সত্যি বলে সত্যিই কিছু নেই!

“ভায়া.. একটা সিদ্ধ ডিম খাবেন? একটা কিনে নেন.. সিদ্ধ ডিম..”
ফোনের হেডফোনটা ডান কান থেকে নামিয়ে শুনতে পেলাম। একটা কাঁধের ঝুঁড়িতে ডিম নিয়ে আর আরেকটা হাত দিয়ে কিছুক্ষণ ধরে আমার একহাত ধরে অনুরোধ করছে দশ-বারো বছর বয়সী ছেলেটা। রাত বাড়ছে আর ক্লাস শেষে বাস ধরার তাড়া আছে দেখে খুব দ্রুত বসুন্ধরা আবাসিকের গেটের দিকে যাচ্ছিলাম। ব্যাস্ত রাস্তার মাঝে কিছু কেনার জন্যে চাপাচাপি সবসময়ই বিরক্তির উদ্রেগ জাগায়।
“না খাবো না।”
বলেই হাতটা ছাড়িয়ে নিলাম। আবার হেডফোনটা কানে তুলতে উদ্রত হচ্ছিলাম, তখনই ছেলেটা করুণ গলায় বলে উঠলো, “ভায়া.. সারাদিন কিছু খাই নাই। ভাত খামু। টেকা নাই.. ডিম কিনে নেন..”

“ভায়া.. একটা সিদ্ধ ডিম খাবেন? একটা কিনে নেন.. সিদ্ধ ডিম..”
ফোনের হেডফোনটা ডান কান থেকে নামিয়ে শুনতে পেলাম। একটা কাঁধের ঝুঁড়িতে ডিম নিয়ে আর আরেকটা হাত দিয়ে কিছুক্ষণ ধরে আমার একহাত ধরে অনুরোধ করছে দশ-বারো বছর বয়সী ছেলেটা। রাত বাড়ছে আর ক্লাস শেষে বাস ধরার তাড়া আছে দেখে খুব দ্রুত বসুন্ধরা আবাসিকের গেটের দিকে যাচ্ছিলাম। ব্যাস্ত রাস্তার মাঝে কিছু কেনার জন্যে চাপাচাপি সবসময়ই বিরক্তির উদ্রেগ জাগায়।
“না খাবো না।”
বলেই হাতটা ছাড়িয়ে নিলাম। আবার হেডফোনটা কানে তুলতে উদ্রত হচ্ছিলাম, তখনই ছেলেটা করুণ গলায় বলে উঠলো, “ভায়া.. সারাদিন কিছু খাই নাই। ভাত খামু। টেকা নাই.. ডিম কিনে নেন..”
এবার ভাবলাম এমন তো অনেক ছেলে-পেলেই বলে। যতোই টাকা চাও বাবা, আজকে দিবো না। মানিব্যাগের অবস্থা ভাল না।
“আমি খাবো না তো। অন্য কাউকে ধরো।” -এবার কোমল গলায় বললাম।
“না ভায়া.. কেউ নেয় না.. সবার বলে অন্যরে ধরো..”- বলেই ছেলেটার চোখ ছলছল করে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো, “ভায়া.. নেন.. কিছু খাই নাই আজকে সারাদিন। আপনি কিনলে কিছু টাকা পামু। ভাত খামু।”
না এবার আর পারলাম না। মধ্যবিত্ত থেকে আজ হঠাৎ হতদরিদ্রে ডিমোশন খাওয়া মানিব্যাগটা খুলতেই দশটাকার দুটো আর পঞ্চাশ টাকার একটা নোট দেখতে পেলাম। দশটাকা তুলে কি ভেবে যেন রেখে দিলাম। পঞ্চাশ টাকার নোটটাই দিয়ে দিলাম। টাকাটা হাতে দিতেই ছেলেটার চোখে আনন্দের ঝলক দেখতে পেলাম। বললাম, “যাও.. হোটেল থেকে কিছু খেয়ে নাও।”
বলে নিজেই অবাক হলাম। আরে পঞ্চাশ টাকায় তো ভাত খেতে পারবেনা ছেলেটা! ছেলেটা আনন্দে ছুটে যাচ্ছে। আরেকজন ক্রেতা ধরতে নাকি হোটেলে ভাত খেতে.. বুঝতে পারলাম না! ছেলেটা থেকে সিদ্ধ ডিম কেনা হল না, তবে আরেকদিন দেখলে অবশ্যই কিনে খাওয়া যাবে। হাঁটতে হবে, দ্রুত বাস ধরতে হবে। ওসব দেখার সময় নেই।
ছেলেটা হয়তো মিথ্যে বলছে। কিন্তু ওর ছলছল চোখে ভাত খাওয়ার আবদারটা মিথ্যে হতে পারে না। হলেও অভিনয়টা একদম পারফেক্ট করেছে। এমন অভিনয় বোধহয় আমাদের জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ও পারে না। এ জন্য হলেও তাকে পুরষ্কৃত করা উচিত। জলে যাক আমার টাকা। পকেটে থাকলে আরো বড় অ্যামাউন্টের টাকার নোট দিতাম। হয় আমি এক ক্ষুধার্তকে খেতে দিয়েছি, অথবা এক নিঁখুত অভিনেতাকে পুরষ্কৃত করেছি। এখানে নগন্য সত্য-মিথ্যা।
ডান কানের হেডফোনটা আবার কানের কাছে গুঁজে দিলাম। বেজে ওঠে,

আসলে সত্যি বলে, সত্যিই কিছু নেই..
… …. …..
আরও শীত চুঁয়ে পড়ুক গাছের পাতার তলায়
আরও শীত ছড়িয়ে যাক তোর কথা বলায়..

–০–
১৪.০১.১৪
উত্তরা, ঢাকা।

৬ thoughts on “সত্যি বলে সত্যিই কিছু নেই!

  1. কথা সেটাই। কাউকে যদি কিছু
    🙂

    কথা সেটাই। কাউকে যদি কিছু দেনই তাহলে দাবী ছাড়াই দিন। কী হবে সত্যি মিথ্যার হিসাব কষে?

  2. সত্যি মিথ্যা জাচায় বা করবেন
    সত্যি মিথ্যা জাচায় বা করবেন কোন মাপকাঠি দিয়ে।

    আরে পঞ্চাশ টাকায়
    তো ভাত খেতে পারবেনা ছেলেটা!-+-+-+-+ আসলেই কার চোখে খুশি দেখলে মন ভাল হইয়ে জায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *