বৃষ্টি

রিমঝিম বৃষ্টি যে মানুষের মাঝে নেশা ধরাতে পারে তা আর কেউ বুঝতে না পারলেও বুঝেছিলেন কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাই তিনি বৃষ্টিকে নিয়ে প্রচুর গান ও কবিতা লেখে গেছেন এবং প্রতিটা গান ও কবিতাই অনন্য সাধারন সৃষ্টি।
রবিন্দ্রনাথের পথ অনুসরণ করে হুমায়ূন আহমদ ও বৃষ্টি নিয়ে কম পাগলামি করেনি। আবার সেই পাগলামির কথা ঘটা করে প্রচারো করেছেন। বৃষ্টি নিয়ে হৃদয় স্পর্শী গান লিখেছে। বৃষ্টির নামে বাড়ি বানিয়েছেন “বৃষ্টি বিলাস” ।
বৃষ্টি নিয়ে জসীম উদ্দিনও অসাধারণ কবিতা লিখে গেছেন। ৯ম শ্রেণীতে আমাদের পাঠ্য বইয়ে পরানো হয়েছিল সেই কবিতা।

রিমঝিম বৃষ্টি যে মানুষের মাঝে নেশা ধরাতে পারে তা আর কেউ বুঝতে না পারলেও বুঝেছিলেন কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাই তিনি বৃষ্টিকে নিয়ে প্রচুর গান ও কবিতা লেখে গেছেন এবং প্রতিটা গান ও কবিতাই অনন্য সাধারন সৃষ্টি।
রবিন্দ্রনাথের পথ অনুসরণ করে হুমায়ূন আহমদ ও বৃষ্টি নিয়ে কম পাগলামি করেনি। আবার সেই পাগলামির কথা ঘটা করে প্রচারো করেছেন। বৃষ্টি নিয়ে হৃদয় স্পর্শী গান লিখেছে। বৃষ্টির নামে বাড়ি বানিয়েছেন “বৃষ্টি বিলাস” ।
বৃষ্টি নিয়ে জসীম উদ্দিনও অসাধারণ কবিতা লিখে গেছেন। ৯ম শ্রেণীতে আমাদের পাঠ্য বইয়ে পরানো হয়েছিল সেই কবিতা।
আমি বাংলা সাহিত্য খুব একটা পড়িনি। আর অন্য ভাষার সাহিত্য জ্ঞান, গ্রামের মাদ্রাসার হুজুরদের জ্ঞানের থেকেও কম। তারপরো আমার মনে হয় বাংলা সাহিত্যে বৃষ্টির রুপ যে ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা পৃথিবীর আর কোন ভাষার সাহিত্যে বোধে হয়, হয়নি।
একবার হুমায়ূন আহমেদ একজন সাদা আমেরিকানের সাথে ঢাকার এক হোটেলে খেতে বসে প্রশ্ন করেছিলেন। “আমাদের দেশটা কেমন লাগছে তোমার”?
প্রতিউত্তরে সে হুমায়ূন আহমেদকে হকচকিয়ে দিয়ে বলেছিল “অসাধারণ সুন্দর তোমাদের দেশের বৃষ্টি। ঈশ্বর বোধে হয় তোমাদের দেশের জন্যই বৃষ্টি সৃষ্টি করেছেন। আমি বহু দেশ ঘুরেছি। কিন্তু বৃষ্টির এমন অপরুপ আর কোথাও দেখিনি “।
এখান থেকেই মূলত আমার বিশ্বাস জন্মেছে যে আমাদের দেশের মত সুন্দর বৃষ্টি পৃথিবীতে কোথাও হয় না। সুতরাং সে সকল দেশের সাহিত্যে বৃষ্টি থাকার কথা না।
ছোট বেলায় বৃষ্টি হলে মামার বাড়িতে গিয়ে আম কুড়ানোর কবিতা অনেকেই কেবল বইয়ে পড়েছে। নাগরিক জীবনের কারনে অনেকেরই হয়তো সেই সৌভাগ্য হয়নি। আমি কিন্তু আম কুড়ানোর এই মজার কাজটি জীবনে বহুবার করেছি।
ছোট বেলায় দেখতাম যখন একাধারে অনেক দিন বৃষ্টি হত তখন অনেক মুরব্বীরা বলতেন আল্লাহর গজব নাযিল হয়েছে। তারা নানা ধরনের সূরা কালাম পড়ছে থাকতেন।
এখন আমি বুঝি সেটা কোন গজব নাযিলের ঘটনা ছিল না। একাধারে বৃষ্টি মানে আল্লাহর করুনাধারা বর্ষণ। আল্লাহ আমাদের অনেক ভালোবাসেন বলেই বৃষ্টির প্রবিত্র পানি দিয়ে স্নান করিয়ে প্রবিত্র রাখেন।
আমার এক বন্ধু সেদিন বলল যে মালয়শিয়াতে না কি প্রচুর বৃষ্টি হয়। আমি জানতে চাইলাম ওখানের বৃষ্টি কি আমাদের দেশের মত সুন্দর?
দেখলাম সে আমতা আমতা করছে। ভারতের বৃষ্টি দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে কেমন যেন বোটকা গন্ধ। গন্ধে বমি আসে। মাটিতে পচা গন্ধ বের হয়।
আজ দুই দিন অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। আমার বাড়ির সামনে খোলা মাঠ। বৃষ্টি আর বাতাস এক সাথে হলে মাঠের ঘাসের উপরে ঢেউ খেলে যায়। একবার এদিক দিয়ে ঢেউ হয় তো কিছুক্ষন পর ওদিক দিয়ে ঢেউ আসে। কি যে অপরুপ সেই বৃষ্টির রুপ তা না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। একেই বলে আউলা ঝাউলা বৃষ্টি।
আমি চাই আমি যেদিন বিয়ে করবো সেদিনও যেন এমন বৃষ্টি হয়। আমার সন্তান যেদিন পৃথিবীর মাটিতে আসবে সেদিনও যেন এমন বৃষ্টি হয়। আর আমি যেদিন শেষ বারের মত চোখ বুজবো সেদিনও যেন এমন আউলা ঝাউলা বৃষ্টি হয়। আল্লাহ আমার মনোবাসনা পূর্ণ কর।

২ thoughts on “বৃষ্টি

  1. “আমি চাই আমি যেদিন বিয়ে করবো
    “আমি চাই আমি যেদিন বিয়ে করবো সেদিনও যেন এমন বৃষ্টি হয়। আমার সন্তান যেদিন পৃথিবীর মাটিতে আসবে সেদিনও যেন এমন বৃষ্টি হয়। আর আমি যেদিন শেষ বারের মত চোখ বুজবো সেদিনও যেন এমন আউলা ঝাউলা বৃষ্টি হয়। আল্লাহ আমার মনোবাসনা পূর্ণ কর…”

    হ’! ঐদিনগুলাতে বৃষ্টি নামলে আপনের আর কী? ঠ্যালা তো সব প্রতিবেশি-আত্মীয় স্বজনদের… 😛

    ভাল লিখেছেন। 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *