিংয়ের কথা জানেন না প্রতিমন্ত্রী!

সারাদেশে লোডশেডিং হচ্ছে, এ কথা জানতেন না বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে এ কথাই জানতেন বলে মন্তব্য করেছেন।

শনিবার পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে সারাদেশের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

বৈঠক সুত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রীর সামনে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কথা তুলে ধরেন সারা দেশ থেকে আগত মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, প্রতিদিন ৪ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। চলতি মাসে লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে।


সারাদেশে লোডশেডিং হচ্ছে, এ কথা জানতেন না বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে এ কথাই জানতেন বলে মন্তব্য করেছেন।

শনিবার পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে সারাদেশের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

বৈঠক সুত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রীর সামনে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কথা তুলে ধরেন সারা দেশ থেকে আগত মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, প্রতিদিন ৪ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। চলতি মাসে লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে।

জিএম’রা বলেছেন, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে, সামনে রমজান আসছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না বাড়লে তারা রোষানলে পড়তে পারেন। এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটতে পারে।

অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দীন বলেন, আমাদের গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ২লাখ। যা দেশের মোট গ্রাহকের ৭০শতাংশের সমান। আর বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৮’শ মেগাওয়াটে মতো। যা উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫১ শতাংশের মতো।

কিন্তু আরইবিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২৬থেকে ২৭’শ মেগাওয়াট। মাঝে মাঝে ঠিক দেওয়া হলেও প্রায়ই ৯’শ মেগাওয়াটের উপর লোডশেড দিতে হচ্ছে। এতে গড়ে ৩ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রান পেতে পল্লী বিদুতের জন্য সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন,আমাদেরকে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট সরবরাহ দিলে কোন সমস্যা থাকবে না। তখন সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা লোডশেডিং হতে পারে। জনগণ তা মেনে নিবে।

আরইবি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি আমাকে বলেছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যা চাহিদা রয়েছে, তাই দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চাহিদা থাকলে সরবরাহ ক্যাপাসিটি না থাকায় নিতে পারছে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন এমন হচ্ছে সবাইকে নিয়ে বসতে হবে। সবাইকে নিয়ে সমস্যা সমাধান করা হবে।

কর্মকর্তাদের ঘনঘন বসার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

এসময় তিনি বলেন, আগে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিলো। মানুষ কিন্তু সে কথা ভুলে গেছে। মানুষ এখন লোডশেডিং মুক্ত বিদ্যুৎ চায়। আমার মনে হয় মানসম্মত ও লোডশেডিং মুক্ত বিদ্যুৎ দিতে আরও ৩ বছর সময় প্রয়োজন রয়েছে।

জনগণকে বুঝাতে হবে। তারা যেন এই সময়টুকু আমাদেরকে দেয়। তাদেরকে আমরা মানসম্মত বিদ্যুৎ দিতে কাজ করে যাচ্ছি। জনগণকে বুঝালে জনগণ বুঝে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে ঘুষ দুর্নীতি বন্ধে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেভাবে ঘুষ-দুর্নীতির কথা শোনা যাচ্ছে এটা রোধ হওয়া দরকার।

কর্মকর্তারা ঘুষ-দুর্নীতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদার ও কর্মচারীরা ঘুষ-দুর্নীতি করছে। কর্মচারীরা আজীবন একই কর্মস্থলে থাকছে। তাদের বদলীর কোন বিধান নেই। এ কারণে স্থানীয়দের সঙ্গে সখ্যতার সুযোগে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন।

এ ছাড়া রাজনৈতিক চাপের কথাও উল্লেখ করেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা কর্মচারীদের বদলীর বিধান করা ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে কোম্পানিতে রূপান্তরের দাবি জানান।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক চাপ থাকাই স্বাভাবিক। এটা বুঝিয়ে বলবেন। না হলে আমাকে বলবেন। আমি আছি সব চাপ সহ্য করার জন্য।

জনগণকে বুঝাতে হবে উল্লেখ করে বলেন, আপনারাই পারেন সরকারের ভাবমুর্তি উজ্জল করতে। এখন একটু কষ্ট বেশি করেন সব ঠিক হয়ে যাবে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈদ্যুতিক লাইন নির্মানে গ্রাহক হয়রানি এবং লোডশেডিং নিয়ে করণীয় শীর্ষক সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন। উপস্থিত ছিলেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য প্রকৌশল শেখ নুরুল আবসার, যুবলীগ নেতা এনআই আহমদ সৈকত, ৭২টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম ও পদস্থ কর্মকর্তারা।

১৩ thoughts on “লোডশেডিংয়ের কথা জানেন না প্রতিমন্ত্রী!

  1. প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি ও
    প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি ও আত্মিয়স্বজন বিশেষত শ্বশুর বাড়িতে ১ মন লোডশোডিং পাঠায় দেয়া হোক কারিগর ডট কমের মাধ্যমে। তখন বুঝবেন লোডশেডিং কারে কয়

  2. হালার পুতরে এক সপ্তাহের জন্য
    হালার পুতরে এক সপ্তাহের জন্য গ্রামে রাখা হোক। আবালের দল কোথাকার। কতোখানি নির্লজ্জ আর দায়িত্বহীন হইলে এমন কথা কইতে পারে।

  3. সরকারের মন্ত্রীরা জনগন থেকে
    সরকারের মন্ত্রীরা জনগন থেকে কতটা বিচ্ছিন্ন তার প্রমাণ হচ্ছে বিদ্যুৎ মন্ত্রীর বক্তব্য। এরা সচিবালয়ের কার্যালয় আর নিজের বাসভবনকে মনে করে গোটা বাংলাদেশ। কিছুদিন আগে সংসদে দাঁড়িয়ে এই মন্ত্রী বলেছিল বাংলাদেশের কোথাও এক মিনিটের জন্য লোডশেডিং নাই।

  4. মন্ত্রীর চোখে এন্টিবায়েটিক
    মন্ত্রীর চোখে এন্টিবায়েটিক ড্রপ দেওয়া উচিত। ক্ষীন দৃষ্টিশক্তির কারণে চোখের চিকিৎসা করানো দরকার।

    1. মন্ত্রীর চোখের রেটিনায় মনে হয়
      মন্ত্রীর চোখের রেটিনায় মনে হয় শুধুই কোন সেল, কোন রড সেল নাই। তাই কোন অন্ধকার দেখেন না। :হাহাপগে:

      1. পুরা সরকারের যেখানে গ্লুকোমা,
        পুরা সরকারের যেখানে গ্লুকোমা, সেখানে শুধু একজন মন্ত্রীর চোখের রড সেল খুঁজে লাভ কি?

          1. আমি ডিফেন্ড করতে আসিনি বরং
            আমি ডিফেন্ড করতে আসিনি বরং বলতে চেয়েছি যে পুরো সরকারের যেখানে ব্যর্থতা সেখানে একজন মন্ত্রী কন ছার!
            একজন মন্ত্রী তো পুরো সরকারেরই একটা অংশ মাত্র।

            সব কিছু বাঁকা দৃষ্টিতে দেখার অভ্যাস পাল্টান। আপনার মঙ্গল হোক।

          2. আপ্নে ভাই পারেনও। সেলাম
            আপ্নে ভাই পারেনও। সেলাম আপ্নেরে। এক পোস্টে কেউ সরকারকে ব্যর্থ কইলে তার উপ্রে ঝাঁপায়ে পড়েন, আবার এইখানে নিজেই ব্যর্থ বইলা দাবী করেন। সার্কাস দেখি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *