কথোপকথনঃ হাড়িপাতিলের ঠোকাঠুকি

-কোন এক বৃষ্টি ভেজা রাতে বাড়ির ছাদের দোলনায় দুলতে দুলতে যদি তোমাকে আমি আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে বলি, তুমি কি খুব অবাক হবে?
– তুমি বড্ড নাটক করতে পছন্দ কর! আর তাছাড়া তোমাদের বাড়িতে তুমি ছাদ কোথায় পেলে? এখনওতো টিনের চাল!
-আমি কি বলেছি যে আগামী বর্ষায়! কোন এক বৃষ্টি ভেজা রাতে বলেছি।
– মেয়েরা এরকম অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না! তার চেয়ে বলোনা টিনের চালে বৃষ্টি পরার শব্দ শুনবো কিনা? সেটাও বড্ড নাটুকে এবং তোমার লাইফ স্টাইলের সাথে মিলে যাব!! আর কি হয় বৃষ্টিতে ভিজলে?
-কি হয় তা জানিনা। তবে শুনেছি বছরের প্রথম বৃষ্টিতে ভিজলে মানুষ পবিত্র হয়ে যায়।

-কোন এক বৃষ্টি ভেজা রাতে বাড়ির ছাদের দোলনায় দুলতে দুলতে যদি তোমাকে আমি আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে বলি, তুমি কি খুব অবাক হবে?
– তুমি বড্ড নাটক করতে পছন্দ কর! আর তাছাড়া তোমাদের বাড়িতে তুমি ছাদ কোথায় পেলে? এখনওতো টিনের চাল!
-আমি কি বলেছি যে আগামী বর্ষায়! কোন এক বৃষ্টি ভেজা রাতে বলেছি।
– মেয়েরা এরকম অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না! তার চেয়ে বলোনা টিনের চালে বৃষ্টি পরার শব্দ শুনবো কিনা? সেটাও বড্ড নাটুকে এবং তোমার লাইফ স্টাইলের সাথে মিলে যাব!! আর কি হয় বৃষ্টিতে ভিজলে?
-কি হয় তা জানিনা। তবে শুনেছি বছরের প্রথম বৃষ্টিতে ভিজলে মানুষ পবিত্র হয়ে যায়।
-তাই হয় নাকি? হলেই কি? তুমি অপবিত্র হতে পারো আমিতো আর নই!
-তোমাকে অপবিত্র ভেবে আমি কথাটা বলিনি। আমার নিজেকেই অপবিত্র বলে মনে হয় মাঝে মাঝে। এই যে যতক্ষণ তোমার আশেপাশে থাকিনা ততক্ষণই আমার তোমার শরীরের ঘ্রাণ পেতে ইচ্ছে করে।
-ইদানিং তোমার খুব সাহস হয়েছে! শরীর-টরীর নিয়েও কথা বলছো যে। যাও একটা বোতল নয়ে এসো।
-বোতল দিয়ে কি হবে?
-দেখি চেষ্টা করে আমার শরীরের ঘ্রাণ একটা বোতলে জমা করে তোমাকে দেয়া যায় কিনা!
– তাহলে ওর ভেতরে একটু প্রিজারভেটিভ দিয়ে দিও।
-সেটা আবার কি?
– ঐ যে যা দিলে বোতলের ভেতরের জিনিষ সহজে নষ্ট হবেনা।
-আমি সেই বস্তু পাবো কোথায়? কোন দোকানে পাওয়া যায় ঠিকানা দিও।
– ঠিকানা লাগবে না। সেই জিনিশ তোমার দোকানে ভরপুর আছে।
-আমার দোকান মানে?
– ঐ তোমার হৃদয় নামক দোকান। সেখান থেকে কিছু ভালোবাসা ঐ বোতলে দিও। সেটাতো বড় প্রিজারভেটিভ।
– চাইলেই সেই জিনিশ পাওয়া যায় নাকি? ওটা নিতে চড়া মূল্য দিতে হয়।
-কেউ কেউতো বিনা মূল্যেই পেয়ে যায়।
– ভূল!!
-ভূল?
– হ্যাঁ ঠিক তাই। ভালবাসা হচ্ছে আয়নার মত। রিফ্লেক্ট হয়ে ফিরে আসে। এটা বোতলে আটকে রাখার জিনিশ না।
-আমিই কি চাই নাকি আটকে রাখতে!
– দেখ। আয়নায় কিছুর রিফ্লেক্ট হতে হলে আয়নার পেছনে দাঁড়ালেতো হবে না। দুজনকেই আয়নার যথাস্থানে দাঁড়াতে হবে। একটা ব্যাপার খেয়াল করে দেখবে আয়নায় কেউ কারও কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে পারেনা। দুজনেকেই যদি আয়নায় দেখা যায় তবে একজন আয়নার মাধ্যমে বাস্তবিক অর্থেই তোমার দিকে না তাকিয়ে তোমার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে।
-তা তোমার আয়নার বাকি চোখ জোড়া কার?
-তা জেনে কি করবে?
-না দেখতাম তার চোখ জোড়া কতটা সুন্দর।
– সুন্দর তবে তোমার চেয়ে সুন্দর নয়।
-আমার চোখ সুন্দর?
-কেন? আগে তোমাকে কেউ একথা বলেনি?
– না আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখবার সময় কার আছে?
-না দেখাতেই বেঁচে গেছ। দেখলে নির্ঘাত প্রেমে পরে যেত।
-তুমিতো পরোনি।
-পরিনি কে বলল?
-প্রেমে না পরলে তোমাকে বোতলে করে আমার শরীরের ঘ্রাণ দিতে চাইতাম?
– তুমি কি চাও? আমি তোমার শরীরের ঘ্রাণওয়ালা সেই বোতল নিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেই।
– তোমাকে একজন সারাজীবন ভালোবাসবে এই রকম ভাবনা ভাবার মধ্যে একধরনের আনন্দ আছে সেটাই হয়তো পেতে চাচ্ছি।
– আমরা একসাথে থেকে কি সেই আনন্দ পাওয়া সম্ভব নয়?
– না সেটা সম্ভব নয়। সেটা থাকেনা। হাড়িপাতিলের ঠোকাঠুকিতে সব মরে যায়। কাছে পাওয়ার ইচ্ছায় যে প্রেম ভালোবাসার সৃষ্টি সেটার সাথে সংসারের অন্য ভালোবাসায় তুলনা করাটা বিরাট বোকামি। এই ভালোবাসার কোন শেষ নেই। কিন্তু প্রেম একবার হয়ে গেলে সেটা একটা বালির বাঁধে পরিণত হয়। সেটা অল্পস্বল্প পানির টানে ভেঙ্গে যায়, বাতাসে সেখানকার বালিও উড়ে যায়।
– তুমি সবার মত করেই আমাকে একটু ভালোবাসোনা?
– আমি কি সবার মত?
– তুমি সবার থেকে আলাদা?
– আলাদা বলেই কাছে পেতে চাইছো। তোমাকে কাছে নেবার লোকেরতো আর অভাব নেই। তাও সেখানে যাও না তো।
-তোমাকে চাই বলেই সেখানে যাই না।
– তাহলে থাকুক না সেই চাওয়াটা চিরদিন। চিরদিন ভালোবেসে যাবার জন্য। আমিতো সেই কবেই আমাকে তোমার হাতে তুলে দিয়ে বসে আছি চিরদিন ভালবাসবো বলে।

২ thoughts on “কথোপকথনঃ হাড়িপাতিলের ঠোকাঠুকি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *