জন্মদাতা

আজকে নাকি ফাদারস ডে । ফেসবুকে লগইন করার আগ পর্যন্ত রিহানের এ ব্যাপারে কিছুই মনে ছিল না । রিহান স্ক্রল করছে আর হোমপেজের লিখাগুলো পড়ছে । রিহান , পিতা এবং সন্তান উভয়েরই আবেগ মাখানো লিখা পড়ছে এবং নাক শিটকাচ্ছে । এদের যতো আবেগ , সব ফেসবুকেই । সকালে বোধহয় পিতা পুত্রের বা পুত্র পিতার মুখ দর্শনও করে নি । এসব ভাবতে ভাবতেই রিহানের মোবাইলটা বেজে উঠল । মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই রিহানের মেজাজোমিটারের কাটা উর্ধ্বমুখী হয়ে গেল । দুমড়ানো মোচড়ানো মেজাজ নিয়েই সে কলটা রিসিভ করলো ।
– হঠাত্‍ আমাকে কল দিলেন যে ?
: বাবা , তুমি কেমন আছো ?
– সেটা আপনার জানার দরকার নেই । কল দিয়েছেন কেন , সেটা বলেন ।

আজকে নাকি ফাদারস ডে । ফেসবুকে লগইন করার আগ পর্যন্ত রিহানের এ ব্যাপারে কিছুই মনে ছিল না । রিহান স্ক্রল করছে আর হোমপেজের লিখাগুলো পড়ছে । রিহান , পিতা এবং সন্তান উভয়েরই আবেগ মাখানো লিখা পড়ছে এবং নাক শিটকাচ্ছে । এদের যতো আবেগ , সব ফেসবুকেই । সকালে বোধহয় পিতা পুত্রের বা পুত্র পিতার মুখ দর্শনও করে নি । এসব ভাবতে ভাবতেই রিহানের মোবাইলটা বেজে উঠল । মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই রিহানের মেজাজোমিটারের কাটা উর্ধ্বমুখী হয়ে গেল । দুমড়ানো মোচড়ানো মেজাজ নিয়েই সে কলটা রিসিভ করলো ।
– হঠাত্‍ আমাকে কল দিলেন যে ?
: বাবা , তুমি কেমন আছো ?
– সেটা আপনার জানার দরকার নেই । কল দিয়েছেন কেন , সেটা বলেন ।
: বাবা , আজকে নাকি ফাদারস ডে । অন্তত আজকে আমার সাথে দেখা করো । আমি তোমার সাথে কিছু সময় কাটাতে চাই ।
– আমি অপরিচিত মানুষের সাথে সময় কাটানো তো দূরে থাক , দেখাও করি না ।
: আমি অপরিচিত ? আমি তো তোমার বাবা ।
– না , আপনি বাবা না । আপনি জন্মদাতা । তাছাড়া ডিএনএ টেষ্ট ছাড়া কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে আপনি আমার জন্মদাতা । জন্মদাতা আর বাবা এক না । আকাশ পাতাল তফাত্‍ । আপনার সাথে কথা বলতেও আমার অসহ্য লাগে । আপনি আমাকে আর কল দিয়েন না । তাহলে নাম্বারটা চেঞ্জ করতে বাধ্য হব ।

লাইনটা কেটে দিয়ে রিহান সিগারেটটা ধরালো । তার মেজাজ এতোটাই বিগড়ে গেছে , হাতের সামনে যা যা আছে সবই ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছে করছে ।

এই লোকটা প্রতি সপ্তাহে তাকে কল দিয়ে দেখা করতে চায় । লোকটার নাম শামীম । লোকটাকে সে দেখেছে মাত্র একবার । তাও বিশ বছর আগে । কয়েক বছর আগে তার মা মারা যাওয়ার পর থেকেই এই লোকটার দরদ বেয়ে বেয়ে পড়ছে । অথচ তার মা যখন জীবিত ছিল লোকটা কখনো তার খোঁজ খবর নিতে আসে নি । দুর্ভাগ্যবশত লোকটার ডিএনএ তার সাথে মিলে যায় । চব্বিশ বছর আগে লোকটা তার মাকে ডিভোর্স দিয়েছিল । রিহানের মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে তার নিজের শরীরের প্রতিটি ডিএনএ খুলে ফেলে দিতে । সে লোকটাকে এতোটা ঘৃণা করে ।

সিগারেট শেষ । এখন আর অতো বাবা , বাবা দিবস নিয়ে ভাবার সময় নেই । ওসব গোল্লায় যাক । অনেক কাজ পড়ে রয়েছে । আজকে রাতের মধ্যেই প্রজেক্টটা রেডি করতে হবে । কালকের মধ্যে জমা না দিতে পারলে মার্কস নিয়ে টানাটানি লেগে যাবে ।

৩ thoughts on “জন্মদাতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *