ঘুম আসে না.. ঘুমও স্বার্থপর!

জন্ডিস থাকার স্বত্তেও ক্লাস মিস হচ্ছে দেখে এ সাপ্তাহ রেস্ট নিয়েই ঢাকায় ফিরলাম। যদিও ডাক্তার বলেছিল অন্তত দু’সাপ্তাহ বেড রেস্টে থাকতে। কে শোনে কার কথা? বিশ্ববিদ্যালয় আমার জন্য বসে থাকবে না, আমিও ডাক্তারের কথা মতো পূর্ণ সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় থাকবো না। অলরেডী দুইটা কুইজ মিস করেছি এই এক সপ্তাহে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিন বছরে এটাই প্রথম একটানা এক সপ্তাহ ক্লাস মিস করা। স্টুডেন্ট সুবিধার না হলেও, স্কুল লাইফ থেকেই ক্লাস মিস দেই না আমি। প্রয়োজনে ক্লাসে ঘুমাতেও রাজী আছি। হঠাৎ ক্লাসে দেখে অনেকেই অবাক। কি ব্যাপার! এতদিন নাই, তারপর ঢাকায় ফিরেও জানালাম না কাউকে! বেশ মজাই পেলাম।


জন্ডিস থাকার স্বত্তেও ক্লাস মিস হচ্ছে দেখে এ সাপ্তাহ রেস্ট নিয়েই ঢাকায় ফিরলাম। যদিও ডাক্তার বলেছিল অন্তত দু’সাপ্তাহ বেড রেস্টে থাকতে। কে শোনে কার কথা? বিশ্ববিদ্যালয় আমার জন্য বসে থাকবে না, আমিও ডাক্তারের কথা মতো পূর্ণ সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় থাকবো না। অলরেডী দুইটা কুইজ মিস করেছি এই এক সপ্তাহে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিন বছরে এটাই প্রথম একটানা এক সপ্তাহ ক্লাস মিস করা। স্টুডেন্ট সুবিধার না হলেও, স্কুল লাইফ থেকেই ক্লাস মিস দেই না আমি। প্রয়োজনে ক্লাসে ঘুমাতেও রাজী আছি। হঠাৎ ক্লাসে দেখে অনেকেই অবাক। কি ব্যাপার! এতদিন নাই, তারপর ঢাকায় ফিরেও জানালাম না কাউকে! বেশ মজাই পেলাম।

দুদিন ক্লাস করলাম। সন্ধ্যায় ফিরে আজ বড় একটা ঘুম দিলাম। মনটাও খুব একটা ভাল না। একটা দুঃসংবাদে মনটা খারাপ হয়ে গেছে। কাল কুইজ আছে। পড়তে বসবো। কাজিন ডাকলো, একসাথে নাস্তা করতে বের হয়ে গেলাম। যদিও বাইরের খাওয়ার খেতে ডাক্তারের নিষেধ আছে, তাও মানলাম না। অতো কিছু মেনে চলার মানুষ তো আমি না! এর মধ্যেই আম্মুর ফোন এলো। ঘুমে থাকতে ফোন করেছিলো। ফোন ধরিনি, তাই অস্থির হয়ে আছে। কি খাচ্ছি, কি খেলাম সারাদিন, কখন ফিরলাম ব্লা ব্লা ব্লা.. এটা খাবা.. ওটা খাবা.. এইটা কিনে নিয়ে যাও.. ঔষধ খাবা এইসব। ডেইলি এসব না বললে বোধহয ঘুম হয় না তার। বিরক্তি নিয়ে হুম..হুম.. ঠিকাছে করে গেলাম। বললাম নাঈমাকে দেন। কথা বলি। নাঈমা আমার ছোট বোন। আম্মুর সাথেই ফেনীতে থাকে। এবার জে.এস.সি দিবে। ফোন ধরেই বলে, ভাইয়া তুমি ঢাকা যাওয়ার সময় আম্মুর জর্দা (ডেজার্ট, আমার খুব প্রিয়) রান্না করে তোমাকে দিতে ভুলে গেছে। ফ্রিজ খুলে জর্দাগুলো দেখে আম্মু কান্না করছে তোমার জন্যে! আমি ভাবি.. হায়রে! সামান্য জর্দা দিতে ভুলে গেছে এর জন্য এতো কান্নার কি আছে!

আমার বন্ধু আসিফ সাজেদ। ডাকনাম রাতুল। আমি ফার্স্টনেম আসিফ ধরেই ডাকি। আমার সাথেই পড়ে। অন্য সবার চেয়ে আলাদা। খুব ঠান্ডা মাথার মানুষ। গতকাল ক্লাসে দেখা হয়নি। ক্লাসে আসেনি। আমি তাকে না দেখে ওর প্রক্সি সিগনেচার দিয়ে দিলাম ক্লাস অ্যাটেনডেন্স শীটে। গত দু’মাস ধরে ওর আম্মু অসুস্থ। আন্টিকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। আন্টিকে নিয়েই দৌড়ের উপর সে। হাসপাতলে যাওয়া আসা আর থাকাতেই সময় বেশী যাচ্ছে তার। দুই ভাই। বোন নেই। ও সবার ছো্ট। আন্টির শরীরের একাংশ পেরালাইজড হয়ে যাওয়ার ওকেই আন্টির টেক কেয়ার করতে হচ্ছে। গত মাসে অনেক কষ্টে সাভার সি.আর.পি.-তে সিট ম্যানেজ করে রেখে এসেছিলো। কিন্তু গত সাপ্তাহে হঠাৎ আন্টি বেশী অসুস্থ হয়ে পড়ায় সমরিতায় নিয়ে এসেছিলো। গত কিছুদিন ধরে ফোন করলেই বলে, ‘জিটু ফ্যামিলিতে ফিমেল কেউ না থাকলে আসলে মা কে দেখা টাফ।’

সকালে একটা ক্লাস করে ক্যান্টিনে বসে আছি। ওর এক ফ্রেন্ড ফোন করে জিজ্ঞেস করলো আসিফের ব্যাপারে কিছু জানি নাকি? ধক্ করে উঠলো। কি হয়েছে? আন্টি আর নেই!
গতকাল থেকেই আসিফ ফোন ধরছে না। গতকাল সকালেই নাকি আন্টি পরপারে চলে গেছেন.. আর এখন সে কি দেশের বাড়ী পাবনায় চলে গেছে কিনা সেটা জানার জন্যে ওর ফ্রেন্ড আমাকে ফোন করেছে। অথচ আমি কিছুই জানি না!

একবার ভাবলাম মেসেজ দিবো। আবার ভাবলাম কি লিখবো? সান্তনা দেয়ার ভাষা তো আমার জানা নেই! ফোনের মেসেজ অপশনে যাই। আবার ক্লোজ করে দেই। কয়েকবার এমন হলো। এমন করে সকাল থেকে দুপুর-বিকেল শেষে রাত নেমে এলো। কিছু বলা হয় নি। শুধু একটা কথা বারবার কানে লাগছে, ‘জিটু ফ্যামিলিতে ফিমেল কেউ না থাকলে আসলে মা কে দেখা….’।

নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি.. মা হারানোর বেদনার সান্তনা কি দেবো আমি?

আম্মু সামান্য জর্দা দিতে ভুলে গিয়ে কান্না করে। এমন আবেগে বন্দী হয়ে কল্পনা করতে পারি না আরেকজন তার মা থেকে বঞ্চিত হবে বাকী জীবন!

ও পৃথিবী, তুমি কেন এতো কঠিন? এতো কড়া কেন তোমার বাস্তবতা?

___________________
ভোররাত পৌনে ৫টা
১৮.০৬.১৪
উত্তরা, ঢাকা।

৪ thoughts on “ঘুম আসে না.. ঘুমও স্বার্থপর!

  1. মন খারাপ করা কথাকাব্য।
    মন খারাপ করা কথাকাব্য। প্রতিনিয়ত আমাদেরকে কতো কঠিন পরিস্থিতির সামনা সামনি হতে হচ্ছে !

  2. ভোর রাতের লেখা ভাল হয়। লেখায়
    ভোর রাতের লেখা ভাল হয়। লেখায় জোর থাকে, আবেগ থাকে, ক্ষোভ থাকে। ঘুম না আসলেও গতকাল রাতটা আপনার লস হয় নাই। এই লেখাটা প্রসব করছেন।

    ভাল লিখছেন। :খুশি:

    1. নিস্তদ্ধ পরিবেশে লিখতে বেশ
      নিস্তদ্ধ পরিবেশে লিখতে বেশ লাগে। মনের মতো লেখা যায় আসলে।
      পড়ে মতামত জানানোর জন্যে ধন্যবাদ। :খুশি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *